রক্তকাঞ্চন

01 Mar 2022, 12:59 PM প্রকৃতি শেয়ার:
রক্তকাঞ্চন

শীতের শুষ্কতা পেরিয়ে নববসন্তে পাতাহীন কাঞ্চনগাছে আসে ফুলের প্লাবন। কাঞ্চন ফুলের কয়েকটি প্রজাতি রয়েছে- দেবকাঞ্চন, শে^তকাঞ্চন ও রক্তকাঞ্চন। ফুলের রং, সৌন্দর্য ও শোভার জন্য রক্তকাঞ্চনই পছন্দের শীর্ষে।

রক্তকাঞ্চন ছোটোখাটো গাছ। হঠাৎ কখনো-সখনো লম্বা হয়। কাণ্ড খাটো, শাখা-প্রশাখা প্রচুর এবং উপরের ছাতার আকৃতির বা এলোমেলো আর বাকল ধূসর রঙের ও অমসৃণ। শীতের শেষে এর সমস্ত পাতা ঝরে যায় এবং বসন্তের শুরুতে পাতাহীন ডালে অজস্র ফুল ফোটে। ফুলেল গাছ সবার নজর কাড়ে। ফুল মূলত ঘন মেজেন্টা রঙের। ফুলে কোমল পাঁচটি পাপড়ি থাকে, এর মাঝে একটি পাপড়ি রঙে অন্যরকম, গোড়ার দিকে গাঢ় বেগুনি রঙের কারুকাজ। ফুলের মাঝখানে কাস্তের মতো বাঁকা পরাগ থাকে। বিস্তৃত শাখা-প্রশাখার মাথায় এক বা একাধিক ফুল ধরে। কৃষ্ণচ‚ড়ার পাপড়ির সঙ্গে কাঞ্চনের পাপড়ির বেশ মিল পাওয়া যায়। এই মিল নিতান্তই সামঞ্জস্য মাত্র নয় ; কৃষ্ণচ‚ড়া ও কাঞ্চন মূলত সমগোত্রীয়। কাঞ্চনের রং ও ঘ্রাণ আকর্ষণীয়। ফুলে ভরা কাঞ্চন গাছ দেখতে অতুলনীয় সুন্দর। বসন্তের মাঝামাঝি গাছে নতুন পাতা গজায়। কাঞ্চনের পাতা বৈশিষ্ট্যমÐিত। দুটি পাতা জোড়া দিলে দেখতে যেমন, পাতার শেষ প্রান্ত অবিকল সে-রকম। ফুল থেকে ফল হয়, ফলে বীজ থাকে। ফল দেখতে শিমের মতো চ্যাপ্টা। প্রথমে রং সবুজ থাকে, পরিণত হলে কালচে রং ধারণ করে এবং শুকিয়ে গেলে ফেটে বীজগুলো চার পাশে ছড়িয়ে পড়ে। পাকা বীজের রং কালচে খয়েরি। বীজ ছড়িয়ে পড়ার পর দ্রæত নতুন চারা গজায়। ডাল কেটে লাগালেও চারা হয়। বড়ো গাছ নয় বলে বাড়ির ছোটো বাগানেও কাঞ্চন স্থান লাভ করে। উঁচু রৌদ্রোজ্জ্বল পরিবেশ থেকে হালকা ছায়াযুক্ত স্থান ও প্রায় সবধরনের মাটিতে রক্তকাঞ্চন জন্মে।


ভারতের শুষ্ক এলাকা কাঞ্চনের আদি নিবাস। সৌন্দর্যের জন্য এই ফুলের কদর ব্যাপক। সাদা ও রক্তকাঞ্চন রূপসী তরুদের মধ্যে প্রথম শ্রেণির। আমাদের দেশে কোনো কোনো বসতবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বাগানে, সড়ক-মহাসড়কের ধারে ও আইল্যান্ডে, উদ্যান, বন-জঙ্গল ও পাহাড়ি এলাকায় রক্তকাঞ্চনের গাছ চোখে পড়ে।

রক্তকাঞ্চনের ইংরেজি নাম বুহেনিয়া ভ্যারিগাটা। এর নানারকমের ভেষজ গুণও রয়েছে।

লেখা : শ্যামল কায়া