Home বিশেষ রচনা কবি, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়

কবি, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়

1109
0
SHARE

কবি, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, প্রবন্ধকার বনফুলের জন্ম ১৮৯৯ সালের ১৯ জুলাই বিহারের পূর্ণিয়া জেলার মণিহারী গ্রামে। লেখক বনফুলের নাম বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়। তার পূর্বপুরুষের আদি নিবাস ছিল হুগলি জেলার শিয়ালখালায়। পিতা সত্যচরণ মুখোপাধ্যায় ছিলেন পূর্ণিয়া জেলার মণিহারী জেলা বোর্ড হাসপাতালের ডাক্তার। মাতা মৃণালিনী দেবী।

বনফুল পূর্ণিয়ার সাহেবগঞ্জ স্কুল থেকে ১৯১৮ সালে ম্যাট্রিক এবং হাজারীবাগের সেন্ট কলম্বাস কলেজ থেকে ১৯২০-এ আইএসসি পাশ করেন। ওই বছরই তিনি কলকাতা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। তবে ষষ্ঠবার্ষিক শ্রেণিতে পড়াকালীন বিহারের পাটনায় মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি বিহার থেকে আসা ছাত্র হিসেবে নতুন প্রতিষ্ঠিত পাটনা মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরিত হয়ে সেখান থেকেই ১৯২৮ সালে এমবিবিএস পাশ করেন। কর্মজীবনের শুরুতে বনফুল কলকাতার একটি ল্যাবরেটরিতে কিছুকাল শিক্ষানবিসি করেন। তারপর মুর্শিদাবাদের আজিমগঞ্জের মিউনিসিপ্যালিটি হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার পদে কিছুকাল দায়িত্ব পালন করেন। তবে তিনি ভাগলপুরের খলিফাবাগে নিজ উদ্যোগে ঞযব ঝবপৎড়-ইবপঃৎড় ঈষরহরপ  নামে একটি ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠা করে খ্যাতিমান ডাক্তার হিসেবে পরিচিত হন। ১৯৬৮ সাল থেকে বনফুল কলকাতায় স্থায়ী হন।

‘শনিবারের চিঠি’তে ব্যঙ্গ-কবিতা ও প্যারডি লিখে সাহিত্য-জগতে প্রবেশ করেন বনফুল। ‘প্রবাসী’তে একপাতা-আধাপাতার গল্প লিখে বনফুল গল্পের আঙ্গিকে পরিবর্তন এনে খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ : বনফুলের গল্প [১৯৩৬], বনফুলের আরো গল্প [১৯৩৮], বাহুল্য [১৯৪৩], বিন্দু বিসর্গ [১৯৪৪], অদৃশ্যলোক [১৯৪৬], আরো কয়েকটি [১৯৪৭], তন্বী [১৯৫২], নবমঞ্জুরী [১৯৫৪], ঊর্মিমালা [১৯৫৫], অনুগামিনী [১৯৫৮], রঙ্গনা [১৯৫৬], করবী [১৯৫৮], সপ্তমী [১৯৬০], দূরবীন [১৯৬১], মণিহারী [১৯৬৩], ছিটমহল [১৯৬৫], এক ঝাঁক খঞ্জন [১৯৬৭], বহুবর্ণ [১৯৭৬], বনফুলের নতুন গল্প [১৯৭৬]। উপন্যাস : তৃণখ  [১৯৩৫], বৈতরণী-তীর [১৯৩৬[, কিছুক্ষণ [১৯৩৭], দ্বৈরথ [১৯৩৭], মৃগয়া [১৯৪০], নির্মোক [১৯৪০], সে ও আমি [১৯৪৩], জঙ্গম [তিন খণ্ড ১৯৪৩-১৯৪৫], অগ্নি [১৯৪৬], মানদ  [১৯৪৮], নবদিগন্ত [১৯৪৯], ডানা [তিন খণ্ড, যথাক্রমে ১৯৪৮, ১৯৫০, ১৯৫৫], অগ্নীশ্বর [১৯৫৯], হাটেবাজারে [১৯৬১], ত্রিবর্ণ [১৯৬৩], ভুবনসোম [১৯৬৩], প্রচ্ছন্ন মহিমা [১৯৬৭], উদয়-অস্ত [দুই খণ্ড, ১৯৫৯ ও ১৯৭৪] প্রভৃতি। কাব্যগ্রন্থ : বনফুলের কবিতা [১৯২৯], ব্যঙ্গ-কবিতা [১৯২৯], অঙ্গারপণী [১৯৪০], চতুর্দশী [১৯৪৭], করকমলেষু [১৯৪৯]।

জীবনী নাটক লেখার পথিকৃৎ বনফুল শ্রীমধুসূদন [১৯৪০], বিদ্যাসাগর [১৯৪১] নাটক রচনা করেন। তাঁর দেওয়া অভিভাষণ গ্রন্থাকারে মুদ্রিত হয়েছে উত্তর [১৯৫৩], মনন [১৯৬২], ভাষণ [১৯৭৮], দ্বিজেন্দ্রদর্পণ প্রভৃতি শিরোনামে। রবীন্দ্রস্মৃতি [১৯৬৮] ও মর্জিমহল [১৯৭৭] গ্রন্থ দুটি তাঁর ডায়েরি-জাতীয় রচনা। আত্মজীবনী পশ্চাৎপট [১৯৭৮]। ছোটদের জন্য লেখেন মায়াকানন [১৯৭৭] ও রাজা [১৯৭৭]।

সাহিত্য-সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ বনফুল শরৎস্মৃতি পুরস্কার [১৯৫১], রবীন্দ্রপুরস্কার [১৯৬২], বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক [১৯৬৭], যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিলিট উপাধি [১৯৭৩], ভারত সরকারের ‘পদ্মভূষণ’ উপাধি [১৯৭৫ লাভ করেন।

১৯৭৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়। হ

লেখা : মাহমুদা আখতার

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here