Home অল ইন অল নিয়মিত হাত ধুই আর নিয়ম করে গোসল করি

নিয়মিত হাত ধুই আর নিয়ম করে গোসল করি

649
0
SHARE
Beautiful naked young woman is smiling and using shampoo while taking shower in bathroom; Shutterstock ID 488713921

 

রিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বা ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য চর্চার মাধ্যমে অনেক রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। হাত ধোয়া এবং গোসল করার অভ্যাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বা ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য চর্চার দুটি ভালো উদাহরণ। নিয়ম ও সময়মতো হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে আমাশয়, টাইফয়েড, জন্ডিস, ডায়রিয়া, কৃমিরোগসহ আরও অনেক জীবাণু দ্বারা সংক্রমণের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়। নিয়মিত গোসল করলে শরীর সতেজ ও ঝরঝরে থাকে। অনেক কাজ করার পরও দেহে ক্লান্তি

ভর করে না। জেনে নিন হাত ধোয়া ও গেসলের উপকারিতা এবং নিয়মকানুন…

নিয়ম করে গোসল করি

অনেকেরই সকাল-বিকাল গোসল করার অভ্যাস। এতে অনেকটা স্বস্তি পাওয়া যায়। আবার অনেকে আছেন, দিনে তিনবার গোসল করেন। কোনোমতে গায়ে ঝুপঝুপ করে পানি ঢেলে চলে আসেন। আবার অনেকে আছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে গোসল করেও পরিষ্কার হন না। আর যারা অলস, তারা এসবের ঊর্ধ্বে ! গোসলেরও একটা নিয়ম আছে। সঠিকভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হতে চাইলে হাতে ১৫ মিনিট সময় চাই। দায়সারাভাব ত্যাগ করতে হবে, আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করাও বন্ধ করতে হবে। জেনে নেওয়া যাক গোসলের নানা বিষয়াদি…

শরীর পরিষ্কার

ক. প্রথমে এক বালতি ঈষদুষ্ণ গরম পানি নিন। ঠান্ডা পানিতে গোসল করে আরাম আছে, কিন্তু ঠান্ডা পানি ত্বকের ক্ষতি করে। ত্বক রুক্ষ করে তোলে। ফলে হালকা গরম পানিই ভালো। এতে ত্বকেরও ক্ষতি হবে না আবার ক্লান্তিও দূর হবে। যাদের ঘুমের সমস্যা, তাদের সকলেরই হালকা গরম পানিতে গোসল করা জরুরি। মাথা ধোয়ার সময় কিন্তু গরম পানি ব্যবহার করবেন না। ঠান্ডা পানিই ব্যবহার করুন। গরম পানি চুল রুক্ষ করে তোলে।

 

খ. গোসলের সময় পরিষ্কার তোয়ালে বা গামছা নিয়ে বাথরুমে যান। প্রথমে ভালো করে শরীরে পানি দিন। তারপর সাবান মাখুন। ত্বক অনুযায়ী সাবান ব্যবহার করুন। রুক্ষ ত্বকের জন্য গিøসারিনজাতীয় সাবান আর তৈলাক্ত ত্বকের জন্য মিল্ক সোপ। যাদের সাধারণ বা নর্মাল ত্বক, তারা যেকোনো সাবানই বেছে নিতে পারেন।

 

গ. শরীর থেকে ময়লা দূর করতে স্ক্রাবিং খুব জরুরি। বিশেষ করে তৈলাক্ত ত্বক যাদের, সাবান মাখার সময় স্ক্রাবিং করে নিন লুফার সাহায্যে। এতে ময়লা দূর হয়। লোমক‚প থেকে অতিরিক্তি তেল বেরিয়ে আসে। তৈলাক্ত ত্বক পরিষ্কার করতে স্ক্রাবার অথবা বডি ওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন।

 

ঘ. স্ক্রাবিং করে সাবান মাখা হয়ে গেলে ভালো করে গা ধুয়ে নিন। ত্বকের সৌন্দর্য বজায় রাখতে তেল মাখা অত্যন্ত জরুরি। ৭০ শতাংশ মানুষ তেল মাখেন না। কিন্তু এটা খুব জরুরি। বিশেষ করে যাদের ত্বক রুক্ষ, তাদের জন্য তেল মাখা খুব জরুরি। বাজারে অনেক ধরনের বডি অয়েল কিনতে পাওয়া যায়। চন্দন দেওয়া বডি অয়েল বেছে নিন। মাখতে পারেন অলিভ অয়েল। তা না হলে বাড়িতে রাখা সরিষার তেলও মাখতে পারেন। মনে করবেন না গোসল সমাপ্ত। এরপর পরিষ্কার তোয়ালে বা গামছা দিয়ে গা মুছে নিন।

চুল পরিষ্কার

ঙ. গোসলের সময় মুখ ও পায়ের পাতার বিশেষ যত্নে প্রয়োজন। মুখে কখনোই গায়ে মাখার সাবান মাখবেন না। মুখের ত্বক অনুযায়ী উপযুক্ত ফেসওয়াশ বেছে নিন। গোসল করার পর দু’ফোঁটা ফেসওয়াশ আস্তে আস্তে মুখে মেখে ধুয়ে ফেলুন। পায়ের পাতা ও তলার জন্য স্ক্রাবিংয়ের ব্যবস্থা করুন। বাজারে পিউমিক স্টোন কিনতে পাওয়া যায়। তার সঙ্গে ব্রাশও পাওয়া যায়। গোসলের শেষে হাতে সামান্য শ্যাম্পু নিয়ে পায়ের গোড়ালি ও তলায় ভালো করে মাখিয়ে নিন। তারপর প্রথমে পিউমিক স্টোন ও ব্রাশ দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করুন। দেখবেন পা ফাটার সমস্যা দূর হয়েছে নিমেষে।

 

চ. শ্যাম্পু করার প্ল্যান থাকলে আগে শ্যাম্পু করা সেরে নিতে হবে। এসএলএস [sodium lauryl sulphate] যুক্ত শ্যাম্পু এড়িয়ে চলুন। এটি শ্যাম্পুতে ফেনা তৈরি করে। এর সাহায্যে ক্ষণিকের জন্য চুল চকচকে হলেও চুলের ডগা ফেটে যায়, স্বাভাবিক রংও নষ্ট করে। তাই এমন শ্যাম্পু ব্যবহার করুন যাতে এসএলএস উপাদান নেই। চুলের ধরন বুঝে বেছে নিন হার্বাল শ্যাম্পু।

 

ছ. অনেকে মনে করেন শ্যাম্পু করা মানেই চেটোয় অনেকটা শ্যাম্পু নিয়ে ফেনা তৈরি করে চুলে লাগানো, আর তারপর ধুয়ে ফেলা। এটা কিন্তু সঠিক পদ্ধতি নয়। আগের দিন রাতে তেল মেখে পরদিন শ্যাম্পু করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা-

 

জ. প্রথমে ঠান্ডা পানিতে চুল ধুয়ে মাথার তেল বের করে নিতে হবে। তারপর হাতে সামান্য শ্যাম্পু নিয়ে মাথায় ম্যাসাজ করতে হবে। ফেনা হতে শুরু করলে পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। চুল জটমুক্ত রাখতে কন্ডিশনার মাস্ট। সামান্য কন্ডিশনার চুলে মাখিয়ে মিনিট দুই অপেক্ষা করুন। দেখবেন, চুলের গোড়ায় যাতে কন্ডিশনার না লেগে যায়। তারপর পানি দিয়ে পুরো চুল ধুয়ে তোয়ালে পেঁচিয়ে রাখুন।

 

* শরীর পরিষ্কারের তোয়ালে আর মাথা মোছার তোয়ালে আলাদা করাই ভালো। রোজ এভাবেই গোসল করুন। এতে বেশি সময় ব্যয় হয় না। কিন্তু আপনি পুরোপুরি পরিষ্কার হতে পারেন। মনে রাখবেন, আপনার পরিচ্ছন্নতা আপনার দায়িত্ব। ভেতর থেকে পরিষ্কার না হলে, চারপাশকেও পরিষ্কার মনে হয় না।

 

গোসল করার সঠিক নিয়ম

প্রতিদিন গোসল করা কি জরুরি ? অনেকেই আছেন যারা প্রতিদিন গোসল করা নিয়মের মধ্যে বেঁধে নিয়েছেন আবার অনেকে আছেন একেবারে বাধ্য না হলে গোসল করেন না। কিন্তু বিজ্ঞান কী বলে ? ডার্মাটোলজিস্টদের প্রতিদিন গোসল করা একেবারে জরুরি না হলেও বাংলাদেশের মতো আর্দ্র আবহাওয়ার দেশের জন্য প্রতিদিন গোসল করাই স্বাভাবিক অনেকের জন্য। তবে যারা প্রতিদিন গোসল করা অপ্রয়োজনীয় মনে করেন, তাদের সমর্থনেই কথা বলছেন গবেষকেরা।

নিউ ইয়র্কের ডার্মাটোলজিস্ট ডক্টর জশুয়া জিকনারের মতে, আমেরিকার মতো উন্নত দেশগুলোর মানুষেরা আসলে অতিরিক্ত গোসল করে থাকে। মূলত সাংস্কৃতিক প্রভাবের কারণেই তারা প্রতিদিন গোসল করাকে জরুরি মনে করে থাকে। এদের দেখাদেখি উন্নয়নশীল দেশের মানুষেরাও দৈনিক গোসলকে অপরিহার্য বলে ধরে নেন। আমেরিকার গৃহযুদ্ধের পর বিভিন্ন সাবানের বিজ্ঞাপনে নিয়মিত গোসল করার ব্যাপারকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু আসল ব্যাপার কী ? গবেষকদের মতে, আপনি শারীরিকভাবে কতটা সক্রিয় তার ওপরে গোসলের প্রয়োজনীয়তা অবশ্যই নির্ভরশীল। যারা প্রতিদিন জিমে গিয়ে ঘাম ঝরিয়ে আসেন তাদের জন্য দিনে একবার এমনকি একাধিকবার গোসল করা স্বাভাবিক এবং দরকারি।

বাইরে ট্রাভেল করে শরীর ময়লা হয়ে গেলেও গোসল দরকার। গ্রীষ্মকালে যে সময়ে কোনো কাজ না করেই শরীর ঘেমে একাকার হয়ে যায়, সে সময়েও দৈনিক গোসল জরুরি। কিন্তু এ সময়ের কথা ভাবুন। শীতকালে বেশ ভারি কাজ না করলে শরীর ঘামাবে না, শরীর ময়লাও হবে না। এ সময়ে দৈনিক গোসল করা আসলে অতটা জরুরি নয়। এখানে আরেকটি ব্যাপারে জেনে রাখা দরকার। শীতকালে আপনি যদি প্রতিদিন গরম পানিতে গোসল করতে থাকেন, তবে ত্বকের ক্ষতি বই উপকার হবে না। এর পাশাপাশি ত্বকের দরকারি ব্যাকটেরিয়াগুলোও পানির সাথে ধুয়ে গিয়ে আপনার রোগ-বালাই হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেবে।

দৈনিক গোসল না করে কত ঘন ঘন গোসল করা জরুরি ? উত্তপ্ত আবহাওয়া, ভারি কাজ বা ময়লা পরিবেশে না গেলে দুই-তিন দিন পর পর গোসল করাই যথেষ্ট। যদি বেশি জরুরি মনে হয় তবে শরীরের যেসব অঙ্গে ঘাম বেশি হয় ও ময়লা জমে [মুখ, বগল, স্তনের নিচে, জননাঙ্গ এবং পশ্চাদ্দেশ] সেসব অঙ্গ আলাদাভাবে ধুয়ে নিতে পারেন। আর মনে রাখবেন, দৈনিক গোসল করা জরুরি না হলেও আন্ডার গার্মেন্টস প্রতিদিন পরিবর্তন করা জরুরি।

 

কোন পানিতে গোসল করবেন

অনেকে বলেন ঠান্ডা পানিতে গোসল করা ভালো। তবে সত্যটি হচ্ছে গরম বা ঠান্ডা পানি দুটোই গোসলের কিছু উপকার রয়েছে।

 

গরম পানিতে গোসলের উপকারিতা

১ গোসলের পর শীথিল বোধ করতে চাইলে গরম পানিতে গোসল করবেন।

২ গরম পানির গোসল ক্লান্তি ভাব কাটায়

৩ মাথা ব্যথা থাকলে গরম পানিতে গোসল করবেন। সাময়িকভাবে মাথা ব্যথা কমাবে।

৪ ঘুম থেকে ওঠার পর মুখ ফোলা লাগছে। গরম পানিতে গোসলে ফোলা ভাব কমবে।

৫ নাকের সর্দি কমায়।

৬ শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করে।

৭ ত্বকের লোমক‚পগুলো খুলে দেয়। এতে শরীর পরিষ্কার হয়।

 

ঠান্ডা পানির গোসলের উপকারিতা

১          রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে। এজন্য অনেকে ঠান্ডা পানির গোসল ভালো মনে করেন।

২          অ্যান্টি ডিপ্রেশন হরমোন বের করে।

৩         বিপাকে ভালো রাখতে কাজ করে।

৪          আপনাকে সতেজ করবে, বিশেষ করে সকালে।

৫          চুল পড়া প্রতিরোধ করে, ত্বক ভালো রাখে।

নিয়মিত হাত ধুই

হাত ধোয়া অবশ্যই জরুরি। হাত ধোয়ার অভ্যাস সংক্রামক রোগ প্রতিরোধের জন্য সহজ এবং অত্যন্ত কার্যকর একটি উপায়। আমরা যখন হাত দিয়ে নানা কাজ করি, এটা-সেটা ধরি, তখন অসংখ্য জীবাণু হাতে লেগে যায়। এক মিলিমিটার লোমক‚পের গোড়ায় প্রায় ৫০ হাজার জীবাণু থাকতে পারে। আর একটা আংটির নিচে ইউরোপ মহাদেশের জনসংখ্যার সমান সংখ্যক জীবাণু বাসা বাঁধতে পারে। এসব জীবাণু খালি চোখে দেখা যায় না। এরপর যখন আমরা সেই হাতে খাবার, মুখ, চোখ, নাক স্পর্শ করি, তখন আমরা সংক্রমিত হই। অন্যকে স্পর্শ করে তাকেও আমরা জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত করতে পারি।

খাওয়ার আগে ও পরে, খাবার-দাবারে হাত দেওয়ার আগে, পায়খানার পরে, কাঁচা মাছ, গোশত, ডিম বা শাকসবজি স্পর্শ করার, শিশুদের ডায়াপর পরিবর্তন করার, ময়লা আবর্জনা স্পর্শ করার, হাত দিয়ে নাক ঝাড়ার এবং হাত দিয়ে মুখ ঢেকে হাঁচি-কাশি দেওয়ার পরে অবশ্যই হাত ধুতে হবে। ছাড়া হাত যখন দেখতে ময়লা দেখাবে, তখন তো ধোবেনই। হাত না ধুয়ে কখনোই তা দিয়ে মুখের ভেতর স্পর্শ করা যাবে না।

 

হাত ধোওয়ার নিয়ম

হাত ধোয়ার কিছু নির্দিষ্ট ধাপ রয়েছে। ধাপগুলো অনুসরণ না করলে হাত ধোয়া সঠিক হবে না। প্রথমে পানি দিয়ে হাত ভেজাতে হবে। তারপর সাবান নিয়ে দুই হাতে মেখে ফেনা করতে হবে। দুই হাতে সেই ফেনা ব্যবহার করে দুই হাতের উভয় দিক, আঙুলের ফাঁকগুলো, নখের নিচে এবং কিনারে, বুড়ো আঙুলের গোড়া এবং কবজি খুব ভালোভাবে ঘষে নিতে হবে প্রায় ১৫ সেকেন্ড ধরে। তারপর ট্যাপের প্রবহমান পানিতে হাত ভালো করে পরিষ্কার করতে হবে। ট্যাপটি বাম হাতে বন্ধ করতে হবে। পরিষ্কার তোয়ালে বা গামছা দিয়ে হাত শুকিয়ে নিতে হবে। খাওয়ার আগে মোছার প্রয়োজন নেই।

সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। সাবানের ফেনা হাতে লেগে থাকা ময়লা, চর্বি ও জীবাণুগুলোকে হাত থেকে আলগা করে ফেলে। আর তখন পানি দিয়ে সেগুলোকে সহজেই ধুয়ে পরিষ্কার করে ফেলা যায়। শুধু পানি দিয়ে যতই ঘষা হোক ময়লা, চর্বি ও জীবাণু কখনই পুরোপুরি পরিষ্কার হবে না।

যেকোনো সাধারণ সাবান দিয়েই হাত ধোয়া যাবে। ছোট সাবান বড় সাবানের চেয়ে ভালো। কারণ তা ঘন ঘন বদলানো যায়। সাবান রাখতে হবে পানি ঝরে যায় এমন সাবানদানিতে। তরল সাবান সাধারণ সাবানের চেয়ে ভালো। তরল সাবানের কনটেইনার আবার ভরতে চাইলে তা আগে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে।

হাত ধোয়ার সময় আমরা সচরাচর কিছু ভুল করে থাকি। যেমন, হাতের দুই দিক সঠিকভাবে মাজি না, আঙুলের ফাঁকগুলো পরিষ্কার করি না, নখের নিচে বা কিনারে পরিষ্কার করি না এবং বুড়ো আঙুলের গোড়ার দিক মাজি না। অনেক সময় এক হাতে সাবান নিয়ে হালকা করে কচলিয়ে নেই। হ

গ্রন্থনা : শেখ সেলিম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here