Home অঁভোগ শীতে যা খাবেন

শীতে যা খাবেন

44
0
SHARE

প্রকৃতিগত পরিবর্তনের কারণে শীতকালে দেখা দেয় ঠান্ডা, ফ্লু, ত্বকের সমস্যাসহ নানা ধরনের রোগ। এ সময় শরীরের বিশেষ যতেœর পাশাপাশি প্রয়োজন হয়ে পড়ে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। আর স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের অন্যতম শর্ত হলো স্বাস্থ্যকর ও সঠিক খাবার নির্ণয়। এমনিতেই শীতকালে প্রকৃতিতে শাক-সবজিসহ নানা ধরনের খাবারের সমারোহ থাকে। সেইসঙ্গে এ সময়টাতে নানা ধরনের ভুড়িভোজের আয়োজন থাকে। তাই এ সময় সুস্থ থাকতে ঠিক খাবার নির্বাচনের বিকল্প নেই। শীতের খাবার নিয়ে এবারের অঁ ভোগ আয়োজন। লিখেছেন ফাতেমা ইয়াসমিন…

 

শীতে আমাদের শরীরে পানির পরিমাণ বেশ কমে যায়। তাই এটা খেয়াল রাখা খুব জরুরি যে, শীত বাড়লেও আমাদের যেন পানি পান করা কমে না যায়। কনকনে শীতে প্রয়োজনে হালকা কুসুম গরম পানি পান করা যেতে পারে। শীতে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। ত্বক সুস্থ রাখতে বিভিন্ন ধরনের রঙিন শাক-সবজি খাওয়া বেশ ভালো। রঙিন শাক-সবজি অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সরবরাহ করে। এতে বিদ্যমান ভিটামিন শরীরের নানা ঘাটতি পূরণ করে। এগুলো ত্বকের রুক্ষ ভাব দূর করে। শীতে শরীর গরম রাখতে অনেকে চা-কফির পরিমাণ বাড়িয়ে দেন এতে ঘুমের সমস্যাসহ খাবারে অরুচি দেখা দেয়। এ সময় শরীর গরম রাখতে প্রোটিনজাতীয় খাবার বেশি খাওয়া উচিত। খাদ্য তালিকায় বাদাম ও মাছ বেশি খেলে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। শীতে বিভিন্ন পিঠা-পুলির আয়োজন থাকে। তবে,  সেগুলো যেন পরিমিত খাওয়া হয় সেদিকে নজর রাখা উচিত।

অনেক ধরনের খাবার রয়েছে যা শীতে খেলে শরীর বেশ সতেজ থাকে। চলুন দেখা যাক এমন সব খাবার-

         শীতের খাবার হিসেবে গাজর বেশ ভালো। এতে রয়েছে উচ্চপরিমাণ বেটা ক্যারোটিন। গাজর বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ প্রতিরোধ করে এবং শ^াসতন্ত্রের সমস্যা কমিয়ে ফুসফুসকে সুরক্ষা দেয়।

¡  কমলাতে রয়েছে উচ্চপরিমাণ ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। শীতের খাবার হিসেবে কমলা ভালো একটি সাইট্রাসজাতীয় ফল। এটি শীতকালে বিভিন্ন রোগব্যাধি থেকে শরীরকে রক্ষা করে। তা ছাড়া ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়াতেও কমলা বেশ কার্যকরী।

¡             শীতকালে আদা-চা সকলেই পান করে থাকেন। সকাল সকাল এককাপ আদাসহ রং-চা শরীরের জন্য বেশ কার্যকর। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ আদা-চা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি শরীরের রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দেয়। বিভিন্ন ফ্লু হওয়ার হাত থেকে এটি মানব দেহ রক্ষা করে।

¡             শুধু শীত নয়, সারাবছরই ডিম আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী। ডিমের মধ্যে রয়েছে নয়টি প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড। ডিমে ক্যালসিয়াম ও আয়রন রয়েছে প্রচুর। ডিমে রয়েছে ভিটামি বি২ বি১২, এ ও ই। ডিমে রয়েছে জিংক, ফসফরাস এবং প্রয়োজনীয় মিনারেল। শরীর সুস্থ রাখতে প্রতিদিনই খাদ্যতালিকায় ডিম রাখা প্রয়োজন।

¡             কাঠবাদাম অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর একটি খাবার। এটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর ফ্রি র‌্যাডিকেলের সঙ্গে লড়াই করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। শীতে খাবার হিসেবে কাঠবাদাম অত্যন্ত কার্যকর।

¡             জ¦র ও ঠান্ডাজনিত রোগে রসুন বেশ কার্যকর। রসুন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে কাঁচা রসুন খাওয়াই ভালো। যাদের হজমে সমস্যা হয় রসুন খেলে তারা রসুন রান্না করেও খেতে পারেন।

¡             আমাদের দেশে মাশরুম খুব একটা খাওয়া হয় না তবে শীতের ঠান্ডা ও ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করতে মাশরুম খুব উপকারী। শীতের খাদ্যতালিকায় মাশরুম রাখুন।

¡             জ¦র ও ঠান্ডা প্রতিরোধে মধু বেশ কার্যকর। শীতের খাবার হিসেবে মধুর জুড়ি নেই। এতে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান। ঘুমানোর আগে বা সকালের নাস্তায় মধু খেলে শীতের ফ্লু থেকে বাঁচা সম্ভব। শুধু শীত নয়, সারাবছরই মধু খেলে অনেক রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

¡             শীতকাল মানেই তো হরেকরকম সবজির সমারোহ। শীতের সবজিতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন এ, সি এবং কে। শীতের সবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। হালকা সিদ্ধ সবজিতে বেশি পুষ্টি থাকে। তাই শীতের দিনে খাদ্যতালিকায় রাখুন প্রচুর শীতের সবজি।

শীতকালকে উপভোগ করতে হলে সুস্থ থাকা বেশ জরুরি। একটু খাদ্য অভ্যাস বদলে ও সচেতন হয়ে শীতকালীন নানা রোগবালাই থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। হ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here