Home কাভার গার্ল শীতের আমেজে বনভোজন

শীতের আমেজে বনভোজন

6008
0
SHARE

শীতের মিঠে রোদ আর হিমেল হাওয়ায় বনভোজনের আনন্দে মেতে উঠতে চায় মন। কিন্তু ঢাকায় বসবাসকারী নাগরিকদের বনভোজনের জন্য উপযুক্ত জায়গা খুঁজে পাওয়া কিছুটা কষ্টসাধ্যই বটে। বনভোজনের জন্য ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান, ফ্যান্টাসি কিংডম, নন্দন পার্ক, সোনারগাঁও-এর নাম মোটামুটি সবারই জানা। বনভোজনের জন্য একটু ভিন্ন জায়গা যারা খুঁজছেন তারা বেছে নিতে পারেন উপযুক্ত এই জায়গাগুলো…

রাসেল পার্ক, নারায়ণগঞ্জ

প্রায় ৩০ বিঘা জমির উপর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এই পার্কটি গড়ে তোলা হয়েছে। পিকনিকের জন্য পার্কটিতে পৃথক পৃথক তিনটি স্পট রয়েছে। সবুজের সমারোহের পাশাপাশি রয়েছে মিনি চিড়িয়াখানা, শিশুদের খেলাধুলার ব্যবস্থা।

নাহার গার্ডেন পিকনিক স্পট, মানিকগঞ্জ

ঢাকার অদূরে মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়ায় এই পিকনিক স্পটটি গড়ে তোলা হয়েছে। সারি সারি বৃক্ষরাজির পাশাপাশি রয়েছে শান বাঁধানো ঘাটসহ পুকুর, শিশুদের খেলাধুলার ব্যবস্থা, পুকুরে নৌকায় করে ঘুরে বেড়ানো সব মিলিয়ে চিত্ত বিনোদনের এক অপরূপ মেলবন্ধন।

ড্রিম হলিডে পার্ক, নরসিংদী

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে নরসিংগীতে গড়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক মানের ড্রিম হলিডে পার্ক। বনভোজন এবং অবকাশ যাপনের জন্য এখানে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এখানে দুটি পিকনিক স্পট রয়েছে। মায়াবী এবং মধুরিমা পিকনিক স্পট। ওয়াটার পার্ক, সোয়ান বোট, ফাইটার বোট এমন বেশকিছু আন্তর্জাতিক মানের রাইডও রয়েছে পার্কটিতে।

তেপান্তর ফিল্ম সিটি এবং পিকনিক স্পট, ময়মনসিংহ

বনভোজনের আরও একটি দারুণ জায়গা ময়মনসিংহের ভালুকায় অবস্থিত তেপান্তর ফিল্ম সিটি এবং পিকনিক স্পট। মূলত শুটিং এবং পিকনিকের জন্যই এই স্থানটি ভাড়া দেওয়া হয়। পিকনিক পার্টির জন্য এখানে বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে।

নুহাশপল্লী, গাজীপুর

জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদ নিজের পছন্দ অনুযায়ী বানিয়েছিলেন নুহাশপল্লী। হুমায়ূন আহমেদ তার বাগানবাড়ি হিসেবে ব্যবহার করতেন এটি। এছাড়া বিভিন্ন পিকনিক পার্টি ও শুটিং ইউনিটের কাছে এটি ভাড়া দেওয়া হয়। তবে সাধারণত ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রæয়ারি এই তিন মাস পিকনিকের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়ে থাকে।

রাঙামাটি ওয়াটার রিসোর্ট, গাজীপুর

গাজীপুরে অবস্থিত রাঙামাটি ওয়াটার রিসোর্ট বেশ উন্নতমানের একটি পিকনিক স্পট। এখানে রয়েছে ফুলের বাগান, সারি সারি বৃক্ষ রাজি, কৃত্রিম পাহাড়, লেকে মাছ ধরার ব্যবস্থা, নৌকায় ঘুরে বেড়ানোর ব্যবস্থা।

রয়েল রিসোর্ট, টাঙ্গাইল

জমিদার বাড়িতে বনভোজন করতে চাইলে যেতে পারেন টাঙ্গাইলের ধনবাড়িতে অবস্থিত রয়েল রিসোর্টে। এটি আসলে নওয়াব আলীর প্রাসাদ। এখানে আছে এলিফ্যান্ট গেট, ৭০০ বছরের পুরনো মসজিদ ও রাবার বাগান। ঘোড়া নিয়ে ছুটে বেড়ানোরও ব্যবস্থা আছে। নবাব প্যালেস, ভিলা, কটেজ এবং বাংলো এ ধরনের চারটি জায়গায় থাকার ব্যবস্থাও আছে।

লাউচাপড়া পাহাড়িকা অবকাশ কেন্দ্র, জামালপুর

জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জে অবস্থিত লাউচাপড়া পাহাড়িকা অবকাশ কেন্দ্র বনভোজনের জন্য চমৎকার একটি জায়গা। চারিদিকে গারো পাহাড়ের সবুজ বন। পাহাড়ের গা বেয়ে আঁকা-বাঁকা একটি সিঁড়ি উঠে গেছে একেবারে চূড়ায়। সেখানে রয়েছে মস্তবড়ো এক ওয়াচ টাওয়ার। দূরে দেখা যায় ভারতের মেঘালয় রাজ্যের আকাশ ছোঁয়া সব পাহাড়। এই পাহাড়ি জঙ্গলে আছে নানা জাতের পশু-পাখি। এখানে আরো রয়েছে কৃত্রিম লেক এবং শিশুপার্ক। পুরো জায়গাটি অবসর বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলেছে জামালপুর জেলা পরিষদ। পিকনিক পার্টির জন্য এখানে রান্নার ব্যবস্থা রয়েছে। সেইসঙ্গে বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজনও করা যাবে।

মোহাম্মদি গার্ডেন, ধামরাই

mohammadi garden

বনভোজনের জন্য আরও একটি উপযুক্ত স্থান মোহাম্মদি গার্ডেন। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে ধামরাইয়ের মহিচাশীতে এই গার্ডেনের অবস্থান। এখানে রয়েছে সুদৃশ্য পুকুর, শিশুদের জন্য কিছু রাইড, মিনি চিড়িয়াখানা, পিকনিকের জন্য ৪টি স্পট ইত্যাদি। কোলাহলমুক্ত, মনোরম এই পরিবেশে তাই বনভোজনের পরিকল্পনা করতে পারেন অনায়াসে।

মেঘনা ভিলেজ রিসোর্ট, মুন্সিগঞ্জ

বনভোজনের জন্য মুন্সিগঞ্জে অবস্থিত মেঘনা ভিলেজ রিসোর্ট বেছে নিতে পারেন অনায়াসে। মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার মেঘনা ব্রিজ থেকে এক কি.মি. দূরে অবস্থিত এই রিসোর্ট। সবুজ শ্যামল প্রকৃতির পাশাপাশি এখানে রয়েছে মিনি চিড়িয়াখানা, বিভিন্ন ধরনের রাইড, সুইমিং পুল, সিনেপ্লেক্স, খেলাধুলার জায়গা, নেপালি স্টাইলে তৈরি কটেজ ইত্যাদি। পিকনিক পার্টির জন্য সবরকম সুযোগ-সুবিধা এখানে পাওয়া যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here