1. amin@bol-online.com : আনন্দভুবন : আনন্দভুবন
  2. tajharul@bol-online.com : আনন্দভুবন : আনন্দভুবন

৮ আগস্ট ২০২০, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭

মোট আক্রান্ত

২৫২,৪৪৯

সুস্থ

১৪৫,৫৮৬

মৃত্যু

৩,৩৩৩

  • জেলা সমূহের তথ্য
  • ঢাকা ৫২,২৯৮
  • চট্টগ্রাম ১৪,৭৪৬
  • নারায়ণগঞ্জ ৫,৯৮২
  • কুমিল্লা ৫,৬৭৯
  • বগুড়া ৫,০৯৪
  • ফরিদপুর ৪,৮১১
  • খুলনা ৪,৫৫৩
  • সিলেট ৪,৪৭৫
  • গাজীপুর ৪,৩২৭
  • কক্সবাজার ৩,৪৭৩
  • নোয়াখালী ৩,৩৪৬
  • মুন্সিগঞ্জ ৩,১২৬
  • ময়মনসিংহ ২,৮২৮
  • বরিশাল ২,৪৭৯
  • কিশোরগঞ্জ ২,০৯১
  • যশোর ২,০২২
  • ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১,৯৫১
  • দিনাজপুর ১,৯২৯
  • চাঁদপুর ১,৮৭৫
  • কুষ্টিয়া ১,৮৪১
  • গোপালগঞ্জ ১,৭৯৩
  • টাঙ্গাইল ১,৭৯৩
  • রংপুর ১,৭৯২
  • নরসিংদী ১,৭৫৬
  • সুনামগঞ্জ ১,৫৫০
  • সিরাজগঞ্জ ১,৫৩৯
  • লক্ষ্মীপুর ১,৪৭২
  • ফেনী ১,৩৬০
  • রাজবাড়ী ১,৩৫১
  • হবিগঞ্জ ১,২২৬
  • মাদারীপুর ১,২২৪
  • শরীয়তপুর ১,১৩৯
  • রাজশাহী ১,০৮৫
  • পটুয়াখালী ১,০৬৬
  • ঝিনাইদহ ১,০৫২
  • মৌলভীবাজার ১,০৪৬
  • জামালপুর ৯৮২
  • নওগাঁ ৯৬০
  • মানিকগঞ্জ ৯০৬
  • পাবনা ৮৫২
  • নড়াইল ৮৫১
  • জয়পুরহাট ৭৮২
  • সাতক্ষীরা ৭৮০
  • চুয়াডাঙ্গা ৭৫৯
  • পিরোজপুর ৭৩৯
  • গাইবান্ধা ৬৯৮
  • নীলফামারী ৬৮০
  • বরগুনা ৬৫৭
  • রাঙ্গামাটি ৬৫৭
  • নেত্রকোণা ৬৪৭
  • বাগেরহাট ৬৩৭
  • বান্দরবান ৫৮২
  • ভোলা ৫৫৭
  • কুড়িগ্রাম ৫৫৩
  • নাটোর ৫৪৪
  • খাগড়াছড়ি ৫৩২
  • মাগুরা ৫২৫
  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫১৭
  • ঝালকাঠি ৪৯৩
  • ঠাকুরগাঁও ৪৩৭
  • লালমনিরহাট ৪৩৬
  • পঞ্চগড় ৩৬১
  • শেরপুর ৩২৬
  • মেহেরপুর ২১৯
ন্যাশনাল কল সেন্টার ৩৩৩ | স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ | আইইডিসিআর ১০৬৫৫ | বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন ০৯৬১১৬৭৭৭৭৭ | সূত্র - আইইডিসিআর | স্পন্সর - একতা হোস্ট

গরু কোরবানির অপরিহার্য প্রাণী

পোস্টকারীর নাম
  • বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার, ৬ আগস্ট, ২০১৯
  • ১৩৯৭ বার ভিউ করা হয়েছে

আমাদের দেশে কোরাবানির ঈদে কোরবানির প্রধান পশু হলো গরু। কোরবানির ঈদের পর মাঠে গরু চরতে দেখে অনেক শিশুকে প্রশ্ন করতে শুনেছি, ‘গরু তো সব জবাই হয়ে গেলÑ তা হলে এই গরুটা এলো কোথা থেকে ?’ আসলে ঈদে যে সব গরুই জবাই হয়ে যায় না তা তো ওই ছোট্টো শিশুর জানা থাকার কথা নয় ! একটা সময় ছিল যখন বাংলাদেশে কোরবানের ঈদের সময় ভারত, মায়ানমার থেকে গরু না এলে কোরবানির গরুতে টান পড়ত। এখন সে-অবস্থা বদলেছে। কৃষি-ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তনের ফলে বর্তমানে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদে স্বয়ংস্পূর্ণতা অর্জন করেছে। দেশের অর্থনীতিতেও এসেছে বিরাট পরিবর্তন। বিশে^র কোনো কোনো দেশে গো-মাংস উৎপন্ন হয়, কারা কত বিলিয়ন টাকার মাংস রপ্তানি করে এইসব তথ্য দিয়ে সাজানো হয়েছে ‘একটি গরুর রচনা’ শীর্ষক এই নিবন্ধ। নিখেছেন শেখ সেলিম ও ফাতেমা ইয়াসমিন…

২০১৪ সালে দেশে গরুর মাংসের চাহিদা ছিল ৭৬ লক্ষ ৩০ টনের বেশি। উৎপাদিত হয়েছে ৪৫ লক্ষ ৬১ টনের বেশি। ঘাটতি ছিল প্রায় ২২ লক্ষ টন। অপরদিকে, গরুর দুধের চাহিদা ছিল এক কোটি ৪০ লক্ষ টন, উৎপাদিত হয়েছে ৬ লক্ষ টন। ঘাটতি ছিল ৭৯ লক্ষ টন।

সরকারের নানা উদ্যোগে বাংলাদেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে গরু ও ছাগল উৎপাদনে। গত একবছরে উৎপাদন বেড়েছে প্রায় তিন লাখ। দেশে সারাবছর মাংসের জোগান ও কোরবানির চাহিদা মেটানোর পর বিদেশেও রফতানি হচ্ছে গরু-ছাগলের মাংস। গবাদিপশু উৎপাদনে নীরব বিপ্লব ঘটেছে দেশে। অথচ পাঁচ বছর আগেও কোরবানির ঈদে বৈধ-অবৈধ পথে ভারত, নেপাল ও মিয়ানমার থেকে ২০ থেকে ২৫ লাখ গরু আমদানি করে দেশের চাহিদা পূরণ করতে হতো। সারাবছরে এই সংখ্যা ছাড়িয়ে যেত ৪০ লাখে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের চলতি বছরের কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর তথ্য বিশ্নেষণে গরু-ছাগলের এই সংখ্যা জানা গেছে। আসন্ন কোরবানি ঈদ উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার গবাদিপশুর সংখ্যা-সংক্রান্ত একটি চিঠি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। আসন্ন ঈদুল আজহায় এবারও কোরবানির গরুর চাহিদা মেটাবে দেশি গরু।

এর জন্য এক কোটি ১৭ লাখ ৮৮ হাজার ৫৬৩টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। চোরাই পথে গরু-ছাগল না এলে কোনো সংকট হবে না। এর মধ্যে গরু-মহিষের সংখ্যা ৪৫ লাখ ৮৮ হাজার ৫৬৩ এবং ছাগল-ভেড়ার সংখ্যা ৭২ লাখ। সরকারি আটটি খামারে উট-দুম্বাসহ কোরবানির প্রাণী রয়েছে আরও সাত হাজার। গত বছর কোরবানিতে জবাই হয়েছিল ১ কোটি ১৫ লাখ পশু। এর মধ্যে ছাগল-ভেড়া ছিল ৭১ লাখ। গরু ৪৪ লাখ।

দেশে গত বছরের চেয়ে গরুর উৎপাদন বেড়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার আর ছাগল-ভেড়ার উৎপাদন বেড়েছে এক লাখ। এর আগে ২০১৭ সালে কোরবানিতে জবাই হয়েছিল ১ কোটি চার লাখ ২২ হাজার পশু। ধারাবাহিকভাবে দেশে গরু-ছাগলের উৎপাদন বাড়ছে। ২০১৮ সালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় মাংস উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ বলে ঘোষণা দেয়।

জাতিসঙ্ঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার [এফএও] তথ্য অনুযায়ী, গবাদিপশু উৎপাদনে বিশ্বে দ্বাদশ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এককভাবে ছাগল উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ। ছাগলের দুধ উৎপাদনে বিশ্বে দ্বিতীয়।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি সায়েন্স অনুষদের শিক্ষক নূরুল ইসলাম বলেন, ‘গবেষণায় গরুর উন্নত জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। গরু মোটাতাজা করে লাভবান হচ্ছেন গৃহস্থ ও ক্ষুদ্র খামারিরা। গরু লালন-পালনে বিকশিত হচ্ছে দেশের দুগ্ধশিল্পও। দেশে ডেইরি শিল্প একটি উদীয়মান শিল্প। গরু লালন-পালনের মধ্য দিয়ে দেশের তরল দুধের ঘাটতি মেটানো সম্ভব।’

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক [খামার] ড. এবিএম খালেদুজ্জামান বলেন, ‘সীমান্ত পথে গরু আসা বন্ধ হওয়ার পর আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত হয় গরু-ছাগল উৎপাদনে বাংলাদেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে হবে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর পরিকল্পনা গ্রহণ করে। দেশীয় গরু উৎপাদনে কয়েকটি প্রকল্প ও টিম গঠন করা হয়। নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলা হয় খামারিদের সঙ্গে, প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় তাদের। গ্রামে নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে। সারাবছরই খামারিরা ভালো দাম পাচ্ছেন। ফলে কোরবানির ঈদের বাজারের শেষ দিন অনেক গরু ফেরত যাচ্ছে এখন। ভারত, মিয়ানমার এবং নেপাল থেকে গরু আমদানি নেমে এসেছে শূন্যের কোঠায়।’

২০১৪ সালে ভারত সরকার হঠাৎই এ দেশে গরু পাঠানো বন্ধ করে দেয়। এরপর গরু-মোটাতাজাকরণে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ তহবিল থেকে আড়াই শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া হয় খামারিদের। ওই সুবিধা পেয়ে সারাদেশে অসংখ্য শিক্ষিত বেকার তরুণ গরুর খামার গড়ে তোলেন। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত খামারির সংখ্যা হচ্ছে ৫ লাখ ৭৭ হাজার ৪১৬ জন। সারাদেশে গরু-ছাগলের খামার গড়ে উঠেছে প্রায় দেড় লাখ। ফলে গরু-ছাগলের উৎপাদন বাড়ছে।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘স¤প্রতি সারাদেশে গরু-ছাগলের চাষ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এতে একটা সাড়া পড়েছে গ্রামীণ অর্থনীতিতে। দারিদ্র্য বিমোচন নিয়ে যেসব এনজিও কাজ করছে, তাদের অধিকাংশ এখন ঋণ দিচ্ছে গরু পালনে। এ খাতে বিনিয়োগ করছে ব্যাংকগুলোও। এতে গরু পালন বেড়েছে অনেক দ্রæত। চামড়াশিল্পেও রপ্তানি আয় বাড়ছে। বাণিজ্যিকভাবে গরু উৎপাদন ছাড়াও কৃষকেরা গরু লালন-পালন করে দুধ ও বছর শেষে গরু বিক্রি করে চালাচ্ছেন সংসার। গরু-ছাগল লালন-পালন এ অঞ্চলের মানুষের আদিম পেশা। শীর্ষে রয়েছে ভারত ও চীন।’ তিনি বলেন, ‘শুধু উৎপাদন বাড়ানো নয়। জাতগত বৈশিষ্ট্যেও বাংলাদেশ এগিয়ে আছে। বাংলাদেশের গরুর মাংস সম্পূর্ণ হালাল। গ্রামীণ এলাকায় সামান্য আদরে বেড়ে ওঠা বø্যাক বেঙ্গল ছাগল বিশ্বের সেরা জাত।’

বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতা ইমরান হোসেন বলেন, ‘দেশি গরুর চাহিদা বাড়ায় শিক্ষিত তরুণ ও প্রবাসীরা গবাদিপশুর খামারে বিনিয়োগ করছেন। গরু আমদানি পুরোপুরি নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে এ খাতে বিনিয়োগ আরও বাড়বে। কোরবানির হাটে ক্রেতারা দেশি গরু খোঁজেন। তারা ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে মোটা করা বিদেশি গরু কিনতে চান না। ক্রেতারা লাল গরু, পাবনা-মানিকগঞ্জের গরু, উত্তরবঙ্গ ও মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিমের গরু কিনতে বেশি আগ্রহী। এসব এলাকার গরুর মাংসের মান ও স্বাদ তাদের কাছে অতুলনীয় বলে জানান। বাজারে মাংসের দাম বাড়লেও ক্রেতার অভাব নেই। সুপারশপগুলোতে সারাবছর মানসম্মত গরু ও খাসির মাংসের ব্যাপক চাহিদা থাকে।’

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. হীরেশ রঞ্জন ভৌমিক বলেন, ‘কোরবানির পশুর সংকট নয়, এখন কী পরিমাণ গরু অবিক্রীত থাকবে, তা নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। কোরবানিতে চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি গবাদিপশু আছে এখন দেশে।’

বিশ্বের সর্ববৃহৎ গরুর মাংস রপ্তানিকারী জায়গাটা অক্ষুণœ রেখেছে ইন্ডিয়া। আমেরিকান কৃষি দপ্তর প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী গরুর মাংস রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্রাজিলের সঙ্গে দূরত্ব বেশ খানিকটা বেড়েছে ভারতে। তবে ওবামা সরকার গোমাংসের তালিকায় মহিষের মাংসকেও একই কাতারে রেখেছে। ভারত মূলত গোমাংস [বিফ] হিসেবে মহিষের মাংস রফতানি করে থাকে।

এই ডেটা অনুযায়ী ভারত বছরে মোট ২.৪ মিলিয়ন টন গোমাংস রফতানি করে। ব্রাজিলের গোমাংস রপ্তানির পরিমাণ ২ মিলিয়ন। এই তালিকায় তিন নম্বরে আছে অস্ট্রেলিয়া। রপ্তানির পরিমাণ ১.৫ মিলিয়ন টন। এই তিন দেশ একযোগে গোটা পৃথিবীর ৫৮.৭% গোমাংস রপ্তানি করে। ভারত একই ২৩.৫% গোমাংস রপ্তানি করে। গত বছর এর পরিমাণ ছিল ২০.৮%।

‘সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকনমি’র প্রকাশিত ডেটা অনুযায়ী ভারতের মহিষের মাংস প্রধানত এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সরবরাহ করা হয়। মোটামুটি ভারত থেকে রপ্তানি হওয়া গোমাংসের ৮০% এশিয়ায়, ১৫% আফ্রিকায় ও বাকি ৫% পৃথিবীর অন্যান্য বিভিন্ন দেশে সরবরাহ করা হয়।

গরু চব্বিশ ঘণ্টায় গড়ে চার ঘণ্টা ঘুমায়। তারা মিক্সড ডায়েট পছন্দ করে অর্থাৎ একইরকমের খাবার থেকে বেছে নেওয়ার সুযোগ দিলে তাদের ৭০ শতাংশ ক্লোভার বা একধরনের ছোট গাছের পাতা খেতে পছন্দ করে, বিশেষত সকালবেলায়। আর বাদ বাকি ৩০ শতাংশ ঘাস খেতে পছন্দ করে। তবে সব গরুই ক্লোভার ও ঘাসের মিক্সড ডায়েট বেশি পছন্দ করে।

গরু, বিশেষত ষাড় সম্পর্কে একটি ভুল তথ্য আছে যে, তারা লাল রং দেখলে ক্ষেপে যায় বা উত্তেজিত হয়। বুলফাইট থেকে এই ধারণাটি শুরু হয়েছে। আসলে গরু, বুলফাইটারের হাতে যে লাল কাপড় থাকে, যাকে বলা হয় কেইপ, সেটা দেখে নয়, কেইপ বা যে কোনো কাপড়ের অতিরিক্ত নাড়াচাড়ায় গরু খুব বিরক্ত হয়। তখন তারা রেগে চার্জ করে। গরু রঙের তফাৎ বুঝতে পারে। যেহেতু গরু অন্য প্রাণী দ্বারা আক্রান্ত হয় সেহেতু, আক্রমণের সম্ভাবনা বিষয়ে গরু সহজভাবে বুঝতে পারে এবং এ বিষয়ে তার চোখ সবচেয়ে বড়ো সহায়ক। গরুর ঘ্রাণশক্তি প্রবল। তার একটি প্রমাণ হচ্ছে, গাভী শুধু তার নিজের গর্ভজাত বাছুরকেই নিজের ওলান থেকে দুধ খেতে দেয়। তাই সে আগে বাছুরের শরীর শুঁকে তার গন্ধ নেয়।

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি গরু আছে ভারতে, দ্বিতীয় ব্রাজিল এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে চায়না। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গরু পালন এখন মালটি বিলিয়ন ডলার ইন্ডাস্ট্রির ভিত্তি। ২০০০ সালে বিশ্ব জুড়ে গরুর মাংসের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিলো ৩০ বিলিয়ন ডলার। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে গরু বিষয়ক আনুমানিক সাড়ে নয় লক্ষ ফার্ম ও বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান আছে।

শুধু গরুর মাংস নয়Ñ গরুর দুধ থেকে উৎপাদিত পাউডার দুধ বা গুঁড়ো দুধ, বাটার বা মাখন, চিজ বা পনির, ইয়োগোহার্ট বা দইয়ের এবং চকলেটের মালটি বিলিয়ন ডলার ডেয়ারি বিজনেস করছে বিশ্বের বহু দেশ। ইউরোপে উৎপাদিত দুধের পরিমাণ এত বেশি যে, সেখানে দুধের লেইক এবং মাখনের পাহাড় হয়ে আছে। ইউরোপ থেকে পাউডার মিল্ক বা গুঁড়ো দুধ বাংলাদেশ এবং অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশে রপ্তানি হয়Ñ যদিও ইউরোপিয়ান দেশগুলো নিজেরা খুব কমই পাউডার মিল্ক খায়। এছাড়া গরুর চামড়া এবং চামড়াজাত পণ্য, যেমন জুতা, বেল্ট, পোশাক, সোফা প্রভৃতি মিলিয়ন ডলার ব্যবসা করছে বিভিন্ন দেশ।

 

 

নানা বরন গরুরে ভাই

পৃথিবীব্যাপী নানা জাতের গরু পাওয়া যায়। জাত হলো একই গোত্রের প্রাণী যাদের বৈশিষ্ট্য ও আচার আচরণে মিল থাকবে। গৃহপালিত প্রাণীর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত হলো হোলস্টেইন ও জার্সি জাতের গরু।

হোলস্টেইন গরু

গৃহপালিত গরুর জাতের মধ্যে সাদা-কালো ছোপযুক্ত এই গরুটি সবচেয়ে পরিচিত। এরা আকারে বড়ো হয়। প্রাপ্ত বয়সে এদের ওজন হয় ১,৫০০ পাউন্ড। এই জাতের গরুর আদি জন্মস্থান নেদারল্যান্ডস। প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে আনা হয় ১৮০০-এর দিকে। দুটো গরুর ছোপ দাগগুলো কখনো একই রকম হয় না।

জার্সি গরু

বড়ো বড়ো চোখ আর বাদামি রঙের জন্য জার্সি গরুগুলো বিখ্যাত। এর দুধও ঘন ননিযুক্ত। এটি কয়েক রকমের হয়ে থাকে। কোনোটি হালকা বাদামি হয়, কোনোটি আবার ধূসর থেকে কালো রঙেরও হয়ে থাকে। এগুলো আকারে খুব বড়ো হয় না। প্রাপ্ত বয়সে ১,০০০ পাউন্ড হয়ে থাকে। বড়ো মুখে মাঝারি চোখ, দীর্ঘ চোখের পাপড়িযুক্ত জাতের গরুগুলো সবার কাছেই প্রিয়। এদের আদিনিবাস জার্সির দ্বীপপুঞ্জে যা ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জ নামে পরিচিত। মজার ব্যাপার হলো বোর্জেন কোম্পানি ১৯৩০ সালে এদের জার্সি নামে পরিচিত করান।

ব্রাউন সুইস

এটিই গৃহপালিত গরুর মধ্যে সবচেয়ে পুরনো জাত। এরা ধূসর বাদামি বর্ণের। আকারে বড়ো, প্রাপ্ত বয়সে ১৫,০০ পাউন্ড হয়ে থাকে। এদের আদি নিবাস সুইজারল্যান্ড। ডেইরি গবেষকদের মতে দুধ দেওয়া প্রজাতির মধ্যে এই জাতটিই সবচেয়ে পুরনো। এদের ব্যাপারে মজার তথ্য হলো, গ্রীষ্মের সময় এরা পাহাড়ের উঁচু দিকে চলে যেতে পারে। তাই এদের গলায় ঘণ্টা পরানো হয় যাতে কৃষকেরা তাদের খুঁজে পায়।

গুইরনসে 

বাদামি শরীরে সাদা ছোপ ছোপ দাগের এই গরুগুলো বিভিন্ন আকারের হয়ে থাকে। বেশিরভাগই মাঝারি আকারের হয়। প্রাপ্ত বয়সে ১২০০ পাউন্ড হয়। এটি ইংলিশ চ্যানেলের গুইরনসে দ্বীপপুঞ্জের আদি অধিবাসী। গোল্ডেন গুইরনসে ট্রেডমার্ক মিল্ক ১৯৫০ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় বিক্রি হয়।

আইরসিরে

সাদা শরীরে লালচে বাদামি ছোপের এই গরুগুলো আকারে মাঝারি, ওজন প্রাপ্ত বয়সে ১২০০ পাউন্ড। স্কটল্যান্ডের আইর দ্বীপপুঞ্জে তাদের আদি জন্মস্থান। এদের শিং-এর জন্য এরা বিখ্যাত। এরা লম্বায় অনেক সময় কয়েক ফুট হতে পারে।

রেড অ্যান্ড হোয়াইট হোলস্টেইন

১৯৬৪ সালে এই জাতের গরুগুলো পরিচিতি পায়। সাদা ও লাল গরুগুলো সাদা ও লাল দাগে ভরপুর থাকে। এরা আকারে বড়ো হয়। প্রায় ১৪০০ পাউন্ড হয় প্রাপ্ত বয়সে।

মিল্কিং শর্টহর্ন

১৭৮০ সালের দিকে এই জাত প্রবেশ করে যুক্তরাষ্ট্রে। এটি লাল, সাদা হয়ে থাকে। আকারে মূলত মাঝারি হয়। ওজন ১১০০ পাউন্ড। ইংল্যান্ডের উত্তর-পূর্ব দিকের টিস নদীর অববাহিকায় এদের জন্মস্থান। এদের সঙ্গে মিল আছে সুইডিস রেড গরু, ইলাওরা গরু যা অস্ট্রেলিয়ার।

পোস্টটি শেয়ার দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো আর্টিকেল
বেক্সিমকো মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে, ইকবাল আহমেদ কর্তৃক প্রকাশিত
Theme Customized BY LatestNews