অনেক গুণে গুণান্বিত লাক্স সুন্দরী নীলাঞ্জনা নীলা। তার অন্যান্য গুণের মধ্যে একটি হচ্ছে অভিনয়। তার প্রমাণও দিয়েছিলেন প্রথম ছবি গহিন বালুচরে অনবদ্য অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ছবি শ্যামাকাব্য। অন্যদিকে গোলাম কিবরিয়া তানভীরও কম যান না। বেছে বেছে কাজ করেন বলে কাজের সংখ্যা কম হলেও দর্শকের প্রিয় শিল্পীর তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি তিনি শাবনূরের সঙ্গে জুটি হয়ে কাজ করছেন ‘রঙ্গনা’ নামের একটি ছবিতে। বিস্তারিত লিখেছেন শেখ সেলিম...
আকাশ যখন তার নীলাভ রং ধারণ করে- এই নীলের মাঝে হারিয়ে যান অনেকে। অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন শূন্যের নীলের দিকে। আর সেই নীল যদি ছড়ায় ধরিত্রীতে, তা আবার মানুষ রূপে ! বলছি লাক্স সুন্দরী নীলাঞ্জনা নীলার কথা, যিনি ইতোমধ্যে সাবলীল অভিনয় দিয়ে জয় করে নিয়েছেন দর্শকের হৃদয়। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত বদরুল আনাম সৌদ পরিচালিত ‘শ্যামা কাব্য’ ছবিটি। সাত বছর পর একই নির্মাতার ‘গহিন বালুচর’ ছবির মধ্য দিয়ে বড়োপর্দায় অভিষেক হয়েছিল নীলার। প্রথম ছবিতেই বাজিমাত করেন নীলা। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি তাকে। একের পর এক কাজ করে যাচ্ছেন নাটক, টেলিফিল্ম, বিজ্ঞাপনচিত্র প্রভৃতিতে। এবার ‘শ্যামাকাব্য’ মুক্তির পরও বেশ সুনাম ছড়িয়েছে এই অভিনেত্রীর। নতুন ছবি মুক্তি প্রসঙ্গে নীলা বলেন, কাজটি করে আমার নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে। অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। নতুন করে অভিনয়কে ভালোবাসতে পেরেছি। এই দিকগুলো সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে।
ছবিটি মুক্তি উপলক্ষে কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে কথা বলেছেন দর্শকের সঙ্গে, সিনেমাটি নিয়ে দর্শকের অনুভূতি কেমন জানতে চাইলে নীলা বলেন, বেশিরভাগ দর্শকই প্রশংসা করেছেন।
একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে এমন চরিত্রে কাজ করার সুযোগ পাওয়াটা ভাগ্যের। ছবিতে কাজ করতে পেরে নীলা নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন। কারণ, এই রকম চরিত্র সবসময় পাওয়া যায় না। শেষ মুহূর্তে হলেও ‘শ্যামাকাব্য’ ছবির ‘শ্যামা’ আমিই হয়েছি। এটাই আমার সবচেয়ে বড়ো প্রাপ্তি।
‘লাক্স সুন্দরী’ হয়েছেন প্রায় ১০ বছর। এর মধ্যে মাত্র দু’টি ছবি মুক্তি পেয়েছে, এটা কম নয় কি ? এই প্রসঙ্গে নীলা বলেন, আরো দু’টি ছবিতে আমি কাজ করেছি। একটির পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান মানিক ও অন্যটির এস এম কাইয়ুম। খুব শিগ্গিরই সেই ছবি দু’টি মুক্তি পাবে।
বর্তমানে নীলাঞ্জনা নীলা কাজ করছেন কয়েকটি ঈদের নাটক ওয়েব সিরিজে।
নীলার নীল নয়ন না থাকলেও তবুও তার নাম নীলা। তার চাহনি নীল নয়নাকেও হার মানায়। মায়াবী চাহনির নীলার ক্যারিয়ার শুরু হয় বিজ্ঞাপনচিত্রের মাধ্যমে। বেশকিছু বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হলেও তার পরিচিতিটা এনে দেয় সেভেন আপের বিজ্ঞাপনচিত্রটি।
নীলাঞ্জনা নীলা ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দে লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় রানার্সআপ হন। লাক্স সুন্দরী হওয়ার পর থেকেই অভিনয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। পাশাপাশি মডেল হন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের। শুরুর দিকে তাকে সাফল্য এনে দেয় সেভেন আপের বিজ্ঞাপনচিত্রটি। এরপর আর নীলাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। কাজ করেন একের পর এক নাটক ও বিজ্ঞাপনচিত্রে। তার উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞাপনচিত্রের মধ্যে রয়েছে বাংলালিংক, ক্লোজআপ, ইতালিয়ানো মেলামাইন [আরএফএল], রিং আইডি, ক্রিসেন্ট ফুটওয়্যার প্রভৃতি।
২০১৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন শিল্পে অসাধারণ পারফর্মেন্সের জন্য লাক্স ইমার্জিং তারকা পুরস্কার লাভ করেন। অভিনয়ের সঙ্গে যারা জড়িত সকলেই কমবেশি বড়ো পর্দায় নিজেকে দেখতে চান, নীলাও তাদের ব্যতিক্রম নন। তাই বড়ো পর্দায়ও তিনি নিজেকে ঝালিয়ে নিয়েছেন। আর তার এই স্বপ্নটি পূরণ হয় বদরুল আনাম সৌদ পরিচালিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘গহিন বালুচর’ ছবির মাধ্যমে। ছবিটি ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে মুক্তি পায়। সেই ছবির মাধ্যমে নীলা আরো বেশি পরিচিতি লাভ করেন। নির্মাতাদের পছন্দের তালিকায়ও চলে এসেছেন নীলা।
অন্যদিকে গোলাম কিবরিয়া তানভীরও এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। যদিও মাঝে একটু কম কাজ করলেও এখন পুরোদপ্তর একজন অভিনেতা হিসেবে কাজ করছেন তিনি।
গোলাম কিবরিয়া তানভীরের ক্যারিয়ার শুরু হয় মডেলিং দিয়ে। তার ক্যারিয়ারের বয়েস ১৮ বছর। দীর্ঘ পথচলায় তিনি কয়েকশ’ নাটকে অভিনয় করেছেন, মডেলিং করেছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের। ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দে আরিফ খান পরিচালিত ‘দাদীমা ও কিছু শালিক’ শিরোনামের নাটকে অভিনয় করে অভিনেতা হিসেবে অভিষেক ঘটে তার। ৬ ফুট ২ ইঞ্চির অধিক উচ্চতা ও সুঠাম দেহীর অধিকারী এই অভিনেতা সহজেই মন কেড়ে নেন সবার। বেশি উচ্চতার কারণে অনেক সময় তার নায়িকা পাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে, তাই কাজের সংখ্যাও কম। তবে এখন সেই অমানিশা কেটে আলোর পথে হেঁটে চলছেন এই অভিনেতা। বিশেষ করে ওটিটি দুনিয়া আবিষ্কার হওয়ার পর থেকেই বেড়ে চলছে তার কদর। তাই টিভিনাটকের চেয়ে বর্তমানে ওয়েবফিল্মে বেশি সময় দিচ্ছেন তিনি। এই প্রসঙ্গে তানভীর বলেন, আমি সবশেষ একজন অভিনেতা হিসেবেই নিজেকে পরিচয় দিতে চাই। একজন অভিনেতা সব মাধ্যমেই কাজ করে থাকে। আমিও সব মাধ্যমেই কাজ করতে চাই । তবে এখন জোর দিচ্ছি ওয়েব ফিল্ম ও সিনেমার ওপর।

সম্প্রতি তিনি একসময়ের ক্রেজ শাবনূরের সঙ্গে জুটি হয়ে ‘রঙ্গনা’ নামের একটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ছবিটি পরিচালনা করেছেন আরাফাত। ইতোমধ্যে ছবিটির প্রথম লটের শুটিং শেষ হয়েছে।
শাবনূরের সঙ্গে কাজ করা প্রসঙ্গে তানভীর বলেন, ‘শাবনূর আমার স্বপ্নের নায়িকা, তার সঙ্গে সিনেমা করেছি। অনেক বছরের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। তার সঙ্গে সিনেমা করা আমার ক্যারিয়ারের জন্য বড়ো ব্যাপার। শুটিং করার সময় শাবনূরের কাছ থেকে অসম্ভব সহযোগিতা পেয়েছি। প্রথমত একটু টেনশনে ছিলাম। কেননা, তিনি অনেক বড়ো মাপের নায়িকা। অনেক বড়ো মাপের শিল্পী। কিন্তু শুটিং করার সময় আপন করে নেন। অনেক সহজ করে নেন। শাবনূরের হাসি সিনেমার চেয়ে বাস্তবে বেশি সুন্দর। কথা বলেন সুন্দর করে। তার ব্যবহারে আমি মুগ্ধ। অনেকদিন মনে থাকবে।’
নিয়মিত ছবিতে কাজ করবেন কি না জানতে চাইলে তানভীর বলেন, ‘সিনেমায় নিয়মিত অভিনয় করতে চাই। অনেকদিন ধরে সিনেমায় কাজ করার স্বপ্ন ছিল। সেভাবেই ধীরে ধীরে এগোচ্ছি।’
এর আগে করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে রায়হান রাফীর পরিচালনায় ‘স্বপ্নবাজি’ নামে একটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তানভীর। কিন্তু সেই ছবির কাজ এখনো শেষ করতে পারেননি। এটার কাজ হবে সামনে। এছাড়াও তানভীর কাজ করেছেন ‘টার্গেট’ নামের একটি সিনেমায়। এটার কাজ প্রায় শেষ। খুব শিগ্গিরই ছবিটি মুক্তি পাবে বলে তিনি জানান।
এদিকে রেজাউর রহমান পরিচালিত ‘থার্টি সিকস টুয়েনটি ফোর’ নামে এটি কমেডি ঘরানার ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছেন তানভীর। এটি ওটিটি প্লাটফর্ম চরকিতে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া হিমি পরিচালিত ‘হাইড অ্যান্ড সিক’ নামে থ্রিলার ঘরানার একটি সিরিজও মুক্তির অপেক্ষায় আছে।
ক্যারিয়ারের বিষয়ে তানভীর বলেন, ‘ওয়েবফিল্মে এবং সিনেমায় বেশি বেশি কাজ করতে চাই। ওটিটিতে অনেক যতœ নিয়ে কাজ হয়। বাজেট বেশি থাকে। ধরে ধরে কাজ হয়। যে-জন্য দর্শকেরা গ্রহণ করছেন। আমিও ওটিটির প্রতি বেশি আগ্রহী।’
তানভীর অভিনীত প্রথম ওয়েব সিরিজের নাম ডেফোডিল। তানভীর অভিনীত দু’টি ধারাবাহিক নাটক দুই চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে। মাছরাঙা টেলিভিশনে প্রচার হচ্ছে আল হাজেন পরিচালিত ‘দাদাজান’। এটিএন বাংলায় প্রচার হচ্ছে জাহিদুল মিন্টু পরিচালিত ‘অক্টোপাস’।