Home অঁভোগ কাভার গরমে আরামে ফল

গরমে আরামে ফল

721
0
SHARE

বৈশাখের তাÐব শুরু হয়ে গেছে ইতোমধ্যে, কোনোদিন রোদের তাপে ঘেমে নেয়ে অবস্থা বেগতিক আবার কোনোদিন বৃষ্টির ঝাপটায় কাকভেজা হয়ে ঘরে ফেরা। শরীরের ওপর দিয়ে অসুখের ঝড় ঝাপটাও কম যায় না এসময়। তবে এ থেকে মুক্তি পেতে প্রকৃতিও উজাড় করে দিয়েছে তার ভাÐার। এসময় পাওয়া যায় রসালো সব ফল। এইসব ফলে থাকে প্রচুর ভিটামিন আর মিনারেলসহ নানা গুণ যা এসময় শরীর মন সতেজ রাখে সেইসঙ্গে দূর করে রোগ-বালাই। চলুন এবারের অঁভোগ আয়োজনে জেনে নিই গ্রীষ্মের কিছু ফলের গুণাগুণ…

আম

বৈশাখের শুরু থেকেই বাজারে আমের আনাগোনা শুরু হয়ে যায়। এই সমস্ত আমের মাঝে আছে ল্যাংড়া, হিমসাগর, গোপালভোগ, ফজলি, চোষাসহ আরো নানা স্বাদের আর নানা ধরনের আম। তবে পুষ্টিগুণের দিক থেকে আমে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। বিশেষ করে কাঁচা আমে ভিটামিন সি-এর পরিমাণ অনেক বেশি। এছাড়া আমের মধ্যে আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা কি না ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে। স্তন, লিউকেমিয়া, কোলনসহ প্রোস্টেট ক্যান্সারকেও প্রতিরোধে সহায়তা করে আম। আম চোখের জন্যও বেশ উপকারী। সেইসঙ্গে ত্বকের যতেœও অনেক উপকারি মজাদার এই ফলটি। এসব কিছুর পাশাপাশি এই ফলে পাওয়া যায় টারটারিক অ্যসিড, ম্যালিক অ্যসিড ও সাইট্রিক অ্যসিড যা শরীরে অ্যালকালাই বা ক্ষার ধরে রাখতে সহায়তা করে অনেকাংশেই। আম হজমশক্তির জন্য অত্যন্ত ভালো একটি প্রাকৃতিক ওষুধ। তাছাড়া এটি শরীরে থাকা খারাপ কোলেস্টরলের মাত্রা কমিয়ে আনে।

লিচু

আমের পরের স্থানটি দখল করে আছে লিচু। রসে টইটম্বুর একটি ফলের নাম লিচু। বাইরের লাল রঙের আবরণের নিচে থাকে সাদা রঙের মিষ্টি একটি মাংসালো অংশ। রাজশাহী, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম জেলায় লিচু বেশি উৎপন্ন হয়। লিচুতে প্রধানত থাকে কার্বোহাইড্রেট [চিনি], প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন বি ও সি, পটাসিয়াম এবং আয়রন। লো ক্যালোরির এই ফলটিতে কোনো  কোলেস্টেরল নেই। এই ফলের রসালো অংশ তৃষ্ণা মেটাতে সহায়ক। এর আঁটি চর্মরোগে বিশেষ উপকারী। কাশি, পেটে ব্যথা ও টিউমার বৃদ্ধি রোধে লিচু অনেক উপকারী। এ দিয়ে জ্যাম তৈরি করে সংরক্ষণ করা যায়। তবে যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে তাদের লিচু কম খাওয়াই ভালো।

কাঁঠাল

বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল। কাঁঠালের অনন্য আকার, আকৃতি ও সুস্বাদু গন্ধের জন্য অনেক সুপরিচিত। জাতীয় এই ফল দেশের প্রায় সব জেলাতেই কমবেশি হয়। তবে ঢাকা জেলার গাজীপুর, টাঙ্গাইল, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, ময়মনসিংহ ও নরসিংদী এলাকায় কাঁঠাল বেশি জন্মে। গাজীপুরে রয়েছে এই ফলের সবচেয়ে বড়ো বাজার।

কাঁঠালে আছে প্রচুর পরিমাণে মিনারেল, থায়ামিন, রিবোফাভিন, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, আয়রন, সোডিয়াম, জিঙ্ক এবং নায়াসিনসহ বিভিন্ন প্রকার পুষ্টি উপাদান। অন্যদিকে কাঁঠালে প্রচুর পরিমাণে আমিষ, শর্করা ও ভিটামিন থাকায় তা মানবদেহের জন্য বিশেষ উপকারী ফল। এটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। কাঁচা কাঁঠাল তরকারি হিসেবে আর পাকলে ফল হিসেবে খাওয়া যায়। এর দানা ভেজে কিংবা রান্না করে খেতেও মজা।

তরমুজ

রসালো এই ফলটি প্রচÐ গরমে দেয় স্বস্তি। কালো, সবুজ বিভিন্ন রঙের এই ফলটির শতকরা বিরানব্বই ভাগ পানি। শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী এই ফলে কোনো ফ্যাট বা কোলেস্টেরল নেই বরং এটি ভিটামিন এ, বি ও সি-এর এক চমৎকার উৎস। গ্রীষ্মের তীব্র গরমে তরমুজ এই সময়ের জন্য উপযুক্ত ফল। তাই ডায়রিয়ার পরে, বমি করার পরে বা যারা অতিরিক্ত রোদে থাকেন, তাদের জন্য তরমুজ জরুরি উপকরণ। এতে নিম্ন মাত্রার ক্যালোরি, অতি উচ্চমাত্রার পটাশিয়াম রয়েছে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। প্রচুর পরিমাণে রসালো ফল হওয়ায় কিডনির জন্য বয়ে আনে সুফল। তরমুজ রক্তে ইউরিক এসিডের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। ফলে কিডনিতে পাথর, ইনফেকশনসহ যাবতীয় অসুখগুলো তুলনামূলক কম হয়। আর কিডনি ভালোভাবে কাজ করার জন্য দেহের বর্জ্যগুলো সঠিকভাবে বের হয়ে যায়। আর উপকারী ভিটামিন ‘সি’র বসতি এই ফলে। ভিটামিন ‘সি’ প্রতিরোধ করে অ্যাজমা বা হাঁপানি, ঋতুজনিত সর্দি, টনসিল, গরম-ঠান্ডা জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া, অসটিওআর্থ্রাইটিস অর্থাৎ শরীরের প্রতিটি জয়েন্টে ব্যথা।

বেল

এই মৌসুমের আরেকটি ফল বেল। এতে আছে প্রচুর শর্করা, প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ লবণ। গ্রীষ্মের এই তপ্ত  দুপুরে বেলের শরবত নিমিষেই আপনার প্রাণ জুড়ায়। এছাড়া যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যজনিত সমস্যা আছে তাদের জন্য বেলের শরবত খুবই উপকারী।

জাম

জাম গ্রীষ্মকালের একটি জনপ্রিয় ফল। জাম বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ এবং স্বাস্থ্যের জন্যও অনেক উপকারী। জামে আছে প্রচুর ভিটামিন সি এবং ভিটামিন এ। পেটের সমস্যা দূর করতে এবং ক্ষুধামন্দা দূর করতে জামের জুড়ি নেই।

আনারস

সিলেট, মৌলভীবাজার, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও নরসিংদী জেলায় এই ফল বেশি হয়। পাকা আনারস শক্তি বাড়ায়। কফ নিরাময়ে সহায়ক, পিত্তনাশক এবং হজম বৃদ্ধি করে। এ ফলের শাঁস ও পাতার রস মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে কৃমি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। আনারসের জ্যাম-জেলি তৈরি করেও সংরক্ষণ করা যায়।

জামরুল

রসালো ও হালকা মিষ্টি জামরুল গ্রীষ্মকালেই পাওয়া যায়। এটি ভিটামিন বি-২ সমৃদ্ধ ফল। বহুমূত্র রোগীর জন্য জামরুল অনেক উপকারী। বর্তমানে সাদা, খয়েরি-লাল ও হালকা গোলাপি রঙের জামরুল দেখা যায়।

গ্রন্থনা : ফাতেমা ইয়াসমিন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here