ঈদ সবার জন্যই আনন্দের। ঈদের আগে পরে বা ঈদের দিনেও কোনো-না-কোনা শিশুর জন্ম হতে পারে। যে-পরিবারে ঈদের দিন শিশু জন্মাবে, সেই পরিবারে তো ঈদের খুশি দ্বিগুণ হয়ে যাবে। শিশুর জন্মের পরপর অথবা এক সপ্তাহের মধ্যেই কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতে অনেক সময় মা-বাবা বেশ চিন্তিত হয়ে যায়। অনেকেই আবার নানা কুসংস্কারাচ্ছন্ন হয়ে নানা কাজ করে বসেন। প্রথমে এটা মনে রাখতে হবে এই সামান্য সমস্যাগুলো কোনো অসুখের পর্যায়ে পড়ে না। বরং নতুন পরিবেশে খাপ খাওয়ানোর প্রক্রিয়া হিসেবে এগুলোকে ভাবা উচিত। সচেতনতা ও অল্প যত্নেই এই অসুখগুলো খুব দ্রুত ভালো হয়ে যায়। নবজাতকের এইসব সমস্যা যেন ঈদের অনন্দকে ম্লান করে না দেয় তার জন্য আমাদের এই আয়োজন...

জন্ডিস
জন্মের পর অনেক শিশুর জন্ডিস দেখা দিতে পারে। এটা খুব সাধারণ ও স্বাভাবিক ঘটনা। সাধারণত নবজাতকের জন্মের দুই দিন থেকে ছয় দিনের মধ্যে এই জন্ডিস দেখা দিতে পারে এবং দুই সপ্তাহের মধ্যে তা সেরে যায়। এই সময় মায়ের দুধ শিশুকে বেশি করে খাওয়াতে হয় এবং সেইসঙ্গে সকালের হালকা রোদে শিশুকে খালি গায়ে কিছুক্ষণ রাখতে হয়। তাহলে শিশু দ্রুত জন্ডিসমুক্ত হয়। তবে মনে রাখতে হবে- শিশুর মাথায় যেন সূর্যের আলো সরাসরি না পড়ে।
স্তন ফুলে যাওয়া
জন্মের পর অনেক শিশুর [ছেলে বা মেয়ে] স্তন ফুলে যায় এবং মেয়ে শিশুর যোনিপথ দিয়ে রক্ত মিশ্রিত সাদা স্রাব বের হতে পারে। এটা স্বাভাবিক এবং এর জন্য কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন নেই।
চোখ দিয়ে পানি পড়া
কোনো কোনো নবজাতকের চোখ দিয়ে পরিষ্কার পানি বা অশ্রু ঝরে পড়তে পারে। তার জন্য কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। তবে শিশুর নাকের গোড়ায় চোখের কোনা বরাবর আঙুল দিয়ে হালকা ম্যাসাজ বা মালিশ করলে চোখ দিয়ে পানি পড়া সেরে যায়। চোখের পানি যদি পুঁজ মেশানো হয় বা পুঁজের মতো হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না।

ফুসকুড়ি
অনেকেই শিশুকে জন্মের পর গরম কাপড়, ভারি তোয়ালে ইত্যাদি দিয়ে পেঁচিয়ে রাখে। অতিরিক্ত কাপড় পরানোর ফলে গরমে শিশুর গায়ে লাল দানা বা ফুসকুড়ি দেখা দেয়। এরকম হলে শিশুকে ঘন ঘন কুসুম গরম পানি দিয়ে শরীর মুছে দিতে হবে। গায়ে বেবি পাউডারও মাখা যেতে পারে। শিশুকে অতিরিক্ত কাপড় বাদ দিয়ে হালকা পাতলা আরামদায়ক কাপড় পরাতে হবে।
কনজাংটিভাইটিস
শিশুদের চোখের সাদা অংশ বা কনজাংটিভায় ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হতে পারে। এ রোগে শিশুর চোখে পিঁচুটি বা পুঁজ দেখা যায় এবং চোখ লাল হয়ে যেতে পারে। কনজাংটিভাইটিস হলে চোখ বারবার পানি দিয়ে ধুয়ে দিতে হয় অথবা নরম কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করতে হয়। অনেক সময় এই প্রদাহ শিশুর অন্ধত্বের কারণ হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

নাভি ফুলে যাওয়া
কোনো কোনো শিশুর নাভি শুকিয়ে যাওয়ার পর নাভিমুখের নিচের মাংসপেশিতে ফাঁকের সৃষ্টি হয় এবং শিশু কাঁদলে বা কোঁত দিলে নাভি বেলুনের মতো ফুলে ওঠে। প্রথম কয়েক মাসে ফোলা বৃদ্ধি পেতে পারে, তবে পরে ফোলা সংকুচিত হতে হতে স্বাভাবিক হয়ে যায়। নাভি স্ফীতি কোনো সমস্যার সৃষ্টি করে না। তবে নাভি স্ফীতি খুব অস্বাভাবিক মনে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
নেটাল টুথ
চলতি ভাষায় একে বলে গর্ভদাঁত। সাধারণভাবে নিচের পাটির মাঝখানে থাকে। একে অশুভ বা অলক্ষুণে ভাবার কোনো কারণ নেই। দুধদাঁত ওঠার আগেই এটি ঝরে যায়। তবে যদি নড়বড়ে থাকে বা বুকের দুধ চুষে খেতে সমস্যা হয়, তাহলে তুলে ফেলা যায় এটি।
গ্রন্থনা : ফাতেমা ইয়াসমিন