Home রঙ্গশালা/আবৃত্তি কবিতা আমাকে ঘিরে থাকে – মিলি চৌধুরী

কবিতা আমাকে ঘিরে থাকে – মিলি চৌধুরী

760
0
SHARE

মিলি চৌধুরী একাধারে আবৃত্তিশিল্পী, উপস্থাপক, সংবাদ পাঠক, অভিনয়শিল্পী, অ্যাডভোকেট এবং আন্দোলনকারী। তিনি আবৃত্তি, অভিনয়, বিতর্ক ও উপস্থাপনায় কয়েকবার জাতীয় পদকপ্রাপ্ত শিল্পী। অভিনয়ে তিনবার জাতীয় স্বর্ণপদক, বিতর্কে ১২বার চট্টগ্রাম বিভাগে প্রথম হয়ে জাতীয় পুরস্কার এবং আবৃত্তিতে দুইবার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। সম্প্রতি তিনি সংস্কৃতিতে শেখ হাসিনা সম্মাননা স্মারক পেয়েছেন। এবারের আনন্দভুবনের আবৃত্তি আয়োজনে থাকছেন আবৃত্তিশিল্পী মিলি চৌধুরী …

আনন্দভুবন :  কেমন আছেন ?

মিলি চৌধুরীÑ ভালো আছি [হাসি]।

আনন্দভুবন : আবৃত্তিতে আগ্রহী হলেন কীভাবে ?

মিলি চৌধুরীÑ আবৃত্তিতে আগ্রহী হই, আমি তখন স্কুলে ভর্তিও হইনি তখন বাবার সাথে ‘লিচু চোর’ কিবতাটি পড়তাম। তখন চট্টগ্রামের দৈনিক ‘আজাদী’ পত্রিকায় ‘আগামীদের আসর’ নামে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ওই পত্রিকায় ‘আগামীদের আসর’ নামে একটি পাতাও আছে। সেই প্রতিযোগিতায় ‘লিচু চোর’ কবিতাটি আবৃত্তি করে আমি পুরস্কার পাই। এরপরে আমার কবিতার প্রতি আগ্রহ বেড়েই চলে। যেখানেই অংশগ্রহণ করছি সেখানেই পুরস্কার পাচ্ছি। তখন আমার পুরস্কারের প্রতি একটু লোভ হয়। ভাবতাম, আমি যদি এটা পড়তে পারি তা হলে আমি একটি পুরস্কার পাব। এই চিন্তাধারা মাথায় ঢুকে যায়। তারপর ধীরে ধীরে কবিতা পড়তে থাকি। অবশেষে কবিতা এবং আবৃত্তির প্রকৃত অর্থ আমার কাছে ধরা দেয়। এখন সেই অর্থেই আমি কবিতা আবৃত্তি করার চেষ্টা করি। আর ভালো লাগা তো আছেই। আবৃত্তিতে আমার শুরু পুরস্কারের লোভেই, বাচ্চাদের যেমন হয় আর কি।

আনন্দভুবন : আপনার আবৃত্তির অনুপ্রেরণা কে ছিলেন ?

মিলি চৌধুরীÑ আমার আবৃত্তির অনুপ্রেরণা আমার বাবা ছিলেন। তার মুখে শুনে শুনে আমার আবৃত্তি শেখা। আমি যখন বড়ো হয়েছি তখনো বাবার কাছে কবিতা আবৃত্তি করেছি।

আনন্দভুবন : প্রথম আনুষ্ঠানিক আবৃত্তির স্মৃতি সম্পর্কে জানতে চাইÑ

মিলি চৌধুরীÑ প্রথম আবৃত্তির কথা এখন মনে করা সম্ভব নয়। এর পরপরই আমি খেলাঘরের সঙ্গে যুক্ত হই। খেলাঘর একদম বাচ্চাদের জন্য ছিল। প্রথম আনুষ্ঠানিক আবৃত্তির কথা মনে নেই কখন মঞ্চে আবৃত্তি করেছি, কখন টেলিভিশনে করেছি বা বেতারে করেছি। হাতে তুলে দিয়ে বলত এটা আবৃত্তি করো, এইভাবে করো। তাই করতাম। সেরকম কখন ফরমালি শুরু করেছি তা মনে নেই। তবে আমার আবৃত্তির একটি বাঁক আছে, সেটা আমি মনে করতে পারি ১৯৯৩ সালে ‘আলোর পথের যাত্রা’ নামে একটি একক আবৃত্তি সন্ধ্যা হয়, সেটা ছিল দর্শনীর বিনিময়ে। আমরা এতদিন পর্যন্ত জানতাম দর্শীনর বিনিময় এটাই প্রথম একক আবৃত্তি সন্ধ্যা। তবে পরে জানতে পারি অনেক আগে একজন মুক্তিযোদ্ধা ড. রাকিব মঞ্জিল তিনি ১৯৮২ অথবা ’৮৪ সালে একক আবৃত্তি সন্ধ্যা করেছেন। নারীদের মধ্যে যদি বলি তবে দর্শনীর বিনিময় একক আবৃত্তি সন্ধ্যা ১৯৯৩ সালে আমারটাই প্রথম। এর পরে আমার একটি কবিতার অডিও অ্যালবাম বের হয় ১৯৯৫ সালে নাম ছিল ‘তোমার কাছে নত হয়েছি কবিতা’। এ ছাড়া ১৯৯৩ সাল থেকে আমি বাচ্চাদের আবৃত্তি শেখাই। এ পর্যন্ত আমার তিনটি বই প্রকাশ হয়েছে শিশুদের জন্য। নামগুলো হলো আবৃত্তি করি চল, আবৃত্তির জানালা। আবৃত্তির জানালার দুটি খÐ।

আনন্দভুবন : বর্তমানে আপনি ‘শৈশব’ নামে একটি আবৃত্তি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আছেন। আপনার সংগঠন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইÑ

মিলি চৌধুরীÑ এটি বাচিকশিল্পী সংগঠন। মূলত আমরা আবৃত্তি করি। কিছু শ্রæতি নাটকও আছে আমাদের।

আনন্দভুবন :  আপনার একটি একক নাটক রয়েছে সেটি সম্পর্কে জানতে চাই ?

মিলি চৌধুরীÑ খ্যাতনামা অভিনয়শিল্পী ফেরদৌসী মজুমদারের পর আমি এক ঘণ্টা ২৫ মিনিটের দীর্ঘ একক নাটকে ‘ওমেন অ্যালোনে’ অভিনয় করেছি। বাংলাদেশ টেলিভিশনের চট্টগ্রামকেন্দ্রিক প্রথম সম্প্রচারমুহূর্তে যে কণ্ঠস্বর ব্যবহার হয় সেটি আমার। আমি দীর্ঘদিন ধরে বেতারে সংবাদ পঠ করছি। আর আমার প্রোফেশনাল জায়গা থেকে আমি অ্যাডভোকেট।

আনন্দভুবন : আপনি অনেক ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত আছেন। কোন জাকটি বেশি ভালো লাগে ?

মিলি চৌধুরীÑ এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বেশ কঠিন। তবে শুধু বলব, আবৃত্তি আমাকে প্রচÐ টানে। আমার উপস্থাপনা করতে ভালো লাগে, খবর পড়তে ভালো লাগে। কিন্তু আমার উপস্থাপনাতেও কীভাবে যেন কবিতা ঢুকে যাচ্ছে। যখন কোর্টে মামলার কথা হচ্ছে তখনো আমার কাছে কেন যেন মনে হয় কবিতা। আসলে কবিতা আমাকে ঘিরে থাকে, আমি কবিতা ছাড়া থাকি না। শিশু একাডেমিতে বহুবছর ধরে বাচ্চাদের আবৃত্তি শেখাই। এটাও আমার একটি আনন্দের জায়গা। আর চট্টগ্রামের এমন কোনো গণজাগরণের মঞ্চ নেই যেটার সঙ্গে আমার স্মৃতি ছিল না।

আনন্দভুবন : কোন কবির কবিতা বেশি আবৃত্তি করা হয় ?

মিলি চৌধুরীÑ আমার জীবনে এত কবিতা আবৃত্তি করেছি যা বলা মুশকিল। তবে আমার প্রিয় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এঁর মতো আমি কাউকে খুঁজে পাই না। কিন্তু অনেক কবি আছেন যারা খুব বিখ্যাত না, তাদের অনেকের লেখা কবিতা পড়ে আমার খুব ভালো লেগেছে।

আনন্দভুবন : পেশাগত দিক থেকে আবৃত্তি কতটা গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন ?

মিলি চৌধুরীÑ অবশ্যই গ্রহণযোগ্যতা আছে। আমাদের শুধু একটু আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাঁড়াতে হবে, আর কিছু না। আমরা পারছি না। পশ্চিমবঙ্গের অনেক শিল্পী আছেন যাদের পেশা আবৃত্তি করা তবে আমরা কেন পারব না। এখন নাটক, গান হলে দর্শক পাওয়া যায় না। কিন্তু আবৃত্তি হলে বহু দর্শক পাওয়া যায়। কবিতার সঙ্গে তারুণ্যের টান অনেক বেশি। আমাদের যত আন্দোলন ছিল সব তারুণ্যের আন্দোলন ছিল। তারুণ্যের আন্দোলনের সঙ্গে কবিতা একদম মিলে মিশে আছে।

আনন্দভুবন : আপনি সম্প্রতি সংস্কৃতিতে শেখ হাসিনা সম্মাননা স্মারক পেয়েছেন। আপনার অনুভূতি জানতে চাইÑ

মিলি চৌধুরীÑ এটা তো সত্যিই অনেক আনন্দের ব্যাপার। এমন একটি সম্মাননায় ভূষিত হয়ে খুব ভালো লাগছে।

আনন্দভুবনÑ অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

মিলি চৌধুরীÑ আনন্দভুবনকেও অনেক ধন্যবাদ। হ

সাক্ষাৎকার : সোহান আহামেদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here