ছোটোপর্দার হার্টথ্রব অভিনেত্রী ও তরুণদের ক্রাশ সাফা কবির ক্রমশ পৌঁছে যাচ্ছেন পাদ-প্রদীপের আলোয়। বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেল হওয়ার মধ্য দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেও মিষ্টি হাসি, সাবলীল অভিনয় আর ফ্যাশন সেন্স দিয়ে তিনি তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে দ্রুত জায়গা করে নেন। তার অভিনীত প্রতিটি নাটকই ইউটিউবে মিলিয়ন ছাড়িয়ে যায়। এবারের ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত নাটকগুলোও দর্শকের পছন্দের তালিকায় স্থান করে নেয়। বিস্তারিত লিখেছেন শেখ সেলিম...
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে নিজের জাত চিনিয়েছেন অভিনেত্রী সাফা কবির। নিজেকে ভাঙতে প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছেন এই অভিনেত্রী। তাই গ্ল্যামার গার্ল হওয়ার পরও, সেখানে নিজেকে মেলে না-ধরে হেঁটেছেন ভিন্ন ভিন্ন পথে, কুড়িয়েছেন প্রশংসা, দখলে রেখেছেন রানির মুকুট। সাফা বরাবরই চেয়েছেনে নিজেকে কাদামাটিতে রূপান্তর করতে, যেন সব চরিত্রে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেন। সেই চিন্তা থেকেই এই অভিনেত্রী বেছে নেন ভিন্ন গল্প। এরই ধারাবাহিকতায় এবার তাকে দেখা গেল ‘তোর নামে হৃদয়’ শিরোনামের একটি নাটকে। পারভেজ ইমরানের গল্প নিয়ে চিত্রনাট্য লেখার পাশাপাশি নাটকটি পরিচালনা করেছেন মহিদুল মহিম।
ভালোবাসার নতুন এই গল্পে সাফা জুটি বেঁধেছেন এসময়ের আলোচিত অভিনেতা মুশফিক আর ফারহানের সঙ্গে। ৭ মে ক্যাপিটাল ড্রামা ইউটিউব চ্যানেলে নাটকটি অবমুক্ত করা হয়েছে। এই প্রতিবেদন লেখার সময় নাটকটি দেখেছেন প্রায় ৫০ লাখ দর্শক।
নাটকটি প্রসঙ্গে সাফা বলেন ‘তোর নামে হৃদয়’ এমনই এক গল্প, যেখানে ঘটনার বেশ কয়েকটি বাঁক বদল চোখে পড়বে। গল্পে নতুনত্ব থাকলেও চরিত্র নির্মাণে চেনা জীবনের ছায়া তুলে আনা হয়েছে। এতে দর্শক কাহিনির সঙ্গে তাদের যাপিত জীবনের ঘটনাগুলোর মিল খুঁজে পাবেন ; যা তাদের কিছুটা হলেও ভাবনার খোরাক জোগাবে।
নাটকের পাশাপাশি ওটিটি প্লাটফর্মে কাজ করছেন এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি ওটিটি প্লাটফর্মে মুক্তি পাওয়া ‘চা গরম’ শিরোনামের একটি ওয়েব সিনেমায় অভিনয় করে প্রশংসা কুড়ান তিনি।
এই ওয়েবটি নিয়ে সাফা বলেন, ভালো লাগার আরেকটি বিষয় হলো ‘চা গরম’-এর গল্প ; যা দারুণভাবে মনকে নাড়া দেয়। চা শ্রমিকদের জীবনে নির্মম সত্যি হলো, দিনভর কঠোর পরিশ্রমের পরও তাদের পারিশ্রমিক এত অল্প যে, তা দিয়ে জীবন যাপন সত্যিই কষ্টের। কাজ শেষে মনে হয়েছে, ‘চা গরম’ অভিনয় ক্যারিয়ারের স্মরণীয় একটি কাজ হয়ে থাকবে।
বরাবরের মতো এবারের ঈদেও বেশ কয়েকটি নাটক ভক্তদের উপহার দিয়েছেন অভিনেত্রী সাফা কবির। সেই তালিকায় থাকা কয়েকটি নাটক এরই মধ্যে প্রচার হয়েছে। আরো কিছু রয়েছে প্রচারের অপেক্ষায়। প্রতিটি নাটকেই নিজের চরিত্রে ভিন্নতা রাখারও চেষ্টা করেছেন সাফা। প্রচার হওয়া নাটকের তালিকায় থাকা ‘ওয়ারিশ’ নাটকটি এরই মধ্যে প্রায় ৭৯ লাখ দর্শক দেখেছেন। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে নাটকটির পাশাপাশি সাফার অভিনয় ইতিবাচক আলোচনায় রয়েছে। এ প্রসঙ্গে সাফা কবির বলেন, ‘বরাবরের মতোই ঈদের কাজের সংখ্যা বেড়েছে। তবে, চেষ্টা ছিল দর্শক চাহিদার কথা মাথায় রেখে ভিন্নতা রাখার। মনে হচ্ছে সেটা সফলও হতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে একাধিক কাজের ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি। সবচেয়ে বেশি সাড়া পাচ্ছি ‘ওয়ারিশ’ নাটকে। এত কম সময়ে এত এত দর্শক নাটকটি দেখবেন ভাবতে পারিনি। আসলে মানুষ এখন ভালো গল্প এবং অভিনয় দেখতে চান। তাছাড়া পারিবারিক গল্প নাটকে ফিরে আসায় দর্শকও নাটকে ফিরে আসছেন। এ নাটকটিতেও পারিবারিক গল্প শুধু নয়, পারিবারিক সব অনুষঙ্গ, আবহ রয়েছে। যা দর্শকদের দেখতে বাধ্য করছে।’

নিজের অভিনয় নিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘আমি কখনোই সময়ের স্রোতে গা ভাসাতে চাইনি। ভবিষ্যতেও চাইব না। কাজের সংখ্যা কমবেশি নিয়ে মাথা ঘামাতেও চাই না। যতদিন অভিনয়ে যুক্ত আছি চেষ্টা থাকবে মানসম্মত কাজের সঙ্গে থাকার।’
সাফা কবির অল টাইম দৌড়ের উপর টেলিফিল্মে অভিনয়ের মাধ্যমে অভিনেত্রী হিসেবে যাত্রা শুরু করেন।
১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ আগস্ট বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। বিএএফ শাহীন কলেজ ঢাকা থেকে তিনি এইচএসসি পরবর্তীসময়ে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ থেকে বিবিএ ডিগ্রি লাভ করেন।
এর আগে একটি মুঠোফোন কোম্পানির বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হয়ে পরিচিতি পান। বলা যেতে পারে এটা তার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি এই অভিনেত্রীকে। অভিনয়ের পাশাপাশি মডেল হয়েছেন বেশকিছু স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনচিত্রে।
অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তিনি বেশ সক্রিয় এবং ফ্যাশন আইকন হিসেবে তরুণদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।
সাফা কবিরের ক্যারিয়ার গ্রাফ দেখায় যে, তিনি কেবল গ্ল্যামারের ওপর নির্ভরশীল নন, প্রতিনিয়ত অভিনয়ে নিজেকে ভাঙার চেষ্টা করছেন। নাটক থেকে ওটিটি প্লাটফর্মসহ সব মাধ্যমেই নিজের স্বকীয়তা বজায় রেখে দেশীয় বিনোদন ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি অন্যতম সফল এক অভিনেত্রী।