Home কাভার গার্ল এসো হে বৈশাখ : শান্তির প্রতীক নিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা

এসো হে বৈশাখ : শান্তির প্রতীক নিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা

1070
0
SHARE

রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ, চারুকলার আয়োজন মঙ্গল শোভাযাত্রা আর সুরের ধারার হাজার কণ্ঠে গানÑ এই হলো বর্ষবরণের প্রধান তিন আয়োজন। এইসব আয়োজন নিয়ে আনন্দভুবনের প্রতিবেদন…

 

পয়লা বৈশাখ বাঙালি জাতির ঐতিহ্যবাহী একটি দিন। আর এই দিনের পুরনো সকল অমঙ্গলকে দূর করে মঙ্গলকে কাছে পাওয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ আয়োজন করে মঙ্গল শোভাযাত্রা। আর এই শোভাযাত্রায় চারুকলা অনুষদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন স্তরের ও বিভিন্ন বয়সের মানুষ অংশগ্রহণ করে থাকে। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন ধরনের প্রতীকী শিল্পকর্ম বহন করা হয়। এছাড়াও বাংলা সংস্কৃতির পরিচয়বাহী নানা প্রতীকী উপকরণ, বিভিন্ন রঙের মুখোশ ও বিভিন্ন প্রাণীর প্রতিকৃতি নিয়ে হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করে।

নববর্ষ সামনে রেখে মাস খানেক আগে থেকে চারুকলা প্রাঙ্গণে চলে প্রতীকী উপকরণ তৈরির কাজ। কেউ জলরঙে ছবি আঁকেন, কেউ সরায় ফুটিয়ে তোলেন বাহারি দৃশ্য, আবার কেউ মুখোশ তৈরি করেন। দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা শিল্পকর্ম বিক্রির কাজও করেন কেউ কেউ। মঙ্গল শোভাযাত্রায় প্রতি বছরের মতো এবারে থাকছে মুখোশ, পেঁচা, বানর, সরাচিত্র, খেলনা, পুতুল, হরিণ, মা ও শিশু, মাছ, হাতপাখা, শখের হাড়িসহ বিভিন্ন জীবজন্তুর লোকজ অবকাঠামো বলে জানালেন চারুকলা অনুষদের এবারের শোভাযাত্রার আয়োজিত ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সুফিয়ান। তিনি আরও বলেন, এবারের শোভাযাত্রায় শান্তির প্রতীক হিসেবে কাজ করা হচ্ছে। তাই গত বছরের অনেক উপকরণ এবার থাকবে না যেমন রাক্ষস। আমাদের এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’। লালন শাহ্-এর গাওয়া একটি গানের কলি। এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার উপকরণ ও মোটিভ সম্পর্কে তিনি আনন্দভুবনকে বলেন, এবার সাত থেকে আটটা বড়ো আকারে শিল্প কাঠামো করা হচ্ছে। যেমন, বড়ো মাছ, বক, বড়ো পাখি, পুতুল, একতারা হাতে বাউল ইত্যাদি।

শোভাযাত্রার অর্থসংস্থানের জন্য চারুকলায় আয়োজন করা হয়েছে উন্মুক্ত শিল্পকর্ম প্রদর্শনী। নবীন শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দেয়ালে উপস্থাপিত হয়েছে প্রবীণ শিক্ষার্থীদের কাজও। আছে শিক্ষকদের শিল্পকর্মও। বিক্রি করার জন্য শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে পাখির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ থেকে ১০০০ টাকা, সরার দাম ২০০-১০০০ টাকা, জলরঙে আঁকা বিভিন্ন চিত্রকর্মের দাম ধরা হয়েছে ৩০০০-১০,০০০ টাকা এবং বিভিন্ন মুখোশের দাম ধরা হয়েছে ৩০০-৮০০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া হাতপাখা, বিভিন্ন শোপিসও বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। যার দাম ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত।

ভোর ছয়টায় রমনায় ছায়ানট

১৯৬১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মশতবার্ষিকী পালনের মধ্য দিয়ে মূলত ছায়ানটের সূচনা। ১৯৬৭ সালে প্রথম রমনার বটমূলে উদ্যাপিত হয় পয়লা বৈশাখ। তার আগে পর্যন্ত পয়লা বৈশাখ উদ্যাপন হতো ইংলিশ প্রিপারেটরি স্কুলের কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে, তাও সন্ধ্যাবেলায় । ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ছায়ানট পয়লা বৈশাখ উদ্যাপন না করতে পারলেও তখন থেকে নিয়মিত আয়োজন করে আসছে এই অনুষ্ঠান। সেই থেকে নিয়মিত ঐতিহ্যের স্মারক হয়ে এখনও চলছে এ অনুষ্ঠান। পয়লা বৈশাখে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে রমনার বটমূলে বাঙালির যে-মিলনমেলা হয় তা যেন এক অসাম্প্রদায়িক বাঙালি মানসকে বিশ্ববাসীর কাছে সগৌরবে তুলে ধরে। প্রতি বছরের মতো এবারও অনুষ্ঠানটি শুরু হবে ভোর ৬.১৫ মিনিটে বাঁশির সুরের মধ্য দিয়ে। অনুষ্ঠানটি ঘিরে থাকছে আবৃত্তি, সম্মেলন, গান, সুরের গান, লালনের গানসহ আরও অনেক আয়োজন। এমনটি জানিয়েছেন ছায়াটনের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা। তিনি আরও জানান, নতুন বছরকে আবাহন করে একটি সকালের সুর দিয়ে আবহ তৈরি হবে। তারপর প্রথমে নানান ধরনের গান যেমন, বাউল গান, রবীন্দ্রসংগীত, লালনগীতিসহ নতুন গান নিয়ে অনুষ্ঠানটি চলে ৮টা থেকে ৮.৩০ মিনিট পর্যন্ত।

সুরের ধারার হাজার কণ্ঠে বর্ষবরণ

রবীন্দ্রসংগীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘সুরের ধারা’ তাদের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে চারদিনব্যাপী রজত জয়ন্তী উৎসবের আয়োজন করেছে। আগামী ১১ এপ্রিল ইওঈঈ-র ঐধষষ ড়ভ ঋধসব-এ বিকাল সাড়ে চারটায় প্রধান অতিথি হিসেবে উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি একইসঙ্গে শ্রæতিগীতবিতানের দ্বিতীয় সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরসহ অন্যান্য। সভাপতিত্ব করবেন এমিরেটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। উদ্বোধনী পর্বে ঢাকা এবং ঢাকার বাইরের ২৫০ জন শিল্পী প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সম্মেলক গান [রবীন্দ্রসংগীত] পরিবেশন করবেন। প্রথম দিনের প্রথম অধিবেশন শুধু আমন্ত্রিত দর্শক-শ্রোতার জন্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করার পর কিছুক্ষণের বিরতি শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হবে ; যা সকলের জন্য উন্মুক্ত। সুরের ধারার শিশু বিভাগ এবং সাধারণ বিভাগের শিল্পীদের পরিবেশনা ছাড়াও কলকাতার শ্রীকান্ত আচার্যের পরিবেশনা থাকবে। রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত একটানা চলবে অনুষ্ঠান।

১২ এবং ১৩ এপ্রিল ইওঈঈ-র মিডিয়া বাজারের দোতলায় বিকাল ৪টা থেকে ৬টা পর্যন্ত সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দিনের বিষয় রবীন্দ্রসংগীত, দ্বিতীয় দিনের বিষয় রবীন্দ্রনাটক। সেমিনারে ভারতের রবীন্দ্রভারতী এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদ্বয় উপস্থিত থাকবেন। সেমিনারে সভাপতিত্ব করবেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ এবং অধ্যাপক শফি আহমদ। সবার জন্য উন্মুক্ত এই সেমিনারে রবীন্দ্রবোদ্ধারাও উপস্থিত থাকবেন। সেমিনার শেষ হওয়ার পর ১২ এবং ১৩ এপ্রিল ২০১৮ সন্ধ্যা ৭টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হবে। সুরের ধারার শিল্পীরা ছাড়াও প্রথিতযশা আমন্ত্রিত শিল্পীবৃন্দ, কলকাতার লোপা মুদ্রা মিত্র এবং শ্রী মনোময় ভট্টাচার্য [শুদ্ধ সংগীতের প্রবাদ পুরুষ যদু ভট্টের বংশধর] সংগীত পরিবেশন করবেন। ১২ এপ্রিল সুরের ধারার শিল্পীদের পরিবেশনায় হবে রবীন্দ্রনাটক ‘ফাল্গুনী’। রাত সাড়ে দশটায় সেদিনের অনুষ্ঠান শেষ হবে।

সুরের ধারার স্মারক অনুষ্ঠান [ঝরমহধঃঁৎব চমৎস] বর্ষ বিদায় ও নতুন বর্ষকে আবাহন, ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হয়ে একটানা চলবে মধ্যরাত পর্যন্ত। এদিন সুরের ধারার শিশু বিভাগ, গঋউ-র শিশুরা ছাড়াও সুরের ধারা প্রাক্তনীর পরিবেশনা রয়েছে। এছাড়া আসামের একটি দল নাটক পরিবেশন করবে। পশ্চিমবঙ্গের আবৃত্তিকার ব্রততী বন্দ্যোপাধ্যায় আবৃত্তি পরিবেশন করবেন। দেশীয় শিল্পীদের পরিবেশনা তো থাকছেই। ১২.১-এ ১৪২৫কে আহŸান জানিয়ে বর্ষবিদায় অনুষ্ঠান শেষ হবে। ১৪ এপ্রিল ভোরের সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে হাজার কণ্ঠে বর্ষবরণ করা হবে প্রতিবছরের মতো চ্যানেল আই-এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে। পঞ্চকবির গান হবে একক এবং সমবেত কণ্ঠে। ভোরের আয়োজন সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। তবে এরপর ব্যান্ডসংগীত চলবে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। ১৩ এবং ১৪ এপ্রিলের আয়োজন ইওঈঈ-র উন্মুক্ত চত্বরে। সুরের ধারার অধ্যক্ষ রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার পক্ষ থেকে সুরের ধারার শিক্ষক ধ্রæব আচার্য সকলকে সবান্ধব আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, সুরের ধারার রজতজয়ন্তী উৎসবের দর্শক-শ্রোতা হতে। হ

লেখা : মাহমুদা আখতার, মো. সোহান আহমেদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here