শ্রীফলতলী জমিদার বাড়িটি গাজীপুর কালিয়াকৈর অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন স্থাপনা। জমিদার বাড়িটি গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার শ্রীফলতলী গ্রামে অবস্থিত। গাজীপুর জেলার পশ্চিমাংশে কালিয়াকৈর উপজেলা। পূর্বে এই এলাকাটি তালিবাবাদ পরগনার সাভার থানার অন্তর্গত ছিল।
গবেষকদের ধারণা ভাওয়াল জমিদার তালিব গাজীর নামানুসারে পরগনার নামকরণ করা হয়েছিল তালিবাবাদ পরগনা। তালিব গাজীর মৃত্যুর পর বড়ো ছেলে ইলাহী গাজী জমিদারির দায়িত্ব পান। সেসময়ে কালিয়াকৈর চান্দরা ভাঙা মসজিদ অঞ্চলের বাড়ি থেকেই তিনি জমিদারি পরিচালনা করতেন।
ব্রিটিশ শাসনামলে ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তিনি ফকির মজনু শাহের সাথে যুক্ত ছিলেন। ফকির মজনু শাহের পরামর্শে দেওয়ান এলাহী গাজী শ্রীফলতলীর জমিদারির দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে সপরিবারে কালিয়াকৈর ত্যাগ করেন এবং ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার বরোলিয়া কৃষ্ণনগরে গিয়ে বসবাস করতে থাকেন এবং ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলনে ফকির মজনু শাহের দলে যোগদান করেন।
ইলাহী গাজী শৈলকূপায় চলে যাওয়ার পর তালিব গাজীর ভগ্নীপতি খোদা নেওয়াজ খান শ্রীফলতলী এস্টেটের প্রধান কর্ণধার হয়ে ওঠেন। এরপর তিনি তালিবাবাদ পরগনার নয় আনা অংশের মালিকানা নিয়ে ‘শ্রীফলতলী এস্টেট’ প্রতিষ্ঠা করেন ।
খোদা নেওয়াজ খান জমিদার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শ্রীফলতলী গ্রামে এসে বাড়ি নির্মাণ করেন। পরবর্তীসময়ে খোদা নেওয়াজ খানের বড়ো ছেলে করিম নেওয়াজ খান ও ছোটো ছেলে রহিম নেওয়াজ খানের মধ্যে জমিদারি ভাগ হয়ে যায়। বড়ো ছেলে করিম নেওয়াজ খানের অংশ বড়ো তরফ এবং ছোটো ছেলের অংশ ছোটো তরফ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। দুই তরফই যার যার পছন্দ ও রুচিমতো আরো কয়েকটি ভবন নির্মাণ করে বসবাস করতে থাকেন।

শ্রীফলতলী বর্তমান জমিদার বাড়ির পূর্বাংশে বড়ো তরফ। এই অংশের সম্মুখভাগে একটি দোতলা ভবন রয়েছে। ভবনটি চারফুট উঁচু প্লাটফর্মের ওপর নির্মিত। সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে ভবনটিতে প্রবেশ করতে হয়। ইন্দো-ইউরোপীয় রীতিতে নির্মিত ভবনটির দুইপাশে গোলাকৃত স্থাপনা ও বারান্দা রয়েছে। ভবনটির নিচতলা ও দোতলায় চারটি করে মোট আটটি কক্ষসহ নিচতলায় বড়ো একটি হলরুম রয়েছে। ভবনটির উপরিভাগে নকশাখঁচিত ২২টি মিনার শোভা পাচ্ছে।
এই ভবনের মধ্য দিয়ে বড়ো তরফের অন্দরমহলে প্রবেশ করা যায়। অন্দরমহলে দু’টি একতলা ভবনে চারটি করে কক্ষ রয়েছে। ধনুক আকৃতির একটি সেতুপথ তৈরি করে ভবন দুটোকে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বড়ো তরফের মূল ভবনের পূর্ব দিকে একটি একতলা অতিথিশালা ছিল। অতিথিশালাটি এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।
লেখক : গবেষক, লেখক ও টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাতা