আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশীয় ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল খাতের ব্যবসায়িক গতিশীলতা বজায় রাখতে শপিং মল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার দাবি জানিয়েছে ফ্যাশন এন্টারপ্রেনারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ [এফইএবি]। বর্তমান জ্বালানি সাশ্রয় পরিস্থিতির গুরুত্ব স্বীকার করলেও, বাস্তবতার নিরিখে সময়সূচি পুনর্বিন্যাস এখন জরুরি বলে মনে করছে সংগঠনটি।
এফইএবি-এর সভাপতি আজহারুল হক আজাদ এক বিবৃতিতে জানান, ঈদ মৌসুমে দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলোর জন্য সময়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শপিং মলগুলোর মোট বিক্রয়ের প্রায় ৬০ শতাংশই সম্পন্ন হয় সন্ধ্যার পর। তীব্র গরম এবং কর্মব্যস্ততার কারণে দিনের বেলা ক্রেতারা বাজারে কম আসলেও সন্ধ্যার পর ভিড় বাড়তে শুরু করে। কিন্তু বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টায় মল বন্ধ করে দেওয়ায় ব্যবসায়ীরা বড়ো ধরনের লোকসানের মুখে পড়ছেন।
অন্যদিকে পাড়া-মহল্লার দোকান, রেস্টুরেন্ট এবং অস্থায়ী মেলাগুলো রাত পর্যন্ত খোলা থাকলেও শপিং মলের ওপর কড়াকড়ি থাকায় বাজারে একটি অসম পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।
সীমিত সময়ের কারণে বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা তাদের বিনিয়োগ তুলে আনতে হিমশিম খাচ্ছেন। এই খাতের বেশিরভাগ উদ্যোক্তা হলেন নারী।
জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়টি মাথায় রেখে এফইএবি প্রস্তাব করছে, শপিং মলগুলো সকালের পরিবর্তে দুপুর ১টা থেকে কার্যক্রম শুরু করতে পারে এবং বন্ধের সময় সন্ধ্যা ৭টার পরিবর্তে রাত ১০টা পর্যন্ত বর্ধিত করা যেতে পারে।
সংগঠনটি মনে করে, এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন সরকারের বিদ্যুৎ সাশ্রয় নীতি আংশিকভাবে বজায় থাকবে, অন্যদিকে ঈদ মৌসুমে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্বাভাবিক গতি ফিরবে। এতে দেশীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থ সংরক্ষিত হবে।
আসন্ন ঈদের কেনাকাটায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে এফইএবি।