Home রঙ্গশালা/আবৃত্তি আবৃত্তির ক্ষেত্রে একটা বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে -এ কে এম সামছুদ্দোহা

আবৃত্তির ক্ষেত্রে একটা বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে -এ কে এম সামছুদ্দোহা

1234
0
SHARE

Abritiসংবৃতা আবৃত্তি চর্চা ও বিকাশ কেন্দ্রের সভাপতি আবৃত্তিশিল্পী এ কে এম সামছুদ্দোহা জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের অধীনস্থ মিরপুর হাউজিং স্টেট-এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা [স্টেট]। পেশায় সরকারি চাকরিজীবী হলেও নেশা তার আবৃত্তি। আবৃত্তিতে আসা, আবৃত্তি নিয়ে তার স্বপ্ন ও ভাবনার কথা জানিয়েছেন আনন্দভুবনকে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন প্রশান্ত অধিকারী

আনন্দভুবন : আবৃত্তিতে আসার আগ্রহ কীভাবে, কখন ?

সামছুদ্দোহা : আবৃত্তির আগে আমি নাটকে কাজ করেছি। ১৯৮৫ সালে ‘সময় নাট্যগোষ্ঠী’র সঙ্গে যুক্ত হই। সেখানে গণসংগীত, পথনাটক, মুক্তনাটকের মাধ্যমে আমার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পদচারণা শুরু। এরপর ১৯৯৫ সালে সরকারি চাকরি হওয়ার পর চট্টগ্রামে চলে যাই। ২০০০ সালে ঢাকায় পোস্টিং হয়। ঢাকায় এসে আবার সেই পুরনো দিনের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে আড্ডা শুরু করি। এখানে নিয়মিত আড্ডা দিতে দিতে ‘স্রোত আবৃত্তি সংসদ’র সঙ্গে যুক্ত হই। বছরখানেক পর আবৃত্তিশিল্পী মাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে আমরা ‘সংবৃতা’ শুরু করি ২০০৫ সালের ২৯ জুলাই। মূলত তিনিই আমার আবৃত্তির গুরু। বছর দুয়েক পর তিনি অন্য দল শুরু করেন। এরপর এক দশক ধরে আমি ‘সংবৃতা’র সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। সংস্কৃতির সঙ্গে আমার যোগাযোগ তিন দশকের বেশি। কিন্তু আবৃত্তিকে ভালোবাসার কারণে এক যুগেরও বেশি সময় হলো আবৃত্তির সঙ্গে বাস করছি।

আনন্দভুবন : আবৃত্তি থেকে সবাই নাটকে যায়, আর আপনার ক্ষেত্রে হয়েছে ঠিক উল্টোটা।

সামছুদ্দোহা : হ্যাঁ, এটা ঠিক। আমি আবৃত্তি করতে করতে প্রায় ১৫টির মতো নাটকে, দুটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছি। এর পাশাপাশি ভয়েস আর্টিস্ট হিসেবেও কাজ করি। নিজে যেহেতু সরকারি চাকরি করি। তাই এ জায়গাগুলোকে পেশাদারিভাবে নেওয়ার কথা ভাবিনি কখনও।

আনন্দভুবন : চাকরি ও সংসারের পাশাপাশি এত কাজে সময় দেন কী করে ?

সামছুদ্দোহা : এটা ঠিক সংসারের কাজে একটু ব্যাঘাত ঘটেই। সেটা আমার স্ত্রী সামাল দেন। এজন্য তাকে ধন্যবাদ যে তিনি সেটা মেনে নিচ্ছেন। আমি বিশ্বাস করি, শিল্পিত মনোভাব থাকলে সবই সম্ভব। কারণ সমাজ-সংসারের বাইরে তো কিছুই না। সৃজনশীল যে কর্মগুলো সেগুলো সংসারে দিলেও সেগুলো সংসারেরই শ্রীবৃদ্ধি ঘটাবে।

আনন্দভুবন : আপনি দীর্ঘ এক দশক ধরে সংবৃতার সভাপতির দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন, এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কী কী সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন ?

সামছুদ্দোহা : এটা সত্যিই কঠিন কাজ। বাংলাদেশে আবৃত্তি এখনো পেশাদারিত্বের জায়গায় পৌঁছাতে পারেনি। যদিও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামের হাতিয়ার হিসেবে মুক্তিবুদ্ধিসম্পন্ন সাহসী অগ্রজেরা আবৃত্তিকে আন্দোলনের হাতিয়ার হিসেবে এর চর্চা শুরু করেছিলেন। এখনও কিন্তু একই ধারায় আমাদের মতো সারাদেশের সংগঠনগুলো কাজ করে যাচ্ছে। এটা ঠিক, আমরা এখন বছরে ৫০ হাজার টাকা সরকারি সাহায্য পাই। এক সময় তো তাও ছিল না। যদিও এই টাকা একটি গতিশীল দলের জন্য কিছুই না। পাশাপাশি দলের মধ্যে ও বাইরে কিছু সুহৃদ আছেন যাদের সহযোগিতায় সারাবছর আমরা কাজ করে থাকি। ফ্যাশন শো কিংবা ব্যান্ড শোর মতো কোনো অনুষ্ঠান হলে স্পন্সরের অভাব হয় না। বড়ো বড়ো কোম্পানি এগিয়ে আসে। আমি সেইসব কোম্পানির কাছে আহŸান জানাই তারা যেন আবৃত্তিশিল্পর প্রসারেও ভূমিকা রাখেন।

আনন্দভুবন : ‘সংবৃতা’র বর্তমান ও নিয়মিত কার্যক্রম কী ?

সামছুদ্দোহা : বাংলা ভাষার শুদ্ধ উচ্চারণ ও বিকাশের লক্ষ্যে আমরা প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকি। আবৃত্তির পেশাদারিত্ব সৃষ্টির লক্ষ্যে সম্প্রতি আমাদের উৎসবে যে-সব আমন্ত্রিত শিল্পীরা আবৃত্তি পরিবেশন করেছেন তাদেরকে কম হলেও সম্মানীর ব্যবস্থা করেছি। কষ্টটা এখানে আর্থিক দৈন্যের কারণে আমাদের অনেক সময় থমকে যেতে হয়। আমার যারা অনুজ তাদের মাধ্যমে দেশের সর্বত্র আবৃত্তিকে ছড়িয়ে দিতে চাই। দ্বিতীয়ত ‘সংবৃতা’র ব্যানারে আবৃত্তির একটা স্কুল প্রতিষ্ঠা করা ; যার মাধ্যমে আবৃত্তিকে বিকশিত করা সম্ভব হবে। আরেকটা টার্গেট আমাদের আছেÑ দুইটা বা তিনটা বিদ্যালয়ে আবৃত্তি ও উচ্চারণ নিয়ে আমরা কাজ করব। কথাবার্তা চলছে। অচিরেই এ-কাজটি আমরা শুরু করব। আমরা বছরে যদি দুটো স্কুলের শিক্ষার্থীদের বাংলা ভাষার শুদ্ধ উচ্চারণ শেখাতে পারি সেটাও অনেক বড়ো কাজ হবে বলে মনে করি।

আনন্দভুবন : বর্তমানে তরুণেরা কেমন আবৃত্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছে ?

সামছুদ্দোহা : এটা ঠিক আমরা যে ভাবনা নিয়ে সংস্কৃতি চর্চায় এসেছিলাম এখন সেটা নেই। এখন কিন্তু পুরোটাই ভিন্ন। এখনকার তরুণেরা খুব তাড়াতাড়ি কিছু পেতে চায়। এখন আবৃত্তি শিখতে যারা আসে তাদের ভাবনা হলোÑ এখান থেকে শুদ্ধ করে কথা বলতে পারলে তার করপোরেট লেভেলে চাকরি হবে, টেলিভিশনে সংবাদ উপস্থাপক হবে, কোনো পরীক্ষার ভাইভায় নিজেকে ভালোভাবে উপস্থাপন করতে পারবে ইত্যাদি ইত্যাদি। তারা কিন্তু সংস্কৃতিকর্মী হওয়ার জন্য আসে না। এখন তরুণদের ভাবনাগুলো অর্থকেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে।

আনন্দভুবন : আবৃত্তি নিয়ে তরুণদের অবস্থান নিয়ে আপনার ব্যাখ্যা কি ?

সামছুদ্দোহা : আমরা দুইযুগ আগে যাদের কবিতা শুনতে শুনতে বড়ো হয়েছি এখনও তারাই কিন্তু সব জায়গায় আবৃত্তি করছেন। নতুনদের জায়গা দেওয়া হচ্ছে না, না কি নতুনরা তৈরি হচ্ছে না এটাই একটা প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। নতুনদের যেমন পুরনোরা জায়গা দিচ্ছেন না তেমনি মিডিয়াগুলো কিন্তু নতুনদের ওইভাবে ডাকছে না। ফলে আবৃত্তির ক্ষেত্রে একটা বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে। ছবি : জাকির হোসেন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here