Home অঁভোগ বিশ্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের সুবিধা ও অসুবিধা

বিশ্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের সুবিধা ও অসুবিধা

3822
0
SHARE

ফেসবুক [ঋধপবনড়ড়শ]-এর সংক্ষিপ্ত হিসেবে এফবি [ঋই] ব্যবহার করা হয়। এটি বিশ্ব-সামাজিক আন্তঃযোগাযোগ ব্যবস্থার একটি ওয়েবসাইট। ২০০৪ সালে ফেসবুক প্রতিষ্ঠিত হয় এবং প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মার্ক জ্যাকারবার্গ, এডুয়ার্ডো  স্যাভেরিন, এন্ডরু ম্যাককলাম, ডাস্টিন ম্যাককলাম, ক্রিস হিউজেস। প্রধান ব্যক্তি মার্ক জ্যাকারবার্গ [চেয়ারম্যান এবং সিইও]। ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০ লাখে পৌঁছায়। বর্তমানে এর সংখ্যা হয়েছে প্রায় ১৮৫ কোটি বা তার বেশি। বিশ্বে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৩৪২ কোটি। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৫২ শতাংশই বা এর বেশি প্রতি মাসে অন্তত একবার ফেসবুকে ডিজিট করেন। ফেসবুকের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় তিন কোটি মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করেন। প্রযুক্তির কল্যাণে ফেসবুক আজ সর্ববৃহৎ সামাজিক নেটওয়ার্ক। এই নেটওয়ার্ক এখন এতটাই জনপ্রিয় যে, যাবতীয় সামাজিক যোগাযোগ ছাড়াও অনলাইন মার্কেটিং এবং বিভিন্ন যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে এটিকেই বেছে নেওয়া হয়।

 

সুবিধা

ফেসবুকে অনেক সুবিধার মধ্যে অন্যতম সুবিধা হলো যোগাযোগ। ফেসবুকে দ্রæত সময়ে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করা সম্ভব। পুরনো বন্ধু-বান্ধবী খুঁজে পাওয়ার নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। পরিচিত ও অপরিচিত অনেককেই এর মাধ্যমে পাওয়া যায়। আমাদের অনেক বন্ধুর ফোন নম্বর অজানা থাকে বা তার ফোন নম্বর পরিবর্তন করে থাকে তারপরও ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা খুব সহজ হয়ে ওঠে।

যেকোনো কাজে আমরা একজন আরেকজনকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিতে পারি। সামাজিক যোগাযোগ [ফেসবুক] মাধ্যমে খুব সহজেই এখন বন্ধুত্বের হাত বাড়ানো যায়। সাহায্য পাওয়া যায়, হতদরিদ্রদেরও সাহায্য করা যায়। ভালো কিছু ভিডিও, নিউজ, লেখা ইত্যাদি শেয়ার করে বন্ধুদের দেখানোর সুযোগ রয়েছে। কারো সঙ্গে ভালো কিছু হলে বা খারাপ কিছু হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক বড়ো আকারে সাড়া পাওয়া যায়।

ফেসবুকের আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আলোচনা। এখানে অনেকেই গ্রæপের মাধ্যমে আলোচনা করে থাকেন। সেটা ব্যবসায়িক, শিক্ষা, সংগঠন, রাজনৈতিক ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা ও পরামর্শ করা হয়। অনেকে নানা ব্যস্ততার মধ্যে থাকে তাই অনেক সময় সংগঠন বা অন্যান্য মিটিং-এ অংশগ্রহণ করতে পারে না বা হঠাৎ কোনো বিষয়ে সংগঠন বা গ্রæপকে জানানোর প্রয়োজন হয় তখন সবাইকে ফোন করা সম্ভব হয়ে ওঠে না তাই গ্রæপে একটি পোস্ট করে দিলে সবাই সেই বিষয়ে জানতে পারে। বর্তমানে ফেসবুকে যে বিষয়টি সবচেয়ে বড়ো আকারে ধারণ করছে সেটা হলো ফেসবুক মার্কেটিং। বর্তমানে নিউজ পোর্টালগুলো বেশিরভাগ ভিউ বা ট্রাফিক নিয়ে আসে এই ফেসবুকের মাধ্যমে। অন্য দিকে অনলাইন শপিং-এর মার্কেটিং করা হচ্ছে এর মাধ্যমে। ফেসবুক থেকে আপনি ইনকামও করতে পারেন। এই মাধ্যমে মার্কেটিং করে।

 

অসুবিধা

যার এত ভালো দিক রয়েছে তার কিছু খারাপ দিকও রয়েছে। ভালো মন্দ মিলে এই ফেসবুক।

ফেসবুকের সবচেয়ে বড়ো সমস্যা হলো সময় নষ্ট করা। বন্ধুরা মিলে আড্ডা দিচ্ছে যেখানে অনেকেই ফেসবুকে ঢুকে বসে আছে যা ওই সময় একটা খারাপ দিক তুলে ধরে। কেউ কাউকে সময় দিতে পারছে না।

ফেক আইডি, মানে ভুয়া নাম, ঠিকানা, অন্য মানুষের ছবি ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্তিতে ফেলছে কিছু সংখ্যক ফেসবুক ইউজার। পরবর্তী পর্যায়ে ভালোবাসার ফাঁদে ফেলছে কেউ কেউ এবং মোটা অংকের টাকাও হাতিয়ে নিচ্ছে।

আইডি হ্যাক, মানে একজন ব্যক্তি অন্য একজনের ফেসবুক আইডিতে ঢুকছে তার অনুমতি ছাড়া। বিভিন্ন কোডিং-এর মাধ্যমে এবং সেখানে আপত্তিকর ছবি বা ভিডিও আপলোড করে বা তাকে ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করছে অনেকেই। অন্যদিকে তরুণ-তরুণীরা ফেসবুকের মাধ্যমে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে তারা অনাকাক্সিক্ষত নানা ঘটনার শিকার হচ্ছে। মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে অনেকেই করছে সাহায্যের নামে ব্যবসা। মানুষের কাছ থেকে নিচ্ছে প্রচুর পরিমাণ অর্থ।

 

সতর্কতা

সব কিছুরই ভালো-মন্দ দিক থাকে। এটা আসলে আমাদের উপর নির্ভর করে আমরা কোনটি করব বা শিখব। ফেসবুক ব্যবহার করার সময় সবদিক বিবেচনা ও সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত। অপরিচিত কারো সঙ্গে অতিরিক্ত কথা না বলাই ভালো। অসময়ে ফেসবুক ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত। আপত্তিকর ভিডিও ফেসবুকের মাধ্যমে দেওয়া-নেওয়া করবেন না। তাহলে কিছুটা সেভ থাকা যাবে। কাউকে নিজ ইমেল আইডি বা পাসওয়ার্ড দেবেন না। কেউ কোনো অযৌক্তিক লিংক দিলে সেখানে ভিজিট করবেন না। সব সময় সতর্কতার সঙ্গে ফেসবুক ব্যবহার করুন। হ

লেখা : সোহান আহামেদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here