গত ঈদে পাঁচটি ছবি মুক্তি পেয়েছে। তার মধ্য থেকে তিনটি ছবি দর্শক-সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তানিম নূর পরিচালিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ রেদোয়ান রনি পরিচালিত ‘দম’ ও রায়হান রাফি পরিচালিত ‘প্রেসার কুকার’। কেমন ছিল এবারের ঈদে আলোচিত-সমালোচিত এই তিন সিনেমা ? ছবি তিনটি নিয়ে লিখেছেন শেখ সেলিম...
‘বনলতা এক্সপ্রেস’ দর্শক এক্সপ্রেসে পরিণত
‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রমাণ করেছে যে কেবল নাচ-গান বা অ্যাকশন ছাড়াও একটি শক্তিশালী ও নিরেট গল্প দিয়ে দর্শকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রেক্ষাগৃহে বসিয়ে রাখা যায়। ছবিটি তানিম নূর পরিচালিত ও প্রযোজিত। এটির মূল গল্প নেওয়া হয়েছে হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস ‘কিছুক্ষণ’ থেকে?।
বনলতা এক্সপ্রেস ছবিতে গন্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ না-করে, পথটাই যেন হয়ে উঠেছে মূল গল্প। ট্রেনে চেপে বসা মানুষগুলো ভ্রমণের মধ্য দিয়ে খোলস বদলে অন্য মানুষে পরিণত হয়। ভ্রমণ বিষয়ক বিদেশি অনেক সিনেমা হয়ত আমরা দেখেছি, এইসব সিনেমার সঙ্গে বনলতা এক্সপ্রেস-এর মিল হচ্ছে সবগুলোই ভ্রমণ বিষয়ক। কিন্তু বনলতা এক্সপ্রেস ইচ্ছে করেই যেন এইসব সিনেমার থেকে আলাদা।
গল্প বলার ধরন, চরিত্রের বিল্ডআপ, সিনেমাটিক মোমেন্ট সবকিছুই নির্মিত হয়েছে খুব যতœ সহকারে। বলতে গেলে পুরো সিনেমার চিত্র ধারণ করা হয়েছে ট্রেনের কয়েকটি বগিতে। মাত্র কয়েকটি দৃশ্য আউটডোরে চিত্রায়ণ করা হয়েছে। সোয়া দুই ঘণ্টা ব্যাপ্তিকালের বনলতা এক্সপ্রেস এক মিনিটের জন্য হলেও বিরক্তির উদ্রেক করেনি। বরং কৌতূহল আর আনন্দের মিশ্র অনুভূতির ভেতর দিয়ে কিছুক্ষণের যাত্রা শেষ হয়।
সিনেমায় একঝাঁক গুণী ও মেধাবী অভিনয়শিল্পী অভিনয় করেছেন। দুয়েকটি চরিত্র ছাড়া প্রত্যেকটি চরিত্রের জন্য যেন পারফেক্ট শিল্পী নির্বাচন করেছেন নির্মাতা।
কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই ছবিটি দর্শকদের মাঝে যেমন কৌতূহল জাগিয়েছে, তেমনি প্রেক্ষাগৃহে উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ করেছে ভালো গল্পের চাহিদা এখনো ফুরিয়ে যায়নি।
অভিনয়ে ছিল সেরাদের লড়াই। ছবির প্রাণভোমরা হিসেবে বরাবরের মতোই দুর্দান্ত ছিলেন মোশাররফ করিম। তার সহজাত অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। সমান্তরালে শ্যামল মাওলা দেখিয়েছেন তার অভিনয় মুনশিয়ানা। অনেকদিন পর পর্দায় ফিরে জাকিয়া বারী মম মনে করিয়ে দিয়েছেন তার দক্ষতা। তবে, বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন লাস্যময়ী অভিনেত্রী লাবণ্য চৌধুরী। বড়ো বড়ো জাঁদরেল শিল্পীদের সাথে পাল্লা দিয়ে দাপুটে অভিনয় করে তিনি জানান দিয়েছেন, ঢাকাই সিনেমায় নিজের আসনটি তিনি পাকাপোক্ত করতে এসেছেন।
শরিফুল রাজ এবং তার মায়ের চরিত্রে রূপদানকারী শামিমা নাজনীন তাদের রসায়ন দর্শকদের দীর্ঘক্ষণ পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকতে বাধ্য করেছে। অন্যদিকে, চঞ্চল চৌধুরীর অভিনয় ভালো হলেও চরিত্রটি হয়তো তার মাপকাঠিতে কিছুটা ম্লান ছিল ; দর্শকরা তার কাছ থেকে আরো বলিষ্ঠ কোনো চরিত্রের দাবি রাখতেই পারেন। সাবিলা নূর শাকিব খানের সাথে প্রথম ছবিতে অভিনয় করে আলোচনায় আসেন, তবে এই ছবিতে তেমন একটা আলাদা করে আলো ছড়াতে পারেননি। কখনো তাকে খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে, কখনো আবার চরিত্রটি ম্লান হয়েছে। বিশেষ করে কয়েকটি দৃশ্যে তার মেকআপ অসামঞ্জস্য মনে হয়েছে। তবে, অভিনয়ের দিকে তার নজর ছিল বেশ। শিশুশিল্পী চরিত্রে যে শিল্পী অভিনয় করেছেন, দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। চোর চরিত্রে যিনি অভিনয় করেছেন, তার উপস্থিতি কম থাকলেও দ্যুতি ছড়িয়েছেন তিনি। তার অভিনয়ে দর্শক আনন্দ উপভোগ করেছেন। ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ছিল এককথায় অসাধারণ, যা গল্পের আবহে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। তবে, কারিগরি কিছু জায়গায় আরো সতর্ক হওয়ার অবকাশ ছিল। পুরো ছবিটির প্রেক্ষাপট ট্রেন হলেও, ট্রেনের সেই পরিচিত ‘ঝিকঝিক’ শব্দ বা ট্রেনের ঝাঁকুনি পর্দায় সেভাবে অনুভূত হয়নি। এছাড়া একটি দেশাত্মবোধক গানের শুরুটা দারুণ হলেও দ্বিতীয় অন্তরা থেকে সুরের বিচ্যুতি কিছুটা দৃষ্টিকটু লেগেছে।
সবচেয়ে বড়ো অসঙ্গতি চোখে পড়েছে মোশাররফ করিমের পোশাক নিয়ে। পুরো ছবিতে তাকে লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় দেখা গেলেও, জানাজা পরবর্তীকবরস্থানের দৃশ্যে হঠাৎ প্যান্টে দেখা যাওয়াটা গল্পের ধারাবাহিকতায় বড়ো একটি ‘কন্টিনিউটি ব্রেক হিসেবে ধরা দিয়েছে।
কারিগরি কিছু খুঁত থাকা সত্ত্বেও দর্শক ছবিটি দারুণভাবে উপভোগ করছেন। যেদিন ছবিটি দেখেছি, সে শোটি হাউজফুল ছিল। দর্শক এবং তাদের স্বতঃস্ফূর্ত রিঅ্যাকশনই তার প্রমাণ। এই পর্যন্ত সিনেমাটি বেশ ভালো ব্যবসা করেছে বলে জানা যায়। যা ঝিমিয়ে পড়া সিনেমা শিল্পের জন্য নিঃসন্দেহে একটি দারুণ সুসংবাদ।
রেটিং : ভালো গল্প এবং শক্তিশালী অভিনয়ের জন্য সিনেমাটি অবশ্যই দেখার মতো।
প্রেশার কুকার, গল্প প্রসংসিত, সংলাপে নোংরামি

একটু ভিন্ন ধরনের গল্প নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসেন রায়হান রাফি। এবারের ঈদেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। সমাজের নানা অসঙ্গতি নিয়ে এবারের গল্পের প্লট সাজিয়েছেন নির্মাতা রায়হান রাফি। গল্পের জন্য যেমন প্রশংসা পেয়েছেন আবার সংলাপ ও কিছু দৃশ্য ধারণের জন্য সমালোচিত হয়েছেন তিনি। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম এবং কানন ফিল্মসের ব্যানারে প্রযোজনা করেছেন ফরিদুর রেজা সাগর ও রায়হান রাফি। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন শবনম বুবলী, নাজিফা তুষি, ফজলুর রহমান বাবু, শহীদুজ্জামান সেলিম, মিশা সওদাগর, গাজী রাকায়েত, রিজভী রিজু, মারিয়া শান্ত, স্নিগ্ধা চৌধুরী এবং আরো অনেকে। এটি মূলত নারীকেন্দ্রিক সিনেমা।
অনেকেই এটিকে রাফির অন্যতম সেরা কাজ এবং নাজিফা তুষির অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন। সিনেমাটি রাজনীতি, পুলিশ, প্রেম, লোভ ও বিশ্বাসঘাতকতার একটি তীব্র ও বাস্তবসম্মত গল্প, যা সমালোচকদের একাংশকে মুগ্ধ করেছে।
এটি একটি প্রাপ্তবয়স্ক ও মনস্কদের সিনেমা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রায়হান রাফির পরিচালনা ও নির্মাণশৈলী বেশ প্রশংসিত হয়েছে।
অভিনয় : নাজিফা তুষি তার চরিত্রের জন্য প্রশংসিত হয়েছেন। সিনেমাটি নারীদের গল্প নিয়ে নির্মিত, যা দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
সিনেমাটি রাজনীতি, পুলিশ, প্রেম, লালসা, বিশ্বাসঘাতকতা এবং লোভের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এক গল্প।
দর্শক প্রতিক্রিয়া : দর্শকদের একটি বড়ো অংশ এটিকে ‘বেস্ট’ বা ‘দারুণ একটি কাজ’ হিসেবে প্রশংসা করেছেন। তবে, মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় কেউ কেউ এটিকে একটি চমৎকার কাজ বললেও, অন্য কেউ কেউ হয়তো প্রত্যাশা অনুযায়ী না পাওয়ায় হতাশ হয়েছেন ।
তুষির সাবলীল অভিনয় গল্পটিকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে। পাশাপাশি অভিনেতা রিজভী রিজু এবং ফজলুর রহমান বাবুর অভিনয়ও প্রশংসানীয়। ছবিতে তুষির ভাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফরহাদ লিমন। নোয়াখালির ভাষায় খুব সাবলীল অভিনয় করেছেন তিনি। কিন্তু এই ছবিতেও হতাশ করেছে চঞ্চল চৌধরী। পর্দায় যেটুকু উপস্থিত ছিলেন অভিনয় দুর্দান্ত করলেও তার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ছবিতে তাকে অতিথি চরিত্র মনে হয়েছে। মাত্র কয়েকটি দৃশ্যে অভিনয় করেছেন তিনি। কিন্তু দর্শক তার কাছে আরো ভালো চরিত্র আশা করেন।
ছবির গল্প প্রশংসিত হলেও কিছু সংলাপ ও দৃশ্য পরিবারকে নিয়ে দেখার মতো নয়। বিশেষ করে ছবিতে সেক্স ভায়োলেন্স হলভর্তি দর্শককে ছি ছি বলতে শোনা গিয়েছে। অনেকে না বুঝে সপরিবারে ছবি দেখতে এসে হল থেকে বেরিয়ে গেছেন। যাওয়ার সময় তাদের মুখ থেকে বেরিয়ে এসেছে, ‘এই ছবি সেন্সর ছাড়পত্র পায় কীভাবে ?’ সেক্স সিকোয়েন্স ও কিছু সংলাপ ছাড়া ছবিটির গল্প বেশ ভালোই ছিল।
প্রত্যাশা বনাম প্রাপ্তির ‘দম’

২ এপ্রিল সীমান্ত সম্ভার স্টার সিনেপ্লেক্সে দেখা হয় বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘দম’। একটি সিনেমা তখনই সার্থকতা পায় যখন তার প্লট দর্শকের হৃদয়ে দাগ কাটতে পারে। সেইসাথে সঠিক কাস্টিং এবং নির্মাণশৈলী তো আছেই।
ছবির শুরু থেকেই যার অভিনয় চোখে লেগে থাকে, তিনি আফরান নিশো। বরাবরের মতোই তিনি দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন। অন্যদিকে চঞ্চল চৌধুরী এই ছবিতে তার নামের প্রতি কিছুটা হলেও সুবিচার করেছেন ; পুরো ছবিতেই তিনি ছিলেন প্রাণবন্ত। দর্শক তার উপস্থিতি বেশ উপভোগ করেছেন। স্বল্প সময়ের জন্য পর্দায় এলেও জাহিদ হাসান মন্ত্রী চরিত্রে নিজের জাত চিনিয়েছেন। তবে, নিশোর বিপরীতে পূজা চেরির অভিনয় নিয়ে মিশ্র অনুভূতি রয়েছে। শুরুটা আশাব্যঞ্জক হলেও মাঝপথে তিনি যেন কিছুটা খেই হারিয়ে ফেলেছেন। কিছু আবেগপ্রবণ দৃশ্যে তিনি ভালো করলেও, সামগ্রিকভাবে চরিত্রটিতে তাকে কিছুটা ‘মিস কাস্টিং’ মনে হয়েছে।
নির্মাণ ও দুর্বলতা
ছবির সবচেয়ে বড়ো সীমাবদ্ধতা ছিল এর দৈর্ঘ্য। গল্পকে অহেতুক টেনে বড়ো করার কারণে মাঝে মাঝে বিরক্তি চলে আসে, এমনকি ঝিমুনিও পায়। তবে, পরিচালক রেদোয়ান রনির প্রশংসা করতে হয় এই কারণে যে, গল্পের সংলাপগুলো এতই শক্তিশালী ছিল যে, প্রতিবার তন্দ্রাচ্ছন্ন হওয়ার আগেই কোনো-না-কোনো সংলাপে আবার নড়েচড়ে বসতে হয়েছে।
নির্মাণ ভালো হলেও কিছু টেকনিক্যাল ভুল বা ‘কন্টিনিউটি মিস’ চোখে পড়ার মতো ছিল। বিশেষ করে, ক্লাইম্যাক্সের দিকে নিশো যখন ভিলেনের সাথে পাহাড় থেকে পড়ে যান, মাস্টার শটে নিচে পাথর দেখা গেলেও ক্লোজ শটে তাদের পানিতে পড়তে দেখা যায়। আবার পানি থেকে ওঠার পর নিশোর শার্ট একদম শুকনো থাকাটা ছিল বেশ দৃষ্টিকটু। বর্তমান সময়ের সচেতন দর্শকেরা ছবি দেখতে এসে এ ধরনের ত্রুটি মেনে নেন না। ছবির দু’টি দৃশ্যে সরাসরি নেশাজাতীয় পণ্যের বিজ্ঞাপন অপ্রয়োজনীয় ও দৃষ্টিকটু মনে হয়েছে। বিশেষ করে হাকিম জর্দ্দা ও ক্যামেল সিগারেটের প্রচারণা।
‘দম’ নিয়ে চারদিকে যতটা হাইপ বা আলোচনা হয়েছিল, দেখার পর মনে হয়েছে, সেটি কিছুটা বাড়তি ছিল। একজন গুণী নির্মাতা হিসেবে রেদোয়ান রনির কাছে দর্শকের প্রত্যাশা আরো অনেক বেশি। সব মিলিয়ে আমার কাছে ছবিটির স্কোর ১০-এ ৬। যারা নিশো বা চঞ্চল চৌধুরীর অভিনয়ের ভক্ত, তারা একবার দেখে নিতে পারেন ‘দম’ ছবিটি।
ছবিটি সার্ভাইভাল থ্রিলার নয়, এটা মানুষের অস্তিত্ব, পছন্দ, দায়বদ্ধতা এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে আটকে পড়া এক নিঃশ্বাসের গল্প। তিনি এখানে ভিজ্যুয়ালকে শুধু দৃশ্য হিসেবে ব্যবহার করেননি, তিনি একে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ভূগোল বানিয়েছেন।
গল্পে পাবনার শান্ত, স্নিগ্ধ গ্রাম আর আফগানিস্তানের ধূসর, অনিশ্চিত ভূদৃশ্য [শুটিং সম্ভবত তাজাকিস্তানে হয়েছে]-এই দুই ভুবনের কন্ট্রাস্টই ‘দম’-এর মূল নাটকীয়তা তৈরি করে। অচেনা, দুর্গম মরু অঞ্চলে বসে এমন একটি ন্যারেটিভ তৈরি করতে সত্যিই দম লাগে। তালেবানদের হাতে অপহৃত হওয়ার পর নিশোর শরীর যেন আর তার নিজের থাকে না, এটা হয়ে ওঠে দরকষাকষির একটা ‘অবজেক্ট’। এখানে ব্যক্তিস্বাধীনতা রাষ্ট্রীয় ও সামরিক শক্তির কাছে সম্পূর্ণভাবে বিলীন। ভূ-রাজনীতিতে একটা প্রাণ কতখানি অকিঞ্চিৎকর, তা যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো হয়েছে এই চলচ্চিত্রে।
ছবির একটি দৃশ্য হলভর্তি দর্শককে নিস্তব্ধ করে দেয়, দৃশ্যটি হলো নিশো যখন গাধার পিঠে চড়ে তার ভাগ্য নির্ধারণের অন্তহীন যাত্রা করে। এই দৃশ্যের রূপক সত্যিই এক রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। গাধা হাঁটা থামালেই জীবনাবসান ! আফরান নিশো এই ছবিতে মূলত দম হয়ে ওঠেনÑ তার শ্বাস, ভয়, বেঁচে থাকার আকাক্সক্ষা পুরো ন্যারেটিভকে চালিত করে। বন্দিদশার পর তার পারফর্মেন্স ক্রমশ ইনওয়ার্ড হয়ে যায়, কম সংলাপ, বেশি চোখের ভাষা। বাঁচার আকুতি, বিপদে দোয়া ইউনুস পড়া, সবমিলিয়ে দৃশ্যটি হয়ে ওঠে অনবদ্য। এই দৃশ্যে মনে হয়েছে, দর্শক সরাসরি স্পটে উপস্থিত থেকে নিশোর জন্য দোয়া চাচ্ছেন। গাধা না-থামার কারণে প্রাণে বেঁচে যান নিশো। সবচেয়ে অবাক লেগেছে, এই ছবিতে পাথরের মধ্যে নিশোকে পড়ে যেতে হয়েছে একাধিকবার, হয়ত ছবিটি করতে গিয়ে ব্যথাও পেয়েছেন তিনি।
আবহসংগীত কয়েকটি জায়গায় ভালো লাগলেও কয়েকটি জায়গায় খাপ ছাড়া মনে হয়েছে।