Home আকাশলীনা টিভিনাটকে পরিবর্তন…

টিভিনাটকে পরিবর্তন…

122
0
SHARE

টিভি নাটকের পরিবর্তন প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরেই চলে আসছে। দেশের প্রথম টিভি চ্যানেল বিটিভি’র কাল থেকে এই সময়ে অনেক রঙিন মুখের আবির্ভাব ঘটেছে। মিডিয়াজগতের এই দীর্ঘ পথপরিক্রমায় নতুন প্রজন্মের বেশকিছু অভিনয়শিল্পী নিজস্ব অভিনয়শৈলী দিয়ে দর্শকের নজর কেড়েছেন। গড়েছেন শক্ত অবস্থান। টিভিনাটকে প্রজন্মের সেই পরিবর্তনের কথা তুলে ধরছেন শেখ সেলিম…

 

গত শতকের নয়ের দশক পর্যন্ত দেশে বিনোদনের জন্য একটাই চ্যানেল ছিলÑ বাংলাদেশ টেলিভিশন। অন্যান্য অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বিটিভি’র নাটক ছিল মানসম্মত। সংশপ্তক, কোথাও কেউ নেই, আজ রবিবার, বহুব্রীহি, নক্ষত্রের রাত এই ধারাবাহিক নাটকগুলো ছিল সে-সময়ের অনন্যসাধারণ সৃষ্টি। তখন দর্শকপ্রিয় এসব নাটকে অভিনয়ে ছিলেন জাঁদরেল সব অভিনয়শিল্পী। তাদের অভিনীত একটার পর একটা মন ভোলানো নাটক আমরা দেখেছি। সেই আশির দশকে হুমায়ূন আহমেদ নাট্যজগতে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। আলী যাকের, আসাদুজ্জামান নূর, সারা যাকের, আফজাল হোসেন, নিমা রহমান, সুবর্ণ মোস্তফা, বিপাশা, মেহের আফরোজ শাওন, জহিরুদ্দিন পিয়ার, ত্রপা মজুমদার, তারানা হালিম, শমী কায়সার, তারিক আনাম খান, হুমায়ুন ফরীদি, আফসানা মিমি, জাহিদ হাসান, অপি করিম, আজিজুল হাকিম, শহিদুজ্জামান সেলিম, তমালিকা, ঈশিতা, তারিন, টনি ডায়েস, মেঘনা, ইলোরা গহর হুমায়ূনকন্যা শিলাসহ আরো অনেকেই ছিলেন একসময় ছোটোপর্দার উজ্জ্বল তারকা। আফজাল-সুবর্ণা জুটির ক্রেজ তখন তুঙ্গে। অভিনয় ছিল দুর্দান্ত। নাটক তৈরি হতো কম। কিন্তু নাটক হতো মনে রাখার মতো। যেমন গল্প তেমন পরিচালনা তেমনি অভিনয়শৈলী। মনে হতো যেন নিজের জীবনে নিজেদের পরিবারে এই ঘটনাপ্রবাহ ঘটে চলেছে। ২৪ ইঞ্চি টিভির সামনে মন্ত্রমুগ্ধের মতো বসে থাকত মধ্যবিত্তশ্রেণি।

পরবর্তীসময়ে অনেক অভিনয়শিল্পীই মিডিয়ায় এসেছেন। কাজ করেছেন বা করছেন। কিন্তু এসব প্রজন্মের শিল্পীকে নিয়ে আগ্রহ বা তাদের পরিচিতি নিয়ে দর্শকের মাঝে আগ্রহ খুবই কম। এই হাল আমলে সিনিয়র অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নামের পর স্বাভাবিকভাবে কিছু তরুণ প্রজন্মের অভিনয়শিল্পীরা দর্শকের দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হচ্ছেন। বয়েসে ছোটো হলেও সিনিয়রদের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই কাজ করছেন তারা। জনপ্রিয়তার দিক থেকেও তারা পিছিয়ে নেই অনেক সিনিয়রের থেকে। এসব শিল্পীর নামের তালিকায় আছেন অপূর্ব, আফরান নিশো, বিদ্যা সিনহা মিম, জোভান, তৌসিফ, ইরফান সাজ্জাদ, শখ, মেহজাবিন, তানজিন তিশা, মৌসুমী হামিদ, ঊর্মিলা, নাবিলা ইসলাম, নাবিলা করিম, শবনম ফারিয়া, নাদিয়া খানম নদী, টয়া, সাফা, সাবিলা নূর, ফারিন, তাশনোভা তিশা প্রমুখ।

এরা প্রত্যেকেই আলাদা করে দর্শক ধরে রেখেছেন। নতুন প্রজন্মের অসংখ্য যুবকের হৃদয় কাপানো তারকা মেহজাবিন চৌধুরী। বেশ কয়েকটি নাটকে দুর্দান্ত অভিনয় করে তিনি আছেন লাইমলাইটে। মুমতাহিনা টয়া তরুণ প্রজন্মের তারকা মডেল ও অভিনয়শিল্পী। টয়া অভিনয় করেছেন বেশ কিছু স্বল্পদৈর্ঘ্য ও ওয়েব সিরিজে। ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর দেখতে মিষ্টি আর অভিনয়েও পারদর্শী। যেকোনো বিষয়ে খুব সহজেই মানিয়ে নেন নিজেকে। তাই নির্মাতারাও ঊর্মিলাকে নিয়ে কাজ করেন আগ্রহের সঙ্গে। অন্যদিকে অনবদ্য অভিনয়ের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন তৌসিফ। সেইসঙ্গে আলাদা করে বাড়িয়ে নিচ্ছেন ভক্ত-অনুসারীর সংখ্যাও। তরুণ ছেলেদের ক্রাশ শবনম ফারিয়া। ভালো করেন অভিনয়। চরিত্রের সঙ্গে সহজেই মানিয়ে নিতে পারেন নিজেকে। তাই তো বিশেষ দিবসে নির্মাতাদের মধ্যেও ফারিয়ার আগ্রহ একটু বেশিই লক্ষ্য করা যায়। তরুণ প্রজন্মের অভিনেতাদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে জোভান আহমেদের। এই ঈদে বেশ কিছু ভিন্ন ধরনের কাজ করে ইতোমধ্যেই আলোচনায় এসেছেন তিনি।

তরুণ প্রজন্মের কাছে এই সময়ে জনপ্রিয়তার কাতারে রয়েছেন ফারিন, সাফা কবির, নাদিয়া খানমের মতো প্রতিশ্রæতিশীল ক’জন শিল্পী। তাদের অভিনয় এই সময়ে তরুণ নাট্যকার, নির্মাতা ও দর্শকের কাছে দারুণ গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

শখ টিনএজ চরিত্রগুলোতে বেশি মানানসই এ-ধারণা ভেঙে দিতে এর বাইরেও কয়েকটি নাটকের কাজ করেছেন শখ। বড়ো পর্দায় দুটি চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। নাবিলার পরিচিতি মূলত উপস্থাপিকা হিসেবেই। অমিতাভ রেজার আয়নাবাজি ছবিতে অভিনয় করে দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন।

বেশ কয়েকজন শিল্পী তাদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারলেও, কোথায় যেন একটা ঘাটতি রয়েই গেছে। আগে পরিবারের সকলে মিলে অপেক্ষা করতেন এই সপ্তাহের নাটক বা ধারাবাহিক নাটক দেখার জন্য। নাটক দেখে তারা আলোচনা করতেন গল্প নিয়ে। ঘুমাতে গেলেও দর্শক আলাপ করত সেইসব নাটকের কাহিনি নিয়ে। কিন্তু এখন ! আগে নাটক হতো পরিবারকেন্দ্রিক, পরিবারের নানা গল্প উঠে আসতো নাটকে। এখন দুইজন শিল্পী নিয়েই শেষ করা হচ্ছে নাটক। এখানে পরিবার নেই, পরিবারের গল্প নেই। এই প্রজন্ম যেন পরিবারবিহীন ! যা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে প্রতি মুহূর্তে। শুধু এখানেই শেষ নয়, আগের প্রজনো¥র শিল্পীরা তার সিনিয়রদের সম্মান করতেন, এখন আর তা চোখে পড়ে না। হবেই বা না কেন, আগের শিল্পীরা থিয়েটার করে শিখে এই মাধ্যমে আসতেন, আর আজ ফেসবুক বা অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যম থেকেই নায়িকা বনে যান। এই দায়-ভার কার উপর বর্তাবে ? শুধু এখানে শেষ নয়, দুয়েকটা নাটক করেই তার সম্মানী বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এদিকে প্রকৃত অভিনয় শিল্পীরা বেকার হয়ে পড়ছেন। এইভাবে চলতে থাকলে আমাদের নাট্যাঙ্গন একদিন কোথায় গিয়ে দাঁড়বে, তা ভাবার বোধকরি এখনই উপযুক্ত সময়… হ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here