1. amin@bol-online.com : আনন্দভুবন : আনন্দভুবন
  2. tajharul@bol-online.com : আনন্দভুবন : আনন্দভুবন

৮ আগস্ট ২০২০, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭

মোট আক্রান্ত

২৫৫,০৬০

সুস্থ

১৪৬,৬০৬

মৃত্যু

৩,৩৬৫

  • জেলা সমূহের তথ্য
  • ঢাকা ৫২,২৯৮
  • চট্টগ্রাম ১৪,৭৪৬
  • নারায়ণগঞ্জ ৫,৯৮২
  • কুমিল্লা ৫,৬৭৯
  • বগুড়া ৫,০৯৪
  • ফরিদপুর ৪,৮১১
  • খুলনা ৪,৫৫৩
  • সিলেট ৪,৪৭৫
  • গাজীপুর ৪,৩২৭
  • কক্সবাজার ৩,৪৭৩
  • নোয়াখালী ৩,৩৪৬
  • মুন্সিগঞ্জ ৩,১২৬
  • ময়মনসিংহ ২,৮২৮
  • বরিশাল ২,৪৭৯
  • কিশোরগঞ্জ ২,০৯১
  • যশোর ২,০২২
  • ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১,৯৫১
  • দিনাজপুর ১,৯২৯
  • চাঁদপুর ১,৮৭৫
  • কুষ্টিয়া ১,৮৪১
  • গোপালগঞ্জ ১,৭৯৩
  • টাঙ্গাইল ১,৭৯৩
  • রংপুর ১,৭৯২
  • নরসিংদী ১,৭৫৬
  • সুনামগঞ্জ ১,৫৫০
  • সিরাজগঞ্জ ১,৫৩৯
  • লক্ষ্মীপুর ১,৪৭২
  • ফেনী ১,৩৬০
  • রাজবাড়ী ১,৩৫১
  • হবিগঞ্জ ১,২২৬
  • মাদারীপুর ১,২২৪
  • শরীয়তপুর ১,১৩৯
  • রাজশাহী ১,০৮৫
  • পটুয়াখালী ১,০৬৬
  • ঝিনাইদহ ১,০৫২
  • মৌলভীবাজার ১,০৪৬
  • জামালপুর ৯৮২
  • নওগাঁ ৯৬০
  • মানিকগঞ্জ ৯০৬
  • পাবনা ৮৫২
  • নড়াইল ৮৫১
  • জয়পুরহাট ৭৮২
  • সাতক্ষীরা ৭৮০
  • চুয়াডাঙ্গা ৭৫৯
  • পিরোজপুর ৭৩৯
  • গাইবান্ধা ৬৯৮
  • নীলফামারী ৬৮০
  • বরগুনা ৬৫৭
  • রাঙ্গামাটি ৬৫৭
  • নেত্রকোণা ৬৪৭
  • বাগেরহাট ৬৩৭
  • বান্দরবান ৫৮২
  • ভোলা ৫৫৭
  • কুড়িগ্রাম ৫৫৩
  • নাটোর ৫৪৪
  • খাগড়াছড়ি ৫৩২
  • মাগুরা ৫২৫
  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫১৭
  • ঝালকাঠি ৪৯৩
  • ঠাকুরগাঁও ৪৩৭
  • লালমনিরহাট ৪৩৬
  • পঞ্চগড় ৩৬১
  • শেরপুর ৩২৬
  • মেহেরপুর ২১৯
ন্যাশনাল কল সেন্টার ৩৩৩ | স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ | আইইডিসিআর ১০৬৫৫ | বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন ০৯৬১১৬৭৭৭৭৭ | সূত্র - আইইডিসিআর | স্পন্সর - একতা হোস্ট

অনিয়মিত ঋতুস্রাবের কারণ ও করণীয়

পোস্টকারীর নাম
  • বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০১৯
  • ১১৪৬ বার ভিউ করা হয়েছে

 

ডা. মুসাররাত সুলতানা [সুমী]

যখন একটি মেয়ে ১০-১২ বছর বয়সে পৌঁছে, তখন তার শারীরিক পরিবর্তন শুরু হয়। যেমন, উচ্চতা বাড়ে, মাসিক শুরু হয়, স্তন বড়ো হয়, বগলে ও যৌনাঙ্গে লোম গজায়। কোমর সরু হয়, উরু ও নিতম্ব ভারি হয়, জরায়ু ও ডিম্বাশয় বড়ো হয়। এই পরিবর্তনগুলোই হচ্ছে মেয়েদের বড়ো হওয়ার লক্ষণ। মাসিক একটি মেয়ের শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা সাধারণত ১০-১৩ বছর বয়সে শুরু হয় এবং স্বাভাবিক নিয়মে ৪৫-৪৯ বছর বয়স পর্যন্ত চলে। তবে কারো নয় বছর বয়স থেকেও মাসিক স্রাব শুরু হতে পারে। মাসিক স্রাব শুরু হওয়ার প্রথম বছরগুলোতে কিছুটা অনিয়ম হতে পারে এবং তলপেটে ব্যথা হতে পারে। যদিও এ বয়েস থেকেই মেয়েরা গর্ভবতী হতে পারে, তবুও ২০ বছর বয়সের আগে শরীরের বৃদ্ধি পুরোপুরি না হওয়ার কারণে কম বয়সে গর্ভধারণ একটি মেয়ের ও তার গর্ভের শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ।

মাসিক বা ঋতুস্রাব

মাসিক বা ঋতুস্রাব মেয়েদের দেহের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার লক্ষণ। সাধারণত ৯-১৩ বছর বয়সে যেকোনো সময় মাসিক শুরু হয় এবং ৪৫-৪৯ বছর বয়সে স্বাভাবিক নিয়মেই মাসিক বন্ধ হয়ে যায়। স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতিমাসেই মাসিক হয়ে থাকে এবং তা ৩ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হয়। মেয়েদের প্রতি ২৪ থেকে ৩২ দিন অর্থাৎ গড়ে ২৮ দিন পর পর মাসিক হয়। একে মাসিকচক্র বলে। কারো কারো ক্ষেত্রে  ২৮ দিনের চক্রটি কম বা বেশি হতে পারে। মাসিক শুরু হওয়ার দিন থেকেই মাসিকচক্র শুরু হয়। মাসিকের প্রথম দিন থেকেই ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণু তৈরি হতে শুরু করে। মাসিক হওয়ার পরে মেয়েরা প্রজননক্ষম অর্থাৎ সন্তান ধারণের ক্ষমতা লাভ করে। মাসিক নিয়ে ভয় বা লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই ।

মাসিক কেন হয়

মেয়েরা যখন বড়ো হয় তখন প্রতিমাসে ডিম্বাশয় থেকে একটি ডিম্বাণু বের হয়ে ডিম্ববাহী নালিতে আসে। একইসময় জরায়ুতে রক্তে ভরা নরম পর্দা তৈরি হয়। যদি এ-সময় যৌনমিলন হয় তা হলে শুক্রাণুর সাথে ডিম্বাণু মিলিত হয়ে ভ্রুণ তৈরি হয়। এই ভ্রুণ রক্তে ভরা নরম পর্দায় গিয়ে বসে ও ধীরে ধীরে বড়ো হয়ে শিশুতে পরিণত হয় ।

যদি শুক্রাণুর সাথে ডিম্বাণুর মিলন না হয়, তা হলে এই পর্দার আর প্রয়োজন হয় না। তখন এই রক্তে ভরা পর্দা ডিম্বাণুসহ মাসিক হিসেবে যোনিপথ দিয়ে বেরিয়ে আসে। কোনো আঘাত বা অসুখের কারণে এই রক্ত পড়ে না। এ-বয়সে একটি মেয়ে যে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠছে এবং সন্তান ধারণের ক্ষমতা লাভ করেছে, মাসিক তারই প্রমাণ।

মাসিকচক্র ব্যবস্থাপনা

মাসিকের সময়ে রক্ত যাতে বাইরে গড়িয়ে না পড়ে সেজন্য স্যানিটারি ন্যাপকিন বা প্যাড, পরিষ্কার কাপড় বা তুলা ব্যবহার করতে হয়। এগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী দিনে কয়েকবার বদলাতে হয়। এছাড়া নানা মাপের জাংগিয়া বা প্যান্টি পাওয়া যায়। কাপড় বা তুলার সঙ্গে এগুলো ব্যবহার করা যায়। এ-সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে, যৌনাঙ্গ পরিষ্কার রাখতে হবে। পরিচ্ছন্ন শুকনা কাপড় পরতে হবে, তা না হলে একই কাপড় যদি বারবার ব্যবহার করা হয় তবে সেগুলো সাবান দিয়ে ধুয়ে রোদে/বাতাসে শুকাতে হবে। মাসিক চলাকালীন নিয়মিত গোসল করতে হবে, পরিষ্কার জামা-কাপড় পরতে হবে, পুষ্টিকর সব ধরনের খাবার খেতে হবে এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে হবে।

মাসিকের সময় বেশি বেশি পুষ্টিকর খাবার বিশেষ করে, আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। তা না হলে রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে। লেবু, কমলা, তেঁতুল, আমলকী, জলপাই ইত্যাদি টক-জাতীয় খাবারে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে, যা শরীরে আয়রনের শোষণ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। কোনো খাবারই মাসিকের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে না। কৈশোর বয়স শরীর গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। আর শরীর গঠনে সাহায্য করে পরিমাণমতো সুষম ও পুষ্টিকর খাবার। সুতরাং এ-বয়সে বিশেষ করে মাসিকের কারণে কোনো খাবার বেছে খাওয়া বা বাদ দেওয়া উচিত নয় ।

মাসিকের সময় কারো কারো কোমরে বা পেটে অল্প অল্প ব্যথা হতে পারে। শরীরের এক বিশেষ হরমোনের জন্য মাসিকের সময় জরায়ুর সংকোচন [ছোট হওয়া] ও প্রসারণ [বড়ো হওয়া] ঘটে। ফলে তলপেটে বা কোমরে ব্যথা অনুভূত হয়। তা ছাড়া প্রথম প্রথম মাসিক হলে মেয়েরা অস্বস্তিতে ভুগতে পারে। এ-সময় বিশ্রাম, হালকা ব্যায়াম বা গরম সেক ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। তবে স্বাভাবিক দৈনন্দিন কাজকর্ম চালিয়ে যেতে কোনো অসুবিধা হলে, বেশি ব্যথা হলে অবশ্যই ডাক্তার দেখাতে হবে।

অনিয়মিত ঋতুস্রাবের কারণ ও করণীয়

অনিয়মিত ঋতুস্রাব একটি প্রচলিত সমস্যা। সাধারণত একজন নারীর জীবনে ঋতুচক্র শুরু হওয়ার পর থেকে  ২১ দিন থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে যেটি হয় সেটি নিয়মিত ঋতুস্রাব। আর যদি ২১ দিনের আগে বা ৩৫ দিনের পরে হয় তবে সেটিকে অনিয়মিত ঋতুস্রাব বলে।

অনিয়মিত ঋতুস্রাব সাধারণত যৌবনের শুরুতে এবং যৌবন শেষে হতে পারে। যৌবনের শুরুতে সাধারণত ১২ থেকে ২০ বছর বয়সে কারো শরীরের ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোন যদি অপরিপক্ব [প্রিমেচিউর] থাকে তবে অনিয়মিত ঋতুস্রাব হয়। আবার নারী শরীরে মেনোপজ শুরু হওয়ার আগে এ ধরনের সমস্যা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের শারীরিক জটিলতার কারণেও এই সমস্যা হতে পারে।

অনিয়মিত ঋতুস্রাবের কারণ

১ শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের তারতম্যের কারণে এই সমস্যা হয়

২ বিবাহিত নারীরা হঠাৎ জন্মনিয়ন্ত্রক ওষুধ বন্ধ করে দিলে হতে পারে

৩ বিভিন্ন ধরনের মানসিক চাপের ফলে হতে পারে

৪ শরীরের রক্ত কমে গেলে অর্থাৎ এনিমিয়া হলে অনিয়মিত মাসিক হওয়ার আশঙ্কা থাকে

৫ অনেকের ক্ষেত্রে ওজন বেড়ে গেলে এই সমস্যা হয়

৬ জরায়ুর বিভিন্ন জটিলতার কারণে হতে পারে

৭ সহবাসের সময় পুরুষের শরীর থেকে আসা অসুখের কারণে হতে পারে। যেমন : গনোরিয়া, সিফিলিস ইত্যাদি

৮ শরীরে টিউমার ও ক্যান্সার ইত্যাদি অসুখে হতে পারে

৯ প্রি-মেনোপজের সময় হয়ে থাকে।

১০ যেসব নারী শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ান সেসব নারীর অনিয়মিত ঋতুস্রাব হতে পারে

সমস্যা

১ প্রতিমাসে নিয়মিত ঋতুস্রাব হয় না। একমাসে রক্তপাত হলে হয়ত আরেক মাসে হয় না। অনেকের ক্ষেত্রে দুই-তিন মাস পরপর হয়ে থাকে

২ ঋতুস্রাব বেশি সময় ধরে হয়। কখনো  অল্প রক্তপাত হয় আবার কখনো বেশি হয়

৩ সন্তান ধারণ ক্ষমতা হ্রাস পায়

৪ অনাকাক্সিক্ষত গর্ভধারণ হতে পারে

৫ এ ছাড়া মেজাজ খিটখিটে থাকা এবং অস্বস্তিবোধ তৈরি হয়

চিকিৎসা

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাধারণত হরমোনাল থেরাপি দেওয়া হয়। কারো ক্ষেত্রে যদি বেশি ওজনের জন্য এই সমস্যা হয় তবে ডায়েট ও ব্যয়াম করতে বলা হয়। অনেকের ক্ষেত্রে মেয়ের পাশাপাশি মাকেও পরামর্শ [কাউন্সিলিং] দেওয়া হয়। আর সন্তান ধারণক্ষম বয়সে সমস্যা অনুযায়ী চিকিৎসা করাতে হবে। বেশি রক্তপাত হলে আয়রন সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা উচিত।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন

১ যদি বছরে তিনবারের বেশি ঋতুস্রাব না হয়

২ যদি ঋতুস্রাব ২১ দিনের আগে এবং ৩৫ দিনের পরে হয়

৩ ঋতুস্রাবের সময় বেশি রক্তপাত হলে

৪ সাত দিনের বেশি সময় ধরে ঋতুস্রাব হলে

৫ ঋতুস্রাবের সময় খুব ব্যথা হলে।

জীবনযাপনে পরিবর্তন

১ শরীরের ওজন সবসময় নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে

২ মানসিক চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে

৩ পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে

৪ আয়রন-জাতীয় খাবার খেতে হবে যাতে শরীরে পরিমিত পরিমাণে রক্ত থাকে হ

লেখক : কনসালটেন্ট [গাইনি], প্রাক্তন আবাসিক সার্জন, গাইনি বিভাগ,

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

পোস্টটি শেয়ার দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো আর্টিকেল
বেক্সিমকো মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে, ইকবাল আহমেদ কর্তৃক প্রকাশিত
Theme Customized BY LatestNews