Home অন্যান্য নৃত্য আমার ভালোবাসা

নৃত্য আমার ভালোবাসা

327
0
SHARE

নৃত্য আমার ভালোবাসা

– কাজী রায়হান

 

বাবা-মা, শিক্ষকদের ফাঁকি দিয়ে ছুটে চলেছেন নাচ শিখতে, সবকিছুর মূলে ‘নাচ আমাকে শিখতেই হবে’ এমন মনোবল নিয়ে নাচের জগতে প্রবেশ করেছেন নৃত্যশিল্পী কাজী রায়হান। স্বপ্ন স্পর্শ করে একযুগ ধরে অবিরাম পথ হাঁটছেন নাচের জগতে। সম্প্রতি হায়দ্রাবাদের আন্তর্জাতিক সংগীত ও নৃত্যউৎসবে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন এই নৃত্যশিল্পী। আনন্দভুবনের এবারের আয়োজনে থাকছেন নৃত্যশিল্পী কাজী রায়হান…

 

আনন্দভুবন : কেমন আছেন ?

কাজী রায়হান : ভালো।

আনন্দভুবন : কত বছর ধরে নাচের সঙ্গে যুক্ত আছেন ?

কাজী রায়হান : ১২ বছর ধরে স্বপ্নের সঙ্গে পথ হাঁটছি।

আনন্দভুবন : নৃত্যশিল্পী হয়ে ওঠার গল্প জানতে চাইÑ

কাজী রায়হান : ছেলেবেলা থেকেই ইচ্ছে ছিল নাচ করার। মিউজিক শুনলেই আমার ভেতরে কেমন  যেন একটা কাজ করত। একসময় মনে হলো নাচ করতেই হবে। নিজের ভেতরে নাচ গ্রহণ করে নিয়েছিলাম। বলতে গেলে পরিবার থেকে নাচ শেখার সাপোর্ট ছিলই না। বাড়ির ছেলে কেন নাচ করবে ! এটা ইসলাম বিরোধী। কোনো দরকার নেই নাচ করার। আমার চেষ্টা ছিল নাচ করতেই হবে। এটা আমার ভালোবাসার দিক। সেই লক্ষ্য থেকে নাচ শেখা, নাচ করা। ছেলেবেলা থেকেই নাচ শিখছি। কখনো স্কুলের ফাঁকে, কখনো কোচিংয়ের ফাঁকে আবার কখনো বাসার প্রাইভেট শিক্ষককে ফাঁকি দিয়ে দৌড়ে চলে গেছি নাচ শিখতে। যাদের সহযোগিতায় নাচ শিখেছি তাদের কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ। তারা আমাকে অনেক সাপোর্ট দিয়েছেন।

আনন্দভুবন : প্রথম হাতেখড়ি কোথায় ?

কাজী রায়হান : ২০০৮ সালে প্রথম হাতেখড়ি নৃত্যাঞ্চল থেকে। নাহিমা সুলতানা রেখার হাত ধরেই এই জগতে প্রবেশ। নাচের সকল শিক্ষাই আমি তার কাছ থেকে পেয়েছি। পরবর্তীসময়ে শামীমা হোসেন প্রেমার সহযোগিতায় মণিপুরীর উপরে তালিম এবং কলকাতার বিখ্যাত নৃত্যমাতা শ্রীমতি কলাবতি দেবীর সান্নিধ্যে মণিপুরীর ওপর তালিম নিই। গত নয় বছর আমি সেখানেই তালিম নিয়েছি।

আনন্দভুবন : কোন কোন সংগঠনের সঙ্গে কাজ করছেন ?

কাজী রায়হান : নৃত্যাঞ্চল, ভাবনা, তুরঙ্গমি, সৃষ্টি কালচারাল একাডেমী, নৃত্যলোকÑ এগুলোর সঙ্গে কাজ করছি। এ ছাড়া আমার একটি নিজস্ব সংগঠন রয়েছে রুমঝুম নৃত্যালয়।

আনন্দভুবন : প্রথম নাচের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চাই-

কাজী রায়হান : ২০১০ সালের ১৬ ডিসেম্বরে আমি প্রথম নাচ করি বিটিভিতে ‘তারানা’ নামে একটি অনুষ্ঠানে। নৃত্যাঞ্চলের পরিচালনায় হয়ে থাকে অনুষ্ঠানটি। প্রথম নাচ হিসেবে আমার ভেতরে একটা আতঙ্ক কাজ করছিল যে, এই প্রথম এত বড়ো একটা প্লাটফর্মে নাচ করছি কোনো ভুল হবে কি না ! নানা টেনশন কাজ করছিল। তখন রিহার্সেলেও অনেক ভুল হচ্ছিল। সেখানে আমি অনেক বকা খাই সেগুলো আমার এখনো মনে পড়ে। এই শাসনগুলো ছিল বিধায় আমি আজ এই পর্যায়ে আছি। তবে, আমার শো ভালোই হয়েছিল, কোনো ভুল হয়নি এবং অনেক প্রশংসাও পেয়েছি। আর গানটি ছিল ‘দেশে দস্যু এলো মেলা’।

আনন্দভুবন : আপনার সংগঠন ‘রুমঝুম নুত্যালয়’ সম্পর্কে বলুনÑ

কাজী রায়হান : কিছু শিক্ষার্থী আছে যারা আমার কাছে কত্থক ও মণিপুরী নাচের তালিম নিচ্ছে। তালিমের পাশাপাশি তারা বিভিন্ন ওয়ার্কশপ করছে এবং বিভিন্ন জায়গায় পারফর্মেন্স করছে। এই সংগঠনটি আমার পরিচালনায় চলছে। যারা নতুন কাজ করছে বা যারা সুযোগ পাচ্ছে না তাদের আমি বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করাচ্ছি। তাদের একটা প্লাটফর্ম তৈরি করে দেওয়ার চেষ্টা করছি।

আনন্দভুবন : সম্প্রতি ব্যস্ততা কেমনÑ

কাজী রায়হান : সম্প্রতি স্টামফোর্ড থেকে বিবিএ শেষ করলাম। সংগঠন নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় যাচ্ছে। সম্প্রতি হায়দ্রাবাদের শ্রী সুরভি একাডেমি অব পারফর্মিং আর্টস আয়োজিত আন্তর্জাতিক সংগীত ও নৃত্যউৎসবের পঞ্চম আসরে অংশগ্রহণ করেছি। এই উৎসবে বাংলাদেশ ছাড়াও অংশ নিয়েছে চিন, রাশিয়া, স্পেন, জার্মানি, নেপালসহ বেশ কিছু দেশ। তিনশত শিল্পী অংশগ্রহণ করেছে। একমাত্র আমিই বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছি। সেখানে বাংলাদেশকে প্রেজেন্ট করতে পেরে আমি সত্যি গর্বিত। আমি ফোকসংগীতে নৃত্য করেছি। সেখানে অনেক সিনিয়র শিল্পী ছিলেন তাদের সাথে কাজ করতে পেরে ভালো লেগেছে। তারা আমাকে বলেছে, পরের উৎসবে আবার আমাকে সুযোগ দেওয়া হবে।

সাক্ষাৎকার : সোহান আহামেদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here