Home বিশেষ রচনা ত্বক সুন্দর রাখুন শীত উপভোগ করুন

ত্বক সুন্দর রাখুন শীত উপভোগ করুন

85
0
SHARE

শীতের সকালে নরোম রোদে বসে খেজুর রস আর নতুন চালের গুঁড়ো দিয়ে বানানো পিঠা খেতে কী যে মজা যে খায় নি সে তা বুঝবে না। আবার শীতের ভোরে গায়ে আলোয়ান চাপিয়ে কুয়াশার চাদর ভেদ করে মুখ থেকে রাশি রাশি ধোঁয়া বের করে গ্রামের মেঠোপথ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার আনন্দও নেহাৎ কম নয়। একটু বেলা হলে কুয়াশার ঘন আস্তরণ ভেদ করে যখন সূর্যিমামা উঁকি দেয় তখন ধান গাছের ডগায় শিশিরবিন্দুর ঝিকিমিকি বা দিগন্ত বিস্তৃত হলুদ সর্ষেক্ষেতের মায়াবি আমন্ত্রণও বেশ মধুর। তবে শীতের এইসব সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য চাই সুস্থ্য-সুন্দর ত্বক। কেনানা আমাদের অতি স্পর্শকাতর ত্বক অনেক ক্ষেত্রেই শীতের শুষ্কতা সহ্য করতে পারে না। ফেটে চৈত্রমাসের মাঠের মতো চৌচির হয়ে যায়। তাই শীতে চাই ত্বকের বাড়তি যতœ। জেনে নিন কেমন করে শীতের শুষ্কতা থেকে রক্ষা করবেন আপনার হাত-পা-শরীরের ত্বক…

শুষ্ক বা ফাটা ঠোঁটের সমাধান
একটি পরিষ্কার ভেজা কাপড়ে চিনি নিয়ে সেটি ঠোঁটে আলতো করে ঘষে নিলে ঠোঁটের মরা চামড়াগুলো উঠে যাবে। এরপর ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ঠোঁটে নারকেল তেল লাগালে ভালো ফল পাওয়া যায়। তাছাড়া ঠোঁটের যতেœ আধা চামচ মধু এবং এক চামচ অলিভ ওয়েল মিশিয়ে ঘুমানোর আগে ঠোঁটে লাগিয়ে রাখতে হবে।
১. শীতকালের শুষ্কতা থেকে রেহাই পেতে নিয়মিত লিপ বাম বা অ্যালোভেরা যুক্ত ভ্যাসলিন পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করা যেতে পারে।
২. প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ গøাস পানি পান করতে হবে। এতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকবে। তাই শরীর আর্দ্র রাখতে প্রচুর পানি পান করতে হবে।
৩. খুব ঠান্ডা থেকে মুখের ত্বক বাঁচাতে স্কার্ফ পরা যেতে পারে।
৪. ঠোঁটে প্রসাধনী ব্যবহারের ক্ষেত্রে ময়েশ্চারাইজার সমৃদ্ধ লিপস্টিক বেছে নিতে হবে।
৫. জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানো উচিত নয়। আবার ঠোঁটে মরা চামড়া হলে সেটি টেনে তোলাও উচিত নয়।

নরম গোলাপি ঠোঁট পেতে
এক চা-চামচ অলিভ অয়েলের সঙ্গে এক চা-চামচ চিনি মিশিয়ে ঠোঁটের জন্য ঘরোয়া স্ক্রাব তৈরি করা যায় এই মিশ্রণ ঠোঁটে লাগিয়ে ৫ থেকে ১০ মিনিট ধরে আলতো করে ঘষে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। তারপর ঠোঁটে লিপ বাম লাগিয়ে নিতে হবে। এই ঘরোয়া স্ক্রাব ঠোঁটের মরা কোষ পরিষ্কার করে ঠোঁট নরোম ও গোলাপি রাখতে সাহায্য করবে।

ঠোঁট নরোম করার উপায়
১. পাকা পেঁপে চটকে তার সঙ্গে দুধের মাঠা মিশিয়ে একটা মিশ্রণ তৈরি করতে হবে। সেটা ঠোঁটে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর টান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এই প্রলেপ ঠোঁটের পুষ্টিও জোগাবে।
২. সমান পরিমাণে লেবুর রস আর মধু মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করতে হবে। এরপর ভালো করে মিশ্রণটি ঠোঁটে লাগিয়ে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করে নরম কোনো ভেজা কাপড় দিয়ে আলতো করে ঘষে তুলে ফেলতে হবে। এটি চাইলে প্রতিদিনে এবং দিনে একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে।
৩. সান ট্যান ছাড়াও ঠোঁট বেশি শুষ্ক হয়ে গেলে ঠোঁট কালো হয়ে যেতে পারে। রোজ রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ভালো করে ঠোঁটে গিøসারিন লাগিয়ে নিতে হবে। এর ফলে ঠোঁটে আর্দ্রতার পরিমাণ ঠিক থাকবে আর নিয়মিত ব্যবহারে ঠোঁটের রং-ও স্বাভাবিক হয়ে আসবে। ঠোঁটের কালো দাগ দূর করতেও এই পদ্ধতি বেশ উপকারী।
৪. এক টুকরা বিট নিয়ে হাল্কা করে ঠোঁটে মালিশ করতে হবে। বিটের রস ট্যান বা পোড়াভাব দূর করতে সাহায্য করে আর কিছুদিনের মধ্যেই ঠোঁটের রং স্বাভাবিক গোলাপি হয়ে উঠবে।
৫. শশার রস কালো দাগ উঠাতে দারুন কার্যকর। রোজ নিয়ম করে ঠোঁটে শশার রস লাগালে কিছুদিনের মধ্যেই ঠোঁটের কালচেভাব অনেকটাই কমে আসবে।
৬. ঠোঁটের ত্বক অত্যন্ত নমনীয়। তাই বিশেষ যতœ নেওয়া উচিত। ঠোঁটে লিপ বাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে এপিএফ যুক্ত লিপ বাম ব্যবহার করতে হবে।

শীতে হাতের যতœ
আমাদের শরীরের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় অঙ্গটি হচ্ছে হাত। কারণ এটিই সবচেয়ে বেশি সক্রিয় তাকে। শীতে আমাদের ত্বক এমনিতেই শুষ্ক হয়ে যায়। হাত বেশি কাজে লাগে বলে তাই এ সময় হাতের অবস্থা হয় সব থেকে নাজুক। তবে শীতে একটু বাড়তি যতœ নিলেই হাত থাকবে সুন্দর ও কোমল।

শীতে হাতের যতেœ কিছু টিপস
* ঘরের কাজ তো করতেই হয়, সবজি কাটা, কাপড় কাচার পরে হাত ভালো করে ধুয়ে ভেজা হাতে ম্যাসাজ ওয়েল মেখে নিন। এরপর খানিকটা লিকুইড সোপ নরম ব্রাশে নিয়ে হাতের কোণে জমা ময়লা বা মরা চামড়া ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। তারপর ভালো কোনো ক্রিম লাগিয়ে নিন দু’হাতে।
* শীতে বাইরে যাওয়ার সময় দু’হাতে অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার মেখে বের হবেন।
* বারবার হাত পানিতে ভেজালে ত্বক ফুলে ওঠে। শীতে এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে। এ অবস্থায় হাত পানিতে কম ভেজানোর চেষ্টা করবেন।
* হাত মোলায়েম ও মসৃণ রাখতে নিয়মিত স্ক্র্যাব ও মাক্স ব্যবহার করুন।
* ঘরে তৈরি স্ক্র্যাব, ১টি পাতিলেবুর রস ও ২ চা-চামচ চিনি মিশিয়ে এই মিশ্রণটি হাতে দিয়ে ঘষে ঘষে মেলাতে পারেন, মরা কোষ উঠে মসৃণ হবে।
* ঘরে তৈরি মাক্স, হাতের উজ্জ্বলতা বাড়াতে ১ টেবিল-চামচ ময়দা দুধে গুলে হাতে মেখে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে নিন।
* হাতের ত্বক খুব পাতলা হয়। ফলে একটু অযতেœই হাতের ওপরের ত্বকে কুঞ্চন দেখা দেয়। তাছাড়া বিবর্ণ হওয়াও একটি বড়ো সমস্যা।

শীতে গিøসারিনের ব্যবহার
নানা কাজে দীর্ঘদিন ধরেই গিøসারিন ব্যবহার করছে মানুষ। চিকিৎসা, খাদ্য, ব্যক্তিগত ছাড়াও বিভিন্ন কাজে এটির অনেক ব্যবহার রয়েছে। শরীরে ত্বকের শুষ্কতা ও নানাবিধ সমস্যা দূর করার কাজে গিøসারিন ব্যবহার করা হয়। শীতের সময় ত্বকের যে স্বাভাবিকতা নষ্ট হয় তা ফিরিয়ে আনে গিøসারিন। গিøসারিনের চটচটে ভাব দূর করতে গিøসারিনের সঙ্গে অল্প পানি যোগ করে ত্বকে ব্যবহার করুন গিøসারিন। তা হলে শীতেও থাকবে আপনার ত্বক মোলায়েম ও সুন্দর।

পেট্রোলিয়াম জেলি
শীতে আমাদের ত্বক হয়ে পড়ে খসখসে। এই শুষ্কতাই বলে দেয় আমাদের ত্বকের বাড়তি কিছু প্রয়োজন। শীতের শুষ্কতা থেকে বাঁচতে হলে প্রয়োজন বাড়তি যতœ। আমাদের দেশে শীতকালের আবহাওয়া বেশ শুষ্ক, যা আমাদের শরীরের আর্দ্রতা কেড়ে নিয়ে ত্বক রুক্ষ করে ফেলে। শীতের এই সমস্যা থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষা দিতে পারে পেট্রোলিয়াম জেলি। এটি ত্বক সংকোচন হওয়া থেকে রক্ষা করে ও ত্বকের শুষ্কতা দূর করে।
পেট্রোলিয়াম জেলি ঠান্ডার বিরুদ্ধে একটি প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে পেট্রোলিয়াম জেলির ময়েশ্চারাইজার ত্বক নরম রাখে। এটি ত্বকের ছোটোখাটো পোড়া সারিয়ে তোলে। ত্বকের সুরক্ষা প্রদানে প্রাকৃতিক ক্ষমতা রয়েছে পেট্রোলিয়াম জেলির। শীতে পানির কাজ শেষ করে ত্বককে দিতে পারেন পেট্রোলিয়াম জেলির ছোঁয়া।

অলিভ ওয়েল
অলিভ ওয়েল যদি হয় একশ’ ভাগ খাঁটি ও প্রাকৃতিক তবে সেই অলিভ ওয়েল ব্যবহারে ত্বক হয়ে ওঠে নরম ও কমনীয়।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বক তার স্বাভাবিক সতেজতা হারিয়ে ফেলে। ত্বকে বলিরেখা পড়ে। অলিভ ওয়েল এই বলিরেখা দূর করে ত্বক বুড়িয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। তা ছাড়া এই তেলে শিশুদের শরীরে মালিশ করলে হাড় মজবুত হয়। ঘরের রান্নার কাজে ব্যবহার ছাড়াও বিভিন্ন পার্লারে অলিভ ওয়েল ব্যবহার করে ত্বকের পরিচর্যা করা হয়। নিয়মিত অলিভ ওয়েল ব্যবহারে শরীরের রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে, শরীরের স্ট্রেস কমে যায় ও ত্বক আগের চেয়ে মসৃণ হয়ে ওঠে।

শীতেও কোমল পা
আমাদের দেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হচ্ছে পা। শীতে পা ফেটে যাওয়া খুব নিয়মিত একটি ব্যাপার। একটু যতœ নিলেই শীতে পায়ের ত্বক ও গোড়ালি রাখা যায় কোমল ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল। পায়ের ফাটা প্রতিরোধে যা করা যেতে পারে…
খালি পায়ে হাঁটা যাবে না। আর পায়ে ধুলা-ময়লা লাগলে সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার করতে হবে।
গোসলের সময় অমসৃণ মেঝে কিংবা ঝামা ইট বা গোড়ালি ঘষার উপকরণ দিয়ে ঘষে ঘষে গোড়ালির মরা চামড়া দূর করতে হবে। এ শীতে প্রতিদিন এটি করলে পায়ের গোড়ালি ভালো থাকবে।
গোসল বা প্রতিবার পা ধোয়ার পর ভালো করে মুছে এরপর পেট্রোলিয়াম জেলি বা গিøসারিন লাগিয়ে নিন। এতে মসৃণ ভাব টিকে থাকবে। রাতে কখনই মোজা পরে ঘুমাবেন না। যদি মোজা ব্যবহার করেন তা হলে নাইলনের মোজা ব্যবহার না করে সুতির মোজা পরুন।
প্রতিদিন গোসলের আগে পায়ে তেল মেখে নিন। অলিভ অয়েল খুব কার্যকর এ শীতে।
তারপর সাবান দিয়ে পায়ের চামড়া, গোড়ালি, আঙুলের কোণা ও ধারগুলো পরিষ্কার করুন। হাল্কা গরম পানি দিয়ে পা ধোবেন। এতে কোমল ভাব বজায় থাকবে। নখ পরিষ্কার করুন নেল ব্রাশ দিয়ে নখের চারপাশ, মাঝখানের অংশও।
প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কোনো ভালো পেট্্েরালিয়াম জেলি দিয়ে পা ম্যাসাজ করবেন। এতে পায়ের সৌন্দর্য বাড়বে এবং পা ফাটবে না।
সপ্তাহে অন্তত দুই দিন উষ্ণ পানিতে পা ভেজাবেন। এতে শরীরের রক্তপ্রবাহ ভালো হয়। এছাড়া নখও খুব ভালো থাকবে।
পরিষ্কার, সুন্দর, কোমল দুটি পা অন্যের সামনে আমাদের সৌন্দর্যের সঙ্গে রুচি তুলে ধরে। পায়ের যতœ নিয়ে পায়ের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনুন।

পা ফাটা কমাতে যা করবেন
পা সবসময় পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করতে হবে। শীতকালে ঘরে খালি পায়ে হাঁটাহাঁটি করবেন না। বাইরে থেকে এসে উষ্ণগরম পানিতে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে পা ধুয়ে ফেলুন। শুকনো করে মুছে লোশন লাগান। রাতে শোয়ার আগে যেকোনো ফুটক্রিম, গিøসারিন অথবা পেট্রোলিয়াম জেলি দিয়ে ১০ মিনিট ম্যাসাজ করুন। এতে করে পায়ের রক্ত সঞ্চালন বাড়বে। তা ছাড়া নিয়মিত পায়ের এক্সারসাইজ করলে পা ভালো থাকবে। শীতে একজিমার মতো চর্মরোগে অনেকেই ভোগেন। এক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ মতো চলতে হবে।

ঘরোয়া পেডিকিউর
পায়ের যতেœ ঘরে বসে নিজেই করে নিতে পারেন পেডিকিউর। কয়েকটি পর্যায়ে এই পেডিকিওর করে নিতে হবেÑ
ষ হাল্কা গরম পানিতে লেবুর রস, শ্যাম্পু এবং লবণ মিশিয়ে ১৫-২০ মিনিট পা ডুবিয়ে রাখুন।
ষ পলিশ স্টোন দিয়ে পায়ের শক্ত চামড়া ঘষে তুলুন।
ষ ব্রাশের সঙ্গে সামান্য শ্যাম্পু দিয়ে ঘষে পায়ের ত্বক ও নখের কোণে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করুন এবং কিউটিকল কাটুন।
ষ স্ক্রাব দিয়ে গোড়ালি থেকে হাঁটু পর্যন্ত ম্যাসাজ করার পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করে ধুয়ে শুকনো করে মুছুন।
ষ পায়ে ফুটক্রিম, লোশন বা পেট্রোলিয়াম জেলি ম্যাসাজ করুন।
ষ নখ কাটার সময় খুব ছোট করবেন না, নেইল কাটার দিয়ে চাহিদা মতো শেইপ করুন। নখের কোণা যেন চামড়ায় গেঁথে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

পায়ের যতেœ ভিটামিন ও মিনারেল যুক্ত খাবার
া শরীরে ভিটামিন বা মিনারেলের ঘাটতি হলে পা বেশি ফাটে। তাই পায়ের যতেœ এ-জাতীয় খাদ্য বেশি খেতে হবে
া সবুজ শাকসবজি ও বাদামে ভিটামিন আছে যা আপনার ত্বকের জন্য উপকারী
া দুধ, পনির, দই, ব্রকোলি, মাছ-মাংসে পাবেন প্রচুর পরিমাণে মিনারেল
া মৌসুমি ফল খান
া ব্যালেন্স ডায়েট মেনে চলুন

জুতা ব্যবহারে যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে
ঁ জুতা পরার আগে পা পরিষ্কার করে নিন। শীতে পায়ের আর্দ্রতা রক্ষায় পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে শুকিয়ে নিন। প্রতিদিন একই জুতা ব্যবহার করা উচিত নয়। কমপক্ষে ২ জোড়া জুতা ব্যবহার করুন।
ঁ চামড়া বা কাপড়ের জুতা মাঝেমধ্যে রোদে শুকিয়ে নিতে পারেন। এতে জীবাণু ধ্বংস হবে।
ঁ জুতার ভেতর পাউডার কিংবা বরিক এসিড পাউডার বা দুর্গন্ধনাশক ফুট স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন।

শীতকালে মোজার ব্যবহার
শীতকালে হাত এবং পা উভয় অঙ্গেই মোজার ব্যবহার হয়ে থাকে। হাতমোজাগুলো সাধারণত নাইলন, লেদার, উল নানা ধরনের হয়ে থাকে। অন্যদিকে পায়ের জন্য সুতি, নাইলন এবং উলের মোজার ব্যবহার হয়ে থাকে। মোজার ব্যবহারেও হতে হবে যতœশীল। অন্যথায় দেখা দিতে পারে স্কিনের বিভিন্ন সমস্যা।

মোজা ব্যবহারে যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে
য় মোজা পরার আগে প্রতিবার পা মুছে নিতে হবে।
য় মোজা পায়ের ঘাম শুষে নেয়। তাই প্রতিদিন এক মোজা ব্যবহার করা যাবে না। প্রতিদিনের ব্যবহৃত মোজা ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে নিন। একাধিক মোজা সঙ্গে রাখতে পারেন।
য় শীতের সময় নাইলনের মোজা ব্যবহার না-করাই ভালো। উল বা সুতির তৈরি মোজা ব্যবহার করুন।
য় শীতে গাঢ় রঙের মোজা ব্যবহার করলে ওম বেশি পাওয়া যায়। বাচ্চাদের জন্য ফুল-পাতা বা কার্টুনের ছবি সংবলিত মোজা ব্যবহার করা যায়।
য় রাতে ঘুমানোর সময় মোজা পরা উচিত নয়। তবে সুতির মোজা ব্যবহার করতে পারেন। শীতকালে জুতা-মোজা দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহারের কারণে পা আবদ্ধ থাকে। তাই কিছুটা সময় পা খোলা বাতাসে রাখা উচিত। এতে পা অক্সিজেনের সংস্পর্শে থাকে যা ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে বাধা দেয়। তাই দুর্গন্ধও হয় না। হ
গ্রন্থনা : ফাতেমা ইয়াসমিন, তৃষা আক্তার

শীতে চাই সুন্দর ত্বক
ডা. তাওহীদা রহমান ইরিন

এই শীতে শুষ্ক ত্বকের সমস্যায় ভুগছেন ?
শীত যখন আসে, আমাদের ত্বককে পরিবেশের দুটো জিনিসের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হয়। একটি হচ্ছে তাপমাত্রা, আরেকটি আর্দ্রতা। শীতে এ দুটোই কমে যায়। প্রকৃতির সেই প্রভাব পড়ে ত্বকের ওপর। শুষ্ক এ-মৌসুমে আর্দ্রতার অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আমাদের ত্বক, ত্বকে আসে নিষ্প্রাণ ভাব।

শীতে ত্বকের যতেœ কী করবেন কী করবেন না
ত্বকের পরিচর্যায় প্রথমে আসে ত্বকের ধরন। আমরা সাধারণত ধরন বলতে বুঝি শুষ্ক, তৈলাক্ত বা স্পর্শকাতর ত্বক। কিন্তু এছাড়া আমাদের ডার্মাটোলজিস্টেরা ত্বকের একটি ধরনের কথা বলে থাকি। চুলের রং, চোখের আইরিশ ও ত্বকের টোনের ওপর বিষয়টি নির্ভর করে। এভাবে আমরা ছয়টি ধরন করি। টাইপ ১, ২, ৩ হলো একটু বেশি সাদা। টাইপ ৪, ৫ হলো বাদামি ত্বক। আর ৬ হলো একটু কালো ত্বক। সাধারণত এটা আফ্রিকানদের হয়ে থাকে।
টাইপ ১, ২ ও ৩-এর ক্ষেত্রে পোড়ে বেশি, তবে ট্যান কম হয়। আর আমরা যারা বাঙালি, তাদের ট্যান বেশি হয়, পোড়ে কম। শীত এলে আমাদের প্রথম ভয় হলো ত্বক সতেজতা হারাবে, একটু কালো হয়ে যাবে। আমরা তাই অনেক বেশি বিøচিং উপাদান বা লাইটেনিং উপাদান ব্যবহার করতে থাকি। এতে শীতের শেষে দেখা যায়, হয়ত অতিরিক্ত ময়েশ্চারাইজারের কারণে ত্বকে ব্রন হচ্ছে। অথবা পোস্ট ইনফ্লামেটরি হাইপার পিগমেন্টেশন হয়ে যাচ্ছে।
যেকোনো ত্বকের ধরনের জন্য অবশ্যই দরকার এক বছর মেয়াদি এসপিএফ রুটিন। এসপিএফ রুটিন বলতে আমরা সানস্ক্রিনই বলব না, দিনে আমরা ঘরে বা বাইরে যাওয়ার জন্য যে পণ্যগুলো ব্যবহার করি, যেমন বেবি ক্রিম বা বিভিন্ন ভ্যানিশিং ক্রিমÑ এগুলোর সবকিছুতে এসপিএফ থাকতে হবে। শীতকাল দেখে যে আমি এসপিএফযুক্ত কিছু ব্যবহার করব না, এটি একদম ভুল। কারণ, শীতেও আলট্রাভায়োলেট রে বলিরেখা ও সানবার্ন দুটোই করে। আমরা এসপিএফ ও সানস্ক্রিনের সঙ্গে বেশি পরিচিত। আমাদের যে বাদামি ত্বক, ৪ ও ৫ নম্বর ধরনের, সেখানে এসপিএফ ৩০ ও ৫০ পর্যন্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা বেশি ভালো হবে। স্বাভাবিক ত্বকের জন্য এমন একটি পণ্য ব্যবহার করুন, সেটি সানক্রিম হোক বা ময়েশ্চারাইজার পণ্য, সেটি আমাদের বয়সের গতি রোধ করে।

আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্য কোন কোন বিষয় মনে রাখা উচিত
শীতকালে ত্বকে চলে আসে বাড়তি শুষ্কতা। যাদের শুষ্ক ত্বক, তাদের ত্বক তো আরো শুষ্ক হয়ে যায়। প্রথমত ত্বকে যে ক্লিনজার ব্যবহার করব, যদি অয়েল সমৃদ্ধ হয়, দেখা যাবে একটি বাড়তি ময়েশ্চারাইজার ত্বকে চলে আসছে। আর এরপর যখন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করব, দুটো জিনিসের ওপর খেয়াল করতে হবে। দ্বিতীয়ত আমাদের ত্বকে লিপিড নামে একটি পদার্থ থাকে। সিমেন্ট যেমন ইটের ভাঁজে ভাঁজে দেওয়া হয়, সে রকমই লিপিড আমাদের ত্বকের আর্দ্রতা রক্ষা করে। শীতকাল এলে লিপিডটা নষ্ট হতে থাকে। তাই শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে পেট্রোলিয়াম জেলি, ফেসিয়াল ওয়েল, সেরামাইড লিপিডযুক্ত ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন।
ঠোঁটের ত্বক কিন্তু একটু পাতলা। শীতকালে ঠোঁট অনেকটা কালো হয়ে যায়। কারণ, অক্সিজেনেশনের অভাব, এরপরও আবার ঠোঁটের চামড়া উঠে যায়। ছেলেদের ক্ষেত্রে এ সমস্যাগুলো বেশি হয়। কেননা মেয়েরা যাই হোক, কিছু একটা ব্যবহার করছে। ঠোঁটের ময়েশ্চারাইজার কিছুটা হলেও বজায় থাকে। ছেলেদের ক্ষেত্রে সেটা হচ্ছে না। ঠোঁটে আমাদের লিপ বাম ব্যবহার করতে হবে। ঠোঁট কোনোভাবে শুষ্ক রাখা যাবে না। আর যখন ১০টা থেকে ৫টার মধ্যে বাইরে যাব, এসপিএফ ১৫ যুক্ত কোনো লিপ বাম বা চ্যাপস্টিক বা লিপস্টিক ব্যবহার করব। এগুলো ঠোঁটের জন্য উপযোগী হবে।
লিপস্টিক যারা ব্যবহার করে, তাদের প্রতি পরামর্শ হলো, সুন্দর একটি রং দেখে, এর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ঠোঁট রাঙিয়ে নিলাম সেটি ঠিক হবে না। ভালো পণ্য ব্যবহার করতে হবে। যেন এটি লেড, ক্যাডমিয়াম, এলার্জেনমুক্ত হয়।

শীতে চুলের যতেœ যা করতে হবে
চুলে এ-সময়ে একটি বাড়তি শুষ্কতা, রুক্ষতা আসে। সবাই অভিযোগ করে, আমার চুলের আগা ফেটে যাচ্ছে অথবা চুল ভেঙে যাচ্ছে। এগুলো এ-সময়ে বেশি হয়। শীতের আগেই আপনারা চুল ট্রিম করবেন। এতে শীতে একটা নতুন লুকও আসবে। সঙ্গে সঙ্গে চুল স্বাস্থ্যকর থাকবে। বাইরে বের হলে একটি হালকা কাপড় দিয়ে মাথাকে স্কার্ফ করি, আর ছেলেরা যদি গেঞ্জি কাপড়ের হুডি ব্যবহার করে, তা হলে কিন্তু চুল সুরক্ষিত থাকে।
এরপর আসি চুল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয় নিয়ে। শীতে গোসলের প্রতি একটি ভীতি থাকে। এগুলো থেকে চুলে খুশকি, উকুন সব হয়। সপ্তাহে তিনদিন তো শ্যাম্পু করতেই হবে চুলের ধরন অনুযায়ী। ত্বকের মতো চুলেও ময়েশ্চারাইজার প্রয়োজন। এখানে আমরা একে বলি কন্ডিশনার। চুল ধোয়ার আগে ২০ মিনিট কোনো প্রাকৃতিক তেল দিয়ে শ্যাম্পু করি, এটি মাথার ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখবে। কিন্তু সময় হয় না। তো, চুল ধোয়ার পর আমরা যদি একটি কন্ডিশনার বা হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করি এবং সেটি চুলের গোড়ায় না দিয়ে এক সেন্টিমিটার দূরে ব্যবহার করে তিন-চার মিনিট পরে ধুয়ে ফেলি, এটি ভালো কাজ করে। খুশকি যাদের আগে থেকেই আছে, তাদের এই সময়টায় বেশি বেড়ে যায়। খুশকি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে হয়। শীতের সময় অনেকে আলসেমি করে চুল ধুতে চান না। এতে চুলের ক্ষতি হয়, খুশকি বাড়ে। অনেক সময় কন্ডিশনার মাথায় থেকে গেলে খুশকি হয়। কিছু রোগের ক্ষেত্রেও খুশকি বেড়ে যায়। আর যাদের ত্বক শুষ্ক, তাদের ক্ষেত্রে খুশকি আরো বেড়ে যায়। খুশকির ক্ষেত্রে সপ্তাহে তিনদিন যে শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে, সেটি একটু ভিন্ন রকম হবে। মেডিকেটেড শ্যাম্পু। কিটোকোনাজল বা জিংকা বা স্যালেনিয়াম সালফাইডযুক্ত কোনো শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। সেটি অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। আর যদি খুশকির প্রবণতা আগে থেকেই থাকে, কিন্তু খুশকি তেমন হচ্ছে না, সে ক্ষেত্রে প্রতিসপ্তাহে আমি একদিন করে অ্যান্টিডেনড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করার পরামর্শ দেব।

শীতে ত্বক সজীব রাখতে
যা খাবেন
কিছু খাবার আছে, যা খেলে শীতেও আপনার ত্বক থাকবে উজ্জ্বল। মাছ, ডিম, মিষ্টি আলু, মিষ্টি কুমড়া, গাজর, অলিভ ওয়েল, বাদাম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো খাদ্যতালিকায় রাখুন। ভিটামিন সি-যুক্ত খাবার যেমন কমলা, মালটা, বাতাবি লেবু ত্বককে কোমল রাখে, শরীর ডিটক্স করতে সাহায্য করে। ত্বকের রুক্ষতা এড়াতে নারকেল, নারকেলের দুধ, নারকেলের তেল খেতে পারেন। শুষ্ক ত্বকের জন্য নারকেল মিরাকল ফুড হিসেবে পরিচিত। হ
লেখক : ডার্মাটোলজিস্ট, শিওর সেল মেডিকেল [বাংলাদেশ] লি.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here