বাংলাদেশ থিয়েটার আর্কাইভস একটি সংগ্রহশালার আত্মজীবনী : ইকবাল খোরশেদ

25 Jun 2026, 01:43 PM কাভার স্টোরি শেয়ার:
বাংলাদেশ থিয়েটার আর্কাইভস একটি সংগ্রহশালার আত্মজীবনী : ইকবাল খোরশেদ


আমাকে সবাই ‘বাংলাদেশ থিয়েটার আর্কাইভস’ নামে চেনে। একটু ভুল বললাম, সবাই চেনে না, চেনার প্রশ্নই ওঠে না। বেকার বেকার সবাই আমাকে চিনতে যাবে কেন ? যাঁরা নাটক করে, মানে মঞ্চে নাটক করে তারা আমাকে চেনে। তবে, তার চেয়ে বেশি চেনে নাট্যশিক্ষক, শিক্ষার্থী, নাট্যগবেষক, সাংবাদিক, পিএইচডি গবেষকগণ। কারণ, আজ এই সময়ে এসে বাংলাদেশের যেকোনো নাট্যগবেষণায় আমাকে তাদের খুব প্রয়োজন। জানেন আমার ভেতরে সেই ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বর্তমান পর্যন্ত প্রায় ৭০ শতাংশ নাট্যতথ্য থরে থরে সাজানো আছে। নাটকের পোস্টার, সুভ্যেনির, টিকিট, নাটকের বই, নাটকের ছবি, ভিডিওসহ বহু মূল্যবান উপাত্ত নিয়ে আজ আমি সবার কাছে পরিচিত একটি নাম- বাংলাদেশ থিয়েটার আর্কাইভস। ও, হ্যাঁ আমার এই নামটি দিয়েছেন লেখক, চিন্তক মফিদুল হক।

ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে আজ ২১ বছর ধরে আমি পুরানা পল্টন লাইনের বটতলায় আছি। চিনলেন না জায়গাটা ? একসময়, ব্রিটিশ আমলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সৈনিকেরা এখানে থাকতো। সৈনিকদের এক একটি দলকে Platoon বলা হতো। বাঙালির উচ্চারণ-বিকৃতির ফলে ‘প্লাটুন’ হয়ে গেল ‘পল্টন’। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ভারত ভাগের বহু বছর আগেই মশা ও ম্যালিয়ার উপদ্রবের কারণে কোম্পানি-সৈন্যরা এই স্থান ত্যাগ করে চলে যায়। দেশ ভাগের মাত্র কয়েক বছর আগে থেকে এখানে অল্প অল্প বসতি গড়ে উঠতে থাকে। ঢাকার ব্যস্ততম জনবহুল গুলিস্তান, জিপিও, জিরোপয়েন্ট এবং জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খুব কাছে পুরানা পল্টন ও পুরানা পল্টন লাইন। ঢাকার অনেক অভিজাত পরিবারের বসবাস এই এলাকায়। একসময় কবি বুদ্ধদেব বসু, ঔপন্যাসিক-নাট্যকার সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্, ঔপন্যাসিক শহীদুল্লাহ কায়সার, কবি শহীদ কাদরীও এখানে থাকতেন। বড়ো সড়ক থেকে কিছুটা ভেতরের দিকে পুরানা পল্টন লাইন বটতলা। এলাকাটি একরকম নীরবই থাকে দিনমান।

আমার বাসস্থানের ঠিক উল্টোদিকে একটা বড়োসড়ো মসজিদ আছে। প্রতিদিন ভোরে ফজরের নামাজের আজানের ধ্বনি শুনে আমার ঘুম ভাঙে। পাঁচ ওয়াক্তই মুয়াজ্জিনের আজান আমার কর্ণকুহরে প্রবেশ করে। মসজিদ থেকে প্রায়ই কারো-না-কারো মৃত্যুসংবাদ ভেসে আসে। তখন আমার মনটা বিষাদে ভরে যায়- হায়, এই ব্যক্তির পদছাপ আর কোনোদিন পুরানা পল্টন লাইনে পড়বে না। একটি পরিবারকে, পাড়াপ্রতিবেশীকে দুঃখের সাগরে ভাসিয়ে তিনি চলে গেলেন আনন্তলোকে। আমি মনে মনে বলি- ‘অনন্তের যাত্রীর অন্তহীন শান্তি হোক।’ মাঝে মাঝে মাছওয়ালা, সবজিওয়ালা বা অন্যকোনো সামগ্রী বিক্রেতা ফেরিওয়ালা হাঁক দিয়ে যায়। এছাড়া বটতলা পাড়াটা নীরবই থাকে।

মসজিদের ঠিক উল্টোদিকে এখানেই সাততলা ভবনের পঞ্চমতলায় দুটি কক্ষ নিয়ে আমার বাস। এখানে বেশ কিছুদিন ধরেই আছি আমি। তবে, তার আগে কত জায়গায় যে আমাকে থাকতে হয়েছে, সে গল্পটা পরে বলছি। যিনি আমাকে নিয়ে ঢাকা মহানগরের প্রান্তে প্রান্তে নিয়ে ছুটে বেড়িয়েছেন এবং যিনি আমাকে আমার জন্ম থেকে তিলে তিলে পরিচর্যা করে কিংবা বলা যায় আমার জন্ম যার হাতে তিনি নাট্যজন ডক্টর বাবুল বিশ্বাস। আহারে তার কষ্ট! জন্ম থেকেই তিনি আমাকে আগলে রেখেছেন সকল প্রকার ঝড়ঝঞ্ঝা, প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট বিপর্যয় থেকে। পরম মমতা আর ভালোবাসায় তিনি আমাকে তার হৃদয়ে ঠাঁই দিয়েছেন। আজ আমি বেশ নিশ্চিন্তে এখানে আছি। তবে, জানি না কতদিন এখানে থাকবো, অথবা আবার আমার জন্মদাতাকে আমার নিরাপত্তার কারণে ভিন্ন জায়গায় ছুটতে হয় কি না।

আমার জন্মের পেছনে একটি সুন্দর গল্প আছে। সে যেমন কাকতালীয়, তেমনি বেশ মজার। সেই ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দের কথা। আজ থেকে প্রায় ৪০ বছর আগের কথা। তখন মুক্তনাটকের একটি কর্মশালা চলছিল ঢাকার নাখালপাড়ায়। আয়োজন করেছেন ‘দৃষ্টিপাত’ নাট্যদলের পক্ষ থেকে আবদুল হালিম আজিজ। আর সালাহউদ্দিন লাভলু, শাহ আলম দুলাল, আজিজুল হাকিম, বাবুল বিশ্বাস, ফয়েজ জহির- এরা সবাই ছিল আরণ্যক নাট্যদলের পক্ষে কর্মশালার প্রশিক্ষক। মুখ্যপ্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন- শ্রদ্ধেয় নাট্যকার-নির্দেশক, মুক্তিযোদ্ধা মামুনুর রশীদ। কর্মশালা চালাকালীন কোনো একদিন মধ্যবিরতিতে মামুনুর রশীদ বললেন, বাবুল, জহির তোমাদের পাসপোর্ট আছে? ওরা বললেন, আছে। কিন্তু, কেন, পাসপোর্ট দিয়ে কী হবে? তিনি বললেন, চলো কলকাতায় যাই, নাসিরুদ্দিন শাহ-র ‘পার’ সিনেমা চলছে, আর উৎপল দত্তের ‘আজকের শাহজাহান’ নাটকের শো হচ্ছে। চলো। বাবুল বিশ্বাস বললেন, সে তো অনেক টাকা-পয়সার ব্যাপার, কোথায় পাবো! মামুনুর রশীদ বললেন, ও নিয়ে তোমাদের ভাবতে হবে না।

কর্মশালা শেষে একদিন ভিসা নেওয়া হলো সকলের। যথাসময়ে যাত্রা করা হলো কলকাতার উদ্দেশে। দলটি একবারে ছোটো নয়। মামুনুর রশীদ, ওনার স্ত্রী গওহর আরা মামুন, শ্যালিকা কাজল, পুত্র পল্লব, কন্যা কচি, বাবুল বিশ্বাস এবং ফয়েজ জহির; কলকাতায় পৌঁছে থাকার ব্যবস্থা হলো ‘সিসিসিপি’ নামের একটি এনজিও-তে। ওই এনজিও’র প্রধান নির্বাহী মামুনুর রশীদের বন্ধু। দিনের বেলায় পুরোদস্তুর দপ্তর চলে। যাত্রীদল সারাদিন শহর কলকাতা চষে বেড়ায়। ভাবিসহ অন্যরা [মামুনুর রশীদের স্ত্রী, শ্যালিকা এবং কন্যা] শপিং করতে যান, সঙ্গে কখনো কখনো দুই তরুণ যুক্ত থাকেন গাদা বোটের মতো। সারাদিনের ক্লান্তি নিয়ে রাতে ফেরেন সিসিসিপি-তে ঘুমানোর জন্য। পরদিন সকালে আবার যথারীতি পথে পথে ঘুরে বেড়ানো, এখানে ওখানে যাওয়া-দর্শনীয় স্থান প্রদর্শন, রাস্তার ধারের নানান খাদ্যসামগ্রীর [স্ট্রিট ফুড] রসনা আস্বাদন। একদিন দলটি ঢুকে পড়ে সিনেমা হলে। তখন আজকের মতো এমন ডলবি ডিজিটাল [Dolby Digital] সিনেপ্লেক্স ছিল না। যাক সে-কথা, নাসিরুদ্দিন শাহ আর শাবানা আজমি কী অসাধারণ অভিনয় করলেন। এমন জীবনঘনিষ্ঠ অভিনয়! ভাবা যায় না। একটি জীবনের বা সংগ্রামের নির্যাস তুলে আনার মতো আশ্চর্য অভিনয় ক্ষমতা তাদের। শুনেছি বাবুল বিশ্বাসের কাছ থেকে।

সিনেমা তো দেখা হলো, বাবুল বিশ্বাস কিন্তু উসখুস করছেন, তাঁর মন বারবার ছুটে যেতে চাইছে উৎপল দত্তের কাছে। কবে আসবে সেইদিন, যেদিন তিনি চর্মচক্ষে দেখবেন বিশাল হৃদয় প্রবাদপ্রতীম নাট্যব্যক্তিত্ব উৎপল দত্তকে। একদিন সকালে মুখ ফুটে বলে ফেললেন মামুনুর রশীদকে। মামুন ভাই বললেন, আজই ‘আজকের শাহজাহান’র শো আছে। আজকেই দেখা হবে। চল। সন্ধ্যায় ‘আজকের শাহজাহান’ দেখতে গেল দলটি। তারা প্রত্যক্ষ করলো উৎপল দত্তের জীবনঘনিষ্ঠ স্বাভাবিক অভিনয়। নাটকের শো শেষে উৎপল দত্ত, অভিনয়শিল্পী শোভা সেন (উৎপল দত্তের স্ত্রী, বাংলাদেশের ফরিদপুরের মেয়ে, উৎপল দত্তও কিন্তু বরিশালের ছেলে), মামুন ভাই- সকলে মিলে আড্ডায় বসলো। বাবুল বিশ্বাস ও অন্য তরুণেরা তাদের ঘিরে আছেন। একসময় ঘড়ির কাঁটা জানান দিলো, রাত অনেক হয়েছে- ভাঙো আড্ডা, যাও বাড়ি। তখন উৎপল দত্ত হাঁক ছেড়ে বললেন, আগামীকাল চলে এসো বাড়িতে, কথা হবে, আড্ডা হবে, খাওয়াদাওয়াও বাদ যাবে না। মনের ভেতরে ফুর্তির সানাই বাজতে শুরু হলো বাবুল বিশ্বাসের। রাতটা মনে হয় নির্ঘুমই কেটে গেল তার...

পরদিন যথাসময়ে দলটি গিয়ে হাজির হলো কলকাতার আজাদগড় এলাকায় ১৪০/২৪ নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোস রোডের রেজেন্ট পার্ক টালিগঞ্জে উৎপল দত্তের নিজস্ব বাড়ি ‘কল্লোল’-এ। উৎপল দত্তের চিৎকার সর্বস্ব আহ্বানে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হলো জম্পেশ আড্ডা। আড্ডা মানে তো নাটকের কথা- বাংলা নাটক, সংস্কৃত নাটক, বিদেশি নাটক, শেক্সপিয়র, ব্রেখট- ভারি ভারি কথা সব। মাঝে মাঝে উৎপল-শোভা দম্পতির একমাত্র কন্যা বিষ্ণুপ্রিয়াও এসে যোগ দিচ্ছেন, আবার চলে যাচ্ছেন অন্দরমহলে। এত অতিথি বাড়িতে এসেছেন, তাদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা, আরও কত রকমের কাজ!

মাথাভারী এসব আলোচনা থেকে বাবুল এবং জহির কেটে পড়ল। জহির ছবি তুলছে আর বাবুল ঘরের ভেতর ঘুরে ঘুরে দেখছেন। একসময় বাবুল বিশ্বাস খেয়াল করলেন ঘরের চারপাশের দেওয়ালজুড়ে শোভা পাচ্ছে নানা রঙের পোস্টার। দেশি-বিদেশি নাটকের সুন্দর সুন্দর সব পোস্টার ফ্রেমে বাঁধাই করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি ঘুরে ঘুরে দেখছেন আর বিস্মিত হচ্ছেন। একসময় আড্ডা-তুবড়ি কিছুটা স্তিমিত হয়ে এলো। সেই ফাঁকে বাবুল জিজ্ঞেস করলেন উৎপল দত্তকে- ‘দাদা, এগুলো দেওয়াল জুড়ে লাগিয়েছেন কেন?’

উৎপল দত্তের স্বপ্রতিভ জবাব- ‘বিভিন্ন দেশে যাই, ওরা দেয়, নিজেও সংগ্রহ করি, লাগিয়ে রাখি, আমার খুব পছন্দ।’ তারপর কৌতূহলী প্রশ্ন- ‘কেন, তোমাদের দেশে এগুলো কেউ সংগ্রহ করে না?’

বাবুল- ‘না। কেন সংগ্রহ করবে ?’

উৎপল দত্ত- ‘করো করো। একদিন কাজে লাগবে।’ আরও বললেন- ‘এগুলো একদিন নাট্য ঐতিহ্য হয়ে যাবে। ইতিহাস সংরক্ষণ করতে হলে এগুলো সংগ্রহ করা দরকার। কাউকে-না-কাউকে এগিয়ে আসতে হবে।’

এই এক মন্ত্র কানের ভেতর দিয়ে মর্মে পশিলে বাবুল বিশ্বাসের। সারাক্ষণ ‘করো করো, একদিন কাজে লাগবে’- এই মন্ত্র জপ করতে করতে ঢাকায় ফিরে এলেন।

এরপর বেশ কিছুদিন উৎপল দত্তের ‘করো, করো’ কথাটি কানে বাজতে লাগলো। সবেমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করা বাবুল- যেখানেই যান মাথায় একটাই চিন্তা, ‘করো, করো’। এইভাবে কেটে গেল বেশ কিছুদিন। ক্যালেন্ডারে পাতা উল্টে উল্টে এলো ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দ। তখন আরণ্যক নাট্যদলের ‘সাত পুরুষের ঋণ’ নিয়মিত প্রযোজনা হিসেবে মঞ্চে চলছে। একটু দেরিতে ছাপা হলেও একদিন এই নাটকের একটি পোস্টার হাতে এলো বাবুলের। সাদাকালো পোস্টার, মাহবুব আখন্দের ডিজাইন করা। অসাধারণ নান্দনিক একটি পোস্টার। এই নাটকের পোস্টারটিই আরণ্যক নাট্যদলের প্রথম পোস্টার। পোস্টার দেখেই বাবুল বিশ্বাসের মনে পড়ে গেল উৎপল দত্তের সেই অমোঘ কথা- ‘করো, করো। একদিন কাজে লাগবে। এগুলো একদিন নাট্য ঐতিহ্য হয়ে যাবে। ইতিহাস সংরক্ষণ করতে হলে এগুলো সংগ্রহ করা দরকার। কাউকে-না-কাউকে এগিয়ে আসতে হবে।’ বাবুল বিশ্বাস কী ভেবে যেন চুপচাপ পোস্টারটি তার বাসায় নিয়ে গেলেন। খুলে দেখলেন। পুনরায় রোল করে অতি যত্নে তার বুক সেলফে রাখলেন। এভাবেই এস এম সুলতানের আদম সুরত পেইনটিংয়ের মতো প্রথম বীজ বপন হলো সংগ্রহশালার। তখনো বুঝিনি একদিন এই বীজ বটগাছে পরিণত হবে।

এভাবেই একটা দুটো তিনটা পোস্টার সংগ্রহের মধ্য দিয়ে লোকমুখে প্রচারিত হলো বাবুল বিশ্বাস নাটকের পোস্টার সংগ্রহ করেন। বিষয়টি নিয়ে অনেকে আশ্চর্য হয়েছেন, অনেকে ঠাট্টাও করেছেন। কেউ কেউ অবশ্য বিষয়টিকে পজিটিভলিই দেখেছেন। হাসি-ঠাট্টা আর শুভাশিসের মধ্য দিয়ে আমার পত্র-পল্লবের ভান্ডার দিনদিন বড়োই হচ্ছিল। নতুন নতুন নাটকের পোস্টার বের হলে নাট্যকর্মী নাট্যজন বেইলি রোডের মহিলা সমিতেতে কখনো কখনো পোস্টার সরাসরি দিয়ে যেত, কখনো কখনো মহিলা সমিতির কেয়ার টেকার তারা ভাইয়ের কাছেও রেখে যেত।

নাট্যজন মামুনুর রশীদের ব্যক্তিগত অফিস ছিল তখন বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে। লোকে ওটিকে ‘আরণ্যক’র কার্যালয় মনে করতো [মামুনুর রশীদ আরণ্যক’র কর্ণধার কি না], নাটকের লোকেরা সেখানেও পোস্টার দিয়ে আসতো। রং বরাবরই মানুষকে আকৃষ্ট করে। পোস্টারের রং দেখতে দেখতে, মানুষের ভালোবাসাময় পোস্টারের প্রাবল্যে বাবুল বিশ্বাস মজে গেলেন আর ধীরে ধীরে আমার পত্র-পল্লব-পুষ্পের সংখ্যা বাড়াতে বাড়দে দিঘির আকার ধারণ করলো। বাবুলও ধীরে ধীরে আমাকে ভালোবাসতে শুরু করলেন, তা টের পেলাম, যখন দেখলাম মাঝে মাঝে তিনি পত্র-পল্লবগুলো রোদে দিতেন। মাঝে মাঝে খুলে ধূলোবালি ঝেড়ে দিতেন। রোদ শেষে তিনি পরম মমতায় পত্র-পল্লবদের রোল করে যত্ন সহকারে তার বাসাতেই একটি কক্ষে রেখে দিতেন। তখনো বুঝতাম না তিনি আমাকে দিয়ে কী করবেন। কথা প্রসঙ্গে বন্ধুরা জিজ্ঞেস করলে বলতেন একটা একটা গ্যালারি করবো, ‘পোস্টার গ্যালারি’। কোথা কোথা থেকে যে তিনি সংগ্রহ করে আনতেন এত্ত এত্ত পত্র-পল্লব ! গত ৪৪ বছর ধরে বাবুল ছুটছেন- এ যেন সুকান্তের কবিতায় হেমন্তের কণ্ঠে সেই বিখ্যাত গানের মতো- রানার ছুটেছে রানার... দেশের একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলেছেন তিনি। বিদেশে গেলেও সঙ্গে বয়ে আনছেন নাটকের পোস্টার, টিকেট, বই... ‘রানার রানার এ বোঝা টানার দিন কবে শেষ হবে ?’ না, দিন শেষ হবে না, জীবন যতদিন বহমান আছে। জানেন, এ বোঝা টানায় বাবুলের মোটেই ক্লান্তি নেই, বরং গর্ব হয় আনন্দ হয়, যখন দেখেন বহু গবেষক আমার বুকের থেকে বাংলাদেশের নাটকের ইতিহাসের খুঁটিনাটি সংগ্রহ করছে। সে কী আনন্দ তার।

১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দের কথা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়দিবস উদ্যাপিত হবে এখানে। লিয়াকত আলী লাকী তখন ডাকসু’র সাংস্কৃতিক সম্পাদক। তিনি প্রস্তাব দিলেন মামুনুর রশীদকে যে, বাবুলের সংগৃহীত নাটকের পোস্টারগুলো দিয়ে একটি প্রদর্শনী করা যায় কি না। সানন্দে রাজি হলেন মামুনুর রশীদ ও বাবুল বিশ্বাস। টিএসসিতে রশি টাঙিয়ে আমার পত্র-পল্লবের গায়ে পিন মেরে ঝুলিয়ে দেওয়া হলো, ভীষণ কষ্ট হয়েছিল আমার। তবে, সেই কষ্ট বেশিক্ষণ স্থায়ী ছিল না। যখন উপচে পড়া দর্শক পত্র-পল্লব দেখতে এলো। আর, উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলো তারা। মুহূর্তে সকল কষ্ট দূর হয়ে গেল আর আমি আনন্দের জোয়ারে ভাসতে শুরু করলাম। আবার যখন শুনলাম, এই প্রদর্শনীই বাংলাদেশের প্রথম নাটকের পোস্টার প্রদর্শনী। তখন তো আমার ভিমড়ি খাবার যোগাড়। তার মানে এই প্রদর্শনীর মাধ্যমেই আমি ইতিহাস হয়ে গেলাম। বাহ, দারুণ তো। এভাবেই দেশে-বিদেশে মিলিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে ‘বাংলাদেশ থিয়েটার আর্কাইভস’ ৫২টি নাট্যতথ্য প্রর্দশনীতে অংশ নিয়েছে। এ কিন্তু কম কথা নয়। কত বিখ্যাত জন যে কত আয়েশ করে এসব প্রদর্শনী উদ্বোধন করেছেন আজ তা মনে হলে আনন্দে চোখ ভেসে যায়। ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইন্সটিটিউট কমিউনিকেশন কমিটির প্রেসিডেন্ট মার্গারেট সেমিল [Margaret Semil], প্রখ্যাত শিক্ষবিদ কবীর চৌধুরী, নাট্যজন-সংগঠক রামেন্দু মজুমদার, ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইন্সটিটিউট-এর মহাপরিচালক টোবিয়াস বিয়ানকোনে [Tobias Biancone], নির্দেশক আতাউর রহমান, ত্রিপুরা বিধান সভার ডেপুটি স্পিকার পবিত্র কর, প্রখ্যাত সাংবাদিক সন্তোষ গুপ্ত, সাং¯কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী, সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দিন, বরেণ্য অভিনেতা আলী যাকের, প্রখ্যাত নরওয়েজিয়ান অভিনেত্রী এমএস উনিডা [MS Unida], অনুবাদক-অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর, নির্দেশক নাসির উদ্দীন ইউসুফ, অধ্যাপক সনজিদা খাতুন, নাট্যকার-নির্দেশক মামুনুর রশীদ, জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের [আমেরিকা অধ্যাপক ড. ফেয়ািরলি রিচমন্ড [Dr. Farley Richmond] এবং জ্যামাইকা পারফরমিং আট সেন্টারের মিস্টার কর্টেনি এফফ্য্যান্স [Mr. Courtney Ffrench]-সহ অনেক নাট্যজন। বলুন তো আমার চোখে যদি এসব কথা বলতে বলতে পানি এসে যায় তবে আমার কী কোনো দোষ আছে ? না এ পর্যায়ে আসতে আমাকে আরও কষ্ট করতে হয়েছে বাবুল বিশ্বাসের সাথে। শুনুন...

১৯৮৮ সালে প্রথম প্রদর্শনীর পর বাবুল বিশ্বাস আমার পত্র-পল্লব-পুষ্পের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য আরও আগ্রহী হয়ে উঠলেন আর স্থির করলেন তিনি গুরুত্বসহকারে আমাকে লালন-পালন করবেন; দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও সংগ্রহ করবেন পত্র-পল্লব, বিদেশ থেকেও। আমার পত্রগুলোকে রোল করে রাখা হতো, তা না হলে রং নষ্ট হয়ে যায়। তো একবার মামনুর রশীদ গেলেন প্যারিসে। আপনারা জানেন প্যারিস শিল্প-সংস্কৃতি বিশেষ করে চিত্রকলার এক তীর্থভূমি। মামুনুর রশীদ সেখান থেকে কয়েকটি পোস্টার নিয়ে এলেন আর আনলেন এককৌটা ক্রিম, যার মূল্য সেই আটের দশকে বাংলাদেশি মুদ্রায় পাঁচ শত টাকা। এই ক্রিম পোস্টরের গায়ে মাখালে আর রং নষ্ট হবে না। মাত্র ছাত্রাবস্থা থেকে বের হলেন, ছোট্ট একটা চাকরি নিলেন, এমন একজন নাট্যকর্মীর পক্ষে কি এত টাকা ব্যয় করে শত শত পোস্টরের গায়ে ক্রিম মাখানো সম্ভব, আপনরাই বিবেচনা করুন!

একপর্যায়ে আবৃত্তিশিল্পীরাও তাদের পোস্টার রাখতে শুরু করলেন। শর্ট ফিল্ম বানানো উপলক্ষ্যেও সুন্দর সুন্দর পোস্টার বের হত। আপনারা যারা নতুন প্রজন্মের, তাদের জন্য বলি, গত শতকের আট-নয়ের দশক আর চলতি শতকের প্রথম দশকে নতুন নাটকের প্রদর্শনী কিংবা আবৃত্তি প্রযোজনা বা আবৃত্তি উৎসব হলে একটি পোস্টার মুদ্রিত হতোই। বাংলাদেশ ডিজিটাল যুগে পা রাখার পর থেকে পোস্টার ছাপানোর রীতিতে কিছুটা ভাটা পড়লো কিন্তু একেবারে বন্ধ হয়ে গেল না। এখন মুদ্রণ করতে না পারলেও ডিজিটাল পোস্টার তো করেই। যাক সে-কথা, নাট্যকর্মীরা পোস্টারের পাশাপাশি তাদের প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থ, ভাজপত্র, প্রবেশপত্রসহ অন্যান্য স্মারকও বাবুলের সংগ্রহে রাখতে দিলেন। বুঝুন অবস্থা। ফুলেফেঁপে আমি তো ঢোল। অসংখ্য তথ্য-উপাত্ত নিয়ে বাবুল মাঝে মাঝেই দিশেহারা হয়ে যান। কারণ, এসব রাখার জন্য একটা স্থায়ী নিবাস তো প্রয়োজন। সবাই প্রশংসা করছে বাবুলের কিন্তু কোথাও রাখার সুযোগ দিচ্ছে না। ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে বাবুল আমাকে আগলে রেখেছেন, এর মধ্যে যতবার বাসা বদল করেছেন সঙ্গে নিয়ে গেছেন। কী কষ্ট! ভ্যানে চড়ে আমি বড়ো বড়ো ইমারত দেখতে দেখতে আবার ছোট্ট একটি ঘরে গেছি। একটা ছোট্টমোট্ট চাকরি করতেন, একদিন হঠাৎই তিনি চাকুরিচ্যুত হলেন, ব্যস আমার আবাসও বদলে গেল। রাগ করে শুরু করলেন ছোট্ট একটা ব্যবসা। একটি ছোট্ট অফিস, কিন্তু যৌথভাবে। একদিন কোনো এক কারণে পার্টনার বাবুলের অফিস কার্যক্রম বন্ধ করে দিল। বাবুল রাস্তায় পড়ে গেলেন। আমার স্থানও সেখানে। বাবুল কাঁদতে কাঁদতে আমাকে কাছে টেনে নেয়। ভালো মানুষের তো অভাব হয় না। একজন এগিয়ে এলেন। দিলেন পাশের রুম। ঠাঁই হলো এখানে বেশ কিছুদিন। এভাবে কত জায়গা থেকে যে বাবুল বিতাড়িত হয়েছেন, তার ইয়াত্তা নেই। কিন্তু আমার গায়ে সামান্য আঁচড় লাগতে দেননি তিনি। আমার এমন দুরবস্থা দেখে ২০০৬ সালে কোনো একদিন বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের সেক্রেটারি জেনারেল হুমায়ুন কবীর হিমু তার বিল্ডিংয়ে একটি কক্ষ বিনা অর্থে আমাকে দিয়ে দেন। সেই থেকে এখানে আছি পরম নিশ্চিন্তে।

প্রযুক্তির এই যুগে ডিজিটাল কন্টেন্ট ছাড়া মানুষের একদম চলে না। তাই আমার কতগুলো পত্র-পল্লবকে ড্রাম স্ক্যানারে ঢুকিয়ে ডিজিটাল রূপ দেওয়া হলো। কতকগুলোর ছবি তোলা হলো ক্লিক ক্লিক ক্যামেরায়। অনেক অর্থ খরচ হলো। বাবুল বিশ্বাস একাই বহন করলেন, শত অসুবিধা সত্ত্বেও। এখন একটি ডিজিটাল আর্কাইভসও হয়েছে আমার। আছে একটি পুষ্ট ওয়েবসাইট। আমার সাইটের নাম আমার নামেই।

www.bangladeshtheaterarchives.com. এই আর্কাইভসের একটি সুন্দর স্লোগান দিয়েছেন খ্যাতিমান অধ্যাপক কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। ডWhere the legacy of our theatre comes alive, আহা, কী সুন্দর কথা। দেশ-বিদেশের যে-কেউ চাইলে দিনে-রাতের যে-কোনো সময়ে ক্লিক করে ঘুরে যেতে পারেন আমার সাইটে। সংগ্রহ করতে পারেন তথ্য। দেখতে পারেন বাংলাদেশের নাটকের ক্রমবিকাশের ধারা।

আমার দেখভালের জন্য মাননীয় সরকার বাহাদুর মাঝেমধ্যে কিছু অনুদান দিয়ে ছিলেন, তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। কারণ, আমার সকল পত্র-পল্লব-পুষ্পের ডিজিটাল সংস্করণ করা একান্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। কয়েকজন কর্মী দরকার। দরকার ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি। দরকার বড়ো একটি জায়গার। তথ্য-উপাত্ত বছরের পর বছর এভাবে থাকলে বাংলাদেশের নাট্য-ইতিহাস নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল। কারণ, এখানে আছে বাঙালির নাট্য-ইতিহাসের জীবন্ত উপাদান। ‘থিয়েটার’ পত্রিকার সম্পাদক নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার ও নাট্যানুবাদক আবদুস সেলিম ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ থেকে কিছু অর্থ সাহায্য করেন, কিন্তু তাদের সামর্থ্যই-বা কতটুকু! সংগঠনের বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুবাইয়া ফেরদৌস দিয়েছিলেন প্রায় বছর দুয়েক। বাকি প্রতিমাসে যা প্রয়োজন হয়, তা পূরণ করেন বাবুল বিশ্বাস। খ্যাতিমান অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর এককালীন দিয়েছিলেন। কিছু ফার্নিচার দিয়েছিলেন অধ্যাপক ড. রশীদ হারুন ও অধ্যাপক ড. ইউসুফ হাসান অর্ক। প্রয়োজন অনেক। জানি না, আমাকে বাঁচিয়ে রাখার ক্ষেত্রে আর কোনো পথ খোলা আছে কী না।

ইতিহাস সংরক্ষণের প্রয়োজনেই সংগ্রহশালার যত্ন-আত্তি পরিচর্যার প্রয়োজন। যদিও বাঙালি জাতির ইতিহাসকে অস্বীকার করা বা মুছে ফেলার ক্ষেত্রে বেশ অগ্রগামী। তাই শঙ্কা হয়। কারণ এখন আমি এদেশের নাট্য-আন্দোলনের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্বাক্ষর ও সাক্ষী। আমাকে সুস্থ-সবল রাখা আপনাদের দায়িত্ব। মাটির ঘরে জন্ম হলেও আমারও অধিকার আছে ভালো থাকার। আমার একটি স্থায়ী বাসস্থানের খুব প্রয়োজন। একজন ছাপোষা ব্যক্তির পক্ষে এই গুরুভার বহন করা কিছুতেই সম্ভব নয়। একা বাবুল বিশ্বাস কতটুকুই আর করতে পারেন! তারও তো শক্তি সামর্থ্যরে একটা সীমাবদ্ধতা আছে। তবুও আমি তার প্রাণ- এটা আমি বুঝতে পারি। কেউ কি আছেন সুহৃদ মহাজন, যিনি বেলাবেলি আমার প্রতি বাড়িয়ে দেবেন হাত!


ড. বাবুল বিশ্বাস

নাট্যশিক্ষক, নাট্যগবেষক ও প্রতিষ্ঠাতা

বাংলাদেশ থিয়েটার আর্কাইভস


রাঙ্গামাটি জেলার চন্দ্রঘোনায় জন্মগ্রহণ করেন। জন্মভূমি চন্দ্রঘোনা এবং পৈত্রিকভূমি লক্ষ্মীপুর থেকে স্কুল এবং কলেজজীবন সম্পন্ন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর এবং আসাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলাদেশের নাটক বিষয়ে উচ্চতর গবেষণায় পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে আরণ্যক নাট্যদলের সাথে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে নাট্যচর্চায় নিমগ্ন হন। ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দে থেকে ‘বাংলাদেশ থিয়েটার আর্কাইভস’ নামে নাট্যগবেষণাগার প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে তিনি বাংলাদেশ থিয়েটার আর্কাইভসের দায়িত্বে আছেন।

অভিনীত মঞ্চনাটক- ‘ওরা কদম আলী’, ‘ইবলিশ’, ‘সাত পুরুষের ঋণ’, ‘গিনিপিগ’, ‘অববাহিকা’, ‘সমতট’, ‘কোরিওলেনাস’, ‘নীলা’, ‘ফেরারী নিশান’, ‘মে দিবস’, ‘দায়’, ‘হনন’।

মঞ্চ পরিকল্পনা- ‘কোরিওলেনাস’ [আরণ্যক], ‘ছিনতাই’ [ঢাকা নাট্যম], ‘বাবার বিয়ে’ [পদধ্বনি], ‘ইবলিশ’ [আরণ্যক], ‘চক্কর’ [পদাতিক নাট্য সংসদ], ‘হ্যামলেট ওহ হ্যামলেট’ [নাট্যধারা]।

বাবুল বিশ্বাসের রচিত গ্রন্থ; নাটক- ‘হনন’, ‘পোড়ামাটি’, ‘ঠিকানা’, ‘মানুষ’, ‘হোয়াট এ কারেক্টর’, ‘একটি মরাগাছ ও চারজন নারীর স্বপ্নভঙ্গ’, ‘সময় এখন তোমার’, ‘দেখা হবে কমরেড’। নাট্যসংকলন- ‘চারটি মঞ্চের, দুটি পথের’। নাটকবিষয়ক গবেষণা গ্রন্থ- ‘Art of Bangladesh, Through hundred theatre posters’, ‘বাংলাদেশের নাটকে সমাজবাস্তবতা’, ‘নাট্য ভাবনায় মাইকেল রবীন্দ্রনাথ ও অন্যান্য প্রবন্ধ’, ‘থিয়েটারের কাগজ : যতরকম দায়’। সম্পাদিত গ্রন্থ - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে নিবেদিত ‘লোককবিতা’ (যৌথ সম্পাদনা) ‘রবীন্দ্র কিশোর-রচনাবলী’ ১-২ খণ্ড, ‘দীপ্তিময় ৭০’, ‘নাট্যরূপে রবীন্দ্রনাথ’ ১-৬ খণ্ড, ‘শতবর্ষে সোমেন’। গল্পগ্রন্থ সংকলন : ‘গল্পগুলো তোমার আমার’। ভ্রমণ সংকলন : ‘নাটক অল্প, গল্প বেশি’।

পত্রিকা সম্পাদনা- ত্রৈমাসিক ‘থিয়েটার’ (সংযুক্ত সম্পাদক); নবান্ন (সম্পাদক); ‘World of Theatre’ (সদস্য, সম্পাদকীয় পরিষদ, আইটিআই, ইউনেস্কো); আইটিআই বুলেটিন (সম্পাদক)।

কর্মের স্বীকৃতি : জাকারিয়া স্মৃতিপদক, ফৌজিয়া ইয়াসমিন শিবলী পদক, মহাকাল সম্মাননা, পদাতিক সুহৃদ সম্মাননা, নাগরিক নাট্যাঙ্গন বাংলাদেশ সম্মাননা, ব্যতিক্রম মঞ্চবন্ধু সম্মাননা, শিল্পাঙ্গন [নিউ ইয়র্ক] সম্মাননা, ডালাস বাংলা থিয়েটার [ইউএসএ] বিশেষ সম্মাননা, আনর্ত স্বীকৃতি, অমলেন্দু বিশ্বাস স্মৃতি পদক, লজেসাস সম্মাননা।