পশ্চিমবঙ্গের জি বাংলা, স্টার জলসাসহ অন্যান্য চ্যানেলে প্রচারিত হয় কত কত মেগা সিরিয়াল। সেইসব সিরিয়ালের পারিবারিক গল্প আর উপস্থাপন এতই জমকালো যে, বাংলাদেশের দর্শকও গোগ্রাসে সে-সব গিলতে থাকে একটার পর একটা। অনেকে তো ভেবেই পান না কোনটা ছেড়ে কোনটা দেখবেন। সেইসব সিরিয়ালের অনেক নায়িকাই বাংলাদেশের ঘরে ঘরে টিভিপর্দা থেকে ড্রয়িং রুমে ঢুকে পড়েছেন। ড্রয়িং রুম থেকে আসন পেতে নিয়েছেন দর্শকের হৃদয়েও। দর্শকের হৃদয়ে আসন গেঁড়ে বসা পাঁচজন নায়িকার আদ্যপান্ত নিয়ে এই আয়োজন। লিখেছেন শহিদুল ইসলাম এমেল...
দিব্যানী মণ্ডল
ভারতীয় বাংলা টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিব্যানী মণ্ডল। জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘ফুলকি’-র মাধ্যমে তিনি দর্শকের মনে এক বিশেষ জায়গা তৈরি করে নিয়েছেন। তার ক্যারিয়ার, বেড়ে ওঠা এবং বর্তমান কাজ নিয়ে থাকছে বিস্তারিত প্রতিবেদন...
খুব অল্প সময়েই যারা ভারতীয় বাংলা সিরিয়ালের জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন দিব্যানী মণ্ডল। কেবল অভিনয় নয়, তার ব্যক্তিত্ব এবং জীবনদর্শনও দর্শকদের মুগ্ধ করে।
দিব্যানী মণ্ডলের আদি বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায়। তার বেড়ে ওঠা কলকাতার বাইরে হলেও উচ্চশিক্ষার প্রয়োজনে তিনি কলকাতায় আসেন। দিব্যানী যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি অনার্সের ছাত্রী। তার মা ও দিদা দু’জনেই শিক্ষিকা। মজার বিষয় হলো, দিব্যানী ছোলেবেলা থেকেই খেলাধুলায় পারদর্শী- তিনি ক্যারাটে গুরু দেবাশিস মণ্ডলের কন্যা।
দিব্যানীর অভিনয় জীবনের শুরু অনেকটা স্বপ্নের মতো। একটি মিউজিক ভিডিওতে তার অভিনয় দেখে জি বাংলা কর্তৃপক্ষ তাকে ‘ফুলকি’ ধারাবাহিকের নাম ভূমিকার জন্য নির্বাচন করে। প্রথমে তিনি বিষয়টিকে ‘প্র্যাঙ্ক কল’ ভেবেছিলেন, কিন্তু পরে লুক টেস্টের মাধ্যমে তিনি এই বড়ো সুযোগটি পান। ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দের জুন মাসে শুরু হওয়া এই ধারাবাহিকে একজন বক্সারের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি প্রতিটি বাঙালির ঘরে ঘরে পরিচিতি পান। অভিনেতা অভিষেক বসুর [রোহিত] সাথে তার জুটি দারুণভাবে সফল হয়।
দিব্যানী শুধু ছোটো পর্দায় সীমাবদ্ধ নেই। তিনি বর্তমানে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচই-এর নতুন রহস্যধর্মী সিরিজ ‘ঠাকুরমার ঝুলি’-তে অভিনয় করছেন। এখানে তিনি অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চ্যাটার্জির নাতনি ‘যাজ্ঞসেনী’র চরিত্রে একজন ক্রিমিনাল সাইকোলজির ছাত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করছেন। এছাড়া প্রখ্যাত পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের আগামী ছবি ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’-এ তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন। এছাড়াও অভিমন্যু মুখোপাধ্যায়ের একটি প্রেমের ছবিতে তাকে অভিনেতা দিব্যজ্যোতি দত্তের বিপরীতে দেখা যাবে।
দিব্যানীর জীবনযাত্রার একটি বিশেষ দিক হলো তার আধ্যাত্মিক চেতনা। তিনি শ্রীকৃষ্ণ ভক্ত। মাত্র ১৫ বছর বয়স থেকে তিনি সম্পূর্ণ নিরামিষ আহার গ্রহণ করছেন। এমনকি শুটিং সেটে আমিষ খাবারের দৃশ্য থাকলেও তার জন্য বিশেষভাবে মিষ্টি দিয়ে তৈরি নকল আমিষ খাবার আনা হয়। গলায় তুলসীর মালা এবং কৃষ্ণের প্রতি ভক্তি তাকে ইন্ডাস্ট্রির অন্যদের থেকে আলাদা করে চিনে নিতে সাহায্য করে।
দিব্যানী মণ্ডল প্রমাণ করেছেন যে, অধ্যবসায় এবং প্রতিভার মেলবন্ধন থাকলে পড়াশোনার পাশাপাশি পেশাদার জগতেও শীর্ষস্থানে পৌঁছানো সম্ভব। ছোটোপর্দা থেকে ওয়েব সিরিজ ও সিনেমা- সব মাধ্যমেই তার জয়যাত্রা অব্যাহত...।
অঙ্কিতা মল্লিক
টেলিভিশনের পর্দায় কখনও তিনি শান্ত, স্নিগ্ধ ঘরোয়া পুত্রবধূ, আবার কখনও অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা দুর্র্ধর্ষ পুলিশের স্পেশাল অফিসার। দুই ভিন্ন মেরুর চরিত্রকে এক সুতোয় বেঁধে যিনি গত কয়েক বছর ধরে বাঙালির ড্রয়িংরুমে রাজত্ব করছেন, তিনি অঙ্কিতা মল্লিক। জি বাংলার জনপ্রিয় মেগা সিরিয়াল ‘জগদ্ধাত্রী’-র মাধ্যমে রাতারাতি তারকা হয়ে ওঠা এই অভিনেত্রীকে নিয়ে থাকছে বিশেষ প্রতিবেদন...

একজন সাধারণ মেয়ে থেকে পর্দার জগদ্ধাত্রী সিরিয়ালের ‘জ্যাস সান্যাল’ অঙ্কিতার জন্ম ও বেড়ে ওঠা খাস কলকাতায়। ছোলেবেলা থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি তার টান ছিল। তিনি কলকাতার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মনোবিজ্ঞান [চংুপযড়ষড়মু] বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। এই বিষয়টি তার অভিনয়েও সাহায্য করেছে বলে মনে করেন তিনি। কারণ চরিত্রের মনস্তত্ত্ব বুঝতে মনোবিজ্ঞান একটি বাড়তি সুবিধা দেয়।
মডেলিং দিয়ে গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডে হাতেখড়ি হলেও অঙ্কিতার মূল লক্ষ্য ছিল অভিনয়। দীর্ঘ লড়াই বা অডিশনের তিক্ত অভিজ্ঞতা খুব বেশিদিন তাকে সহ্য করতে হয়নি। প্রযোজক ও পরিচালক স্নেহাশিষ চক্রবর্তীর নজরে পড়তেই খুলে যায় তার ভাগ্যের চাকা।
২০২২ খ্রিষ্টাব্দে শুরু হওয়া ‘জগদ্ধাত্রী’ ধারাবাহিকটি অঙ্কিতার জীবনে এক জাদুকরী অধ্যায়। প্রথম কাজ থেকেই তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। ধারাবাহিকে তার দ্বৈত চরিত্র- একদিকে শান্ত স্বভাবের গৃহবধূ ‘জগদ্ধাত্রী’ এবং অন্যদিকে স্পেশাল ক্রাইম ব্রাঞ্চের দাপুটে অফিসার ‘জ্যাস সান্যাল’- দর্শকদের মুগ্ধ করে এই দ্বৈত সত্তায় তিনি নিজেকে ফুটিয়ে তোলেন নিখুঁতভাবে।
টিআরপি রেটিং-এ টানা কয়েক মাস বাংলা সিরিয়ালের রেটিং চার্টে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছিল এই মেগা সিরিয়ালটি।
বন্দুক হাতে অ্যাকশন সিকোয়েন্স থেকে শুরু করে আবেগঘন পারিবারিক দৃশ্য- অঙ্কিতার সাবলীল অভিনয় তাকে জনপ্রিয়তার কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছে দিয়েছে। সচরাচর নবাগত অভিনেত্রীদের ক্ষেত্রে এমন আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা বিরল।
বর্তমানে ‘জগদ্ধাত্রী’ ধারাবাহিকের দীর্ঘ পথচলা শেষ হয়েছে। তবে বিশ্রামের ফুরসত নেই অঙ্কিতার। তিনি এখন ব্যস্ত তার পরবর্তী বড়ো লক্ষ্য নিয়ে।
শোনা যাচ্ছে, টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির গণ্ডি পেরিয়ে এবার তিনি বড়ো পর্দায় পা রাখছেন। প্রখ্যাত অভিনেত্রী মহুয়া রায়চৌধুরীর বায়োপিকে অভিনয়ের অফার পেয়েছেন তিনি। গত শতকের সাত-আটের দশকের সেই সাড়াজাগানো অভিনেত্রীর চরিত্রে নিজেকে ফুটিয়ে তোলা এখন অঙ্কিতার কাছে বড়ো চ্যালেঞ্জ।
নতুন কাজের জন্য অঙ্কিতা বর্তমানে ওয়ার্কশপ এবং নিজের গ্রুমিং নিয়ে ব্যস্ত। পাশাপাশি বিভিন্ন জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের শুট এবং ফিতে কাটার অনুষ্ঠানেও তার উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
ইনস্টাগ্রামেও অঙ্কিতার ফ্যান ফলোয়িং ঈর্ষণীয়। সেখানে নিয়মিত ফটোশুট এবং নিজের জীবনের টুকরো টুকরো মুহূর্ত শেয়ার করে ভক্তদের সাথে যুক্ত থাকেন তিনি।
সাধারণত অনেক অভিনেত্রীর ক্ষেত্রেই দেখা যায় একটি সিরিয়াল সুপারহিট হওয়ার পর অন্য চরিত্রে তাকে কল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু অঙ্কিতা তার ব্যক্তিত্ব এবং লুকের বৈচিত্র্য দিয়ে প্রমাণ করেছেন তিনি বহুমুখী অভিনয়ের অধিকারী। তার হাসিতে যেমন সারল্য আছে, চোখের চাহনিতে তেমনই আছে জেদ।
অঙ্কিতা মল্লিক কেবল একজন অভিনেত্রী নন, তিনি বর্তমান প্রজন্মের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম- যিনি প্রমাণ করেছেন সঠিক মেধা ও সুযোগের মেলবন্ধন ঘটলে প্রথম সুযোগেই ইতিহাস তৈরি করা সম্ভব। দর্শকরা এখন মুখিয়ে আছেন বড়ো পর্দায় তাদের প্রিয় ‘জ্যাস’-কে দেখার জন্য।
তিতিক্ষা দাস
টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের অভিনয়ের জাদু ছড়িয়েছেন তিতিক্ষা দাস। বিশেষ করে ‘ইচ্ছে পুতুল’ ধারাবাহিকে তার অভিনীত ‘মেঘ’ চরিত্রটি তাকে ঘরে ঘরে পরিচিতি এনে দিয়েছে। তিতিক্ষা দাসকে নিয়ে থাকছে বিস্তারিত প্রতিবেদন...

তিতিক্ষা দাসের জন্ম ১২ জুন, ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায়। এক হিন্দু-বাঙালি পরিবারে তার জন্ম। কলকাতায় বড়ো হওয়ার সুবাদেই ছোলেবেলা থেকে অভিনয়ের প্রতি তার গভীর অনুরাগ জন্মেছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি নিজেকে মডেল হিসেবেও তৈরি করেছিলেন।
তিতিক্ষার পেশাদার অভিনয় জীবনের শুরু হয় ২০২১ খ্রিষ্টাব্দে। কালার্স বাংলার ‘দত্ত অ্যান্ড বৌমা’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে তিনি প্রথমবার লিড রোলে অভিনয় করেন। সেখানে ‘মুকুট’ চরিত্রে তার সাবলীল অভিনয় দর্শকদের নজর কাড়ে।
তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড়ো অর্জন হলো জি বাংলার ‘ইচ্ছে পুতুল’। এই ধারাবাহিকে তিনি মেঘের চরিত্রে অভিনয় করেন। দুই বোনের সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং মেঘের আত্মত্যাগের গল্পটি দর্শকদের এতটাই স্পর্শ করেছিল যে, ধারাবাহিকটি দীর্ঘ সময় জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিল। ‘ইচ্ছে পুতুল’ শেষ হওয়ার পর তিতিক্ষা এখন তার ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায় নিয়ে ব্যস্ত।
সম্প্রতি শেষ হওয়া তিতিক্ষা স্টার জলসার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘দুই শালিক’-এ প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন। এই ধারাবাহিকে তার অভিনীত ‘আঁখি’ চরিত্রটি ইতোমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এছাড়াও ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে তাকে সান বাংলার ‘ভিডিও বৌমা’ ধারাবাহিকের একটি বিশেষ পর্বেও দেখা গেছে।
বর্তমানে তিনি নিয়মিত শুটিংয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন স্টেজ পারফর্মেন্স এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রচার বা বিজ্ঞাপনের কাজে এখন বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন।
তিতিক্ষার জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ হলো তার সারল্য এবং বাস্তবসম্মত অভিনয়। মেঘ হোক বা আঁখি- প্রতিটি চরিত্রে তিনি নিজেকে এমনভাবে মিশিয়ে দেন যে, দর্শক সহজেই তার সঙ্গে একাত্ম হতে পারেন। অল্প বয়সেই তিনি যেভাবে জটিল ইমোশনগুলো পর্দায় ফুটিয়ে তোলেন, তা সমালোচকদেরও প্রশংসা কুড়িয়েছে।
তিতিক্ষা দাস অভিনীত স্টার জলসার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘দুই শালিক’ বাংলা টেলিভিশনের অন্যতম চর্চিত মেগা সিরিয়াল ছিল। এই ধারাবাহিকে তিতিক্ষা দাস এবং নন্দিনী দত্ত- দুই বোন হিসেবে মূল ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। সাধারণত বাংলা সিরিয়ালে দুই বোনের রেষারেষি দেখা গেলেও, ‘দুই শালিক’-এর গল্পটি কিছুটা ভিন্ন স্বাদের। এটি মূলত দুই যমজ বোনের জীবনের টানাপোড়েন এবং তাদের চারপাশের রহস্য নিয়ে আবর্তিত।
তিতিক্ষা দাস [আঁখি] চরিত্রে বেশ শান্ত, বুদ্ধিমতী এবং পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধ একজন মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। অন্যদিকে নন্দিনী দত্ত [পাখি] চরিত্রে বেশ চঞ্চল এবং ছটফটে। তিতিক্ষা দাস অভিনীত ‘ইচ্ছে পুতুল’ সিরিয়ালটিও দর্শক বেশ উপভোগ করেছেন।
ইধিকা পাল
জি বাংলার ‘রিমলি’ ধারাবাহিকের সেই সাধারণ মেয়েটি থেকে আজকের বাংলাদেশের ব্লকবাস্টার ছবি ‘প্রিয়তমা’-র নায়িকা- ইধিকা পালের এই যাত্রা যেন পর্দার কোনো সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। কেবল রূপ নয়, বরং নিজের অভিনয় দক্ষতা আর অদম্য পরিশ্রমের জোরে খুব অল্প সময়েই তিনি জয় করেছেন দুই বাংলার দর্শকদের হৃদয়। আজকের প্রতিবেদনে থাকছে টলিউড থেকে ঢালিউড কাঁপানো এই অভিনেত্রীর সাফল্যের বিস্তারিত...

ইধিকা পালের জন্ম ২ জুলাই ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দে ভারতের কলকাতা শহরে। সেখানেই তিনি বড়ো হয়েছেন। অভিনয়ের প্রতি টান থাকলেও পড়াশোনাকে তিনি সবসময় গুরুত্ব দিয়েছেন। ইধিকা অ্যাকাউন্টিংয়ে গ্র্যাজুয়েট। ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি তার বাবার কাছে একবছর সময় চেয়েছিলেন নিজেকে প্রমাণ করার জন্য। তিনি কথা দিয়েছিলেন, যদি একবছরের মধ্যে অভিনয়ে সফল না হন, তবে একটি সাধারণ চাকরি বেছে নেবেন। ভাগ্যক্রমে, সময়ের আগেই তার কাছে বড়ো অভিনয়ের সুযোগ চলে আসে। ইধিকার অভিনয় জীবন শুরু হয় ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে কালারস বাংলার ‘আরব্য রজনী’ ধারাবাহিকে একটি ছোটো চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে। এরপর থেকে তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক বিভিন্ন জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করতে দেখা গেছে তাকে। ছোটোপর্দার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘রিমলি’তে নামভূমিকায় অভিনয় করে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। একজন লড়াকু গ্রামীণ মেয়ের চরিত্রে তার সাবলীল অভিনয় দর্শকের মন জয় করে।
জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘পিলু’তে তিনি ‘রঞ্জা’ চরিত্রে অভিনয় করে বহু দর্শকের প্রশংসা পান। এই চরিত্রের জন্য তিনি ‘জি বাংলা সোনার সংসার অ্যাওয়ার্ড’-এ সেরা ননদ/বউদির পুরস্কারও জিতেছিলেন।
এছাড়া ‘কপালকুণ্ডলা’ ও ‘বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না’ ধারাবাহিকেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেন।
ইধিকার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায় ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দে। ওই সময় বাংলাদেশের সুপারস্টার শাকিব খানের বিপরীতে ‘প্রিয়তমা’ সিনেমার মাধ্যমে তার বড়ো পর্দায় অভিষেক ঘটে। ‘প্রিয়তমা’ সিনেমাটি বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম ব্যবসাসফল সিনেমা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ‘ইতি’ চরিত্রে ইধিকার অভিনয় ও তার মিষ্টি হাসি দুই বাংলার দর্শকদের মুগ্ধ করে।
এরপর ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি টলিউডে বড়ো সুযোগ পান। সুপারস্টার দেবের বিপরীতে ‘খাদান’ সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। ছবিতে ‘লতিকা’ চরিত্রে অভিনয় তাকে টলিউডের প্রথম সারির অভিনেত্রীদের তালিকায় নিয়ে আসে।
বর্তমানে ইধিকা পাল বড়ো পর্দার কাজ নিয়েই বেশি ব্যস্ত। তার হাতে বেশ কিছু নতুন প্রজেক্টও রয়েছে।
বলতে গেলে বড়ো বাজেটের সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন ইধিকা পাল। তিনি সেরা নবাগত হিসেবে আনন্দলোক অ্যাওয়ার্ড, ফিল্মফেয়ার বাংলা অ্যাওয়ার্ড লাভ করেছেন।
তিনি বড়ো পর্দায় আসার আগে কালার্স বাংলার ‘আরব্য রজনী’, স্টার জলসার ‘কপালকুণ্ডলা’, ও ‘বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না’ জি বাংলার ‘রিমলি’ ও ‘পিলু’তে অভিনয় করেছেন। এসব সিরিয়ালে অভিনয় করে তিনি এখন এতটাই জনপ্রিয় যে, নাটকের চেয়ে সিনেমায় অভিনয় করতেই বেশি আগ্রহী।
পল্লবী শর্মা
টলিপাড়ার অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ পল্লবী শর্মা। দর্শকদের কাছে তিনি কখনো ‘জবা’ আবার কখনো ‘পর্ণা’ নামে পরিচিত। নিজের অভিনয়-দক্ষতা আর স্নিগ্ধ ব্যবহারের গুণে তিনি অতি অল্প সময়েই ছোটোপর্দার এক অপরিহার্য অংশে পরিণত হয়েছেন। পল্লবী শর্মাকে নিয়ে থাকছে বিস্তারিত প্রতিবেদন...

পল্লবী শর্মার জন্ম হাওড়া জেলায়। তার শৈশব ও কৈশোর ছিল প্রচণ্ড লড়াই আর সংগ্রামের। খুব ছোলেবেলায়ই তিনি তার বাবা-মাকে হারান। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়াকালীন তার মায়ের ব্রেন টিউমার ধরা পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত তিনি মারা যান। এরপর দশম শ্রেণির পরীক্ষার সকালেই তার বাবার মৃত্যু হয়। বাবা-মায়ের অবর্তমানে তিনি তার পিসির কাছে বড়ো হয়েছেন। শত প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং কলকাতার ভবানীপুর কলেজ থেকে অ্যাকাউন্ট্যান্সিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
পল্লবীর অভিনয় জগতের যাত্রা শুরু হয়েছিল ছোটো ছোটো চরিত্রের মাধ্যমে। তিনি ২০১২ খ্রিষ্টাব্দে ‘নদের নিমাই’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে পর্দায় আসেন। এরপর ‘দুই পৃথিবী’ ধারাবাহিকেও তিনি কাজ করেছেন।
স্টার জলসার ‘কে আপন কে পর’ ধারাবাহিকে ‘জবা’ চরিত্রটি তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। টানা ৪ বছর এই চরিত্রে অভিনয় করে তিনি প্রতিটি বাঙালির ঘরে ঘরে পরিচিতি পান। পরবর্তীসময়ে জি বাংলার ‘নিম ফুলের মধু’ ধারাবাহিকে ‘পর্ণা’ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি আবারো নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেন।
বর্তমানে পল্লবী শর্মা জি বাংলার নতুন ধারাবাহিক ‘তারে ধরি ধরি মনে করি’-তে ‘রূপমঞ্জরি’ চরিত্রে অভিনয় করছেন। এই ধারাবাহিকে তার চরিত্রটি বেশ রহস্যময় এবং ভিন্নধর্মী, যা দর্শকের মধ্যে ইতোমধ্যেই বেশ সাড়া ফেলেছে।
পল্লবীর জনপ্রিয়তার মূল কারণ তার স্বাভাবিক অভিনয় এবং সাধারণ মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপনের ক্ষমতা। তিনি পর্দায় যে-চরিত্রে অভিনয় করেন, সেটি সাধারণ দর্শক সহজেই নিজেদের জীবনের সঙ্গে মেলাতে পারে। এছাড়া তার জীবনের ব্যক্তিগত কষ্টের গল্প এবং সেখান থেকে উঠে আসার লড়াই অনেক মানুষের কাছেই এক বড়ো অনুপ্রেরণা।