মানুষের বেঁচে থাকাটা একটা আনন্দ। আর এ আনন্দ পৃথিবীর কোনো আনন্দের সাথেই তুলনীয় নয়। বেঁচে থাকা মানে জীবন। জীবন ! সে সুন্দর, তারপরও কিছু মানুষ আছেন যাদের কাছে মনে হয় এ ভূতলে থাকি আর নাই-বা-থাকি তাতে কিচ্ছু যায় আসে না, যা রেখে গেলাম তা-ই যথেষ্ট। তাতেই আনন্দ। তাই তো জীবনযুদ্ধ শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে একজন শিল্পী তার ব্যক্তিগত ডায়রিতে লেখেনÑ ‘এই চলে যাওয়া খুব আনন্দের এবং আমি নিশ্চিত আমি আর কখনো ফিরে আসবো না।’
কতটা নির্ভীক, নিশ্চিন্ত, উদার ও সহজভাবে সকল যন্ত্রণা, কষ্ট, দুঃখকে আড়াল করে মৃত্যুর আগে লিখে গেলেন এই কথাগুলো। এ কোনো স্বভাবিক শক্তি নয়। শিল্পী যখন তাঁর চিত্তকে তুলে ধরেন আকাশের মাপে মাপে, তিনি যখন মিশে যেতে পারেন মানুষ ও প্রকৃতির লীলাভূমিতে এবং সে যখন নিজেকে গভীর মগ্ন করে গড়ে তোলেন তাঁর শিল্পকর্মের অন্তর্জালে তখনই সম্ভব এমন উক্তি করা। তিনি জানেন, তিনি আর ফিরবেন না, একবার চলে গেলে কেউ আর ফিরে আসে না, তবু আনন্দে তিনি গদগদ হয়ে লিখে ফেললেন কথাটি। তিনি আর কেউ নন তিনি হলেন প্রতীকীবাদী, অধিবাস্তববাদী ফ্রিদা কাহলো।
ফ্রিদার পুরো নাম ছিল ম্যাগদালিনা কারম্যান ফ্রিদা কাহলোই ক্যালদেরন। পিতা গিলেরমো কাহলো। ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে জার্মানিতে যখন নাৎসিবাদিতা জেগে ওঠে তখন ফ্রিদা তাঁর নিজের বানান লেখেন এভাবে ‘ঋৎরবফধ’ ফ্রিদার মা ছিলেন মাটিলডা ক্যালদেরন ই গন্জালেজ। মা ছিলেন স্প্যানিশ-নেটিভ আমেরিকান ক্যাথলিক বাবা ইহুদি হাংগেরিয়ান। বাবা গিলেরমো দু’টি বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রী দ্বিতীয় সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা যান, তিনি পরে মাটিলোডাকে বিয়ে করেন, এ ঘরে চার সন্তানের জনক হন গিলেরমো, এদের মধ্যে ফ্রিদা কাহলো ছিলেন তৃতীয় সন্তান।
শিল্পী ফ্রিদা জন্মেছিলেন মেক্সিকো সিটির কোয়াকোয়ানে ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দের ৬ জুলাই। তিনি মাত্র ছয় বছর বয়সে পোলিওতে আক্রান্ত হলে তাঁর দু’ পা-ই ধীরে ধীরে সরু ও ছোটো হয়ে যেতে থাকে। এ বিষয়টি নিয়ে ফ্রিদার কষ্টের শেষ ছিল না, তিনি বিষয়টি লোকচক্ষুর আড়ালে রাখতে নিজেকে ঢেকে রাখতেন লম্বা স্কার্ট পরে। এছাড়াও ঝঢ়রহধ ইরভরফধ ছিল। এ রোগের কারণেই পায়ের সংবেদনশীলতা কমেছে মেরুদণ্ডে এবং পায়ের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে। এতদসত্ত্বেও তিনি কৈশোরে পা রাখতেই নানা খেলাধুলাসহ বক্সিংচর্চায় নিজেকে জড়িত করেন। পড়াশোনায় তার প্রিয় বিষয় ছিল বিজ্ঞান। ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ভর্তি হন মেক্সিকোর প্রিমিয়ার স্কুল প্রিপারেটোরিতে মেডিকেল সায়েন্স নিয়ে পড়তে, সেখানে তিনি প্রেমে পড়েন আলেজান্দ্রো গোমেজ আরিয়াসের, তখন চলছিল মেক্সিকান বিদ্রোহের ডামাডোল। মেক্সিকোর রাস্তায় রাস্তায় সশস্ত্র সহিংসতা, আর সংগ্রাম। এ সময়েই সেই স্কুলের অডিটোরিয়ামের দেয়ালে ছবি আঁকার জন্য আসেন বিখ্যাত শিল্পী ডিয়েগো রিভেরা। ডিয়েগোকে দেখে ফ্রিদা আবার ঝুঁকে পড়েন ক্যানভাসের জমিতে, মন দেন শিল্পচর্চায়। কথায় আছে, ‘অভাগা যেদিকে চায় সাগরও শুকিয়ে যায়’ ফ্রিদার জীবনেও হয়তো এমন সময়ই এসেছিল। দুর্ভাগ্যবশত তার আর মেডিকেলে পড়া হয় না। ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দ হবে সময়কাল, এমন সময় ফ্রিদা মাত্র ১৮ বছর বয়সে একটি বাস দুর্ঘটনায় মেরুদণ্ডে ও পায়ে বড়ো ধরনের আঘাত পান এবং পা ও মেরুদণ্ড আবারো ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ফ্রিদার জীবনকে দাঁড় করিয়ে দেয় এক দুঃখ-যন্ত্রণাগভীর সমুদ্রে যার কিনারা নেই, বহুদূর, আরো দূর, যেদিকেই চোখ মেলা যায় তাতে যেন আকাশ আর জল। এ দিগন্তরেখায় এককণা পরিমাণ মাটির খোঁজ নেই, যেখানে দাঁড়ানো যায় দু’দণ্ড। শিল্পীকে বাঁচতে হয় কৃত্তিম পা সংযোজন করে। তবে, তার জীবনের শেষ দিকে হুইল চেয়ারেই বসতে হয়। বাস দুর্ঘটনার জন্য শিল্পীকে প্রায় ৩০ বার অস্ত্রোপচার করতে হয়েছিল। কী অদম্য এক চরিত্র এত ঘাত-প্রতিঘাত তবুও থেমে যায়নি। যেন বহমান নদীর স্রোত। তিনি বিছানায় শুয়েই আবার শুরু করেন ছবি আঁকতে, শিল্পীদের নানারকম কাজ নিয়ে পড়াশোনাও করতে থাকেন। তার ছবির বিষয়, ভাব, রং নিয়ে পরে বলবো, তবে তার ছবির বেশিরভাগ বিষয়েই ব্যক্তি ফ্রিদা নিজেই। দু’তিন মাস একেবারে অচলায়তনের মধ্যেও তিনি বেশি এঁকেছেন নিজের প্রতিকৃতি, তিনি নিজেকে যেভাবে চিনতেন এরচেয়ে অন্যকিছু তেমন চেনার কথা নয়, তাঁর ক্ষতবিক্ষত দেহ মনকে সাজিয়েছে নানা রঙে ও বর্ণে, বরাবর ঢেকে রেখেছেন নিজের ছোটো হয়ে যাওয়া পা, তার সাথে লম্বা স্কার্ট, মাথায় পাগড়ির মতো কাপড় তার উপর ফুলের শোভা পুরো অবয়বকে তুলে ধরেছেন এক নানন্দনিক শোভামণ্ডিত মার্জিত পোশাক ও পরিচ্ছদে।

তিনি কোনোরকম নিয়মের মধ্য থেকে ছবি আঁকতে শুরু করেননি। তার স্কুলজীবনের ছবি আঁকার অভিজ্ঞতাই কাজে লাগিয়েছেন। শিল্পীর বাবা ছিলেন একজন প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার, তিনি বাবার খুব কাছাকাছি থাকতেন এবং তার কাজে সহযোগিতা করতেন। সেখানে কাজ করতে করতে তিনি খুব সূক্ষ্ম বিষয়গুলো দেখতেন। এভাবেও তার চোখ তৈরি হয়। বাবার বেশ বড়ো একটা বইয়ের সংগ্রহশালা ছিল, যাতে অনেক নামি শিল্পীদের বই ছিল। তিনি সেসব বই গিলেছেন গোগ্রাসে। সেসব বই পড়ে তিনি যথেষ্ট জ্ঞান অর্জন করেছেন। একসময়ে জীবনে যন্ত্রণাকে মুখ্য করেই নেমে পড়েন ছবি আঁকতে, তিনি বুঝতে পারছিলেন যে, এ শরীর নিয়ে ডাক্তারি পড়া সহজ হবে না বরং ছবি আঁকাটা তার কাছে সহজতর। জীবদ্দশায় প্রায় ১৪০টি পেইন্টিং, ১২টি রেখাচিত্র আর ৫৫টি আত্মপ্রতিকৃতি করেন। ‘আমি আমাকেই আঁকি’, ‘আমি একা এবং একমাত্র’। ‘আমি এও জানি যে, আমি আমাকেই সবচেয়ে বেশি জানি’। ‘নিজেকেই চিনি, যা জানি সবচাইতে বেশি’। ফ্রিদার প্রায় সব ছবিই তাঁর মনজগৎ ও শরীরে থাকা যন্ত্রণার বহিঃপ্রকাশ। তার ছবিতে মেক্সিকান লোকশিল্পের কিছুটা ধাঁচ আছে, আছে উজ্জ্বল গাঢ় রঙের উপস্থিতি। আদিম চিত্রলিপি, স্যুরিয়ালিস্ট, ক্লাসিক বর্ণনা আর মেক্সিকান লোকশিল্পের ধারাকে অনুকরণ করেন তিনি তার চিত্রকলায়। ১৯৩৮ খ্রিষ্টব্দে আমেরিকার জুলিয়েন লেডি গ্যালারিতে ফ্রিদা কাহলোর একক প্রদর্শনী হয়। সে সময়ে ২০ শতকের মেক্সিকান খ্যাতিমান শিল্পীদের তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়।
ফ্রিদার ছবি ও যুক্ত ঘটনা
শিল্প সমালোচকগণ ফ্রিদার ছবিগুলোকে মেক্সিকানিজম বলে অবিহিত করেন। ফ্রিদার ছবি ‘পোর্ট্রেট ওয়ারিং ভেলভেট ড্রেস’-এ আমরা দেখতে পাই ভীষণ নীলচে কালো রাত্রির ঘনঘটা, অন্ধকারে সামান্য সাদা মেঘের যাত্রা, ঘুর্ণায়মান উত্তাল জলতরঙ্গের সামনে কোমর অবধি দাঁড়ানো কাহলোর জোড়া ভ্রু’র নিচে চোখের দৃষ্টি নির্বিকার, নির্লিপ্ত এবং ভয়ানক চিন্তাক্লিষ্ট যদিও গড়নে জড়ানো ভেলভেট কাপড়ের গাউন সোনালি নকশায় মুড়িয়ে রাজকীয় আভিজাত্য রসের প্রকাশ করছে কিন্তু গড়নের ভেতর শরীর ও মনের দহন সুস্পষ্ট যন্ত্রণার বহিঃপ্রকাশ তার তীক্ষè দৃষ্টিতে।
ফ্রিদার ছবি বিমূর্ত নয়, ফ্রিদার প্রকাশ বিমূর্ত। তাঁর দৈহিক ও মানসিক যন্ত্রণাকে মুড়িয়ে রেখেছিল ঐতিহ্যবাহী তিহুয়ানা পোশাক ঢিলাঢালা স্কার্ট ও বাঙালিদের মতো ব্লাউজ তাও ঢোলা শরীরের চেয়ে বড়ো, নানা ধরনের স্বর্ণালংকার, মাথার উপর পাগড়ি আর তার উপর ফুলের সম্ভার দিয়ে এ স্টাইলই তাঁর ট্রেডমার্ক হয়ে ওঠে।
ফ্রিদার শরীর সুস্থতা পেলে তিনি যোগ দেন মেক্সিকান কমিউনিস্ট পার্টিতে। সেখানে দেখা হয় ডিয়েগো রিভারের সাথে। শিল্পী তার কাজের জন্য রিভারের দ্বারে আসেন। রিভারও বুঝতে পারেন ফ্রিদা কাহলোর প্রতিভা সম্বন্ধে, তিনিও সেভাবেই যত্ন নিয়ে তাকে উৎসাহিত করতে থাকেন। সেখান থেকেই তাদের দু’জনার ভালো লাগা পরে শুভপরিণয়ের দিকে এগোয়। ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে মা-বাবার আপত্তি সত্ত্বেও তাদের সম্মতি ছাড়াই রিভেরাকে বিয়ে করেন। রিভেরা ফ্রিদা থেকে বিশ বছরের বড়ো ছিলেন। বিয়ের পরে ফ্রিদার বাবা বলছিলেন, ‘এ তো হাতি আর ঘুঘুর বিয়ে’।
ফ্রিদার ছবিতে একজন নারীর বুক থেকে বের হয়ে আসা লতা, গুল্ম, পিছনে অবিন্যস্ত জমি, শরীরের বাহ্যিক পোশাক যথেষ্ট মূর্ত কিন্তু তার আবেদন অর্থ ও বোধ, চিন্তার বিহিঃপ্রকাশ বিমূর্ত। রিভেরারের সাথে বিয়ের পর তার ছবির ধরন পাল্টে যায়, পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়, শুধু পোশাকে নয় বরং কাজের মধ্যেও। মেক্সিকান লোকশিল্পের ঐতিহ্যকে রেখে কাজ করতে থাকেন তিনি।

১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে রিভেরা সরকারি কমিশনে একটি ভাস্কর্যের কাজ পান এ সময়ে ফ্রিদা বেশ কয়েকবার গর্ভধারণ করেন এবং প্রতিবারই তা গর্ভপাত হয়ে যায়। এদিকে ফ্রিদা তাঁর মাকেও হারিয়ে নিজের চরমতম যন্ত্রণার রংগুলো একে একে ক্যানভাসের জমিতে ঢেলে সাজান তাঁর ছবির বাগান। ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে আঁকেন ‘মাই বার্থ’ সন্তান জন্মদানের দৃশ্য। তবে, প্রতিটি ছবিতেই উজ্জ্বল রং আর অকৃপণ নাটকীয়তা রেখে গেছেন ছবির কথায়। তাঁর ছবিতে যেখানে বানর এসেছে সেখানে কামুকের রূপ প্রকাশিত করেছেন। কারণ, তার ছবি মেক্সিকান লোকসংস্কৃতির ধারক।
১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দে ফ্রিদা ও রিভেরা মেক্সিকোতে ফিরে একটি বাড়ি নির্মাণ করেন সেখানে অনেক শিল্পবোদ্ধাদের আগমন ঘটে। তার মধ্য আন্দ্রে ব্র্যাশোনের মতো শিল্পবোদ্ধাও আসেন এবং ব্র্যাশোনা ফ্রিদার প্রথম একক প্রদর্শনীর ভূমিকা লেখেন। সেখানে তিনি বলেন, ফ্রিদা স্ব-শিক্ষিত অধিবাস্তববাদী শিল্পী। ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দে নিউ ইয়র্কে জুলিয়া লেডি গ্যালারিতে এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়, তার পরের বছরই প্যারিসে প্রদর্শনী হয়। ল্যুভর মিউজিয়াম ফ্রিদার শিল্পকর্ম ‘দ্য ফ্রেম’ শীর্ষক ছবিটি কিনে নেয়। সে সময়ের প্রথম মেক্সিকান শিল্পী ফ্রিদাকাহলো যার ছবি ল্যুভর মিউজিয়ামের দেয়ালে শোভা পায়।
বিবাহিত জীবনে রিভেরার বহুগামিতা, ফ্রিদার ছোটোবোনের সাথে সম্পর্ক এবং ফ্রিদার লিয়ন ত্রস্কির সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্কের জের টেনে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়, এসময়ে তিনি আঁকেন ‘দ্য টু ফ্রিদা’স’। এখানে রিভেরার সাথে বিচ্ছেদজনিত বিষয় সুস্পষ্ট একজন অভিজাত নারী ফ্রিদার ভগ্নহৃদয় আরেকটি আধুনিক কিন্তু তার লম্বা কাপড়ে মোড়ানো দেহের বিমূর্ত বেদনা জড়িত ফ্রিদা। পেছনে অবিন্যস্ত আকাশ রয়েছে। একই ফ্রিদার দুই রূপ অভিজাত ফ্রিদার ভগ্নহৃদয় ছিঁড়ে বেরিয়ে পড়া রক্তের ধমনী আধুনিক অথচ লম্বা পোশাকে ঢাকা ফ্রিদার হাত পর্যন্ত বিস্তৃত, সেখানে একটা কাঁচি দিয়ে কাটা রক্ত যেন পড়ছে ফোঁটায় ফোঁটায়। আর রয়েছে প্রেমিক রিভেরার ছবি হাতে। ছবিটি হাতে থাকার এই ইঙ্গিত যেন এক গভীর প্রেমের কথাই বলে, বলে আহত কষ্টের সুখ। এ যেন রবীন্দ্রনাথের ‘বেদনার সুখ’ রিভেরা ও ফ্রিদার সম্পর্কে যতটা দূরত্বই থাক তারচেয়েও গভীর নিকটতম ছিল হয়তো একে অপরের জন্য অত্মার টান। ডিয়েগো রিভেরা তার আত্মজীবনীতে লিখেছিলেন, ফ্রিদার মৃত্যুর দিনটি তার জীবনে সবচাইতে বেদনাময় ছিল এবং ডিয়েগোর জীবনে ফ্রিদার ভালোবাসাই ছিল মধুময়, অনন্য সুন্দর। ফ্রিদা কাহলো পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ জুলাই। শিল্পী ফ্রিদার জীবদ্দশায় তার কাজ কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। তা হলো : প্রথমত, দুঃখক্লিষ্ট, যন্ত্রণাময় প্রতিকৃতি। দ্বিতীয়ত, তার অভিমান, ও মনোজগতের দ্বন্দ্বনির্ভর। তৃতীয়ত, রাজনৈতিক ও নারীর মনোজগতের জটিলতাকে ঘিরে। পারিবারিক, সামজিক ও রাজনৈতিকভাবে একজন নারীর মনস্তত্ত্ব কখনো কখনো কতটা দুঃখ, অভিমান এবং বেদনাভার বহন করে চলতে হয়, সেটাও তার ছবিতে উপস্থাপন করেছেন নিজের চরিত্রকে ক্যানভাসে তুলে এনে। ফলে, ফ্রিদা কাহলো এখনো শিল্পালোচনায় সমকালীন।
লেখক : ভাস্কর ও চিত্রশিল্পী