Home অঁভোগ ব্লাউজের নানা কথা

ব্লাউজের নানা কথা

3121
0
SHARE

খুব বেশি কাল আগের কথা নয় ; ভারতবর্ষের নারীরা তাদের বক্ষ উন্মুক্ত রাখতেন। আসলে শাড়ির ব্যবহার ততদিনে প্রচলিত হলেও শাড়ির নিচে ঊর্ধাংশে কী পরবে তা ঠিক তারা জানত না। রানি ভিক্টোরিয়ার আমলেও, বিশেষ করে বাংলায়, কোনো কোনো নারী তাদের শাড়ির নিচে ছোট্ট ব্লাউজ পরত না, তখন তাদের বক্ষ উন্মুক্ত থাকত। এটা ঠিক রানি ভিক্টোরিয়ার পচ্ছন্দ ছিল না। তার ইচ্ছে অনুযায়ীই তৈরি হয় নারীর জন্য শাড়ির নিচে পরার পোশাক যা ব্লাউজ নামেই পরিচিত। বাংলায় ব্লাউজের প্রচলন ও তার ব্যবহার বিধি নিয়ে এবারের অঁভোগ আয়োজন…

ব্লাউজ মূলত ইংরেজি শব্দ। এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছে ঢোলা বহির্বাস। ব্লাউজের ব্যবহার মূলত  শেরশাহর আমল থেকে শুরু হয়। বর্তমানে চাকমাদের মতো করে তখন এক টুকরো কাপড় বুকে  বেঁধে রাখা হতো। সে-সময় একে কাঁচুলি বলো হতো। আবার অনেকে বক্ষবন্ধনীও বলতেন।

ভারতবর্ষে ব্যাপকভাবে ব্লাউজের ব্যবহার শুরু হয় ইংরেজ আমলে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যখন উপমহাদেশে ব্যবসা করতে এলো তখন তাদের সঙ্গে ইংরেজ মেয়েরাও এ-দেশে আসে। ইংরেজ  মেয়েরা উপরে ছেলেদের শার্টের মতো ব্লাউজ এবং নিচে লং স্কার্ট পরত। তাদের এ-পোশাক দেখে ভারতবর্ষের মেয়েরা আকৃষ্ট হতো। এরই সূত্র ধরে রবীন্দ্রনাথের ভাতিজি শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজ পরার প্রচলন শুরু করেন।  ধীরে ধীরে ধনিক শ্রেণির মহিলাদের মধ্যে ব্লাউজ পরার প্রচলন শুরু হয়।

ইতিহাসে আছে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী জনদানন্দিনী দেবীকে শাড়ির নিচে নগ্ন বক্ষের কারণে ব্রিটিশ রাজের আমলে ক্ল¬াবে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এখন যেভাবে ব্লাউজ পরা হয় এটা তার ধারণা থেকেই তৈরি। ১৮৯০ সাল থেকে অল্প-স্বল্পভাবে মহিলাদের ফ্যাশন হিসেবে ব্লাউজের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। ১৮৯০ সালে একটি ব্লাউজ এবং একটি প্লেন স্কার্ট ছিল উঠতি বয়সী তরুণীদের আদর্শ  পোশাক। ১৯০০-১৯১০ সাল থেকে সামাজিক পরিবর্তনের পাশাপাশি ব্লাউজে স্টাইলেও আসতে শুরু হয় নানা পরিবর্তন।

ব্লাউজের নানা ধরন

হল্টারনেক

হাতাছাড়া এ-ধরনের ব্লাউজে শুধু কলার থাকে। দুই কাঁধের ফিতা ঘাড়ের পেছনে কলারের মতো জুড়ে থাকে। যাদের দৈহিক গড়ন সুন্দর, তারা গলা, কাঁধ ও পিঠের সৌন্দর্য প্রকাশ করতে এ ব্লাউজ পরতে পারেন।

টিউব চোলি

এই  ব্লাউজে কোনো শোল্ডার থাকে না। মাপজোখ হতে হয় নিখুঁত। এর প্রধান অংশ, সেটা পেছনে বা সামনেও হতে পারে। গলার মাপ খানিকটা বড়ো হবে।

সিঙ্গল শোল্ডার

যাদের কাঁধ বড়ো এ ব্লাউজ তার জন্য উপযোগী। এতে একটিমাত্র শোল্ডার বা ফিতা থাকে, আর কাঁধ কিছুটা খোলা রাখা হয়। শারীরিক গঠন বেশ ভালো হলে এ-ধরনের ব্লাউজ বেশ আকর্ষণীয় লাগে।

করসেট

এ ব্লাউজের কাঁধে সরু স্ট্রাইপ থাকে এবং নিচের অংশ ফিটিং থাকে। যাদের দেহের গড়ন চ্যাপ্টা, তারা করসেট পরতে পারেন। করসেট বানাতে হয় ঠিক মাপে। সঠিক মাপেই এ-ব্লাউজে সৌন্দর্য।

বিকিনি

অনেকটা বিকিনির মতো এই ব্লাউজ। গলার ফিতা বা কাটে পাথর ও মুক্তা বসিয়ে ডিজাইন করা হয়। এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য এর দুই জোড়া ফিতা। এক জোড়া গলায় এবং অন্য জোড়া থাকে কোমরে।

ব্লাউজ নির্বাচনের ক্ষেত্রে কিছু টিপস

শাড়ির সঙ্গে কেমন ব্লাউজ মানাবে বিষয়টি নির্ভর করবে পাড়ের ডিজাইন এবং কোন অনুষ্ঠানে শাড়ি পরা হবে তার ওপর।

শাড়ির ডিজাইন যাই হোক না কেন ব্লাউজে রংটা হবে কন্ট্রাস্ট।

স্থূলকায় হলে হাতাকাটা বা ছোট হাতার ব্লাউজ পরা ঠিক নয়।

বেশি ক্ষীণকায়া হলেও হাতাকাটা ব্লাউজ ভালো মানাবে না।

পিঠে দাগ থাকলে বন্ধগলার ব্লাউজ পরাই ভালো।

শাড়ি ও ব্লাউজ দুটোই জমকালো হলে চলবে না।

ব্লাউজের ডিজাইন কেমন হবে তা শাড়ির কথা মাথায় রেখে নির্ধারণ করুন।

ব্লাউজে কাজ বেশি হলে শাড়ির কাজ কম হবে শারীরিক গঠনের সঙ্গে মিলিয়ে ব্লাউজ তৈরি করুন। হ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here