Home রঙ্গশালা/আবৃত্তি শুভ ষষ্টিতে মীর বরকত

শুভ ষষ্টিতে মীর বরকত

801
0
SHARE

আবৃত্তি ও নাট্যনির্দেশক, আবৃত্তিশিল্পী, একজন দক্ষ সংগঠক ও প্রশিক্ষক মীর বরকতের ষাটতম জন্মদিন উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় ৩০ জুন ২০১৮ সন্ধ্যায় বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘কণ্ঠশীলন’। বাংলাদেশের হট ফেভারিট ফ্রান্স বনাম আর্জেন্টিনার খেলা উপেক্ষা করে সেদিন দর্শক এসেছিল শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায়। জন্মদিনে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল মীর বরকতের একক আবৃত্তি পরিবেশনা। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী তিনি আবৃত্তি করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের [গান সমাপন, বিম্ববতী, দুই পাখি, তোতাপাখি], জীবনানন্দ দাশের [সহজ], ফজল শাহাবুদ্দিনের [বাংলা ভাষা, মা আমার], সৈয়দ শামসুল হকের [বায়েস্কোপ], অসীম সাহার [আমাদের রাজকুমার ও বাংলাদেশ], ইকবাল খন্দকারের [কৌতুক ছড়া], নির্মলেন্দু গুণের [গামছা], মুহম্মদ নূরুল হুদার [বস্ত্র নিয়ে], কাজী নজরুল ইসলামের [কুহেলিকা], লোককবি আবদুল হাই মাশরেকীর [কিছু রেখে যেতে চাই] এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের [জন্মদিন] কবিতাগুলো।

তার একক আবৃত্তির পরে কণ্ঠশীলন অধ্যক্ষ মীর বরকতকে নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। তথ্যচিত্রে সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা মীর বরকতকে নিয়ে তাদের অভিমত ব্যক্ত করেন।

মীর বরকতের জন্ম ময়মনসিংহ জেলায় ১৯৫৮ সালের ১ জুলাই। মীর বরকতে রহমান তার প্রকৃত নাম। আবৃত্তি কিংবা নাটকের মানুষ তাকে চেনেন মীর বরকত নামে। সর্বজন শ্রদ্ধেয় ওয়াহিদুল হক তার নাম দিয়েছিলেন মীর বরকত। তার এই নামেই দেশজুড়ে খ্যাতি ও পরিচিতি।

মীর বরকত ছেলেবেলায় বিদ্যালয়ে পাঠ নেওয়ার সময় থেকেই আবৃত্তি ও নাটকের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সময় বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে আবৃত্তি করতেন। সেখান থেকেই শুরু তার পথচলা। মীর বরকতের আবৃত্তির শিক্ষক ছিলেন তারেক সালাউদ্দিন মাহমুদ। মীর বরকত আনন্দমোহন কলেজে পড়াকালীন অনেক আবৃত্তি অনুষ্ঠান এবং নাটকে অভিনয় করেছেন। তখন থেকেই তিনি ময়মনসিংহ জেলায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

আবৃত্তি সংগঠন ‘কণ্ঠশীলন’ গড়ে উঠেছিল ১৯৮৪ সালে। তখন সেখানে বিপ্লব বালার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। এছাড়া জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, ওয়াহিদুল হক, নরেন বিশ্বাস, ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়- এদের সঙ্গে কাজ করেছেন ও প্রশিক্ষণ নিয়েছেন মীর বরকত। মীর বরকত আবৃত্তি সম্পর্কিত একটি বই লিখেছেন। বইটির নাম ‘আবৃত্তির ক্লাস’, প্রকাশ হয়েছিল ২০১১ সালে। তিনি আবৃত্তির প্রথম অনুপ্রেরণা পান পরিবারের কাছ থেকে। তার বড়ো বোন আবৃত্তি করতেন। মীর বরকত সর্বপ্রথম ‘কণ্ঠশীলন’ আবৃত্তি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন এবং বর্তমানে সংগঠনটির অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে নাট্যশিক্ষাঙ্গনের নাট্যসংগঠনে যুক্ত ছিলেন।

মীর বরকত মোট তিনটি মঞ্চ নাটক নির্দেশনা দিয়েছেন ‘কণ্ঠশীলন’র প্রযোজনায়। নাটকগুলো হলো- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত ‘রাজা-রানী’, মনোজ মিত্রের রচনায় ‘যা নেই ভারতে’ ও নাগিব মাহফুজের রচনা ও রাফিক হারিরির রূপান্তরে ‘যাদুর লাটিম’। আবৃত্তি নিয়ে তার অনেক প্রযোজনা রয়েছে। তার মধ্যে তপস্বী ও তরঙ্গিনী, রবি ঠাকুর কবি ঠাকুর, আমিনা মদিনার গল্প, রোমিও জুলিয়েট, অনাম্নী অঙ্গনা, ভাষার লড়াই, দেশদ্রোহীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী, নক্সী কাঁথার মাঠ, বর্ষামানব ইত্যাদি।

মীর বরকত দেশের মাটিতে আবৃত্তি করে যেমন শ্রোতাদের মন জয় করেছেন তেমনি দেশের বাইরে কলকাতাতেও আবৃত্তি করে শ্রোতার মন জয় করেছেন। মীর বরকত বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করার পর সোনালি ব্যাংক লিমিটেডে চাকরিতে যোগদান করেছিলেন। কিন্তু সেটা তার প্রধান কর্মস্থল হলেও প্রধান পরিচয় গড়ে ওঠেনি একজন ব্যাংক কর্মকর্তা হিসেবে। একসময় তিনি সেচ্ছায় সেখান থেকে অবসর গ্রহণ করেন। কারণ, তিনি পুরো সময়টা দিতে চেয়েছেন আবৃত্তিতে। তিনি দিনে দিনে কালে কালে হয়ে উঠেছেন একজন ভাষাবিদ, উচ্চারণবিদ, আবৃত্তিশিল্পী, প্রশিক্ষক, নাট্যনির্দেশক সর্বোপরি একজন সস্কৃতিমনা ব্যক্তি হিসেবে।

সেদিন সব শেষে ছিল শিল্পীকে শুভেচ্ছা জানানোর পালা। এ-পর্বে আবৃত্তি এবং নাট্যসংগঠনের সদস্যরা মীর বরকতকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটোর সভাপতি গোলাম কুদ্দুস, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের নেতৃবৃন্দ মীর বরকতকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

অনুষ্ঠানটি উপস্তাপনা করেন কণ্ঠশীলন সভাপতি গোলাম সারোয়ার। হ

লেখা : মো. সোহান আহামেদ . ছবি : সংগ্রহ

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here