Home রঙ্গশালা/আবৃত্তি অফিস শেষে রাতে নাটকের মহড়া করি -শারমীন সঞ্জিতা খানম

অফিস শেষে রাতে নাটকের মহড়া করি -শারমীন সঞ্জিতা খানম

1168
0
SHARE

আনন্দভুবন : থিয়েটারের সঙ্গে আপনার যোগসূত্র কীভাবে কখন ?

শারমীন সঞ্জিতা : ছেলেবেলায় বাবা-মা নাচ, গান আর অভিনয় শেখানোর স্কুলে ভর্তি করেছিলেন। বলেছিলেন বড়ো হয়ে যেটা করতে ভালো লাগে করবে। ভালো না লাগলে করবে না। আমি ‘সংলাপ গ্রæপ থিয়েটার’-এর হাবিব ভাই’র মাধ্যমে মহিলা সমিতি মঞ্চে আরিফ হায়দার নির্দেশিত ‘বাগধী ধীরুয়াল’ নাটকে প্রথম ‘রাধা’ নামে একটি চরিত্রে অভিনয় করি। তারপর শরৎচন্দ্রের লেখা ও মোস্তফা হীরার নির্দেশনায় ‘ষোড়শী’ নাটকে ষোড়শী চরিত্রে অভিনয় করি। ‘ষোড়শী’ নাটকে অভিনয় করতে গিয়ে অনেক কিছু বোঝার চেষ্টা করলাম এবং অভিনয়শিল্পের প্রেমে পড়ে গেলাম। এভাবেই নাটকে আমার পথচলা শুরু হলো।

আনন্দভুবন : মাধো নাটকের সঙ্গে কাজ করার ভাবনা এলো কীভাবে ?

শারমীন সঞ্জিতা : অভিনয় করতে ভালো লাগে। কিন্তু অফিস, সংসার, সন্তান সব মিলিয়ে কোনো দলে নিয়মিত কাজ করতে পারব সেই সাহসটা হয়ে উঠছিল না। কিন্তু মন  পোড়াচ্ছিল ঠিকই। এই সময় আমার বন্ধু শামীমা আক্তার মুক্তা একই অনুভূতির জায়গায় এসে বলল চল কিছু একটা করি। বসে থাকতে ভালো লাগছে না। অভিনয়টা করতে চাই শুধু। মুক্তা বললোÑ অলোক দা-কে [অলোক বসু] বলে দেখি। আমি এক বাক্যে রাজি হয়ে গেলাম। দাদা প্রথমে একটু ভাববার সময় নিলেও আমাদের সদিচ্ছার কথা ভেবে পাশে দাঁড়ালেন। আর দাদার লেখা ‘মাধো’ পড়ে আমাদেরও কোনো আপত্তি এলো না। শুরু হল ‘মাধো’ যাত্রা।

আনন্দভুবন : মাধো নাটকে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন ?

শারমীন সঞ্জিতা : সত্যি বলতে কি অলোক বসু এই নাটকে প্রাণ সঞ্চার করেছেন। লেখা ও নির্দেশনা দুটোই অলোক দা’র। দাদার সাথে এটা আমার প্রথম কাজ। অভিজ্ঞতার নাম তাই অলোক বসু। লেখনীতে যে আবেগ, প্রেম আর শব্দের খেলা ছিল তা আমাকে খুব আলোড়িত করেছে। এছাড়া নিজেরাই বিভিন্নভাবে খরচ জোগাড় করে কাজ করা বিশেষ করে মুক্তা যেভাবে শ্রম ও সময় দিয়েছে তা না বললেই নয়।

আনন্দভুবন : ‘মাধো’ নাটকের পাশাপাশি একটি নতুন নাট্যদলের জন্ম হলো, সেটা নিয়ে আপনার ভাবনা কি ?

শারমীন সঞ্জিতা : আসলে একটা কাজ করতে গেলে একটা প্লাটফর্ম দরকার হয়। আর মুক্তার আগে থেকেই ‘মেঠোপথ’ নামে একটি গানের দল ছিল। সেই জায়গা থেকে আমরা ‘মেঠোপথ থিয়েটার’ নামেই কাজটা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। আমাদের তাগিদ কাজ করা, চাকরির পাশাপাশি অভিনয়ও চালিয়ে যাওয়া। সেই ভাবনা থেকেই জন্ম ‘মেঠোপথ থিয়েটার’-এর।

আনন্দভুবন : আপনি ব্যাংকে চাকরি করেও থিয়েটারের সঙ্গে নিয়মিত সময় দেন কী করে ?

শারমীন সঞ্জিতা : থিয়েটারে যেহেতু এখনো পেশাদারিত্বের জায়গা তৈরি হয়নি তাই চাকরি তো করতেই হবে। কিন্তু অভিনয়টা তো নেশা। সেই নেশাকে বাঁচিয়ে রাখতে অফিস শেষ করে রাত ৮টা থেকে মহড়া শুরু করি। আমি কৃতজ্ঞ যে আমি যাদের সঙ্গে কাজ করি তারা আমাকে খুব ভালোবাসে বলে আমার এই ব্যাপারটাকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখে। আর পাপেটের ওয়ার্কশপ করি আমার বাসায়। তাই রাত জেগে জেগে একটু একটু করে কাজ করি।

আনন্দভুবন : থিয়েটার নিয়ে আপনার স্বপ্ন বা ভাবনা কী ?

শারমীন সঞ্জিতা : থিয়েটারে পৃথিবীর প্রাচীনতম মাধ্যম হলো পাপেট থিয়েটার। এটাকে বর্তমান থিয়েটার চর্চার সঙ্গে একীভূত করে এগিয়ে নিয়ে যাবার প্রয়াস আছে। আমাদের একটি পাপেট থিয়েটার আছে- ইনভেন্টর’স পাপেট। কিছুদিন আগে আমরা একটা পাপেট উৎসবও করেছি যা বাংলাদেশে প্রথম। সবার সহযোগিতা থাকলে এটাকে নিয়ে মঞ্চে বড়ো একটি কাজ নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছি। আমি অভিনয়টা করে যেতে চাই, তা সে যে মাধ্যমেই হোক। যদিও মঞ্চে আমি বেশি স্বতঃস্ফূর্ত এবং পাপেট আমার ভালোবাসার একটা বড় অংশ জুড়ে আছে।

আনন্দভুবন : আপনার অভিনীত নাটকগুলো কী কী ?

শারমীন সঞ্জিতা : একাধিক নাট্যদল ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির প্রযোজনায় বেশ কয়েকটি নাটকে আমি অভিনয় করেছি। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো : ‘মাধো’, ‘ষোড়শী’, ‘গডোর প্রতীক্ষায়’, ‘একশো বস্তা চাল’, ‘বাগধী ধীরুয়াল’, ‘রুদ্র রবি ও জালিয়ানওয়ালাবাগ’, ‘গাজী কালু চম্পাবতী’, ‘বিসর্জন’, ‘পাইচো চোরের কিচ্ছা’, ‘হেফাজত’ এবং পাপেট উৎসবে উদ্বোধনী মঞ্চায়ন পাপেট নাটক ‘কল্পতরু’।

আনন্দভুবন : নাটক ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যমে কাজ করছেন কি ?

শারমীন সঞ্জিতা : হ্যাঁ, এছাড়াও বিভিন্ন কার্টুন ও অ্যানিমেশন ছবিতে কণ্ঠ দিয়েছি। এখনও কাজ করছি। ডাক পেলেই এসব কাজে ছুটে যাই।

সাক্ষাৎকার : প্রশান্ত অধিকারী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here