Home কাভার গার্ল হাওয়া শন শন, শীত কন কন, নীড় খোঁজে মন

হাওয়া শন শন, শীত কন কন, নীড় খোঁজে মন

47
0
SHARE

হাওয়া শন শন

শীত কন কন

নীড় খোঁজে মন

ভালোবাসলে দোষ কি তাতে’ছবিতে কাজ করার মাধ্যমে অভিনয়শিল্পী জয় চৌধুরী ও রোমানা নীড়ের প্রথম পরিচয়। এরপর একসঙ্গে আরো কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করা। অভিনয় করতে গিয়েই দ’জনের মধ্যে ভালো বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। নতুনদের মধ্যে এই দু’জন বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছেন। ইতোমধ্যে জয়ের সাতটি ছবি ও রোমানা নীড়ের তিনটি ছবি মুক্তি পেয়েছে। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে একাধিক ছবি। বিস্তারিত লিখেছেন শেখ সেলিম…

যশোরের মেয়ে রোমানা নীড়। ছেলেবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক কর্মকাÐের সঙ্গে জড়িত। ছোট্ট বয়েস থেকেই উদীচীতে নাচ শিখেছেন। বাংলা ছবির পোকা ছিলেন শৈশব থেকেই। সময় পেলেই  পূর্ণিমা, পপি, শাবনূর প্রমুখের সিনেমা দেখতেন। তখন থেকেই মনে মনে এই অঙ্গনে কাজ করার স্বপ্ন বুনেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে এইচএসসি শেষ করে ঢাকায় আসেন। বাবা-মাকে স্বপ্নের কথা বললে তারা প্রথমে রাজি ছিলেন না, ফটোসেশন করবেন বলে বাবার কাছে টাকা চাইলেন, কিন্তু বাবা রাজি হলেন না, পরিবার ভাবলেন মেয়ে দুই একদিন পর ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু নীড়ও নাছোড়বান্দা, টাকা না পেয়ে অনশন শুরু করলেন, বাবা দেখলেন মেয়েকে থামানো যাবে না, মেয়ের জেদের কাছে হার মেনে ফটোসেশনের জন্য টাকা দিলেন। ফটোসেশন করলেন। স্টুডিওতে এক নির্মাতা নীড়ের ছবি দেখলেন। দেখে নীড়ের নাম্বার চাইলেন। স্টুডিও থেকে নীড়ের অনুমতি নিয়ে ছবি দিলেন। নাম্বার পেয়ে পরিচালক মাহবুবল আলম নীড়কে দেখা করতে বললেন, নীড় আবার অনুমতি নিয়ে পরিচালককে বাড়িতে আমন্ত্রণ জানালেন। দেখা করলেন। যেদিন দেখা করেন সেদিনই নির্মাতা মাহবুবুল আলম ছবির জন্য সাইনিং করান। এটা ২০১২ সালের কথা। সাইনিং করার কিছুদিন পরেই শুরু হয় শুটিং। ছবির নাম ‘আড়ং’। ছবিটির কাজ সম্পন্ন হয়ে থাকলেও এখন পর্যন্ত মুক্তি পায় নি। নীড় অভিনীত দ্বিতীয় ছবি ‘ভালোবাসলে দোষ কি তাতে’ ২০১৬ সালে মুক্তি পায়। ছবিটি পরিচালনা করেন একিউ খোকন। ছবিতে নীড়ের সহশিল্পী জয় চৌধুরী। এই ছবির শুটিং শেষ হওয়ার আগে আরো দুটি সিনেমায় সাইনিং করেন। ছবি দুটি হচ্ছে ‘ভালোবাসি কত বোঝাবো কেমনে’ ও ‘উতালা মন’। ‘উতালা মন’ ছবিটিও মুক্তি পায়। ছবিটি পরিচালনা করেন আবদুল আউয়াল। ‘ভালোবাসি কত বোঝাবো কেমনে’ ছবিটি খুব শিগ্গিরই মুক্তি পাবে বলে নীড় জানান। এই ছবিতেও নীড়ের সহশিল্প জয় চৌধরী। ছবিটি পরিচালনা করেন একিউ খোকন।

অন্যদিকে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সদ্য নির্বাচিত সর্বকনিষ্ঠ সদস্য ও অভিনেতা জয় চৌধরীর ছবিতে অভিষেক হয় পরিচালক এফ আই মানিক পরিচালিত ‘এক জবান’ ছবির মাধ্যমে। প্রথম ছবিতেই ভালো অভিনয় করে আলোচনায় চলে আসেন জয়। এরপর মুক্তি পায় তার দ্বিতীয় ছবি খোকন রিজভীর ‘ভালোবাসলে দোষ কি তাতে’। এই ছবিতেও অভিনয় করে প্রশংসা কুড়ান তিনি। এরপর ক্রমান্বয়ে অভিনয় করেন ওয়াজেদ আলী সুমনের দুই ছবি ‘আজব প্রেম’ ও ‘হিটম্যান’, নজরুল ইসলাম বাবুর ‘চিনিবিবি’, আবুল কাশেম মÐলের ‘ক্ষণিকের ভালোবাসা’ ও সবশেষ মুক্তি পায় মালেক আফসারীর ‘অন্তর জ্বালা’ ছবিটি। মূলত ‘অন্তর জ¦ালা’ ছবির মাধ্যমেই বেশ আলোচনায় আসেন জয়। ছবি মুক্তির পর অনেকেই তার অভিনয়ের প্রশংসা করেন। বর্তমানে জয় অভিনীত একাধিক ছবি রয়েছে মুক্তির মিছিলে। ছবিগুলো হচ্ছে কাজল কুমার বর্ধনের ‘অবাস্তব ভালোবাসা’, একিউ খোকনের ‘ভালোবাসি কত বোঝাবো কেমনে’ ও ফারুক হোসেনের ‘কাকতাড়–য়া’ ছবিটি, ‘আনন্দ-অশ্রæ’ ছবির কাজ প্রায় শেষের দিকে। নতুনভাবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন মালেক আফসারীর ভারত-বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘হ্যালো’, বিকে আজাদের ‘দোস্ত দুশমন’। খুব শিগ্গিরই কাজ করবেন মাসুম বাবুল পরিচালিত ‘নসীব’ ও ঋতু ব্রত চট্রোপাধ্যায় পরিচালিত একটি ছবিতে কাজ করার কথা রয়েছে। এছাড়া আট বন্ধুর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ইয়াংস্টার ফিল্ম লিমিটেড থেকে ‘ভেলকিবাজি’ ছবিটির কাজ করবেন।

নীড় এখন বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছেন, সম্প্রতি নতুন দুটি ছবিতে সাইনিং করেছেন। একটি ‘হ্যালো’ অন্যটি ‘দোস্ত-দুশমন’। ছবি দুটির কাজ খুব শিগ্গিরই শুরু হবে বলে জানান নীড়। এছাড়াও ডিসেম্বরে তাদের সাত বন্ধুর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ইয়াংস্টার ফিল্ম লিমিটেডের প্রথম প্রোডাকশন ‘ভেলকিভাজি’র কাজ শুরু করবেন। ছবিটির শুটিং হবে ইন্দোনেশিয়ায় ।

সাতবন্ধুর এই পরিকল্পনাটা কীভাবে কোথায় আসে জানতে চাইলে নীড় বলেন, প্রথম আপনজন হচ্ছে ফ্যামিলির সদস্য, দ্বিতীয় হচ্ছে বন্ধু-বান্ধব। আমাদের এমন একটা সম্পর্ক হয়ে গেছে, আমরা এককভাবে কোনো  কিছু চিন্তা করতে পারি না। যখন দেখলাম আমাদের একজনের ওপর আরেকজনের এতটাই বিশ^াস ও ভালোবাসা গড়ে উঠেছে যে, আমরা ভাবলাম, আমাদের এই বন্দুত্বটাকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়। সত্যি কথা বলতে আমাদের ফিল্মের অবস্থাও আশানুরূপ নয়, নতুন একজন শিল্পী একটি কাজ করে যে আলোচনায় আসেন, তারচেয়ে বেশি আলোচনায় আসবে আটজন একসঙ্গে কাজ করলে। কারণ আটজনের আট রকম ভক্ত রয়েছে। সেই চিন্তা থেকেই আমরা ভাবলাম, আমরা মাল্টিকাস্টিংয়ের একটি কাজ করব। সেই চিন্তা থেকেই কাজটি করা।

চলচ্চিত্র অঙ্গনে নিজের মেধা, পরিশ্রমও একান্ত প্রচেষ্টায় জয় তাঁর অবস্থান দৃঢ় করছেন। মালেক আফসারী পরিচালিত ‘অন্তর জ্বালা’ ছবিতে দুলালের চরিত্রকে সুনিপুণভাবে তুলে ধরার কারণে শক্ত একটা অবস্থান করে নেন জয়। এটা ছিল জয়ের সবচেয়ে বড়ো সাফল্য।

এই প্রসঙ্গে জয় চৌধুরী বলেন, আমি মিডিয়ায় একেবারেই নতুন। এখনও সবার কাছ থেকে শিখছি। এত অল্পদিনেই মানুষ আমাকে যে পরিমাণ ভালোবাসে তাতে আমি সত্যি মুগ্ধ। আমার কাছে এর চেয়ে আর বড়ো কিছু চাওয়া বা পাওয়ার নেই। যতজন মালেক আফসারী স্যারের ‘অন্তর জ্বালা’ সিনেমাটি দেখেছেন ঠিক ততজনই বেশ আবেগ আপ্লুত হয়েছেন আর আমাকে তাদের ভালোবাসায় ভাসিয়ে দিয়েছেন। যা আমার আগামী দিনের কাজগুলো করার আরো অনুপ্রেরণা জুুগিয়েছেন। আমি সত্যি এ মানুষগুলোর প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। তাদের প্রতি সব সময় দোয়া এবং ভালোবাসা যেন আমার ভালো কাজ করার প্রধান শক্তি।

ঢালিউডে চলতি সময়ে পা রাখা তরুণ অভিনেতাদের মধ্যে অন্যতম জয় চৌধুরী, অভিনয়ের পথ ধরে হাঁটতে চান বহুদূর, হতে চান ঢাকাই চলচ্চিত্রের নাম্বর ওয়ান অভিনেতা।

জয়ের স্বপ্ন ছিল দেশসেরা ক্রিকেটার হওয়া। দেশের গÐি পেরিয়ে খেলবেন বিদেশের মাটিতেও। জন্মস্থান মাগুরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার হয়ে খেলেছেন বেশ কয়েক বছর, খেলেছেন বিকেএসপিতেও। কিন্তু প্রয়াত নায়ক সালমান শাহ’র অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে সিদ্ধান্ত নেন অভিনয়ে ক্যারিয়ার গড়বেন। তাই নিজেকে প্রস্তুত করলেন অভিনয়ের জন্য।

ভবিষ্যৎ ভাবনা প্রসঙ্গে জয় বলেন, এখনও অভিনয়কে পেশাদারিত্বরূপে দেখছি না, এই অঙ্গনকে ভালোবাসি, মূলত ভালোবাসা থেকেই কাজ করে যাচ্ছি।

নীড়ের শুরুটা নাচ দিয়ে, তাই নীড়ের কাছে জানতে চাওয়া হয় নাচের কী অবস্থা ?

নীড় বলেন, নাচ তো আমার রক্তের সঙ্গে মিশে রয়েছে। নাচের চর্চা তেমন একটা করতে না পারলেও চলচ্চিত্রের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন দিবসে টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অংশ নিই। দেশের বাইরে থেকেও আমন্ত্রণ আসে, যাওয়া হয় না।

গত বছরের চেয়ে এই বছর অনেক কম ছবি মুক্তি প্রসঙ্গে জয় বলেন, শুধু যে আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে এমনটা হয়েছে, তা কিন্তু নয়। প্রত্যেকটি ইন্ডাস্ট্রির একই অবস্থা। বিভিন্ন কারণে আমাদের ইন্ডাস্ট্রি একটু থমথমে ছিল। আশা করছি, নতুন বছর থেকে কিছু একটা হবে। কারণ, আমাদের শিল্পবান্ধব প্রধানমন্ত্রী কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। সেগুলোর মধ্যে সিনেমা হলগুলো ডিজিটাল করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বছর সরকারি উদ্যোগে ৫০-১০০ সিনেপ্লেক্স হবে। যখন হল হবে তখন ই-টিকেটিং হবে। তখন ভালো ভালো প্রযোজকেরা ছবি বানাতে এগিয়ে আসবেন। আশা করি, ২০২০ সালে ছবির সংখ্যা বাড়বে।

নীড় বলেন আমি কারো দোষ দিই না, নিজেদের দোষ দিই। আগেও যৌথ প্রযোজনার ছবি হতো, সেই সময়ে দেশের ছবিকে আগে প্রাধান্য দেওয়া হতো, কিন্তু মাঝখানে দুই দেশের শিল্পীরা যৌথ প্রযোজনার ছবিতে কাজ করলে দেখা গেছে ওই দেশের শিল্পীদের বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। আমাদের পুরো ইন্ডাস্ট্রিকে দাবিয়ে রাখছে। যদিও এখন আর তা নেই। যারা সিনিয়র প্রযোজক তাদের ফিরে আসা উচিত, তাদের দায়িত্ব নেওয়া উচিত।

চলচ্চিত্রে কোনো পরিবর্তন আসবে বলে কী আপনাদের মনে হয়, এই প্রসঙ্গে জয় ও নীড় বলেন

আমরা সবসময় আশার আলোই দেখি। যেহেতু আমরা নতুন, এই আশা নিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। দেখছি, হল বন্ধ হচ্ছে, সিনেমা কম হচ্ছে তারপরেও আমরা স্বপ্ন দেখি কিছু একটা হবে। আমাদের সিনেপ্লেক্সগলো হচ্ছে, প্রতিটি শপিংমলে যদি সিনেপ্লেক্স থাকে, প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশ দিয়েছেন, সেভাবে যদি হয়, তা হলে আমাদের সুসময় আসবেই।

জয় চৌধুরীর কাছে জানতে চাওয়া হয় সর্বকনিষ্ঠ শিল্পী হিসেবে শিল্পী সমিতির নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন। অনুভিুতিটা কেমন ?

জয় বলেন, আমি দুই বছর যাবৎ এই প্যানেলের সঙ্গেই ছিলাম। তাদের নানা কর্মকাÐের সঙ্গে আমি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিলাম। তারা আমাকে তাদের পারফেক্ট প্রার্থী মনে করেই তাদের প্যানেল থেকে নির্বাচন করার সুযোগ দিয়েছে। আমার একটা আত্মবিশ^াস ছিল, আমি জিতব। কিন্তু আমি এত ভোট পেয়ে জিতব, এটা ভাবিনি। সবাই আমাকে অনেক বেশি ভালোবাসে। ৩৫৬টি ভোটের মধ্যে আমি ৩০৩টি ভোট পেয়েছি। এটা আমার জন্য অনেক বড়ো একটা ব্যাপার। আমি অনেক খুশি। আমি আমার দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করব। হ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here