Home প্রকৃতি বর্ষাকালের এক অপরূপ কদম ফুল

বর্ষাকালের এক অপরূপ কদম ফুল

425
0
SHARE
OLYMPUS DIGITAL CAMERA

কদম ফুল

‘বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল করেছ দান,

আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান,

মেঘের ছায়ায় অন্ধকারে রেখেছি ঢেকে তারে,

এই-যে আমার সুরের ক্ষেতের প্রথম সোনার ধান।’

-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

 

আষাঢ় ও শ্রাবণ এই দুই মাস বর্ষাকাল। বাঙালির প্রিয় ঋতুর একটি। আর এই বর্ষাতেই কদম ফুলের স্নিগ্ধ সুরভি যুগে যুগে বাঙালিকে মুগ্ধ করে। বর্ষা এলেই কদম ফোটে, চোখ ধাঁধিয়ে দেয় ফুলপ্রেমীদের। বর্ষায় শাপলা যেমন খাল-বিলের উপচেপড়া পানির সৌন্দর্য বাড়ায়, তেমনি চারপাশের পরিবেশ মাতিয়ে তোলে কদম ফুল। বর্ষা মানেই হলুদ-সাদা মিশ্র রঙের কদম ফুলে গাছ ছেয়ে যাওয়া। বর্ষা মানেই গুচ্ছ গুচ্ছ কদম ফুলের মাতাল করা মিষ্টি সুবাস। কদম গাছের শাখায় পাতার আড়ালে ফুটে থাকা অজ¯্র কদম ফুলের সুগন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আর এ-কারণেই কদম ফুলকে বলা হয় বর্ষার দূত। কদম ফুলের আরেক নাম হলো নীপ [এসো নীপবনে ছায়াবিথী তলেÑ রবীন্দ্রনাথ]। ফুলের সৌন্দর্যের মতো এর আরও কয়েকটি সুন্দর নাম আছে। যেমন, বৃত্তপুষ্প, সর্ষপ, ললনাপ্রিয়, সুরভি, মেঘাগমপ্রিয়, মঞ্জুকেশিনী, কর্ণপূরক, পুলকি, সিন্ধুপুষ্প ইত্যাদি। কদম বর্ণে, গন্ধে, সৌন্দর্যে এ-দেশের ফুল গাছগুলোর মধ্যে অন্যতম।

OLYMPUS DIGITAL CAMERA

কদম গাছের উচ্চতা ৪০ থেকে ৫০ ফুট। দীর্ঘাকৃতি, বহুশাখাবিশিষ্ট বিশাল বৃক্ষ। রূপসী তরুর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কদম। কদমের কাÐ সরল, উন্নত, ধূসর থেকে প্রায় কালো এবং বহু ফাটলে রুক্ষ কর্কশ। শাখা অজ¯্র এবং ভূমির সমান্তরালে প্রসারিত। পাতা বড়ো বড়ো, ডিম্বাকৃতি, উজ্জ্বল-সবুজ, তেল-চকচকে এবং বিন্যাসে বিপ্রতীপ। বোঁটা খুবই ছোটো। নিবিড় পত্রবিন্যাসের জন্য কদম গাছ ছায়াঘন। শীতে কদমের পাতা ঝরে এবং বসন্তে কচি পাতা গজায়। কদমের কচি পাতার রং হালকা সবুজ। কদমের একটি পূর্ণ মঞ্জরিকে সাধারণত একটি ফুল বলেই মনে হয়। কদম ফুল দেখতে বলের মতো গোল, মাংসল পুষ্পাধারে অজ¯্র সরু সরু ফুলের বিকীর্ণ বিন্যাস। পূর্ণ প্রস্ফুটিত মঞ্জরির রং সাদা-হলুদে মেশানো হলেও হলুদ-সাদার আধিক্যে প্রচ্ছন্ন। প্রতিটি ফুল খুবই ছোটো, বৃতি সাদা, দল হলুদ, পরাগচক্র সাদা এবং বহির্মুখী, গর্ভদন্ড দীর্ঘ। ফল মাংসল, টক এবং বাদুড় ও কাঠবিড়ালীর প্রিয় খাদ্য। ওরাই বীজ ছড়ানোর বাহন।

কদমের বৈজ্ঞানিক নাম : অহঃযড়পবঢ়যধষঁং রহফরপঁং। আদি নিবাস ভারতের উষ্ণ অঞ্চল, চীন ও মালয়ে।

লেখা : শ্যামল কায়া

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here