Home প্রকৃতি প্রকৃতি

প্রকৃতি

1547
0
SHARE

চন্দ্রমল্লিকা
চন্দ্রমল্লিকা একটি পরিচিত ফুল। এর ইংরেজি প্রতিশব্দ ক্রিস্যানথিমাম [ঈযৎুংধহঃযবসঁস] শব্দটি এসেছে গ্রিক থেকে। ক্রিসস অর্থ ‘সোনা’ এবং এনথিমাম অর্থ ‘ফুল’ এবং বৈজ্ঞানিক নাম : ঈযৎুংধহঃযবসঁস রহফরপঁস. এই ফুলের অনেকগুলো প্রজাতি রয়েছে। এটি বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ হয়। বিভিন্ন রংয়ের এই ফুলগুলোর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমূল্য রয়েছে প্রথম সারিতে। অক্টোবরে কুঁড়ি আসে এবং নভেম্বরে ফুল ফোটে ৷ গাছে ফুল তাজা থাকে ২০ থেকে ২৫ দিন ৷ ফুলদানি সাজানোর জন্য লম্বা ডাটাসহ এবং মালা গাঁথার জন্য ডাটা ছাড়া ফুল তোলা হয়। স্থানীয়ভাবে একে চন্দ্রমুখী নামেও ডাকা হয়। চন্দ্রমল্লিকার বিভিন্ন জাত রয়েছে। বাণিজ্যিকভিত্তিতে যেগুলোর চাষ হয় সেগুলোকে প্রধানত দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়Ñ ছোট ও বড়ো।
ছোট প্রজাতি : বাসন্তী [জলদি জাত] উজ্জ্বল হলুদ, মেঘামী [হালকা বেগুনী], উনা [হাল্কা গোলাপি]
বড়ো প্রজাতি : চন্দমা, স্নোবল, সোনার বাংলা, রোজডে, পুইসা পকেট ইত্যাদি।
এ-গাছ ৫০ থেকে ১৫০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত উঁচু হয়ে থাকে। বৃহদাকৃতির ফুলগুলো সচরাচর সাদা, হলুদ অথবা পটল বর্ণের হয়।

মদনটাক
মদনটাকের ইংরেজি নাম খবংংবৎ অফলঁঃধহঃ এবং বৈজ্ঞানিক নাম খবঢ়ঃড়ঢ়ঃরষড়ং লধাধহরপঁং. মদনটাক সিকোনিডাই পরিবারভুক্ত লেপটপ্টিইলোসগণের [খবঢ়ঃড়ঢ়ঃরষড়ং] এক বৃহদাকৃতির জলচর পাখি। এগুলো অন্যান্য প্রজাতির ন্যায় এরও নগ্ন ঘাড় ও মাথা রয়েছে। জলাভূমিতে বিচরণরত অন্যান্য জলচর পাখির সঙ্গে এর বেশ মিল রয়েছে। সাধারণত এটি একাকী চলাফেরা করতে ভালোবাসে। দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশসমূহে এদের দেখা যায়।
বৃহদাকৃতির মদনটাকের সম্মুখাংশে নগ্ন বা টেকো মাথা এবং ঘাড় ছাড়াও বড়ো ধরনের অনুজ্জ্বল হলদে চঞ্চু রয়েছে। গড়পড়তা এদের দৈর্ঘ্য ৮৭-৯৩ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির পিঠের দিক উজ্জ্বল কালো। দেহতল সাদা। ডানার গোড়ায় কালো তিলা থাকে। এছাড়া কাঁধ-ঢাকনি ও ডানার বর্ণ কালো। টাক মাথার চাঁদি ও ঘাড়ে হলদে-ধূসর রঙের বিক্ষিপ্ত চুলের মতো। মুখের চামড়া ও ঘাড় লালচে এবং গলা হলদে। চোখ সাদা ও স্লেট-ধূসর। পা লম্বা। পায়ের পাতা, নখর ও পা সবুজাভ-ধূসর থেকে স্লেট কালো। স্ত্রী ও পুরুষ পাখি দেখতে একই রকম।
মদনটাক ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, লাওস, ইন্দোনেশিয়া এবং কম্বোডিয়ায় এদের প্রধান আবাসস্থল। সিঙ্গাপুর ও চীনে এরা বিলুপ্ত। ভারতের আসাম, পশ্চিমবঙ্গ এবং বিহার প্রদেশে এদের সংখ্যা ব্যাপকভাবে দৃশ্যমান। মদনটাক প্রধানত জলচর পাখি হিসেবে পরিচিত। মাছ, ব্যাঙ, সরীসৃপ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণী খেয়ে থাকে। কদাচিৎ এরা গলিত পচা মাংস খেয়ে থাকে। এছাড়াও এরা ছোট ছোট পাখি এবং ইঁদুরজাতীয় প্রাণীও প্রজনন মৌসুমের খাবার হিসেবে গ্রহণ করে। প্রজনন মৌসুম ব্যতীত একাকী নিভৃতচারী পাখি হিসেবে এরা পরিচিত। ভারতের দক্ষিণাংশে ফেব্রুয়ারি থেকে মে এবং উত্তর-পূর্বাংশে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত এরা বাসা বাঁধে। বড়ো বড়ো ডালপালা দিয়ে উঁচু বৃক্ষের শাখায় এরা ডিম পাড়ে। স্ত্রীজাতীয় মদনটাক তিন থেকে চারটি পর্যন্ত ডিম পাড়ে।
লেখা : প্রশান্ত অধিকারী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here