Home অঁভোগ মুঠোফোনের সাতকাহন

মুঠোফোনের সাতকাহন

108
0
SHARE

সভ্যতার বিবর্তনে মানুষ সৃষ্টি করেছে অসংখ্যা বিস্ময়কর জিনিস। বর্তমানে আমরা এমন একটি সময়ে বসবাস করছি, যেখানে রয়েছে বিজ্ঞানের রাজত্ব। অসংখ্য বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এখন মানুষের জীবন। এমনই এক আবিষ্কার মুঠোফোন। টেলিভিশন আবিষ্কারের পর বলা হতো পৃথিবীটা এখন এই ‘বোকা বাকশে’ বন্দি। মানুষের জীবন ড্রয়িং রুমের সোফায় আবদ্ধ। আর বর্তমানে মুঠোফোনের ব্যবহার তো মানুষের জীবনকে আরো সীমিত করে ফেলেছে। মানুষ এখন এই মুঠোফোনেই বন্দি। তবে একে কেউ আর ‘বোকা বাকশো’ বলে না, বরং মুঠোফোন এখন স্মার্ট ফোন হয়ে গেছে। আমাদের আজকের অঁ ভোগ আয়োজন এই মুঠোফোন নিয়েই। লিখেছেন ফাতেমা ইয়াসমিন…

 

মুঠোফোন বা মোবাইল ফোন কিংবা সেলুলার ফোন বা হ্যান্ড ফোন হচ্ছে তারবিহীন টেলিফোন বিশেষ। ‘গড়নরষব’ একটি ইংরেজি শব্দ যার বাংলা প্রতিশব্দ দাঁড়ায় ভ্রাম্যমাণ বা স্থানান্তর যোগ্য। এই ফোন সহজে যেকোনো স্থানে বহন এবং ব্যবহার করা যায় বলে একে মোবাইল ফোন নামকরণ করা হয়েছে। তবে হাতের মুঠোয় থাকে বলে কবি নির্মলেন্দু গুণ এর একটা যুতসই বাংলা নাম দিয়েছেনÑ মুঠোফোন। এটি মূলত বেতার তরঙ্গের মাধ্যমে কাজ করে বলে অনেক বড়ো ভৌগোলিক এলাকায় নিরবিচ্ছিন্নভাবে সংযোগ দিতে পারে। শুধু যে যোগাযোগই মুঠোফোনের প্রধান কাজ তা নয়। এর মাধ্যমে আরো অনেক ধরনের সেবাই গ্রহণ করা যায়। এসএমএস, ই-মেইল, ইন্টারনেট, বøু-টুথ ব্যবহার বর্তমান মুঠোফোনের মাধ্যমে করা হয়।

বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল সর্বপ্রথম দূরে অবস্থিত মানুষের সঙ্গে বার্তা বা কথা পৌঁছাতে সক্ষম হন। আলেকজান্ডার এবং মার্কনির সূত্র ধরেই ডটবয়েট পুলিশ গাড়িতে কার মোবাইল রেডিও প্রচলন করা হয়। ১৯৬৫ সালে সর্বপ্রথম স্টকহোমে কার মোবাইল রেডিও ব্যবহার হয়। যার আকার ছিল একটি প্রমাণ সাইজের সুটকেসের তিন ভাগের এক ভাগ। সেই সময় অবশ্য এর ভয়েস কোয়ালিটি ছিল অত্যন্ত নি¤œমানের আর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও খুব একটা সুবিধার ছিল না। দ্বিতীয় জেনারেশনে কিছু ডাটা ও কথা পৌঁছানোর সুবিধা সংযুক্ত করা হয়। পরের জেনারেশন অর্থাৎ তৃতীয় জেনারেশনের মোবাইলে ইন্টারনেট, মাল্টিমিডিয়া, গেøবাল রোমিং-এর সুবিধা যুক্ত হয়। বর্তমানে আমরা চতুর্থ জেনারেশনের যুগে রয়েছি এর মাধ্যমে ইন্টারনেটের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে তা ছাড়া তথ্য বা মাল্টিমিডিয়া আদান প্রদানের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশে মুঠোফোনের ব্যবহার বিস্ময়কর উন্নত হয়েছে। মোট জনসংখ্যার একটি বিরাট অংশ এখন মুঠোফোন ব্যবহার করছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ছয়টি সরকারি ও বেসরকারি মুঠোফোন কোম্পানি সেবা দিয়ে যাচ্ছে। মুঠোফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১৩ কোটি। ১৯৯৩ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশে প্রথম মোবাইল ফোন চালু হয়। ‘হাচিনস বাংলাদেশে টেলিকম লিমিটেড সর্বপ্রথম ঢাকা শহরে অগচঝ মোবাইল প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশে মোবাইল ফোন সেবা চালু করে।

বর্তমানে বিজ্ঞানের অগ্রগতির যুগে দেশে বিদেশে যোগাযোগসহ শিক্ষা, সংস্কৃতি, আচার-অনুষ্ঠান ইত্যাদির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে মুঠোফোনের প্রয়োজনীয়তা অবশ্যম্ভাবী। এককথায় বিশ^কে হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে আজকের মুঠোফোন। প্রযুক্তির দ্রæত উন্নয়নের ফলে মুঠোফোন আজকাল অতি প্রয়োজনীয় জিনিসে পরিণত হয়েছে। এর যেমন উপকারিতা রয়েছে। এর অপব্যবহারও রয়েছে।

বাংলাদেশে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মতে ২০১৩ সালে মোবাইল সিমের উপর আমদানি কর ৬০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা করা হয়। ফলে এর সহজলভ্যতায় গ্রাহকের সংখ্যা বেড়েছে। অর্থের অপচয়ও বেড়েছে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মুঠোফোন ব্যবহারের ফলে মানুষের শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। একটানা ৩ মিনিটের বেশি কথা বললে রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে।

মুঠোফোনের রেডিয়েশনে ক্যান্সার হতে পারে।

মুঠোফোন ব্যবহারে মানুষের প্রজনন ক্ষমতা কমে যায়। বর্তমানে অপরাধ জগতের প্রধান অবলম্বন এই মুঠোফোন। সন্ত্রাস, খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি সকল কর্মকাÐে এটি ব্যবহার হচ্ছে। সাইবার অপরাধ বৃদ্ধিতে এর সহায়ক ভূমিকা রয়েছে। তা ছাড়া যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের কারণ হিসেবে মুঠোফোন অনেকাংশে দায়ী।

বিজ্ঞানের আবিষ্কার মানুষের কল্যাণের জন্যই। তবে সেটার সঠিক ব্যবহারই তা কল্যাণের দিকে নেবে। বিজ্ঞানের আবিষ্কারকে মানুষ কীভাবে ব্যবহার করবে সেটার উপরই সুফল ও কুফল নির্ভর করে। মোবাইল ফোনকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে এর সুফল আমাদের ভোগ করা উচিত।

 

বিশে^র সেরা দশটি মুঠোফোন ব্র্যান্ড

১ম : স্যামসাং

২য় : এপেল

৩য় : হাওয়াই

৪র্থ : অপ্পো

৫ম : ভিবো

৬ষ্ঠ : জিয়াউমি

৭ম : এলজি

৮ম : লেনোভো

৯ম : জিটিই

১০ম : এলকাটেল লুসেন্ট

 

লেখা : ফাতেমা ইয়াসমিন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here