আজ জাতির পিতার দেশে ফেরার দিন -ডা. আওরঙ্গজেব আরু

10 Jan 2023, 12:17 PM নিবন্ধ শেয়ার:
আজ জাতির পিতার দেশে ফেরার দিন -ডা. আওরঙ্গজেব আরু


আজ ঐতিহাসিক ১০ই জানুয়ারি। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের এই দিনে বঙ্গবন্ধু স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন। পূর্ণতা পায় বাঙালির বিজয়। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৬-এ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুকে তার ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর সড়কের ৬৭৭ নম্বর বাড়ি থেকে পাকিস্তানি সেনারা আটক করে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যায়। ওই রাতেই বাংলাদেশের নিরস্ত্র মানুষের উপর শুরু হয় হানাদার বাহিনীর বর্বর হামলা। পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার আগে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন বঙ্গবন্ধু। ওয়্যারলেসের মাধ্যমে সেই ঘোষণা ছড়িয়ে দেওয়া হয় দেশব্যাপী। বাঙালি ঝাঁপিয়ে পড়ে মুক্তি সংগ্রামে। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্যদিয়ে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। যুদ্ধে বিজয় অর্জন করলেও বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগারে বিন্দি থাকায় মানুষ উদ্বেগাকুল চিত্তে বঙ্গবন্ধুর মুক্তির প্রতীক্ষায় থাকে। সমগ্র বাঙালি জাতির প্রশ্ন ছিলো বঙ্গবন্ধু কেমন আছেনকবে মুক্তি পাবেনকবে দেশে ফিরবেন। নয় মাসব্যাপী চলতে থাকা যুদ্ধের ভয়াবহতাগণহত্যা  বিভীষিকার মাঝে শেখ মুজিবই ছিলেন মুক্তিকামী জনতার শক্তি  প্রেরণার উৎসমুক্তি আকাঙ্ক্ষার মূর্ত প্রতীক



পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারের পর থেকে কীভাবে কাটে বঙ্গবন্ধুর দিনবিভিন্ন পত্র-পত্রিকা এবং ইতিহাসবিদদের লেখা থেকে জানা যায়১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১লা এপ্রিল শেখ মুজিবুর রহমানকে বিমানে করে নিয়ে যাওয়া হয় পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে। তারপর তাঁকে সরিয়ে আনা হয় মিয়ানওয়ালির কারাগারে। থাকতে দেওয়া হয় ফাঁসির আসামিদের জন্য নির্ধারিত সেলে। মুক্তি পাওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁকে সেখানে  পাঞ্জাবের উত্তরে লায়ালপুর  শাহিওয়ালের দুটি কারাগারে কাটাতে হয়। এই সময় পাকিস্তান সামরিক সরকার তাঁর বিরুদ্ধে ১২টি অভিযোগ এনে ‘বিচার’ শুরু করে। ১২টি অভিযোগের ছয়টির রায় ছিল মৃত্যুদণ্ড অভিযোগগুলোর অন্যতম একটি ছিল ‘পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা টাইমসে লেখা হয়এই বিচার শেষ হয় চার ডিসেম্বর। “ইয়াহিয়া তার সেনা কর্তাদের রাওয়ালপিন্ডি ডেকে পাঠিয়ে গুলি করে শেখ মুজিবকে হত্যার দ্রুত প্রস্তুতির নির্দেশ দিলেন কিন্তু যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ায় তাঁকে ব্যস্ত হয়ে পড়তে হলো।” ৭ই ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধুকে মিয়ানওয়ালিতে ফিরিয়ে আনা হয়। ১৫ই ডিসেম্বরঢাকায় পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের একদিন আগেবঙ্গবন্ধুকে হত্যার জন্য ইয়াহিয়ার যে পরিকল্পনা ছিল তা বাস্তবায়নের চূড়ান্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৫ই ডিসেম্বর জেলখানার দায়িত্বরতদের জানানো হয়নিয়াজিকে পূর্ব-পাকিস্তানে বাঙালিরা হত্যা করেছেতার প্রতিশোধ হিসেবে পরদিন সকালেই মুজিবকে হত্যা করা হবে। সে প্রস্তাবে সবাই এক কথায় রাজি হয়। পরদিন ভোররাত চারটায় বঙ্গবন্ধুকে হত্যার জন্য নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা আগে জেলের সুপার বঙ্গবন্ধুর সেলের দরজা খুলে ঢোকেন। বঙ্গবন্ধু জানতে চান, “আমাকে কি ফাঁসির জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ?” তিনি আগেই দেখেছিলেন তাঁর সেলের বাইরে কবর খোঁড়া হয়েছে। তাঁকে বলা হয়েছিলতাঁর নিরাপত্তার জন্য পরিখা খনন করা হয়েছে। জেল সুপার জানালেনতাঁকে ফাঁসির জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে না। তবু সন্দেহ যায় না বঙ্গবন্ধুর। তাঁর ভাষ্যে, “আমি তাঁকে বললামযদি ফাঁসিই দেওয়া হয়তাহলে আমাকে প্রার্থনার জন্য কয়েক মিনিট সময় দিন।” সুপার বললেন, “না নাএকদম সময় নেই। আপনাকে এখনই আমার সঙ্গে আসতে হবেজলদি।” বঙ্গবন্ধুকে কয়েক মাইল দূরে এক অজ্ঞাত স্থানে কয়েক দিনের জন্য সরিয়ে নেন জেল সুপার। সেখানে নয় দিনের মতো কাটান তিনি। জেলের কর্মকর্তারা জেল সুপারকে বঙ্গবন্ধুর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান। এরপর এক পুলিশ অফিসার সেই সুপারকে জানানবঙ্গবন্ধুকে লুকিয়ে রাখার আর প্রয়োজন নেইজুলফিকার আলি ভুট্টো ১৯-এ ডিসেম্বর পাকিস্তানের শাসনভার গ্রহণ করেছেনতিনি মুজিবের সঙ্গে কথা বলতে চান। এরপর রাওয়ালপিন্ডিতে নিয়ে যাওয়া হয় বঙ্গবন্ধুকে। সেখানে রাষ্ট্রপতি ভবনে তাঁকে গৃহবন্দি করা হয়। ২৪-এ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করেন ভুট্টো 


বঙ্গবন্ধুর উদ্ধৃতি দিয়ে বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকারী নিউইয়র্ক টাইমসের তৎকালীন প্রতিনিধি সিডনি শ্যানবার্গ বলেন, “ভুট্টোর মনে হয়েছিলমুজিবকে হত্যা করা হলে বাংলাদেশে আটকে পড়া প্রায় এক লাখ পাকিস্তানি সেনাদের হত্যা করা হতে পারে।  কাজের জন্য সবাই তাঁকে অর্থাৎ ভুট্টোকেই দায়ী করবে। তাই তাকে হত্যা করা হয়নি। “মুজিব জানালেনভুট্টো তাঁকে পাকিস্তানের দুই প্রদেশের মধ্যে কোনও রকম একটা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য জোরাজুরি করেন। মুজিব বলেন, “আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আমি কি মুক্ত না এখনও বন্দি আমি যদি মুক্ত হই তাহলে আমাকে যেতে দিন। আর যদি বন্দি হই তাহলে কোনও কথা বলতে প্রস্তুত নই” ভুট্টো তাঁকে জানালেন তিনি মুক্ততবে ফেরত পাঠাতে আরও দিন কয়েক লাগবে। একপর্যায়ে ভুট্টো দাবি করেনপাকিস্তানের দুই অংশ তখন পর্যন্ত আইনের চোখে একই রাষ্ট্রের অন্তর্গত। জবাবে বঙ্গবন্ধু তাঁকে মনে করিয়ে দেনবিগত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়েছিলকিন্তু সে ফলাফল মানা হয়নি। ‘পাকিস্তান যদি এখনও অবিভক্ত দেশ হয় তাহলে আপনি দেশের প্রেসিডেন্ট  প্রধান সামরিক শাসক ননআমি।’  ৭ই জানুয়ারি তৃতীয়  শেষবারের মতো বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করেন ভুট্টো। বঙ্গবন্ধু তাঁকে বলেন, “আজ রাতেই আমাকে মুক্তি দিতে হবে নিয়ে অযথা বিলম্বের সময় নেই। হয় আমাকে মুক্তি দিন অথবা মেরে ফেলুন।” ভুট্টো তাঁকে বলেন, “এত দ্রুত সব আয়োজন করা কঠিন। শেষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুকে লন্ডনে পাঠাতে সম্মত হন ভুট্টো।”

বাংলাদেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধুর মুক্তির জন্য পাকিস্তানের সামরিক জান্তাকে চাপ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ৬৭টি দেশের সরকার প্রধানকে চিঠি দেন। ৮ই জানুয়ারি সকাল ৭টায় বিবিসির ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে প্রচারিত খবরে বলা হয়, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান বিমানযোগে লন্ডনে আসছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই উড়োজাহাজটি লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।” বিমান অবতরণের পরপরই ব্রিটিশ বৈদেশিক দপ্তরের কর্মকর্তারা রাষ্ট্রীয় অতিথির মর্যাদা দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে স্বাগত জানান। ব্রিটিশ সরকারের সম্মানিত অতিথি হিসেবে লন্ডনের ক্ল্যারিজেস হোটেলে নিয়ে আসা হয় তাঁকে। বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতির কথা জেনে হাজার হাজার বাঙালি ‘জয় বাঙলাজয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে লন্ডনের আকাশ-বাতাস মুখরিত করে তোলে। দুপুরের দিকে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু বলেন, “একমুহূর্তের জন্য আমি বাংলাদেশের কথা ভুলিনি। আমি ধরে নিয়েছিলাম ওরা আমাকে হত্যা করবে। আমি আপনাদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাবো না। কিন্তু আমার জনগণ মুক্তি অর্জন করবে।” বঙ্গবন্ধু যখন লন্ডনে পৌঁছানব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যাডওয়ার্ড হিথ তখন ছিলেন লন্ডনের বাইরে। বঙ্গবন্ধুর পৌঁছানোর কথা শুনে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করে প্রধানমন্ত্রী হিথ ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে ছুটে আসেন এবং বঙ্গবন্ধুকে নজিরবিহীন সম্মান দেখান। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়ের বাইরে এসে গাড়ির দরজা খুলে ততক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলেনযতক্ষণ না বঙ্গবন্ধু গাড়ি থেকে বেরিয়ে না এলেন। ৮ই জানুয়ারি রাতে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে স্বীকৃতির বিষয়টি উত্থাপন করেন



৯ই জানুয়ারি সকালে লন্ডনে বসেই টেলিফোনে ইন্দিরা গান্ধী ও বঙ্গবন্ধুর মধ্যে আধাঘণ্টা আলোচনা হয়। বঙ্গবন্ধুকে অভিনন্দন জানান ইন্দিরা গান্ধী এবং অনুরোধ করেনঢাকার পথে যেন তিনি দিল্লিতে যাত্রাবিরতি করেন। বঙ্গবন্ধু আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং দিল্লির উদ্দেশে রওনা হন। দিল্লির ‘এক্সপ্রেস’ পত্রিকার বিবরণ অনুযায়ী, “কালো-ধূসর ওভারকোট পরে বঙ্গবন্ধু উড়োজাহাজের সিঁড়ি বেয়ে নামলেন। প্রেসিডেন্ট ভিভিগিরি বঙ্গবন্ধুকে আলিঙ্গন করলেন। পাশে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী স্বাগত জানাচ্ছিলেন। তখন ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে অভিনন্দন জানানো হয়। শুভেচ্ছা পর্ব শেষে বঙ্গবন্ধু তিন বাহিনীর ১৫০ সদস্যের গার্ড অব অনার পরিদর্শন করেন এবং পরে ভিআইপি প্যান্ডেলে যান। সেখানে তাঁকে ফুল ছিটিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। দিল্লিতে স্বল্পকালীন বিরতির সময় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে আলোচনার জন্য দীর্ঘ সময় ছিল না। কিন্তু এর মধ্যেই বঙ্গবন্ধু জানিয়ে দিলেনতিনি আশা করছেন অদূর ভবিষ্যতেই ভারতীয় বাহিনী বাংলাদেশ ত্যাগ করবে। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তার সম্মতি জানিয়ে বললেন, ‘যখনই বলা হবেভারতীয় বাহিনী তখনই ফেরত যাবে।’ তা ঘটেও ছিল ১৭ই মার্চ ১৯৭২ ইন্দিরা গান্ধীর ঢাকা সফরের আগেই। 

১০ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ঢাকা ফিরে আসেন বেলা ১টা ৪১ মিনিটে। বিমানবন্দর  রাস্তার দুপাশে তখন অপেক্ষমান লাখো জনতা। সবার কণ্ঠে ‘জয় বাঙলাজয় বঙ্গবন্ধু।’ যে দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবনবাজি রেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসেই মাটিতে পা দিয়েই আবেগে কেঁদে ফেলেন। বিমানবন্দরে অস্থায়ী সরকারের সদস্যমুক্তিযোদ্ধা সবাই অশ্রুসজল নয়নে বরণ করেন ইতিহাসের মহানায়ককে। তেজগাঁও বিমানবন্দরে বঙ্গবন্ধুকে বহনকারী বিমানটি অবতরণ করার পর খোলা গাড়িতে দাঁড়িয়ে জনসমুদ্রের ভেতর দিয়ে রেসকোর্স ময়দানে এসে পৌঁছাতে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে

স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করে নিজের পরিবারের কাছে না গিয়ে সরাসরি জনগণের কাছে ফিরে এসেছিলেন। লাখো মানুষের সামনে তিনি সেদিন বলেছিলেন, ‘‘আমার বাংলাদেশ আজ স্বাধীন হয়েছে। আমার জীবনের স্বাদ আজ পূর্ণ হয়েছে। আমার বাংলার মানুষ আজ মুক্ত হয়েছে।’’ আবেগঘন ভাষায় বললেন, ‘ফাঁসির মঞ্চে যাবার সময় আমি বলবোআমি বাঙালিবাংলা আমার দেশবাংলা আমার ভাষা।’ বক্তৃতায় তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বললেন, ‘আমি স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই যেবাংলাদেশ একটি আদর্শ অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হবে।আর তার ভিত্তি বিশেষ কোনো ধর্মীয়ভিত্তিক হবে না। রাষ্ট্রের ভিত্তি হবেগণতন্ত্রজাতীয়তাবাদধর্মনিরপেক্ষতা  সমাজতন্ত্র।’ ত্রিশ লাখ মানুষের আত্মদান স্মরণ করে বেদনা-ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বলেন, “আমার বাংলায় আজ বিরাট ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা এসেছে।’’ পরিশেষে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা থেকে উদ্ধৃত করে তাঁকে উদ্দেশ করে বলেন, “ ‘সাত কোটি সন্তানেরে হে মুগ্ধজননীরেখেছো বাঙালি করে মানুষ করোনি। কবিগুরুর কথা মিথ্যা প্রমাণ হয়ে গেছে। আমার বাঙালি আজ মানুষ হয়েছে।” সেদিনকার রেসকোর্স ময়দান ছিল লোকে লোকারণ্য বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে প্রায় ১৭ মিনিট বক্তব্য দেন। যা ছিল জাতির জন্য দিক নির্দেশনা। বাংলাদেশের আদর্শগত ভিত্তি কী হবেরাষ্ট্র কাঠামো কী ধরনের হবেপাকিস্তানী বাহিনীর সঙ্গে যারা দালালি  সহযোগিতা করেছে তাদের কী হবেবাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য পৃখিবীর রাষ্ট্রসমূহেকে অনুরোধ জানানো মুক্তিবাহিনীছাত্র সমাজকৃষকশ্রমিকদের কাজ কী হবেএসব বিষয়সহ বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন সেদিনই তিনি ডাক দেন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ার সংগ্রামের

জাতির জনকের স্বপ্ন ছিলবাংলাদেশ স্বাধীন করা এবং দেশকে ক্ষুধামুক্তদারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলায় রূপান্তরিত করা। আমাদের তিনি স্বাধীনতা দিয়েছেন। তার প্রথম স্বপ্ন তিনি পূরণ করেছেন। আরেকটি স্বপ্ন যখন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে চলেছিলেনতখনই বুলেটের আঘাতে সপরিবারে জাতির জনককে হত্যা করা হয়। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে একপর্যায়ে হাল ধরেন বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা। প্রতিপক্ষের শত ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ  মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রতিটি সূচক অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে এগিয়ে চলেছে।  যে স্বপ্ন নিয়ে জাতির জনক পাকিস্তানের শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেনদীর্ঘ পথপরিক্রমায় শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে আজ স্বাধীন বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে অর্থনৈতিক সর্বসূচকে এগিয়ে। অন্নবস্ত্রশিক্ষাচিকিৎসা  বাসস্থান  পাঁচটি সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার আজ মানুষের দোরগোড়ায়। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিশ্বে ক্ষুধামুক্তদারিদ্র্যমুক্ত দেশের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। আজ আমরা দৃঢ় চিত্তে বলতে পারিসেদিন বেশি দূরে নয়যেদিন বাংলাদেশ হবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা। স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু


লেখক : শিক্ষকচিকিৎসক,কলামিস্টএবং কার্যনির্বাহী সদস্যবাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগকেন্দ্রীয় কমিটি