Home অঁভোগ গরমের আরাম

গরমের আরাম

1238
0
SHARE

গরম এলেই অস্থির সবাই। কিছুতেই যেন আরাম নেই। পোশাক, শরীর বা খাবার সব কিছুতেই যেন ঝামেলা। আর গরমে বিভিন্ন রোগ-বালাই লেগেই থাকে। তাই বলে সব কাজকর্ম ফেলে বসে থাকলে তো চলে না। গরমকালকেও উপভোগ্য করে তুলতে হবে। কৃষ্ণচূড়ার টকটকে লালেও যেমন স্নিগ্ধতা থাকে তেমনি গরমের উষ্ণতা থেকেও আরাম খুঁজে নিতে হবে। আমাদের সচেতন থাকতে হবে। প্রচÐ গরম শুধু অস্বস্থিরই কারণ নয়, এর সঙ্গে আমাদের এনার্জি লেভেলও কমিয়ে দেয়। গরমে পোশাক, শরীর ও খাবারের দিকে একটু বিশেষ যতœ নিলেই এই গরমকালও হবে আরামকাল…

গরমের পোশাক

গরমকালে সবচেয়ে আরাম দেবে যে ব্যাপারটি তা হলো পোশাক। দেহের আরাম, সঙ্গে চাই ফ্যাশন। কৃত্রিম তন্তুর তৈরি কাপড়ের পোশাক এসময় একেবারেই বাদ দেওয়া ভালো। কারণ গরমের সময় এই কাপড় পরলে ত্বকে অ্যালার্জি হতে পারে। তাছাড়া এই কাপড় ঘাম শুষে নিতে পারে না, ফলে পোশাকটা শরীরে চিটচিটেভাবে লেগে থাকে। আর এদিকে সুতি পোশাক সহজে ঘাম শুষে নেয়। তাছাড়া প্রাকৃতিক তন্তুর তৈরি বলে মসৃণও হয়, পরেও আরাম। গরমের পোশাকে রং নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ। রং নির্বাচনের ক্ষেত্রে যে পোশাকটি দেখতে ভালো লাগে, সেটা পরেও আরাম। এসময়ের পোশাকের রং হওয়া উচিত হাল্কা। হাল্কা নীল, সাদা, গোলাপি, লেবু রং, হাল্কা বেগুনি, আকাশি এসব রঙের পোশাকই গরমে আরামদায়ক। গরমে বাটিকের কাপড়ের বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। এছাড়া পোশাকে এক রঙের কাপড়ে লেইসের ব্যবহারও দেখা যাচ্ছে। শুধু প্রতিদিনের ব্যবহারে সুতি পোশাক নয়, এখন বিভিন্ন উৎসবে ও অনুষ্ঠানেও সুতির রাজত্ব চলছে। গরমে পরার শাড়ির ক্ষেত্রেও সুতির ছাপা শাড়ি, বøক, অ্যাপ্লিকের শাড়ি বেশ চলছে। বøাউজের গলাটা পেছনদিকে বড়ো ও ম্যাগি হাতা হলে বেশ আরাম পাওয়া যাবে।

গরমে চুল ও ত্বকের যতœ

গরম কালে সূর্যের তাপ এবং ধুলোবালুর কারণে এ সময়ে চুল ও ত্বকের জন্য প্রয়োজন বাড়তি যতেœর। আমাদের সুন্দর, সুস্থ আর চকচকে ত্বক ও ঝলমলে চুল প্রত্যাশা থাকলেও কিন্তু গরমে এই ত্বক হয়ে যায় তেলতেলে ও ঘামযুক্ত। এতে ত্বক উজ্জ্বলতা হারিয়ে ফেলে। আর চুলের ক্ষেত্রে রুক্ষতা, আগা ফেটে যাওয়া এবং না বাড়ার সমস্যা লেগেই থাকে।  আপনার একটুখানি যতেœ গরমের দিনে ত্বক ও চুল থাকতে পারে সকল সমস্যামুক্ত।

পানি শুধু শরীরে আর্দ্রতা জোগায় না, ত্বককে করে তোলে সজীব। প্রচÐ গরমে ঘামের মাধ্যমে ত্বকের আর্দ্রতা কমে যায়। এ-সময় প্রচুর পানি পান করা দরকার। এছাড়াও প্রয়োজনে ফলের রস, লেবুর রস এবং খাবার স্যালাইনও পান করা যেতে পারে। মোটকথা ত্বক সুন্দর রাখতে এ-সময়ে প্রচুর পানি পান করতে হবে। গরমের সময়ও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার বন্ধ করা ঠিক নয়। কারণ ময়েশ্চারাইজার ত্বকে আর্দ্রতা জোগানোর পাশাপাশি ত্বক নরম রাখে। তবে গরমের সময় ওয়াটার বেজ ময়েশ্চারাইজার বেছে নিলে ত্বকের যতেœ ভালো হয়। সকালে ও রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে অবশ্যই ত্বক পরিষ্কার করতে হবে। বেসন ত্বকের রোদে পোড়া ভাব দূর করতে খুব কার্যকর। বেসনের সঙ্গে টকদই ও কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। রোদে পোড়া দাগ দূর করতে লেবুর রস ভালো কাজ করে। হ

গরমের খাবার

১.     গরমকালে খাবার নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যা খাই তাই আমাদের শরীর সুস্থ রাখে। ক্লান্তি দূর করে। গরমে খাবার নির্বাচনেও সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এসময় ভুল খাবার নির্বাচন ডায়রিয়ার মতো রোগের প্রকোপ দেখা দিতে পারে। প্রথম সাবধানতা হলো- বাইরের খোলা জায়গার পানি, শরবত, আখের রস খাওয়া পরিহার করতে হবে। এগুলো  গ্রহণের ফলে ডায়রিয়া, আমাশয় হয়। এতে আপনার আর্থিক ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুর ঝুঁকিও থাকে।

২.     নিরাপদ বিশুদ্ধ পানি পান করা। ঘরে তৈরি শরবত, পানিজাতীয় শাকসবজি ও ফল বেশি খাওয়া।

৩.    গরমে ডাব, তংরমুজ, বাঙ্গি, বেলের শরবত এগুলো হাত ধুয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নভাবে খাবারের জন্য উপযোগী করা প্রয়োজন।

৪.     গরমে মাছ, মাংস, ভুনা, ভাজি, খিচুড়ি, পোলাও কমিয়ে পাতলা আম-ডাল, পাতলা দুধ, টকদই, করলার ঝোল তরকারি, লেবু-চিনির শরবত, সালাদ, রসালো ফল খাওয়া যেতে পারে।

৫.    পোলাও, বিরানি, খিচুড়ি পরোটা থেকে গরমে সাদা ভাত অনেক বেশি উপকারী।

৬.    যারা নিয়মিত হাঁটেন, তারা শুধু সময় পরিবর্তন করলেই চলবে। যেমন সকালে না হেঁটে বিকাল/সন্ধ্যার পর হাঁটা আরামদায়ক।

৭.     গরমে খুব বেশি হাঁটা, ব্যায়াম, অত্যধিক পরিশ্রম, অত্যধিক খাদ্য গ্রহণ পরিহার করুন।

৮.    যেকোনো খাবারে প্রাণ আনে মসলা। তাই বলে অতিরিক্ত মসলা নয়, অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত খাবারের মসলা দেহের জন্য সহনীয়। অতিরিক্ত মসলাদার যেকোনো খাবারই দেহের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং বিপাকক্রিয়াকে ব্যাহত করে।

৯.    চা বা কফিজাতীয় পানীয় দেহে তাপ বাড়ায়। তাই এগুলো এড়িয়ে চলাই উত্তম। চা ও কফির ক্যাফেইন এবং দোকানের অতিরিক্ত চিনিযুক্ত কেনা পানীয় দেহে পানিশূন্যতা বাড়ায় এবং মুখ ফ্যাকাশে করে ফেলে। হ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here