Home কাভার গার্ল কোরবানির যত কাজ

কোরবানির যত কাজ

1694
0
SHARE

কোরবানি ঈদ ঘনিয়ে আসছে, কোরবানির পশু নিশ্চয়ই কিনেছেন বা কিনবেন। তবে শুধু কোরবানির গরু কিনে ক্ষান্ত হলে চলবে না। যেহেতু কোরবানির ঈদ, তাই পশু জবাই থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ রয়েছে অনেক ঝামেলা। পশু কোরবানির রয়েছে অনেক ধাপ। যেমন-পশু জবাই, কাটার উপকরণ ঠিক করা, পরিমাপ করা এবং স্থানটিকে পরিচ্ছন্ন করা। কোরবানি করতে প্রয়োজন হবে ছুরি ও চাপাতি। তেমনি চামড়া ছাড়াতে, মাংস বানাতে প্রয়োজন হবে ছুরি, চাকু, দা, কুড়াল, কাঠের গুঁড়ি। প্রতিটি ছুরি, কুড়াল, চাকু ও দা যাই বলি না কেন, সবই আগেভাগে সংগ্রহ করে রাখতে হবে। তা না হলে ঈদের দিন পড়তে হবে ভারি ঝামেলায়। এসব ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকতে হলে কোরবানির প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কিনে ফেলুন এখনই। কোরবানির মাংস কাটার দরকারি সরঞ্জাম নিয়ে থাকছে বিস্তারিত…

 

কোরবানির দিন যা যা সরঞ্জাম লাগবে

চাপাতি : ম‚লত কোরবানির পশুর মাংস কাটার কাজে ব্যবহার করা হয় এটি। তবে গরুর চামড়া যদি মোটা হয় তবে চামড়া ছাড়ানোর কাজেও ব্যবহার করা যায়। এটি কিছুটা আকারে বড়ো, তাই বহনের সময় সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। রেডিমেড বা অর্ডার দিয়ে বানিয়ে নেওয়া যায়। দাম লোহার ওজন কেমন সেটির উপর নির্ভর করে।

দা : দা দুই ধরনের। একটি সাধারণ, অন্যটি রামদা। রামদা কিছুটা চাপাতির কাজ করে। তবে দা মাংস বানানোর কাজে লাগে। এর সাইজ বা আকৃতি বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। এর হাতল কাঠ বা লোহার হতে পারে।

ছুরি-চাকু : পশুর চামড়া ছাড়ানোর জন্য ছুরি-চাকুর প্রয়োজনীয়তা অনেক। তবে চাকু যেন অনেক ধারালো হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। তা ছাড়া হাড় থেকে মাংস ছাড়াতে ছুরি ব্যবহার করা হয়। ছোট থেকে বড়ো অনেক সাইজের ছুরি-চাকু বাজারে পাওয়া যায়।

এ ছাড়া বেশকিছু সরঞ্জামের প্রয়োজন হয়। যেমন কাঠের গুঁড়ি, চাটাই, মোটা পলিথিন, দাঁড়িপাল্লা ও দড়ি।

 

আধুনিক সরঞ্জাম

এখন আধুনিক নানারকম সরঞ্জাম বের হয়েছে মাংস কাটা এবং কিমা করার জন্য। এগুলো দেখতে সুন্দর এবং তুলনামূলক হাল্কা। অনলাইন শপ ও বাজারে পাওয়া যায় পশু জবাই থেকে শুরু করে চামড়া ছাড়ানো, মাংস টুকরো করার জন্য নানা রকম ছুরির সেট। মাংস কিমা করার জন্য কিনতে পারেন মিট গ্রাইন্ডার। হাড় কাটার জন্য চায়নিজ কুড়ালের দাম পড়বে ৫৫০ টাকা। চাপাতি পাওয়া যাবে ৪৫০ থেকে ৮০০ টাকায়। কাবাব তৈরির বিভিন্ন স্টিকের মধ্যে সিঙ্গেল ৫০ আর সেট পাওয়া যাবে ৫৫০ টাকায়। বারবিকিউ স্টিক ১৫০ থেকে ৫০০ টাকায় পাওয়া যাবে। গরুর বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলার জন্য ব্যাগ পাবেন। মূল্য কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ৪৫০ টাকার মধ্যে।

 

চাপাতি, ছুরি, বঁটির ম‚ল্য

চাপাতি কেজি হিসেবে বিক্রি হয়। প্রতি কেজির দাম ৬০০-৭০০ টাকা। তিন কেজি ওজনের চাপাতির মূল্য ১৮০০-২১০০ টাকা। দুই কেজি ওজনের চাপাতির মূল্য ১২০০-১৪০০ টাকা। দেড় কেজি ওজনের চাপাতির মূল্য ১০০০ টাকা। পশু জবাইয়ের সবচেয়ে বড়ো ছুুরির দাম ৩০০০ টাকা। এরপর আছে ২০০০, ১৫০০, ১০০০, ৫০০, ৩০০ টাকা মূল্যের বাহারি ছুরি। সবচেয়ে ভালো বড়ো বঁটির মূল্য ২০০০ টাকা। এরপর আছে ১৫০০, ১২০০, ১০০০, ৮০০, ৫০০ টাকা মূল্যের বঁটি। বাজার ঘুরে নিজের পছন্দের চাপাতি, ছুরি, বঁটি কিনে আনতে পারেন।

 

হোগলার ম‚ল্য

একটি হোগলার বান্ডিলে ৫০টি হোগলা থাকে। প্রতিটি বান্ডিলের মূল্য ৩০০০-৫০০০ টাকা। অর্থাৎ ৬ ফুট প্রস্থ ও ৭ ফুট দৈর্ঘ্যরে একটি হোগলার মূল্য ৮০-৯০ টাকা। ৫ ফুট প্রস্থ ও ৬ ফুট দৈর্ঘ্যরে হোগলার মূল্য ৬০-৬৫ টাকা।

৪ ফুট প্রস্থ ও ৫ ফুট দৈর্ঘ্যরে হোগলার মূল্য ৫০-৬০ টাকা। তবে শুনে আশ্চর্যই হতে হবে যে, কোরবানির ঈদের পূর্বমুহ‚র্তে যখন হোগলার ক্রেতা বেড়ে যায়, তখন একটি হোগলা ৪০০-৫০০ টাকাতেও বিক্রি হয়।

 

খাইটার ম‚ল্য

কোরবানির পশুর মাংস দ্রæত ও সুন্দর করে কাটার জন্য বর্তমানে গাছের গোলাকার কাঠখÐ বা খাইটা প্রচুর ব্যবহার হয়। এ খাইটার আড়ত আছে সোয়ারীঘাটে। তা ছাড়া খাইটা ঈদের পশুর হাট ও নগরীর বিভিন্ন জায়গায় কোরবানির দিন পর্যন্ত বিক্রি হয়। খাইটা মণ হিসেবে বিক্রি হয়। প্রতিমণের মূল্য ২০০০ থেকে ৫০০০ টাকা। খাইটার আকার ছোট হলে মণপ্রতি মূল্য কম হয়।

 

মেরামতের ব্যবস্থা

পুরোনো সরঞ্জাম অনেকে এ-সময় মেরামত ও ধার করিয়ে নেন। এতে প্রতিটি চাপাতি ৩০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যেই ধার করানো যাবে।

 

যেখানে পাবেন

কারওয়ান বাজারের কামার পট্টি, খিলগাঁও ফ্লাইওভারের নিচে কামারপট্টি, কাপ্তানবাজার, নিউমার্কেট, বসুন্ধরা সিটির লেভেল-৬-এর ক্রোকারিজের দোকানগুলো, গুলশান এভিনিউয়ে ফিক্স ইট হার্ডওয়্যার সুপার শপ, পুরান ঢাকার চকবাজারসহ ঈদের সময় ঢাকার বিভিন্ন স্থানে এবং দেশের প্রায় সব হাটবাজারে পাওয়া যাবে এসব সরঞ্জাম।

 

মাংস সংরক্ষণ

সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে পারলে যেমন মাংসের পুষ্টিগুণ অটুট থাকে, তেমনি পরে ঝামেলাও কম হয়। কীভাবে প্যাকেটজাত ও সংরক্ষণ করবেন।

 

প্যাকেটের ক্ষেত্রে

ষ     পশু জবাইয়ের পরপরই সংরক্ষণ না-করে কিছুটা সময় পরে মাংস সংরক্ষণ করুন। এ-সময় মাংস খোলা বাতাসে একটু ছড়িয়ে রাখুন। মাংস না-ধুয়ে রাখা ভালো।

ষ     গরুর মাংস চার থেকে পাঁচ মাস ফ্রিজে রেখে খেতে পারবেন। তবে দেড় মাস পর থেকে এর পুষ্টিগুণ কমতে থাকে।

ষ     মাংস থেকে রক্ত পড়তে থাকলে অবশ্যই রক্ত পরিষ্কার করে বা শুকনা কাপড় দিয়ে মুছে মাংস সংরক্ষণ করুন।

ষ     একই ব্যাগে অনেক মাংস না রেখে অল্প অল্প করে কয়েকটি প্যাকেটে রাখুন। রাখার সময় প্যাকেট থেকে বাতাস বের  করে নেবেন।

ষ     রান্না করা মাংস ছোট ছোট বক্সে রাখতে পারেন। বারবার বক্স না খুলে শুধু খাওয়ার সময়ই খুলুন।

ষ     মাংস জমাট বাঁধার আগে ফ্রিজের দরজা বারবার খোলা থেকে বিরত থাকুন।

ষ     সংরক্ষণের সময় প্যাকেটের গায়ে লিখে বা চিহ্ন দিয়ে রাখুন, যাতে পরবর্তীসময়ে প্যাকেট খুঁজতে সমস্যা না হয়।

 

সংরক্ষণের উপায়

সঠিক পদ্ধতি মেনে সংরক্ষণ করলে মাংসের স্বাদ ও পুষ্টি দুই-ই ঠিক থাকে। কোরবানির মাংস রেফ্রিজারেটরে, সিদ্ধ করে অথবা শুকিয়ে সংরক্ষণ করা যায়।

ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে চাইলে তাজা মাংস না-ধুয়ে বড়ো বড়ো টুকরা করে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে খোলা বাতাসে শুকিয়ে তারপর পলিব্যাগে মুড়িয়ে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে সংরক্ষণ করুন।

ফ্রিজ না-থাকলে সিদ্ধ করেও মাংস সংরক্ষণ করা সম্ভব। এ-ক্ষেত্রে মাংস চাকা চাকা করে কেটে ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। তারপর হাঁড়িতে তেল গরম করে মাংস দিয়ে এমনভাবে রান্না করুন, যাতে মাংস পুরোপুরি সিদ্ধ হয়। বাতাসের সংস্পর্শে যাতে না আসে, সে-জন্য মাংস তেলে ডুবু ডুবু অবস্থায় রাখতে হবে। দুয়েকদিন পরপর তেলে ডোবানো মাংস গরম করে নিতে হবে। এভাবে দুই থেকে তিন সপ্তাহ মাংস সংরক্ষণ করা যায়।

শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে চাইলে প্রথমে তাজা মাংস ধুয়ে পাতলা পাতলা টুকরা করে কাটতে হবে। এরপর এতে হলুদ ও লবণ মাখিয়ে তারে গেঁথে রোদে শুকাতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, তারটি যাতে পরিষ্কার হয়। চুলার ওপর তার ঝুলিয়েও মাংস শুকানো যায়। বাইরে রোদে শুকালে ধুলোবালি ও মশা-মাছি যাতে না বসে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শুকানো মাংস এয়ারটাইট ব্যাগে সংরক্ষণ করতে হবে। এভাবে মাংস প্রায় তিন মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। হ

গ্রন্থনা : তৃষা আক্তার

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here