Home অঁভোগ ঘুমের সাথি মশারি

ঘুমের সাথি মশারি

2619
0
SHARE

প্রাচীনযুগে মানবজাতি মশা তাড়ানোর জন্য কিছুই ব্যবহার করত না। পরবর্তীসময়ে বনের হিংস্র জন্তু এবং ছোট মাছিপ্রজাতির পতঙ্গ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তারা প্রথমে আগুন জ্বালিয়ে ঘুমাত। সময়ের বিবর্তনের সঙ্গে মানবজীবনে পরিবর্তন এসেছে। এখন শান্তিতে ঘুমানোর জন্য মানুষ মশারি ব্যবহার করছে। এবারের আনন্দভুবনের অঁভোগে থাকছে মশারি। বিস্তারিত জানাচ্ছেন মো. সোহান আহামেদ…

 

ক্ষুদ্র একটি পতঙ্গ মশা। তবে আকারে ক্ষুদ্র হলেও মশার যন্ত্রণা যে কত তীব্র তা আমাদের সবারই জানা। মশার যন্ত্রণা থেকে বাঁচার জন্য নানাধরনের পন্থা আমরা অবলম্বন করে থাকি। তবে সবচাইতে উত্তম পন্থা হলো মশারির ব্যবহার। তবে মশারি টাঙানো নিয়ে সবার মধ্যেই কিছু বিরক্তি কাজ করে। মশারি টাঙানোর জন্য অনেক সময় ছোটখাট ঝগড়াও হয়ে থাকে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। স্বামী-স্ত্রীর মধুর সম্পর্কের মধ্যে পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ায় এই মশারি। স্বামী বলে তুমি মশারি টাঙাও, অন্যদিকে স্ত্রী বলে আজ তুমি টাঙাও। এই নিয়ে শুরু হয়ে যায় গৃহযুদ্ধ। এরপর কেউ কেউ মশারির চারকোণা লাগানোর কাজ সমান দু-ভাগে ভাগ করে নেয়। ভাইবোনরদের মধ্যেও তুমুল ঝগড়া লেগে যায় এই মশারি টাঙানো নিয়ে। এরপর দেখা যায় মা এসে মশারি টাঙিয়ে দিচ্ছেন।

এখন মশারি কেন টাঙিয়ে ঘুমাবো ? কারণ মশার কামড় থেকে রক্ষা তো পেতেই হবে। মশা কী ? মশা এক প্রকারের ছোট মাছিপ্রজাতির পতঙ্গ। অধিকাংশ প্রজাতির স্ত্রীমশা স্তন্যপায়ী প্রাণীর রক্ত পান করে থাকে। কিন্তু মশা রোগজীবাণু সংক্রামক। মশার মাধ্যমে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, ফাইলেরিয়া, পীত জ্বর, জিকা ভাইরাস প্রভৃতি রোগ সংক্রমিত হয়ে থাকে। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ৩,৫০০’র বেশি প্রজাতির মশা পাওয়া গেছে। যে-সব মশা নিয়মিত মানুষকে কামড়ায়। প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ মানুষের শরীরে রোগজীবাণু সংক্রমণের বাহক হিসেবে কাজ করে মশা। ভারতীয় উপমহাদেশে প্রচুর পরিমাণ চিকুনগুনিয়ার দেখা দিচ্ছে। এই চিকুনগুনিয়ায় অনেক মানুষও মারাও যাচ্ছে। তাই মশারি টাঙানোর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

কোন ধরনের মশারি পাওয়া যায় বাংলাদেশে ? কোথায় পাওয়া যায় ? কী কী রঙের মশারি আমরা ব্যবহার করতে পারিÑ তা জেনে নেওয়া যাক : বাংলাদেশে অনেক রকমের মশারি পাওয়া যায়। তার ভেতরে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে এঞ্জেলিক [এরা মশারির কাপড় তৈরি করে, রেডিমেট মশারি নয়], বোনাফাইড, উদয়, নাইটকুইন, মেজিক মশারিও আছে। এ ছাড়াও কোরিয়া এবং চিন থেকে কিছু মশারি বাংলাদেশে আমদানি করা হয়। বাংলাদেশের মশারিগুলোয় যে কাপড় ব্যবহার করা হয় তা হচ্ছেÑ ম্যাজিক কাপড়, জিরো থ্রি, জিরো ফাইভ ইত্যাদি।

বাংলাদেশের মশারি সম্পর্কে সিনিয়র মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস এক্সিকিউটিভ, উদয় মশারি ডিলার মো. শহিদুল ইসলামের সাথে কথা হয়। তিনি জানান, সারাবছর মশারি বিক্রি হয় কম-বেশি, তবে বর্ষাকালে তুলনামূলকভাবে বেশি বিক্রি হয়। কারণ এসময় মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। আর মশার হাত থেকে বাঁচতে হলে মশারির কোনো বিকল্প নেই। শুধু মশা নয়, অন্যান্য ছোট পোকা-মাকড় থেকেও রক্ষা করে এই মশারি। তিনি বলেন, বিভিন্ন ধরনের মশারি রয়েছে বিভিন্ন মূল্যের। যেমন : এঞ্জেলিকের কাপড় মিটার ১৮ থেকে ২২ টাকা, বোনাফাইট মশারি ৪০০ থেকে ৮৫০ টাকা, উদয় মশারি ৩৬০ থেকে ৬০০, নাইট কুইন ১২০ থেকে ৪০০ টাকা, ম্যাজিক মশারি ২২০ থেকে ৪০০ টাকা। মশারির সাইজ সম্পর্কে তিনি জানান, মশারি সাধারণত তিন ধরনে মাপের হয়ে থাকে। যেমন : ৬/৭ ফিট [৪ হাত বাই ৫ হাত], ৫/৭ ফিট [৩.৫ হাত বাই ৫ হাত], ২.৫/৭ ফিট [২.৫ হাত ৫ হাত]। তার কাছে উদয় মশারি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উদয় মশারিতে মশারির কাপড়ের সাথে পর্দার কাপড় ব্যবহার করে ফেন্সি মশারি তৈরি করা হয় এবং এই বৈশিষ্ট্য বাংলাদেশে একমাত্র উদয় মশারিতেই রয়েছে। তাদের সবচেয়ে মূল্যবান মশারিকে টিসি [ঞঈ]  বলা হয়। যার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বোটা নেট দ্বারা তৈরি করা হয়। এসব মশারি ছাড়াও কিছু বিদেশি মশারি পাওয়া যায়। কিন্তু এসব মশারিতে আবার ক্যামিক্যাল ব্যবহার করা হয়। মশারিতে কোনো মশা বসলে সেই মশা সঙ্গে সঙ্গে মারা যায়। তবে এই মশারি আবার শরীরের জন্য ক্ষতিকর বলে জানান তিনি।

শিশুদের জন্যও আলাদাভাবে বিভিন্ন ধরনের মশারি পাওয়া যায়। যা দেখতে বৈচিত্র্যময় এবং আধুনিক। কিছু ট্রাভেল মশারিও পাওয়া যায়, যা তৈরি করা হয় আধুনিক পদ্ধতিতে। মশারির ভিতরে ঢুকে চেন দিয়ে আটকানো যায় এবং কোনোভাবে এর ভেতরে কোনো মশা বা অন্য কোনো পতঙ্গ ঢুকতে পারে না।

বাংলাদেশে অনেক রঙের মশারি পাওয়া যায়। যেমনÑ সাদা, সবুজ, বাদামি, হলুদ, হাল্কা হলুদ, নীল, গোলাপি ইত্যাদি। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের প্রিন্ট মশারিও পাওয়া যায়।

 

কোথায় পাওয়া যাবে মশারি

রাজধানির ঢাকার নিউমার্কেট, গাউছিয়া, গুলিস্তান, ইসলামপুর, চকবাজার, মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজার, এমন মার্কেটগুলোতে মশারির বড়ো বড়ো দোকান আছে। এ ছাড়া পাড়া মহল্লায় কাপড়ের দোকানগুলোতেও সকল ধরনের মশারির কাপড় বিক্রি হতে দেখা যায়। ঢাকার বাইরেও বিভিন্ন কাপড় এবং কসমেটিক্সের দোকানগুলোতে পাওয়া যায় সকল ধরনের মশারি। তাছাড়া অনলাইনেও মশারি কেনার সুযোগ রয়েছে। হ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here