আমরা তোমাদের ভুলবো না

24 Dec 2025, 01:32 PM মুক্তিযুদ্ধ শেয়ার:
আমরা তোমাদের ভুলবো না

“বাঙালির মুক্তির নাম ডিসেম্বর, তার বিজয়ী অভিব্যক্তির নাম ডিসেম্বর ;

চূড়ান্ত আত্মদানের পর মুক্তিযোদ্ধার শিখা অনির্বাণের নাম ডিসেম্বর ;

বাঙালির অগ্নিঘোষিত জন্মতিথির নাম ডিসেম্বর...”


বছর ঘুরে আবার এসেছে বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। ডিসেম্বর আমাদের গৌরবের মাস। এই মাসে বাংলাদেশের মানুষ পেয়েছে বহু প্রতীক্ষিত ও কাক্সিক্ষত পরিপূর্ণ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ই ডিসেম্বর আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি অর্জন করেছে স্বাধীন সার্বভৌম সত্তা। আর এই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করতে লাখো শহিদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছে এই পূণ্যভূমি। ত্রিশ লাখ শহিদ আর দুই লাখ মা-বোনের দুঃসহ পাশবিক নিপীড়ন সহ্য করার বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার স্বাক্ষর বিজয়ের মাস ডিসেম্বর।

পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর একচোখা নীতি, পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পীড়নের বিরুদ্ধে পূর্ব-বাংলার মানুষ সংগ্রাম করে আসছিল সেই ১৯৪৭-এর দেশ ভাগের অব্যবহিত পর থেকেই। পাকিস্তানিরা প্রথম আঘাত হানে বাংলা ভাষার ওপর। ১৯৫২-এর একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা বুকের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত করে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করে।

১৯৭১-এর পয়লা মার্চ থেকে স্বাধিকার আদায়ের আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। সকল প্রকার জুলুম-অত্যাচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-প্রতিরোধে গর্জে ওঠে বাঙালি। আন্দোলন দমন করতে ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অতর্কিত হামলা চালায় নিরীহ নিরস্ত্র মানুষের ওপর। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে পরিচিত সেই বর্বরোচিত হামলায় একরাতের মধ্যে ছাত্র-শিক্ষক-চিকিৎসক-সাংবাদিক-পুলিশ সদস্য-সহ হাজার হাজার মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করে হানাদর বাহিনী। বাঙালিরা বুঝে নেয়, সশস্ত্র সংগ্রাম ছাড়া মুক্তি মিলবে না। ১০ই এপ্রিল গঠন করা হয় প্রবাসী সরকার। রাষ্ট্রপতি : শেখ মুজিবুর রহমান, উপরাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম [পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন], প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ, মন্ত্রিপরিষদ : এম মনসুর আলী, এ এইচ এম কামারুজ্জামান, খন্দকার মোশতাক আহমেদ। ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলায় প্রবাসী সরকার শপথ গ্রহণ করেন। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।

মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য সারাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়। এছাড়া গঠন করা হয় গেরিলা বাহিনী। পাকিস্তান সামরিক বাহিনীতে নিয়োজিত বাঙালি সৈনিকেরা, পুলিশ বাহিনীর বাঙালি সদস্যরা, দেশের ছাত্র-শিক্ষক, কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী, চাকুরে-বেকার, কামার-কুমোর, জেলে-তাঁতি, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বেতারকর্মীরা প্রতিষ্ঠা করেন ‘স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্র’। এই কেন্দ্র থেকে প্রচারিত দেশাত্মবোধক গান, নাটক, কথিকা, রণাঙ্গনের খবর মুক্তিযোদ্ধাদের মনে সাহস ও অনুপ্রেরণা জোগায়।

অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে মুক্তিবাহিনীর সাঁড়াশি আক্রমণে হানাদার বাহিনী ক্রমান্বয়ে যুদ্ধক্ষেত্রগুলো থেকে পিছু হটে আত্মরক্ষা করার চেষ্টা করতে থাকে। ১৫ই ডিসেম্বর বিজয় আসন্ন জেনে সারাদেশ থেকে বিজয়ী মুক্তিযোদ্ধারা হর্ষধ্বনি দিয়ে ঢাকা শহরে প্রবেশ করতে থাকে। ১৬ই ডিসেম্বর বিকালে পূর্ব-পাকিস্তানের প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্ব-কমান্ডের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজী ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে [বর্তমানের সোহরাওয়ার্দী উদ্যান] আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন। প্রায় ৯৩,০০০ যুদ্ধবন্দি যৌথবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে।

১৬ই ডিসেম্বর বিকালে পাকবাহিনীর আত্মসমর্পণের কথা স্বাধীনবাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে ঘোষণা করেন প্রবাসী সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম। এর পরপরই অজিত রায়ের নেতৃত্বে সমবেত কণ্ঠে রেডিওতে বেজে ওঠে একটি গানÑ ‘বিজয় নিশান উড়ছে ঐ/ খুশির হাওয়ায় উড়ছে/ বাংলার ঘরে ঘরে/ মুক্তির আলো ঐ ঝরছে।’

যাঁরা মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলেন তারা সবাই ফেরেননি, কেউ কেউ ফিরেছেন। ডিসেম্বর মাস তাই একদিকে যেমন স্বজন হারানোর দুঃখ শোকের স্মৃতি বহন করে, অন্যদিকে তেমনি বয়ে আনে বিজয়ের আনন্দ।

মানুষ পাতাল খোঁড়ে। খুঁড়তে খুঁড়তে সে পেয়ে যায় অমূল্যের সন্ধানÑ যুদ্ধযাত্রার ভেতর থেকে তুলে আনে সন্ধি ও শান্তিÑ তুলে আনে বিজয়Ñ তুলে আনে স্বাধীনতাÑ তুলে আনে একটি পতাকা একটি ভূখ- একটি মানচিত্র। তুলে আনে অমিতদীপিত ভোর। ১৯৭১-এর দারুণ দিনে যাঁরা ভোর এনেছিল তাঁরা সবাই বাংলা মায়ের সূর্য-সন্তান। বাংলার বীরসন্তানদের মাঝে সাাতজনকে বাংলাদেশ সরকার ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তাঁরা হলেন : মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর, হামিদুর রহমান, মোস্তফা কামাল, মোহাম্মদ রুহুল আমিন, মতিউর রহমান, মুন্সি আবদুর রউফ, নূর মোহাম্মদ শেখ।


বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর


“তোমাদের হাড়গুলো জোসনারাতে উড়ে যাওয়া সবুজ কবুতর

সুদূর ঝরনার জলে স্বপ্ন-ছাওয়া ঘাসের সবুজ

তোমাদের হাড়গুলো বাংলার হিৎপি-ে অবিনাশী ঝড় ;

বাঙালির জন্মতিথি, রক্তে লেখা ষোলই ডিসেম্বর।”


বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অদম্য সাহসিকতা আর অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয় ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর তাঁদের অন্যতম। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের কমিশন্ড অফিসার ছিলেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনী যখন পূর্ব-পাকিস্তানে গণহত্যা চালাচ্ছিল তখন তিনি কারাকোরামে কর্মরত। গণহত্যার সংবাদ পেয়ে ৩রা জুলাই আরো তিনজন বাঙালি অফিসার ক্যাপ্টেন সালাহউদ্দিন, ক্যাপ্টেন শাহরিয়ার ও ক্যাপ্টেন আনামের সাথে শিয়ালকোটের নিকটবর্তী সীমান্ত পেরিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন।

মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরকে ৭নং সেক্টরের মেহেদিপুর সাবসেক্টরের কমান্ডার নিয়োগ করা হয়। তিনি পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে কানসাট, আরগরার হাট ও শাহপুর-সহ কয়েকটি সফল অভিযানে অসাধারণ নৈপুণ্য ও সাহসিকতার পরিচয় দেন। ফলে ডিসেম্বর মাসে রাজশাহীর চাঁপাইনববগঞ্জ দখলের জন্য তাঁকে একটি মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতৃত্ব দেওয়া হয়।

পাকবাহিনী ইতোমধ্যেই নবাবগঞ্জ শহর প্রতিরক্ষার জন্য মহানন্দা নদীর তীরে তিন কিলোমিটার এলাকাব্যাপী বাংকার নির্মাণ করে রাখে। ১৩ই ডিসেম্বর ভোরে তিনি এক-প্লাটুন মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে রেহাইচরের মধ্য দিয়ে নৌকাযোগে মহানন্দা নদী পার হন এবং অতর্কিত আক্রমণ চালিয়ে শত্রুর বেশ কয়েকটি বাংকার দখল করে নেন। পাকবাহিনী তখন পিছু হটে নওয়াবগঞ্জ শহরে অবস্থান নেয় এবং একটি দালানের ছাদ থেকে মেশিনগানে অনবরত গুলি চালিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ঠেকিয়ে রাখে। এই সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে মহিউদ্দিন শত্রুর মেশিনগান ধ্বংস করার পরিকল্পনা করেন। ১৪ই ডিসেম্বর সকালে তিনি বাম হাতে এসএমজি এবং ডান হাতে একটি গ্রেনেড নিয়ে গোপনে ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে পড়েন। হামাগুড়ি দিয়ে রাস্তা পার হয়ে তিনি দ্রুত ঔ বাড়িটির দিকে এগিয়ে যান। ত্বরিত গতিতে তিনি মেশিনগান বরাবর গ্রেনেড নিক্ষেপ করেন। বিস্ফোরিত গ্রেনেডের আঘাতে মেশিনগানের স্থলটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়। অকস্মাৎ রাস্তার পাশের একটি দোতলা বাড়ি থেকে শত্রুর একটি গুলি তাঁর কপালে বিদ্ধ হয়, এবং সঙ্গে সঙ্গে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। পরদিন সহযোদ্ধারা লাশ উদ্ধার করে তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী সোনামসজিদ চত্বরে তাকে সমাহিত করে।

বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ১৯৪৯ সালের ৭ই মার্চ বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রহিমগঞ্জ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা আবদুল মোতালেব ছিলেন কৃষক ও সৌখিন গাইয়ে। মা সাফিয়া বেগম ছিলেন গৃহিণী। মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে মুলাদি মাহমুদজান পাইলট হাই স্কুল থেকে এসএসসি এবং ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পাশ করেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে বিএসসি অনার্স ক্লাসে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দে পঞ্চদশ শর্ট সার্ভিস কোর্সে প্রশিক্ষণার্থী অফিসার ক্যাডেট নির্বাচিত হন এবং কাকুলে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন। মুক্তিযুদ্ধে ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করে। হ


বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান


“মায়ের অশ্রু বোনের মমতা দিয়ে

তোমাদের নাম লিখে রাখে এই ভূমি

ভাই লিখে রাখে পতাকায় স্বাধীনতা

মুক্ত স্বদেশে অমর কবিতা তুমি।”


বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অদম্য সাহসিকতা আর অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয় সিপাহী হামিদুর রহমান তাঁদের অন্যতম।

হামিদুর রহমান ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২রা ফেব্রুয়ারি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন। যোগদানের পরপরই তাঁকে প্রশিক্ষণের জন্য চট্টগ্রাম সেনানিবাস কেন্দ্রে পাঠানো হয়। ২৫শে মার্চ রাতে পাকবাহিনীর আক্রমণের মুখে তিনি সেনানিবাস ত্যাগ করে ঝিনাইদহে গ্রামের বাড়িতে চলে যান। পরে তিনি বর্তমান মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ থানার দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে ধলই নামক স্থানে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবর মাসে হামিদুর রহমান ১ম ইস্ট বেঙ্গলের সি কোম্পানির হয়ে ধলই সীমান্তের ফাঁড়ি দখল করার অভিযানে অংশ নেন। ভোর চারটায় মুক্তিবাহিনী লক্ষ্যস্থলের কাছে পৌঁছে অবস্থান নেয়। সামনে দুই প্লাটুন এবং পেছনে এক-প্লাটুন সৈন্য অবস্থান নিয়ে অগ্রসর হতে থাকে শত্রুর অভিমুখে। শত্রুর অবস্থানের কাছাকাছি এলে একটি মাইন বিস্ফোরিত হয়। মুক্তিবাহিনী সীমান্ত ফাঁড়ির খুব কাছে পৌঁছে গেলেও ফাঁড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্ত হতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মেশিনগানের গুলিবর্ষণের জন্য আর অগ্রসর হতে পারছিল না। ২৮-এ অক্টোবর ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও পাকিস্তান বাহিনীর ৩০এ ফ্রন্টিয়ার রেজিমেন্টের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বাধে। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ১২৫ জন মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধে অংশ নেন। মুক্তিবাহিনী পাকিস্তান বাহিনীর মেশিনগান পোস্টে গ্রেনেড হামলার সিদ্ধান্ত নেয়। গ্রেনেড ছোড়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় হামিদুর রহমানকে। তিনি পাহাড়ি খালের মধ্য দিয়ে বুকে হেঁটে গ্রেনেড নিয়ে আক্রমণ শুরু করেন। দুটি গ্রেনেড সফলভাবে মেশিনগান পোস্টে আঘাত হানে, কিন্তু তার পরপরই হামিদুর রহমান গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধ অবস্থাতেই তিনি মেশিনগান পোস্টে গিয়ে সেখানকার দুই জন পাকিস্তানি সৈন্যের সাথে হাতাহাতি যুদ্ধ শুরু করেন। এভাবে আক্রমণের মাধ্যমে হামিদুর রহমান একসময় মেশিনগান পোস্টটিকে অকার্যকর করে দিতে সক্ষম হন।

এই সুযোগে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মুক্তিযোদ্ধারা বিপুল উদ্যমে এগিয়ে চলেন, এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে পরাস্ত করে সীমানা ফাঁড়িটি দখলে নেন। ফাঁড়ি দখলের পরে মুক্তিযোদ্ধারা শহিদ হামিদুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার ক’রে সীমান্তের অদূরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের হাতিমের ছড়া গ্রামে দাফন করে। ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দের ১০ই ডিসেম্বর হামিদুর রহমানের দেহাবশেষ ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয় এবং ১১ই ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ১৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার খোর্দ্দ খালিশপুর গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে জম্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম আক্কাস আলী এবং মায়ের নাম কায়দুন্নেছা। অতি শৈশব থেকেই বাস্তবতার সঙ্গে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম ক’রে তাঁকে টিকে থাকতে হয়। জীবনসংগ্রামে টিকে থাকতেই তিনি ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীতে যোগ দেন। ২৫শে মার্চে পাকিস্থানি সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর অতর্কিত হামলা চালালে দেশপ্রেমিক হামিদুর রহমান দেশ মাতৃকার স্বাধীনতার স্বপ্ন বুকে নিয়ে যোগ দেন মুক্তিবাহিনীতে। মুক্তিযুদ্ধে সিপাহী হামিদুর রহমানের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করে।


বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল


“তোমাদের আমি অমর কবিতা বলি

তোমাদের বলি বহমান জনধারা

নদী সমভূমি সবুজ প্রকৃতি বলি

পতাকার নিচে তোমরাই গ্রহ-তারা।”


বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অদম্য সাহসিকতা আর অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয় তাঁদের মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল অন্যতম।

বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ সিপাহী মোস্তফা কামাল ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত ছিরেন। মোস্তফা কামাল ২৭-এ মার্চ বিদ্রোহ করে যুদ্ধে যোগ দেন। মেজর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে তাঁর দল প্রতিরোধ রচনা ক’রে আখাউড়ায় গঙ্গাসাগর ও তালশহর এলাকায় প্রতিরক্ষা অবস্থান নেন। তাঁরা অবস্থান নেন দরুইন গ্রামে। তাঁদের প্রতিরক্ষা ছিল একটি পুকুরের পাড়ে। কামালের অবস্থান ছিল সর্বডানে। তাঁর কাছে ছিল এলএমজি।

১৭ই এপ্রিল সকাল থেকে মুষলধারার বৃষ্টির মধ্যে পাকিস্তানি বাহিনী প্রতিরক্ষাস্থল টার্গেট ক’রে তীব্র গোলাবর্ষণ শুরু করে। সারাদিন ধরে যুদ্ধ চলে। ১৮ই এপ্রিল সকালে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ ও বর্ষণমুখর পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে পাকবাহিনী দরুইন গ্রামের কাছে পৌঁছে যায়। দুপুর ১২টায় হানাদার বাহিনীর একটি দল পেছন দিক থেকে মুক্তিবাহিনীকে ঘিরে ফেলে। মুক্তিবাহিনী দরুইন গ্রাম থেকে আখাউড়া রেল স্টেশনের দিকে পিছু হটার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু নিরাপদে সেখান থেকে সরে আসতে হলে তাদের প্রয়োজন ছিল নিরবচ্ছিন্ন কাভারিং ফায়ার। মোন্তফা কামাল স্বেচ্ছায় ঝুঁকিপূর্ণ এ কাজের দায়িত্ব নেন এবং সহযোদ্ধাদের সবাইকে পেছনের দিকে যেতে নির্দেশ দেন। তাঁর নিরবচ্ছিন্ন গুলিবর্ষণে পাকিস্তানি সেনাদের প্রায় ২০-২৫ জন হতাহত হয় এবং তাদের অগ্রগতি মন্থর হয়ে পড়ে। এই সুযোগে মুক্তিবাহিনী নিরাপদ স্থানে চলে যেতে পারে। হানাদার বাহিনী মরিয়া হয়ে মোস্তফা কামালের অবস্থানের ওপর মেশিনগান এবং মর্টারের গোলাবর্ষণ করতে থাকে। একপর্যায়ে মোস্তফা কামালের এলএমজি-র গুলি নিঃশেষ হয়ে যায় এবং তিনি মারাত্মক জখম হন। তখন পাকিস্তানি সৈনিকেরা ট্রেঞ্চে এসে তাঁকে বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে। পরে স্থানীয় গ্রামবাসী তাঁর দেহ সেখানেই সমাহিত করেন।

বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল ১৯৪৭ সালে ১৬ই ডিসেম্বর ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার পশ্চিম হাজিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মোহাম্মদ হাফিজ ছিলেন সেনাবাহিনীর হাবিলদার। মোস্তফা কামাল ১৯৬৭ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাড়ি থেকে পালিয়ে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয় চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, কুমিল্লায়। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েকদিন পূর্বে সিপাহি মোস্তফা কামাল অবৈতনিক ল্যান্স নায়েক হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। হ


বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন


“একটি পতাকা আনতে

পদ্মা-মেঘনা-যমুনায়, ব্রহ্মপুত্রে-শীতলক্ষ্যায়-বুড়িগঙ্গায়,

কপোতাক্ষে-কুশিয়ারায়-করতোয়ায়

বয়ে গেল অন্তহীন রক্তের প্রপাত।”


স্বাধীনতার জন্য বাঙালি জাতি লড়াই করেছে দুশো বছর। বনে-বাদাড়ে, ঝোঁপে-জঙ্গলে, জলে-ডাঙায়, বিনিদ্র-রাতে, অর্ধহার-অনাহারে, মাড়ি ও মড়ক উপেক্ষা করে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি নয় মাস, আত্মাহুতি দিয়েছে, বুকের তাজা রক্তে সিক্ত করেছে মায়ের আঁচল।

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অদম্য সাহসিকতা আর অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয় তাঁদের মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন অন্যতম।

পাকিস্তান নৌবাহিনীর আর্টিফিশার বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল অমিন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করার জন্য ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের এপ্রিল মাসে ত্রিপুরা সীমান্ত অতিক্রম করেন এবং ২নং সেক্টরে যোগদান করেন। সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত তিনি বহু সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন। সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী গঠন করা হলে রুহুল আমিন সেখানে অন্তর্ভুক্ত হন। সরকার বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর দু’টি টাগবোটে বাফার গান ও মাইন পড লাগিয়ে গানবোটে রূপান্তরিত করে। গানবোট দু’টির নামকরণ করা হয় ‘পদ্মা’ ও ‘পলাশ’। রুহুল আমিনকে ‘পলাশে’র ইঞ্জিন রুম আর্টিফিশারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ৬ই ডিসেম্বর মংলা বন্দরে পাকিস্তানি নৌ ঘাটি পিএনএস তিতুমীর দখলের উদ্দেশ্যে আরও দুটি গানবোট-সহ ‘পদ্মা’ ও ‘পলাশ’ যাত্রা করে। ৯ই ডিসেম্বর কোনো বাধা ছাড়াই তারা হিরণ পয়েন্টে প্রবেশ করেন। পরদিন ১০ই ডিসেম্বর সকাল ৭টায় কোনো বাধা ছাড়াই তারা মংলায় পৌঁছান। দুপুর ১২টায় তারা খুলনা শিপইয়ার্ডের কাছাকাছি পৌঁছান। এমন সময় তাদের অনেক উপরে তিনটি জঙ্গি বিমান দেখা যায়। পদ্মা-পলাশ থেকে বিমান লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করার অনুমতি চাইলে বহরের কমান্ডার বিমানগুলো ভারতীয় বলে জানান। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে বিমানগুলো পদ্মা ও পলাশের ওপর গুলি এবং বোমাবর্ষণ শুরু করে। পলাশের কমান্ডার সবাইকে গানবোট ত্যাগ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু রুহুল আমিন পলাশেই অবস্থান নেন এবং আপ্রাণ চেষ্টা চালান গানবোটটিকে সচল রাখতে। হঠাৎ একটি গোলা পলাশের ইঞ্জিন রুমে আঘাত করে এবং তা ধ্বংস হয়ে যায়। শেষ মুহূর্র্তে রুহুল আমিন রূপসা নদীতে লাফিয়ে পড়েন এবং আহত অবস্থায় কোনোক্রমে পাড়ে ওঠেন। দুর্ভাগ্যক্রমে পাড়ে অবস্থান নেওয়া পাকিস্তানি সেনারা তাঁকে নির্মমভাবে অত্যাচার ক’রে হত্যা করে। পরে তার দেহ আর উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দের জুন মাসের কোনো এক বর্ষণমুখর রাতে নোয়াখালি জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলার বাঘপাঁচড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মোহাম্মদ আজহার পাটোয়ারি এবং মা জোলেখা খাতুন। বাঘপাঁচড়া প্রাইমারি স্কুলের লেখাপড়া শেষ করে তিনি আমিষা পাড়া হাই স্কুলে ভর্তি হন। হাই স্কুল পাশ করে রুহুল আমিন ১৯৫৩ সালে নৌবাহিনীতে জুনিয়ার মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন। পেশাগত প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর তাঁকে ইঞ্জিন রুম আর্টিফিশার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে তিনি চট্টগ্রামে পিএনএস বখতিয়ার নৌ-ঘাটিতে নিয়োগ পান। ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি পালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। হ


বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান


“চিরকাল শোনো, চিরদিন এই দেশ

তোমাদের নামে হবে অবনত শির

লতা তৃণদল এই মাটি ধুলিকণা

তোমাদের নামে শ^াস নেবে মুক্তির।”


বিজয় দেখেছে বিজয়ের বোন, বিজয়ের ভাইÑ সবাই। একহাতে লাল-সবুজের পতাকা অন্য হাতে ঘুড়ির নাটাই। ছুটছে ছেলেটাÑ আজ পাঠশালা নাইÑ আজ আছে গানÑ বিজয়ের গানÑ ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’।

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অদম্য সাহসিকতা আর অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয় তাঁদের মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান অন্যতম।

পাকিস্তান বিমানবাহিনীর ফ্লাইট লেফট্যানেন্ট মতিউর রহমান ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে বাৎসরিক ছুটিতে সপরিবারে ঢাকায় আসেন। এসময় তিনি প্রত্যক্ষভাবে স্বাধিকার আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। ১লা মার্চ কর্মস্থলে ফিরে যাবার কথা থাকলেও তিনি ফিরে যাননি। ২৫শে মার্চ তিনি গ্রামের বাড়ি নরসিংদীতে চলে যান এবং সেখানকার স্বাধীনতাকামী জনতার প্রশিক্ষণের বন্দোবস্ত করেন। ৪ঠা এপ্রিল পাকিস্তান বিমান বাহিনী নরসিংদীর ওপর বিমান হামলা চালালে তিনি ভৈরব হয়ে নানার বাড়ি গোকুল নগরে চলে যান। পাকিস্তান থেকে বিমান সংগ্রহ করবেন এই আশায় ৯ই মে তিনি সপরিবারে কর্মস্থলে ফিরে যান। কর্তৃপক্ষের কাছে দেরিতে যোগদানের কারণ দর্শানোর পর তাকে ফ্লাইং সেফটি অফিসারের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। নিয়মিত কাজের আড়ালে তিনি একটি বিমান ছিনতাই করে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের পরিকল্পনা করতে থাকেন। এনিয়ে তিনি কয়েকজন দেশপ্রেমিক বাঙালি অফিসারের সাথে আলোচনা করেন। পরিকল্পনা মোতাবেক ২০শে আগস্ট সকাল ১১.১৫ মিনিটে পাঞ্জাবি পাইলট অফিসার রাশেদ মিনহাজসহ টি-৩৩ প্রশিক্ষণ বিমান [কল সাইন ব্লু বার্ড-১৬৬] ছিনতাই করে ভারত অভিমুখে উড্ডয়ন করেন। অপর পাইলটের সাথে কন্ট্রোল নিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সিন্ধুর বেদিনে বিমানটি বিধ্বস্ত হলে উভয়েই শাহাদৎ বরণ করেন। পরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যরা তার লাশ উদ্ধার করে মশরুর বিমান ঘাটির চতুর্থ শ্রেণির কবরস্থানে অত্যন্ত অমর্যাদার সঙ্গে দাফন করে। স্বাধীনতার ৩৫ বছর পর ২০০৬ খ্রিস্টাব্দের ২৪-এ জুন মতিউর রহমানের দেহাবশেষ পাকিস্তান থেকে দেশে এনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে পুনঃসমাহিত করা হয়।

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দের ২৯শে অক্টোবর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মৌলবি আব্দুস সামাদ ছিলেন সরকারি চাকুরে এবং মা মোবারকুন্নেসা ছিলেন গৃহিণী। নয় ভাই ও দুই বোনের মধ্যে মতিউর ছিলেন অষ্টম। তিনি ১৯৬০ সালে সারগোদায় পাকিস্তান বিমান বাহিনী পাবলিক স্কুল থেকে প্রথম বিভাগে মেট্রিক পাশ করেন। ১৯৬১ সালের ১৫ই আগস্ট ৩৬তম জিডি [পি] কোর্সে ফ্লাইট ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করেন পাকিস্তান বিমান বাহিনী একাডেমি, রিসালপুরে। ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দের ২৩শে জুন তিনি ফ্লাইট ব্রাঞ্চে কমিশন লাভ করেন। চাকরি জীবনে তিনি এফ-৮৬ জঙ্গী বিমানের পাইলট হিসেবে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিমান বাহিনী একাডেমি, রিসালপুরে এবং ২ নং স্কোয়াড্রনে। এছাড়া তিনি কিছুকাল আন্তঃবাহিনী গোয়েন্দা সদর দপ্তর, ইসলামাবাদেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৮ সালের ১৯শে এপ্রিল তিনি মিলি খানের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি মাহিন ও তুহিন নামে তার দু’জন কন্যাসন্তানের জনক।


বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আবদুর রউফ


“রক্তদামে কেনা এদেশ নয় করুণার দান

বাংলাদেশের স্বাধীনতা বীরের অবদান।

লড়াই যখন শুরু হলো এলো মুক্তিসেনা

শোধ হবে না তাদের কাছে তোমার আমার দেনা।”


১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে মার্চের আগে মুন্সী আবদুর রউফ পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে চট্টগ্রামে ১১ উইং-এ দায়িত্বরত ছিলেন। তিনি ছিলেন মাঝারি মেশিনগান ডিপার্টমেন্টের ১নং মেশিনগান চালক। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সঙ্গে যুক্ত হন। তখন যুদ্ধ একেবারে শুরুর দিকে। পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি-মহালছড়ির নির্জন জলপথ দিয়ে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর চলাচলে প্রতিরোধের দায়িত্ব পড়ে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ওপর। কোম্পানিটি বুড়িঘাট এলাকার চিংড়িখালের দুই পাড়ে অবস্থান নিয়ে গড়ে তোলে প্রতিরক্ষা ঘাঁটি। ল্যান্স নায়েক মুন্সী আবদুর রউফ ছিলেন সেই কোম্পানিরই একজন মুক্তিযোদ্ধা।

৮ই এপ্রিল ১৯৭১ গনগনে মধ্যদুপুরের এক বিশেষ মুহূর্ত। সূর্য মাথার উপর থেকে পশ্চিম দিকে হেলে পড়ার আয়োজনে ব্যস্ত। নীরব-নির্জন হ্রদের বুক চিরে শান্ত পানিতে অস্থির ঢেউ তুলে এগিয়ে আসতে থাকে সাতটি স্পিডবোট এবং দুটো লঞ্চ। এগুলোর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দুই কোম্পানি সৈন্য। তাদের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় এবং ভারী অস্ত্রশস্ত্র। এটি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় কমান্ডো ব্যাটেলিয়নের কোম্পানি। লক্ষ্য বুড়িঘাটের মুক্তিবাহিনীর নতুন প্রতিরক্ষা ঘাঁটি। লক্ষ্যের দিকে তীব্রগতিতে ছুটে আসছে দুটি স্পিড বোট এবং দুটি লঞ্চ। এগুলোতে রয়েছে ছয়টি তিন ইঞ্চি মর্টার আর অনেক মেশিনগান ও অনেক রাইফেল। অন্যদিকে এই জলপথ পাহারা দিচ্ছে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের যে কোম্পানিটি, সেই কোম্পানিটি মাত্র কয়েকদিন আগে পাকিস্তান বাহিনী ত্যাগ করে আসে।

মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরক্ষা ঘাঁটির কাছাকাছি পৌঁছেই পাকিস্তান বাহিনী শুরু করে আক্রমণ। স্পিড বোট থেকে তারা ক্রমাগত মেশিনগানের গুলি চালাতে থাকে আর লঞ্চ দুটো থেকে ছুটে আসছে অবিরাম তিন ইঞ্চি মর্টারের শেল। মুক্তিযোদ্ধাদের দিকে ঝাঁকে ঝাঁকে আসতে থাকে গুলির পর গুলি। পাকিস্তানি বাহিনীর একটাই উদ্দেশ্য, রাঙামাটি-মহালছড়ির জলপথ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের পিছু হটিয়ে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করা। আক্রমণের আশঙ্কায় মুক্তিযোদ্ধারা খুব দ্রুতই পজিশন নিয়ে নেয় পরিখায়। কিন্তু শত্রুপক্ষের গোলাগুলির তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, ভেঙে পড়তে থাকে প্রতিরোধ ব্যবস্থা। শত্রু পক্ষের মর্টার চিহ্নিত করে ফেলে মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান। তারা ক্রমাগত গুলি বর্ষণ করতে থাকে। প্রতিরক্ষা ঘাঁটির কমান্ডার মুন্সি আবদুর রউফ দেখেন যে, এভাবে কিছুক্ষণ চলতে থাকলে ঘাঁটির সকলেই মারা পড়বেন। তিনি তখন কৌশলগত কারণেই পশ্চাদপসারণের সিদ্ধান্ত নেন। তার সৈন্যরা পিছু হটতে থাকে। এরই মাঝে শত্রুপক্ষ এগিয়ে এসেছে খুব কাছে আর এভাবে সকলে একযোগে পিছু হটতে চাইলে একযোগে মারা পড়বে। কাভার দেওয়ার জন্যে কাউকে না কাউকে পেছনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। কাভার দেওয়ার জন্য নিজ পরিখায় দাঁড়িয়ে যান মুন্সি আবদুর রউফ। পাকিস্তান রাইফেলসের কাজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অসম সাহসের সঙ্গে ইস্পাতদৃঢ়চিত্তে হাতের মেশিনগান থেকে অনবরত গুলি করতে থাকেন পাকিস্তানি স্পিড বোটগুলোকে লক্ষ্য করে। তার মেশিনগানের অবিরাম গুলি বর্ষণে থমকে যায় শত্রুপক্ষ। তারা বুঝে ওঠার আগেই রউফের গুলি খেয়ে একের পর এক পাকসেনা লুটিয়ে পড়তে থাকে। একটি একটি করে সাতটি স্পিড বোটই ডুবে যায়। শত্রুসেনারা তাদের দুটি লঞ্চ নিয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়। পিছু হটতে হটতে দুটো লঞ্চই চলে যায় রউফের মেশিনগানের গুলির আওতার বাইরে নিরাপদ দূরত্বে।

এ পর্যায়ে হানাদার বাহিনী তাদের লঞ্চ থেকে শুরু করে মর্টারের গোলা বর্ষণ। একের পর এক ক্রমাগত মর্টারের গোলার বিপরীতে যুদ্ধ করা রউফের একার পক্ষে সম্ভব ছিল না। পাকিদের মর্টারের গোলা হঠাৎ এসে পড়ে তার বাঙ্কারে। ঝাঁঝরা হয়ে যায় রউফের সমস্ত শরীর। চিরদিনের জন্য থেমে যায় অকুতোভয় এক বীরের জীবন। তবে, ততক্ষণে তার সহযোগী যোদ্ধারা সবাই পৌঁছে যায় নিরাপদ দূরত্বে।

মুন্সী আবদুর রউফকে সমাহিত করা হয় রাঙামাটি শহরের রিজার্ভ বাজারে কেন্দ্রীয় শহিদমিনারের পাশে। ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দে রাঙামাটিবাসী প্রথম জানতে পারে, এ চিরসবুজ পাহাড়ের মাঝেই ঘুমিয়ে আছেন বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আবদুর রউফ।

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ ১৯৪৩ খ্রিষ্টব্দের ৮ই মে ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী থানার সালামতপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মুন্সী মেহেদী হাসান ছিলেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম। মা মকিদুন্নেসা। শৈশবেই বাবা মারা গেলে আবদুর রউফ সংসারের হাল ধরেন। তিনি ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দের ৮ই মে পূর্ব-পাকিস্তানের রাইফেল্ যোগ দেন। প্রশিক্ষণ শেষে নিয়োগ পান পূর্ব-পাকিস্তানের সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে। হ


বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ


“সোনা মানিক ভাইরা আমার সেই কবে কোন সনে

দানোর সাথে করতে লড়াই গিয়েছিলেন রণে।

রণের শেষে মায়ের কোলে আর ফেরে নি তারা

সেই দুখে মার দু’চোখ গেল অশ্রু বাঁধনহারা।”


বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অদম্য সাহসিকতা আর অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয় ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ তাঁদের অন্যতম।

নূর মোহাম্মদ শেখ ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে ইপিআর-এর ল্যান্স নায়েক হিসেবে যশোরে কর্মরত ছিলেন। তরুণ নূর মোহাম্মদ শেখ ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই মার্চ পূর্ব-পাকিস্তান রাইফেলস বা ইপিআর-এ যোগদান করেন। দীর্ঘদিন দিনাজপুর সীমান্তে চাকরি করে ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের ১০ই জুলাই নূর মোহাম্মদকে দিনাজপুর থেকে যশোর সেক্টরে বদলি হন। এরপর তিনি ল্যান্স নায়েক পদে পদোন্নতি পান। ১৯৭১-এ তিনি যশোর অঞ্চল নিয়ে গঠিত ৮নং সেক্টরে যোগ দেন। যুদ্ধচলাকালীন যশোরের শার্শা থানার কাশিপুর সীমান্তের বয়রা অঞ্চলে ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার নেতৃত্বে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন।

১৯৭১-এর ৫ই সেপ্টেম্বর সুতিপুরে নিজস্ব প্রতিরক্ষা বাহিনীর সামনে যশোর জেলার গোয়ালহাটি গ্রামে নূর মোহাম্মদকে অধিনায়ক করে পাঁচজনের সমন্বয়ে গঠিত একটি স্ট্যান্ডিং পেট্রোল পাঠানো হয়। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে হঠাৎ পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পেট্রোলটি তিন দিক থেকে ঘিরে ফেলে গুলিবর্ষণ শুরু করে। পেছনে মুক্তিযোদ্ধাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা থেকে পাল্টা গুলিবর্ষণ করা হয়। তবুও পেট্রোলটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। একসময় সিপাহী নান্নু মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে নূর মোহাম্মদ নান্নু মিয়াকে কাঁধে তুলে নেন এবং হাতের এলএমজি দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করলে, শত্রুপক্ষ পিছিয়ে যেতে বাধ্য হয়। হঠাৎ করেই শত্রুর মর্টারের একটি গোলা এসে তার ডান কাঁধে বিঁধলে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন।

শত্রুর গোলায় আহত হওয়া নান্নু মিয়াকে বাঁচানোর জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন নূর মোহাম্মদ শেখ। হাতের এলএমজি সিপাহী মোস্তফাকে দিয়ে নান্নু মিয়াকে নিয়ে যেতে বললেন এবং মোস্তফার রাইফেল চেয়ে নেন। যতক্ষণ পর্যন্ত না ওরা নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে সক্ষম হন, ততক্ষণ পর্যন্ত রাইফেল চালিয়ে শত্রুসৈন্যকে ঠেকিয়ে রাখবেন এবং শত্রুর মনোযোগ তার দিকেই কেন্দ্রীভূত করে রাখবেন এই আশায়। অন্য সঙ্গীরা অনুরোধ করেন, তাদের সঙ্গে যাওয়ার জন্যে। কিন্তু তাকে বহন করে নিয়ে যেতে গেলে সবাই মারা পড়বে এই আশঙ্কায় তিনি রণক্ষেত্র ত্যাগ করতে রাজি হন না। বাকিদের আদেশ দেন তাকে রেখে চলে যেতে। শেষ পর্যন্ত তার আদেশ অনুসরণ করে তাকে রেখেই নিরাপদে সরে পড়েন সবাই। রক্তাক্ত নূর মোহাম্মদ সমানে শত্রুপক্ষকে লক্ষ্য করে অবিরাম গুলি ছুড়তে থাকেন। একদিকে পাকিস্তানি সশস্ত্রবাহিনী, সঙ্গে অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রশস্ত্র, অন্যদিকে মাত্র অর্ধমৃত সৈনিক [ইপিআর] যার সম্বল একটি রাইফেল ও সীমিতসংখক গুলি।

এই অসম অবিশ্বাস্য যুদ্ধে নূর মোহাম্মদ শত্রুপক্ষের এমন ক্ষতিসাধন করেন যে, তারা এই মৃত্যুপথযাত্রী বীর যোদ্ধাকে বেয়োনেট চার্জ করে চোখ দুটো উপড়ে ফেলে ও মস্তক বিদীর্ণ হয়ে ঘিলু ছড়িয়ে পড়ে। পরে প্রতিরক্ষার সৈনিকেরা এসে পাশের একটি ঝাড় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। এই বীর সৈনিককে পরে যশোরের শার্শা থানার গোড়পাড়া থেকে নয় কিলোমিটার দূরে কাশিপুর গ্রামে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের কাছেই সমাহিত করা হয়।

নূর মোহাম্মদ শেখ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী একজন শহিদ মুক্তিযোদ্ধা। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে চরম সাহসিকতা আর অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয় তিনি তাদের অন্যতম।

নূর মোহাম্মদ শেখ ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৬শে ফেব্রুয়ারি নড়াইল জেলার মহিষখোলা গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে নূর মোহাম্মদ শেখ জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মোহাম্মদ আমানত শেখ ও মাতা জেন্নাতুন্নেসা। অল্প বয়সে বাবা-মাকে হারিয়ে শৈশবেই ডানপিটে হয়ে ওঠেন। স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লেখাপড়া শেষ করে উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সপ্তম শ্রেণির পর আর পড়াশোনা এগোয়নি।

কৈশোরে তিনি নাটক থিয়েটার খুব পছন্দ করতেন। ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে নিজ গ্রামেরই এক কৃষক ঘরের মেয়ে বেগম ফজিলাতুন্নেছাকে বিয়ে করেন। তখন তার বয়স মাত্র ১৬ বছর আর স্ত্রীর বয়স মাত্র ১২ বছর। তিনি দুই সন্তানের বাবা ছিলেন। ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের শেষের দিকে তার প্রথম সন্তান হাসিনা খাতুন ও ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ই নভেম্বর দ্বিতীয় সন্তান শেখ মো. গোলাম মোস্তফা জন্মগ্রহণ করেন।

লেখা : শ্যামল কায়া, শেখ সেলিম, শহিদুল ইসলাম এমেল, ফাতেমা ইয়াসমিন