যুদ্ধ মানেই কি শুধু বন্দুকের গর্জন আর বোমার বিস্ফোরণ ! যুদ্ধ মানে ইতিহাস, যুদ্ধ মানে রাজনীতি, মানে নিঃসীম মানবিকতা ও নিষ্ঠুরতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যাওয়া। আর সেই যুদ্ধ যখন উঠে আসে রুপালি পর্দায়, তখন তা হয়ে ওঠে সময়ের এক জীবন্ত দলিল। বিশ্বজুড়ে নির্মিত বহু চলচ্চিত্র যুদ্ধকে ঘিরে শুধু কাহিনি বলেনি, বরং তুলে ধরেছে মানবিক বিপর্যয়, মানুষের অন্তরের ভয়, সাহস, প্রেম, আত্মত্যাগ এবং প্রত্যয়ের এক অপূর্ব চিত্র। আজ এই বিশেষ আয়োজনে জানা যাবে এমন কিছু সিনেমার কথা, যেগুলো যুদ্ধের বাস্তবতা ও আবেগকে নিখুঁতভাবে তুলে এনেছে সিনেমার ভাষায়। ইতিহাসের বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে নির্মিত এসব চলচ্চিত্র দর্শকদের ভাবিয়েছে, কাঁদিয়েছে, কখনো কখনো নাড়া দিয়েছে বিবেককে...
অল কুআইট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট [All Quiet on the Western Front-১৯৩০]
অল কুআইট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত একটি সিনেমা, যা যুদ্ধ নিয়ে ভাবনার গতিপথই পাল্টে দিয়েছিল। এই চলচ্চিত্রটি শুধু প্রথম বিশ্বযুদ্ধকে তুলে ধরেনি, বরং যুদ্ধের অন্ধকারতম দিক মানুষ হারানোর বেদনা, মানসিক বিপর্যয় এবং নিঃসঙ্গতার এক অনবদ্য দক্ষতায় পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছে। ছবির পরিচালক লুইস মাইলস্টোন, এরিখ মারিয়া রেমার্কের বিখ্যাত জার্মান উপন্যাস All Quiet on the Western Front থেকে অনুপ্রাণিত। এর চিত্রনাট্য লিখেছেন ম্যাক্সওয়েল অ্যান্ডারসন, ডেল অ্যান্ড্রুজ, জর্জ অ্যাবট। ছবিটির প্রযোজক কার্ল লেমলি জুনিয়র । অভিনয় করেছেন, অলিউ আইরিস, পল বয়মার, লুইস উলহেইম, কাটজিনস্কি, বেন আলেকজান্ডার ও আর্নেস্ট ওয়াড্ডে।
পল বয়মার এবং তার সহপাঠীরা বিদ্যালয়ের বেঞ্চ ছেড়ে যুদ্ধের ময়দানে পা রাখে দেশপ্রেমের উত্তেজনায়। কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি তারা টের পায় যে যুদ্ধ কেবল গোলাবারুদের খেলা নয়, এটা হৃদয়-বিদারক বাস্তবতা।
বন্ধুর মৃত্যু, ক্ষুধা, ভয়, মানসিক চাপ- সব মিলিয়ে যুদ্ধ পলের চোখে হয়ে ওঠে ‘বেঁচে থাকার যুদ্ধ’। এই বাস্তবতা তাকে এমন এক নিঃসঙ্গতায় ঠেলে দেয়, যা যুদ্ধ শেষ হলেও ফুরায় না।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক মুহূর্তটি আসে সিনেমার একেবারে শেষে, যখন পল একটি প্রজাপতির দিকে তাকিয়ে থাকে, ঠিক তখনই গুলিবিদ্ধ হয়। যুদ্ধবিরতির ঠিক একদিন আগে তার এই মৃত্যু যেন যুদ্ধের কদর্যতাকে আরও বেশি দৃঢ়ভাবে প্রকাশ করে।
আমান [Aman-১৯৬৭]
আমান-কে ভারতের প্রথম পরমাণু যুদ্ধবিরোধী চলচ্চিত্র বলা হয়ে থাকে। ছবিটির পরিচালক মোহন কুমার আর অভিনয় করেছেন রাজেন্দ্র কুমার, সায়রা বানু, বলরাজ সাহনি প্রমুখ। হিন্দি ভাষার এই ছবিটির মূল বার্তা যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই।
ডা. গৌতম একজন ভারতীয় চিকিৎসক, যিনি বিদেশে উচ্চশিক্ষা শেষে জাপানে যান পারমাণবিক বোমা আক্রান্তদের সেবা দিতে। হিরোশিমা-নাগাসাকিতে মৃত্যুর ছায়ায় জন্ম নেওয়া প্রজন্মের মুখোমুখি তিনি। একজন ভারতীয় ডাক্তার হয়ে তিনি যেন হয়ে ওঠেন দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন। এই ছবিতে গৌতমের চরিত্রের মধ্য দিয়ে শান্তির বার্তা তুলে ধরা হয়। যুদ্ধের বিরুদ্ধে মানবিকতা, চিকিৎসা ও ভালোবাসাই এখানে সবচেয়ে বড়ো অস্ত্র।
আমেরিকান স্নাইপার [American Sniper-২০১৪]
একজন যোদ্ধা যিনি মানবতার কাছে প্রশ্নবিদ্ধ ! তিনি আসলে নায়ক না ভিলেন ? ছবির মূল চরিত্রের এমন মানসিক দ্বন্দ্ব নিয়ে এই সিনেমাটি। ছবির পরিচালক ক্লিন্ট ইস্টউড। ক্রিস কেইল, স্কট ম্যাকইউইন ও জিম ডিফেলিস রচিত American Sniper উপন্যাস এই ছবির উপজীব্য। এতে অভিনয় করেছেন ব্র্যাডলি কুপার, সিয়েনা মিলার উল্লেখযোগ্য।
ক্রিস কাইল, একজন মার্কিন স্নাইপার, যিনি ১৬০টি নিশ্চিত হত্যা করেন ইরাক যুদ্ধে। দেশ তাকে বীর হিসেবে দেখে, কিন্তু যুদ্ধ শেষে বাড়ি ফিরে এসে তিনি মানসিক যন্ত্রণায় ভেঙে পড়েন।
তার মনে যুদ্ধ শেষ হলেও মনোজগতে তা চলতেই থাকে, মূলত এটি যুদ্ধ-পরবর্তী ট্রমার ভয়াবহ দলিল। যুদ্ধ কেবল শারীরিক নয়, এটি মানসিকতাকেও নষ্ট করে দেয়, সেটাই ছবির মূল বার্তা।
দ্য বয় উইথ গ্রিন হেয়ার [The Boy with Green Hair-১৯৪৮]
পরিচালক জোসেফ লোসি ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে তৈরি করেন ‘দ্য বয় উইথ গ্রিন হেয়ার’ ছবিটি। ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে This Week ম্যাগাজিনে প্রকাশি বেটসি বিটনের একই শিরানামের গল্প অবলম্বনে বেন বার্জমেন ও আর্লফ্রেড লুইস লেবিট যুদ্ধবিরোধী এই সিনেমাটির চিত্রনাট্য রচনা করেন।
মূল ভূমিকায় অভিনয় করেন ডিন স্টকওয়েল। যুদ্ধ শিশুদের জীবনে কীভাবে ছাপ ফেলে সেটিই ছবিটির মূল ভাষ্য। ছোটো পিটার একজন যুদ্ধপীড়িত শিশু, যার বাবা-মা নিহত। এক সকালে সে আবিষ্কার করে, তার চুল সবুজ হয়ে গেছে। সমাজের চোখে সে অস্বাভাবিক, ভিন্ন, কিন্তু সেই রং তার মনে যুদ্ধবিরোধী বার্তা নিয়ে আসে। একটি ছোট্টো শিশুর চোখ দিয়ে কীভাবে সমাজ, যুদ্ধ ও নিপীড়নের প্রতিক্রিয়া জন্ম নেয়- এই সিনেমাটি তার প্রতীকী উপস্থাপন।
সিভিলাইজেশন [Civilization-১৯১৬]
যুদ্ধের বিরুদ্ধে শান্তিবাদী বক্তব্য নিয়ে ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে সিভিলাইজেশন চলচ্চিত্রটি মুক্তি লাভ করে। ইনস রেজিনাল্ড বার্কার ও রেমন্ড বি ওয়েস্ট পরিচালিত ছবিটি প্রযোজনা করেন থমাস এইচ ইনস। চিত্রনাট্য রচনা করেন যৌথভাবে সি. গার্ডনার সুলিভান ও এডওয়ার্ড স্লোম্যান। প্রধান চরিত্রগুলো রূপায়ণ করেন হাওয়ার্ড সি. হিকম্যান, এনিড মার্কি, জর্জ ফিশার ও হর্শেল মায়াল।
এটি একটি নির্বাক চলচ্চিত্র। এক সাবমেরিন কমান্ডার যুদ্ধের সময় শত্রু জাহাজ ডুবানোর আদেশ অমান্য করেন, কারণ সেই জাহাজে সাধারণ মানুষ ছিল। এরপর সে প্রাণ হারায় এবং আত্মা হিসেবে ফিরে আসে। সেখানে সে যিশুখ্রিষ্টের সাথে কথা বলে, ধর্মীয় আলোচনায় উঠে আসে মানবতা ও করুণা। এই সিনেমায় যুদ্ধে ধর্মীয় নৈতিকতা ও সহানুভূতির গুরুত্ব দেখায়। এটি সেই সময়ের সাহসী চিত্রায়ণ, যখন যুদ্ধবাজ সমাজে এমন বার্তা দেওয়া ছিল বিপজ্জনক।
ফরেস্ট গাম্প [Forrest Gump-১৯৯৪]
যুদ্ধবিরোধী চলচ্চিত্র ফরেস্ট গাম্প পরিচালনা করেন রবার্ট জেমেকিস, উইনস্টন গ্রুম-এর Forrest Gump উপন্যাস অবলম্বনে চিত্রনাট্য রচনা করেন এরিক রথ। এতে অভিনয় করেন টম হ্যাংকস, রবিন রাইট, গ্যারি সিনিস, সালি ফিল্ড প্রমুখ।
ফরেস্ট গাম্প [Forrest Gump] এক বিশেষ ধরনের মানুষ মস্তিষ্কে সীমিত ক্ষমতা নিয়ে জন্মানো এক ছেলে, যিনি তার সহজ সরল মন, অকৃত্রিম ভালোবাসা আর অদ্ভুত সৌভাগ্যের মাধ্যমে হয়ে ওঠেন আধুনিক আমেরিকার জীবন্ত দলিল। আলাবামার ছোট্টো শহরের এই ছেলেটি কীভাবে ভিয়েতনাম যুদ্ধ, জাহাজ চালনা, পিং-পং চ্যাম্পিয়নশিপ, এমনকি হোয়াইট হাউজ অবধি পৌঁছে যায়। তাই নিয়েই এই সিনেমার বিস্ময়কর কাহিনি।
ফরেস্ট ছেলেবেলা থেকেই সমাজের চোখে ভিন্ন। কিন্তু তার মা তাকে বারবার শেখান- Stupid is as stupid does সেই শিক্ষা নিয়েই সে এগিয়ে চলে। স্কুলজীবনে সে দৌড়াতে দৌড়াতে নিজের সীমাবদ্ধতা জয় করে, কলেজে ফুটবল খেলে নাম করে, আবার সামরিক বাহিনীতে যোগ দিয়ে ভিয়েতনাম যুদ্ধে অংশ নেয়।
তার জীবনের ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকে জেনি। তার ছেলেবেলার ভালোবাসা, যে কিনা সম্পূর্ণ বিপরীত ধারার একজন বিদ্রোহী, ভাঙাচোরা, আত্মপরিচয় খুঁজে বেড়ানো এক নারী।
দ্য গ্রেট ওয়ার [The Great War-১৯৫৯]
দুই সৈনিকের চোখে যুদ্ধ। তাদের চোখেই আমরা দেখি প্রথম বিশ্বযুদ্ধকে। ছবির পরিচালক মারিও মোনিচেলি। অভিনয় করেছেন ভিট্টোরিও গাসম্যান, আলবার্তো সোর্দি।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধকে কেন্দ্র করে নির্মিত এক ব্যতিক্রমধর্মী কমেডি চলচ্চিত্র এটি। পরিচালক মারিও মনিচেলি তার অনবদ্য হাস্যরস ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে এই সিনেমায় যুদ্ধকে শুধু শারীরিক ধ্বংস নয়, মানসিক অস্থিরতার প্রতীক হিসেবেও তুলে ধরেছেন।
গল্পের কেন্দ্রীয় দুই চরিত্র ওরেস্টে ও জিওভান্নি দুই ভিন্ন মেরুর মানুষ। একজন ঠকবাজ ও চালাক [ওরেস্টে], অন্যজন অহংকারী ও চালিয়ে নেওয়া টাইপ [জিওভান্নি]। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে দু’জনেই একসাথে ইতালীয় সেনাবাহিনীতে নিয়োগ পায় এবং যুদ্ধের ভয়াবহ বাস্তবতায় একসাথে বেঁচে থাকার চেষ্টা করে।
প্রথমদিকে যুদ্ধকে এড়িয়ে চলা, আত্মরক্ষামূলক দৃষ্টিভঙ্গি ও ভয় তাদের জীবনের লক্ষ্য হয়ে ওঠে। কিন্তু ধীরে ধীরে তারা নিজেদের ভেতরে দায়িত্ব, বন্ধুত্ব এবং আত্মত্যাগের বোধ খুঁজে পায়। শেষ দৃশ্যে, শত্রুর হাতে ধরা পড়েও তারা যুদ্ধের গোপন তথ্য ফাঁস না করে বীরের মতো মৃত্যুবরণ করে যা ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত এবং হৃদয়বিদারক।
দ্য কুইন অব ঝানসি [The Queen of Jhansi-২০১৯]
এক নারীর বিদ্রোহে কীভাবে কেঁপে উঠেছিল ব্রিটিশ রাজত্ব এটি সেই বীরগাথা। পরিচালক কঙ্গনা রানাওয়াত ও কৃষ। অভিনয়ে আছেন কঙ্গনা রানাওয়াত [ঝানসির রানি], অতুল কুলকার্নি।
রানি লক্ষ্মীবাঈ ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দের সিপাহী বিদ্রোহের অন্যতম প্রতীক। তিনি শুধু তরবারি ধরেননি, বরং নারীর সাহস, আত্মসম্মান ও দেশপ্রেমের প্রতীক হয়ে ওঠেন। এই ছবিতে তার যোদ্ধা থেকে নেত্রী হয়ে ওঠার গল্প উঠে আসে।
ইংরেজদের বিরুদ্ধে তার প্রতিরোধ, কৌশলগত যুদ্ধ ও আত্মত্যাগ সিনেমাটিকে একটি দেশাত্মবোধক জ্বলন্তচিত্রে পরিণত করেছে।

গাজি [Gaze ২০১৭]
একটি ছোটো দৈর্ঘ্যরে ইরানি চলচ্চিত্র, যা ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দে মুক্তি পায়। এটি পরিচালনা করেছেন ফরনৌস ঘরিবি। সিনেমাটি সংক্ষিপ্ত হলেও এর বিষয়বস্তু গভীর, তীব্র ও ভাবনাপ্রবণ। যুদ্ধ মানেই শুধু রণক্ষেত্রের গর্জন নয়, যুদ্ধের প্রভাব অনেক সময় ছড়িয়ে পড়ে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সূক্ষ্ম পরতে পরতে, গাজি তেমনই একটি চলচ্চিত্র। যেখানে যুদ্ধ নেই, গোলাগুলি নেই, কিন্তু আছে সমাজে নারীর টিকে থাকার নীরব সংগ্রাম। পরিচালক ফরনৌস ঘরিবি তার অনবদ্য চিত্রনাট্য ও সংবেদনশীল নির্মাণের মাধ্যমে তুলে এনেছেন এক নারীচরিত্রের মানসিক টানাপোড়েন, যিনি হয়ে ওঠেন একটি অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার নীরব সাক্ষী।
চলচ্চিত্রের গল্পটি একটি বাসযাত্রাকে কেন্দ্র করে। প্রধান নারী চরিত্রটি [একজন পেশাদার নারী] কর্মস্থল থেকে বাসে ফিরছিলেন। বাসের ভেতরে তিনি একজন পুরুষ যাত্রীকে চুরি করতে দেখেন। পুরো ঘটনা তিনি প্রত্যক্ষ করেন, কিন্তু কিছু বলেন না। পরে যখন চুরি ধরা পড়ে এবং অপরাধীকে খোঁজা হয়, তখন তাকে চুপ করে থাকতে দেখা যায়। তার এই ‘দৃষ্টি’ এই ‘নীরবতা’ সিনেমার মূল বক্তব্য।
গাজি চলচ্চিত্রটির গভীরতা এখানেই। এই সিনেমা চোখে আঙুল দিয়ে দেখায়, কীভাবে একটি সমাজে নারী নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, কীভাবে নীরব দর্শক হয়ে থাকতে বাধ্য হয়, আর কীভাবে এক নিষ্পাপ দৃষ্টিও হয়ে উঠতে পারে নৈতিক প্রতিরোধের প্রতীক।

স্টপ জেনোসাইড [Stop Genocide-১৯৭১]
এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ দলিল। ‘যুদ্ধ মানেই মৃত্যু আর ধ্বংস’- এই সত্যটিই যখন রাষ্ট্রীয় মদদে গণহত্যায় রূপ নেয়, তখন তা হয় মানবতার বিরুদ্ধে এক ঘৃণ্যতম অপরাধ। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সেই বর্বরতার চিত্র বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার প্রয়াসেই নির্মিত হয় ঐতিহাসিক প্রামাণ্যচিত্র ‘স্টপ জেনোসাইড’, যা হয়ে উঠেছিল একটি সাহসী প্রতিবাদের মাধ্যম।
এই গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান। মাত্র ২০ মিনিটের এই প্রামাণ্যচিত্রটিতে তুলে ধরা হয়েছে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের মুক্তিযুদ্ধকালীন হানাদার বাহিনীর ভয়াবহ গণহত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ ও বাস্তুচ্যুত মানুষের আর্তনাদ। ক্যামেরার লেন্সে ধরা পড়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া লাখো শরণার্থীর ক্লান্ত মুখ, পুড়ে যাওয়া গ্রাম, মৃতদেহে ভরা নদী আর নীরব কান্নার অজস্র চিত্র।
‘স্টপ জেনোসাইড’ কেবল একটি তথ্যচিত্র নয়, এটি ছিল আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের এক সাহসী উদ্যোগ। জহির রায়হান এই প্রামাণ্যচিত্রের মাধ্যমে বিশ্বের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন, ‘এই গণহত্যা বন্ধ করুন!’ স্টপ দিস জেনোসাইড [Stop This Genocide] এজন্যই ছবির নাম এমন জোরালো ও সরাসরি।
লেখা : ফাতেমা ইয়াসমিন