Home স্বাস্থ্য শিশু

শিশু

750
0
SHARE

আয় ঘুম আয়

‘কত রাত একটু শান্তিতে ঘুমাই না ! শেষ কবে ঘুমিয়েছি মনে করতে পারছি না !’ এরকম অভিযোগ যে ঘরে শিশু রয়েছে সে ঘরের সব বাবা-মায়ের কাছ থেকেই শুনতে পাওয়া যায়। কারণ, শিশুর ঘুমের রুটিন হয়ে থাকে খুব অগোছালো। কখন সে ঘুমাবে আর কখন যে ঘুম থেকে উঠবে সেটা সম্পূর্ণ শিশুর মর্জি মতো চলে। সদ্যজাত শিশুর ঘুমের রুটিন আরো জটিল। ভালো ঘুম শিশুর মস্তিষ্ক চাঙা করে। এতে সে দিনেরবেলা তার চারপাশ ও পরিবেশ অবলোকন করতে পারে, শিখতে পারে। তাই অভিভাবক হিসেবে মানসিক ও শারীরিক বিকাশে শিশুর ঘুমের জন্য আপনি কিছু অভ্যাস ও রুটিন তৈরি করতে পারেন।

 

শিশুর আদর্শ ঘুমের জন্য নিচে কিছু উপায় দেওয়া হল

শিশুদের নিজে নিজে ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাস করান

শিশুকে সবসময় ঘুমাতে বাধ্য না করে তাকে নিজে নিজেই ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাস করতে সুযোগ দিন। সবসময় পিঠে হালকা চাপড়, ঘুমপাড়ানি গান কিংবা অন্য কোনো পন্থা অবলম্বন করার দরকার নেই। শিশু ক্লান্ত হয়ে হাই তোলে, ঘুমঘুম চোখে তাকায়। তখন তাকে বিছানায় শুইয়ে দিন। তাকে নিজের ঘুম নিজেকেই ঘুমাতে দিন।

দিন ও রাতের পার্থক্য বোঝাতে সাহায্য করুন

শিশুর বয়স ২ সপ্তাহ পার হলে আপনি তাকে দিন-রাতের পার্থক্য বোঝাতে সহায়তা করতে পারেন। দিনেরবেলায় বাসায় লাইট না জ্বালিয়ে জানালা খোলা রেখে দিনের আলো ঘরে আসতে দিন। আর রাতেরবেলা রুমে অল্প আলো রাখুন। এক্ষেত্রে শিশুর রুমে টিউবলাইট না জ্বালিয়ে ২০-৩০ ওয়াটের অ্যানার্জি সেভিং বাল্ব ব্যবহার করুন। দিনেরবেলা শিশুর সঙ্গে খেলাধুলা এবং নানাভাবে তার মনোযোগ ধরে রাখুন। রাতে বেশি শব্দ করা থেকে বিরত থাকুন। খেয়াল রাখুন শিশুর রুমে যেন কোনো টিভি না থাকে। এভাবেই শিশুর মধ্যে দিন-রাতের পার্থক্য বোঝার ক্ষমতা তৈরি হবে।

ঘুমানোর কিছু সিগন্যাল তৈরি করুন

ছোটবেলায় আমরা সবাই চাঁদ মামার ঘুমপাড়ানি গান শুনেছি। তেমন ঘুমপাড়ানি গান আপনার শিশুকে রাতে ঘুমানোর আগে শোনান। ঘুমপাড়ানোর সময় তার গালে চুমু দিয়ে গুডনাইট বলুন। বুকে ও পিঠে আলতো চাপড় দিন। এই সবকিছুই তার কাছে ঘুমের সিগন্যালের মতো মনে হবে এবং এতে তার মাথায় একটা রুটিন ঢুকে যাবে। তখন সে ধীরে ধীরে ঘুমিয়ে পড়বে।

দুলুনির মাধ্যমে ঘুম পাড়ানোর অভ্যাস পরিহার করুন

শতভাগ বাবা-মা তার শিশুকে দুলুনির মাধ্যমে ঘুম পাড়ানোর অভ্যাস করে থাকেন। আপনার কাছে হয়ত মনে হয় একটু দুলুনি দিলেই ঘুমাবে, হ্যাঁ ঘুমাবে ঠিকই কিন্তু পরবর্তীসময়ে দুলুনি ছাড়া সে ঘুমাতে চাইবে না। ধীরে ধীরে দেখবেন শিশুকে ঘুমপাড়াতে দোলনা আরো জোরে দোলাতে হচ্ছে। একসময় আসবে যে দুলুনিতে আর কাজই হচ্ছে না।

শিশুর খাওয়া-দাওয়ার প্রতি নজর রাখুন

শিশুর আদর্শ ঘুমে খাওয়া-দাওয়ার দারুণ ভূমিকা রয়েছে। কখনই আপনার শিশুকে রাতে বেশি করে খাওয়াবেন না। কারণ, এর ফলে রাতে সে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। খেয়াল রাখতে হবে শিশুর রাতের খাবারে যেন কোনোরকম ক্যাফিন না থাকে। শিশুর ৬ মাস বয়সের পর রাতে ঘুমানোর আগে বুকের দুধ খাওয়ানোর অভ্যাস থাকলে সেটা পরিহার করতে হবে।

শিশুর রুমে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করুন

শিশুর রুমে নিরিবিলি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করুন। ঘুমানোর জায়গায় একটি আরামদায়ক বিছানা তৈরি করুন। শিশুর আরামদায়ক ঘুমের জন্য ঘরের তাপমাত্রা ঠিক রাখুন। তাপমাত্রা কখনই খুব বেশি বা কম রাখবেন না। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় শিশুকে ঘুমাতে দিন। হ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here