গায়ে ঝলমলে গয়না

22 Dec 2024, 02:26 PM অন্যান্য শেয়ার:
গায়ে ঝলমলে গয়না


উল্লিখিত পঙ্ক্তিগুলো শুধু কবির কল্পনা নয়। এটি বাংলার গ্রামীণ জীবনের চিরাচরিত বিয়ের চিত্রপট। গয়না ছাড়া আমাদের বিয়ের ঐতিহ্য কল্পনাও করা যায় না। বধূ ও বিয়ের গয়নার সাথে জড়িত থাকে পরিবারের সামাজিক মর্যাদা এবং সংস্কৃতিও। ফ্যাশন, অনুষ্ঠানভেদে এখন বিয়ের গয়নায় নানা বৈচিত্র্য দেখা যায়। কালের বিবর্তনেও গয়নার নকশায় এসেছে নানা পরিবর্তন। আর তাই বিয়ের দিনের গয়নায় প্রায় সব কনেই নিজের সাজসজ্জা ফুটিয়ে তুলতে আধুনিকতা ও ঐতিহ্যের সংমিশ্রণের প্রকাশ ঘটাতে চান। তাই বিয়ের গয়না নিয়ে বিস্তারিত থাকছে এ আয়োজনে...



গলায় সোনার চন্দনহার,

হাতে বালা ঝলমল করে।

নাকে নথ আর কানে দুল,

ঘোমটার আড়ালে হাসে সে ফুল।


সোনার গয়না

সোনার গয়না ছাড়া নতুন বউয়ের সাজটা যেন অস¤পূর্ণ থেকে যায়। তাছাড়া বিয়েতে সোনার গয়না পরবে না এমন যেন হতেই পারে না। আজকাল শুধু ঘন পেটানো খাঁটি গিনি সোনার ডিজাইন তেমন একটা দেখা যায় না। এখনকার সোনার গয়নাগুলোয় থাকছে কিছুটা হালকা ডিজাইনে পুঁতি আর পাথরের মিশেল। এছাড়া থাকছে মুক্তার ব্যবহারও। এক্ষেত্রে বিয়ের পোশাকের সঙ্গে মানানসই রঙের স্টোন ও পুঁতির ব্যবহারটাই বেশি লক্ষণীয়। কালারের ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্য এসেছে এখনকার সোনায়। হলদে ও সাদা সোনার পাশাপাশি রোজ গোল্ড বা গোলাপি সোনার ব্যবহারও দেখা যাচ্ছে প্রচলিত গয়নায়। অনেকে আবার পোশাকের রঙের সঙ্গে পারফেক্ট ম্যাচিংয়ে মিনা করিয়েও নিচ্ছেন বিয়ের গয়নায়।

সোনার গয়না কিনতে যেতে পারেন বায়তুল মোকাররম, নিউমার্কেট, বসুন্ধরাসিটি, রাপা প্লাজা, মাসকট প্লাজা, রাইফেলস স্কয়ার, গুলশান পিঙ্ক সিটি শপিং কমপ্লেক্স, যমুনা ফিউচার পার্কসহ অন্য মার্কেটগুলোতে।


হীরার গয়না

বর্তমানে সোনার গয়নার সঙ্গে সঙ্গে হীরার গয়নাও বাঙালি নারীর সাজে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এটা অনেকটা আভিজাত্যের প্রতীক। তাই সোনার গয়নার পাশাপাশি হীরার গয়নার প্রতি আজকাল তরুণীদের একটা বিশেষ ঝোঁক লক্ষ্য করা যায়। হীরার গয়নার মধ্যে ছোটো ছোটো নকশার গয়নাগুলোই ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। এক্ষেত্রে হীরার আংটি, নাকফুল আর কানের দুলের চাহিদাই বেশি। তবে অনেকে আবার হীরার লকেট পরতেই বেশি পছন্দ করেন। আমাদের দেশে যেসব হীরা পাওয়া যায় সেগুলো মূলত ভারত, সিঙ্গাপুর, বেলজিয়াম ও দুবাই থেকে আসে। হীরার গয়নার সন্ধানে যেতে পারেন ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড, ডায়াগোল্ড বা নিউ জড়োয়া হাউজের মতো দোকানে।


রুপার গয়না

বিয়েতে রুপার গয়না খুব বেশি একটা পরতে দেখা যায় না। তবে, আজকাল কোনো কোনো মেয়ে নিজের বিয়েকে একটু ব্যতিক্রমী করতে রুপার গয়না পরেই বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন। আবার যারা বিয়েতে রুপা পরতে চান না তাদের অনেকেই কিন্তু গায়ে হলুদে ফুলের পরিবর্তে রুপার গয়নাই ফ্যাশন ট্রেন্ড মনে করছেন। ফলে বিয়ে উপলক্ষে কিন্তু রুপার গয়না পরা হচ্ছে। রুপার গয়নার ক্ষেত্রে কানে একটু লম্বা টাইপের দুলই বেশি মানানসই। হাতে দুই-একটি চুড়ি আর গলায় অবশ্যই ভারি কিছু পরা উচিত। কারণ, গায়ে হলুদের শাড়ি যেহেতু খুব একটা জমকালো হয় না সে ক্ষেত্রে গলায় ভারি কিছু না পরলে ম্যাচিং ভালো হয় না। এগুলো আপনি পাবেন চাঁদনীচক, গাউছিয়া, মৌচাক মার্কেটসহ বিভিন্ন শপিং মলে।


গোল্ডপ্লেটেড গয়না

সোনার গয়নার সঙ্গে পাল্লা দিয়েই বাড়ছে গোল্ডপ্লেটেড গয়নার চাহিদা। কারণ, সোনার মূল্য একটু বেশি হওয়ায় অনেকেই চাহিদা ও পছন্দমতো সেগুলো কিনতে পারেন না। সেদিক থেকে গোল্ডপ্লেটেড গয়নাগুলো পছন্দ ও চাহিদামতো কেনা যাচ্ছে অনেক কম খরচেই। আর এগুলো দেখতে অনেকটা সোনার গয়নার মতো মনে হওয়ায় অনেকে এগুলো পরেই সেরে নিচ্ছেন বিয়ের কাজ। গোল্ডপ্লেটেড গয়নাগুলো গোল্ড কালার না করে আপনি এন্টিক কালার কিংবা কপার কালারেরও করে নিতে পারেন। আর তাতে পছন্দমতো বসিয়ে নিতে পারেন বিভিন্ন মূল্যবান পাথর, মুক্তা এমনকি ডায়মন্ড ডাস্টও। আর নকশা কিছুটা হাল্কা হলেই ভালো। গোল্ডপ্লেটেড গয়নাগুলোর খোঁজে যেতে পারেন মৌচাক মার্কেট, গাউছিয়া, চাঁদনীচক, মেট্রো শপিংমল, রাপা প্লাজা, মাসকট প্লাজা, ইস্টার্ন প্লাজা ও বসুন্ধরা সিটিসহ অন্য মার্কেটগুলোয়।


পাথরের গয়নার ট্রেন্ড

নানা রকমের পাথরের গয়নাও বর্তমানে বিয়ের গয়না হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। দেখতে সুন্দর আর মনমতো কাস্টমাইজ করে নেওয়ার সুবিধা থাকার ফলে এর প্রচলন এখন বেশ। কনেরা শাড়ি বা লেহেঙ্গার সঙ্গে রং মিলিয়ে বিভিন্ন নকশায় বিভিন্ন রকমের পাথর দিয়ে গয়না বানিয়ে নিচ্ছেন। এতে করে দেখতেও খুব ট্রেন্ডি লাগে কনেদের। তাছাড়া পাথরের তৈরি গয়না পরে যেকোনো অনুষ্ঠানেও ব্যবহার করা যায়। এর মূল্যও হাতের নাগালে। যে যার বাজেট অনুযায়ী কিনে নিতে পারেন। 

লেখা : ফাতেমা ইয়াসমিন