আকাশলীনা
-
বিটিভিতে পরিবর্তনের ছোঁয়া বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম হিসেবে দীর্ঘকাল ধরে সংবাদ ও বিনোদনের প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচিত। সম্প্রতি বিটিভি ঢাকা কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) হিসেবে নুরুল আজম দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির ব্যাপক পরিবর্তন আসে। ডিজিটাল যুগের সাথে তাল মিলিয়ে প্রচারণায় আধুনিকতা এবং ডিএমপি নিউজ নতুন স্টুডিওর ব্যবহার উল্লেখযোগ্য। অনুষ্ঠানমালায় নতুনত্ব দর্শকপ্রিয়তা ধরে রাখতে নৃত্যানুষ্ঠান, সংগীত ও জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘আনন্দমেলা’ নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপনা করা হচ্ছে। তারুণ্যের বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রথমবারের মতো আয়োজন করেছে ব্যান্ড উৎসব।
শুধু তাই নয় নাটকের ক্ষেত্রে বিশাল পরিবর্তন দেখা গেছে। প্রতিনিয়ত প্রচার হচ্ছে সাপ্তাহিক ও ধারাবাহিক নাটক। যা প্রচারের পর প্রশংসায় ভাসছে বিটিভির কর্তৃপক্ষ। জাতীয় দিবসগুলোতে দিনব্যাপি বিশেষ অনুষ্ঠানমালা এবং সরাসরি সম্প্রচারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে । সেই সাথে বিজ্ঞাপন এবং আউটসোর্সিং প্রকল্পের ক্ষেত্রে আর্থিক স্বচ্ছতা আনতে প্রশাসনিক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
দর্শকদের বিটিভি-বিমুখতা কাটাতে নুরুল আজমের অধীনে কিছু পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। যেমন অনুষ্ঠানমালার আধুনিকায়ন। পুরানো ও একঘেয়ে অনুষ্ঠানের পরিবর্তে সমসাময়িক বিষয়ভিত্তিক টকশো এবং তথ্যচিত্রের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।ডিজিটাল প্লাটফর্মে বিটিভির উপস্থিতি শক্তিশালী করতে সোশ্যাল মিডিয়া ও ইউটিউব স্ট্রিমিংয়ের গুণগত মানোন্নয়ন করা হয়েছে। যা সত্যিই প্রশংসনীয়।

বিটিভি এখন পুরোনো ধারার বাইরে গিয়ে দর্শক চাহিদা অনুযায়ী আধুনিক ও মানসম্মত কন্টেন্ট উপহার দিচ্ছে। এই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ থেকে আরো নতুনভাবে সাজানো হয়েছে বিটিভি।দীর্ঘ দুই দশকের বিরতির পর আবারো জমজমাটভাবে পর্দায় এনেছেন শিশু-কিশোরদের নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’। পুনরায় নতুন কুঁড়ি শুরু করে প্রশংসা কুড়ান বিটিভি কর্তৃপক্ষ। এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহা-ব্যবস্থাপক নুরুল আজম বলেন, একটি প্রতিযোগিতা যখন চলে, সবাই আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করেন সেই প্রতিযোগিতা আবার নতুন কবে হবে। প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে প্রতিযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে চর্চা করেন, এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য।
দীর্ঘদিন এই প্রতিযোগিতা না হওয়ায় হয়ত চর্চাও বন্ধ ছিল। আমরা আশা করেছিলাম এই প্রতিযোগিতা আবার শুরু হলে সারাদেশে এক ধরনের সুস্থ একটা সাংস্কৃতিক চর্চার ডামাডোল শুরু হবে, প্রত্যান্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে সাড়া ফেলবে। তাই হয়েছে। সেদিক থেকে বলতে পারি আমরা অনেকটা সফল।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের বর্তমান সক্ষমতা প্রসঙ্গে নূরল আজম বলেন, বাংলাদেশ টেলিভিশনের সক্ষমতা বহুগুণে বাড়িয়েছি আমরা। একসাথে লাইভ কাভারেজ করতে পারি। বাংলাদেশ টেলিভিশনের যে ঐতিহ্য ছিল, দেশীয় সংস্কৃতিকে লালন করা, বহির্বিশ্বে দেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরা, আমরা সেই ধারায় এগিয়ে যাচ্ছি।
...







