Home কাভার গার্ল ঈদে নিজেকে করে তুলুন অনন্যা

ঈদে নিজেকে করে তুলুন অনন্যা

1021
0
SHARE

ঈদ মানেই খুশি, ঈদ মানেই আনন্দ। সাজগোজ মানুষের আনন্দ প্রকাশের একটি মাধ্যম। খুশির দিনটিতে সবাই চায় নিজেকে সুন্দর দেখাতে। ঈদের দিনে তো নারীদের ব্যস্ততা আরও বেড়ে যায়, তবে সব কাজ সামাল দিয়েও ঈদের দিনটিতে কীভাবে হয়ে উঠবেন সকলের মধ্যমণি। তাই নিয়ে এবারের ঈদের সাজ আয়োজন…

মেকআপ

দিনেরবেলায় ফাউন্ডেশন এড়িয়ে যেতে পারলে ভালো হয় ; লাগাতে চাইলে ঘরের জানালা খুলে দিয়ে দিনের আলোতে খুব হালকা করে লাগান। মেকআপের শুরুতে ক্লিনজিং মিল্ক দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে টোনিং শেষে অল্প পরিমাণে ময়েশ্চারাইজিং লোশন লাগিয়ে নিন। ফাউন্ডেশন হাল্কা করার জন্য এতে খানিকটা পানি অথবা গোলাপ জল মিলিয়ে নিতে পারেন। খুব অল্প পরিমাণে লাগিয়ে এর উপরে পাউডার বুলিয়ে নিন। এরপর খুব আলতো করে সফট্ কোনো পাউডার বøাশন লাগাবেন। ক্রিম বøাশন দিনের জন্য নয়। দিনেরবেলায় লিকুইড আই-লাইনার না-লাগিয়ে পেন্সিল আই-লাইনার লাগানো ভালো। মাসকারা লাগাতে ভুলবেন না। লিপস্টিকের কালারকে দীর্ঘস্থায়ী করতে লাইনার দিয়ে ঠোঁট এঁকে নিয়ে তারপর লিপস্টিক লাগান। অথবা আপনি লিপস্টিক লাগিয়ে একটি ফেসিয়াল টিস্যু দিয়ে চেপে পুনরায় ব্যবহার করুন ; এতে করে আরো বেশি ন্যাচারাল লুক আসবে। মেকআপকে খুব বেশি হাল্কা দেখানোর জন্য মেকাপের আগে [৩ ইঞ্চির স্কয়ার] কটন কেটে নিয়ে বরফ ঠান্ডা পানিতে ডুবিয়ে দুই হাতের তালুতে চেপে পানি ঝরিয়ে নিন। এরপর এই তুলা মুখের উপরে চেপে ধরে রাখুন। এই কোল্ড ক¤েপ্রশনের কারণে আপনার মেকআপে ন্যাচারাল লুক আসবে এবং দীর্ঘস্থায়ী হবে। ফাউন্ডেশন, পাউডার ও বøাশন লাগানোর পর এবং চোখ ও ঠোঁটের মেকআপের আগে কোল্ড ক¤েপ্রস করতে হবে। আপনার হাতে যদি এসব করার জন্য পর্যাপ্ত সময় না-থাকে, তবে আপনার গোসলে ব্যবহৃত ভেজা তোয়ালে দিয়েও চেপে নিতে পারেন। আবার ফাউন্ডেশন লাগানোর আগে মুখে বরফও ঘষে নিতে পারেন।  আই-শ্যাডো লাগানোর আগে চোখের পাতায় কন্সিলার লাগিয়ে নিলে আই-শ্যাডো ২৪ ঘণ্টাই ঠিকঠাক থাকবে। স্বাস্থ্যসম্মত ও সুরক্ষিত ত্বক পেতে প্রতিবার মেকআপের আগে ও পরে স্কিন কেয়ার রুটিন অর্থাৎ ক্লিনজিং, টোনিং ও ময়েশ্চারাইজিং-এর নিয়ম মেনে চলুন। দিনের শেষে সমস্ত ময়লা, আবর্জনা ও সারা দিনের বাসি মেকআপ তুলে ফেলুন।

 

রাতেরবেলার সাজ

রাতেরবেলার সাজে গাঢ়, উজ্জ্বল রঙের আই-শ্যাডো বেছে নেওয়া যায়। চোখে মাসকারা এবং আই-লাইনার লাগান। চোখকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে চোখের সাজে অনন্য দ্যোতনা এনে দিতে ম্যাচিং করে লেন্স পরতে পারেন। বøাশার দিন এবং ঠোঁটে লাগান লিপস্টিক। চোখের সাজ বেশি জমকালো হলে লাইট কালারের লিপস্টিক পরুন। লিপস্টিকের উপরে লিপগøস লাগাতে পারেন। আজকাল ফ্রস্টেড লিপস্টিকও খুব চলছে। লিপস্টিকের কালারের সঙ্গে মিলিয়ে বøাশার লাগান। তবে ব্রোঞ্জ কালারের বøাশার যেকোনো ড্রেসের সঙ্গে মানিয়ে যায়। সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে টিপ না পরাই ভালো ; তবে পরতে চাইলে ছোট টিপ বেছে নিন।

 

অন্যান্য

ড্রেসের সঙ্গে ম্যাচিং করে স্যান্ডেল এবং ব্যাগ নিতে পারেন। নয়ত কালো, মেরুন অথবা ব্রাউন এসব কমন কালারের ব্যাগও বেছে নেওয়া যায়। তবে আজকাল ব্যাগের ফ্যাশনের ক্ষেত্রে অন্যান্য রঙের পাশাপাশি সিলভার, ম্যাট গোল্ডেন, অ্যান্টিক ইত্যাদি রংগুলো তাদের জায়গা করে নিয়েছে। আবার সাইজের ক্ষেত্রে বড়ো ব্যাগই হাল ফ্যাশনের আওতায় পড়লেও কাচ ব্যাগও সবাই খুব ব্যবহার করছে। আবার রাতের জন্য মাঝারি সাইজের কাজ করা হাত-ব্যাগ নিতে পারেন।

সকালবেলার ড্রেসের সঙ্গে মিলিয়ে দুই ফিতাওয়ালা অল্প হিলের স্যান্ডেল পরতে পারেন। আজকাল অনেক স্টোন বা কুন্দন বসানো স্যান্ডেল পাওয়া যায়। ড্রেসের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে আপনি অনায়াসে রাতের অনুষ্ঠানের জন্য আপনার পছন্দের স্যান্ডেলটি বেছে নিন ; তবে আপনার রাতের স্যান্ডেলটি হাই হিলের হলে ভালো।

সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে ভারি গয়না পরবেন না। অনেক ভারি কাজ করা সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে কানে-গলায় বেশি বেশি গয়না না পরে স্টোন, কুন্দন, নানা রঙের বাহারি পুঁতি বসানো মেটালিক কানের দুল আপনাকে করে তুলবে লাবণ্যময়। কানের দুল বড়ো হলে গলায় কোনো গয়না না-পরাই ভালো। অবশ্য কামিজের গলা বড়ো না-হলে গলায় বড়ো এবং ঝোলানো কোনো অলঙ্কার না-পরে ছোট মালা পরুন। এ ছাড়া বিভিন্ন রঙের মুক্তার তৈরি কানে, গলা  এবং হাতের গয়নাও পাওয়া যায় ; এগুলোও সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে ভালো দেখাবে। তা ছাড়া এখন তো বাজারে নানান ধরনের হ্যান্ড-ব্যান্ড পাওয়া যায়, সেখান থেকে আপনার  পছন্দ অনুযায়ী বেছে নিতে পারেন। অন্য হাত আপনি খালিও রাখতে পারেন, আবার চাইলে একটি  ঘড়িও পরে নিতে পারেন। আপনার পদযুগলে নান্দনিক সৌন্দর্যের ইন্ধন যোগাতে আঙুলে আংটি পরে এক পায়ে মল পরতে পারেন। রাতের সাজে মাল্টি স্টোন বসানো ছোট কোনো সেট বেছে নিতে পারেন। প্রয়োজনে আংটি এবং সেট করে চুড়ি পরতে পারেন।

 

ঈদের আগে যা করতে হবে

ঈদে নিজেকে নতুন করে সাজাতে চাইলে আগে থেকে তার প্রস্তুতি প্রয়োজন।

া    ঈদের আগে ফেয়ার পলিশ, ফেসিয়াল, ম্যানিকিউর, প্যাডিকিউর, হেয়ার ট্রিটমেন্ট, আই ব্রো থ্রেডিং, হেয়ার কাট এইসব সেরে রাখতে হবে।

া    এগুলোর কোনোটাই ঠিক ঈদের আগের দিন করার জন্য ফেলে রাখা উচিত নয়। ঈদের আগে মহিলাদের এমনিতেই কাজের চাপ থাকে, সেইসঙ্গে পার্লারে গিয়ে যথেষ্ট সময় দেওয়ার সুযোগ থাকে না। তাই উপরের কাজগুলো কোরবানি ঈদের ৫-৬  দিন বাকি থাকতেই সেরে ফেলা ভালো।

া    চুল রিবন্ডিং কার্ল বা পার্ম করার ইচ্ছা থাকলে, তা ঈদের ১০ দিন আগে করলে ভালো। এই কাজগুলো করতে সময় লাগে এবং পরবর্তী ৩-৪ দিন কিছু নিয়ম মেনে চলার ব্যাপার থাকে তাই ঈদের সময়টা ঝরঝরে থাকতে আগেই এগুলো সেরে ফেলুন। চুল কালার করার ক্ষেত্রেও একই পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। নতুন একটা রং আপনার ব্যক্তিত্ব ও চেহারার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হলে একটু আগেই সেরে রাখা ভালো।

া    কোরবানির ২-১দিন আগে মেহেদি পরুন। অতিরিক্ত পানি ও সাবানজাতীয় পদার্থে রং তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়, তাই সেদিকে সতর্ক থাকুন।

া    ছোটদের ও বড়োদের উভয়ের ক্ষেত্রেই যদি নাক-কান ফোঁড়ানোর পরিকল্পনা থাকে, তা আগেভাগে করা ভালো।

া    নরমাল ফেসিয়াল ছাড়াও ঈদের উৎসবের দিনগুলোতে ত্বকে বাড়তি উজ্জ্বলতা ও সজীবতা আনতে গোল্ড ফেসিয়াল, পার্ল ফেসিয়াল এগুলো করতে পারেন।

া    নেইল আর্ট করাতে চাইলে পছন্দসই ডিজাইনে পোশাকের রঙের সঙ্গে মিল রেখে তা করুন।

া    ঈদ পরিচর্যায় পার্লারে যেতে চাইলে একটু সময় নিয়ে যাওয়াই ভালো। এতে সেবার মানটা ভালো হয়, আরামও হয়। বাড়তি  উজ্জ্বলতা ও সজীবতা আনতে গোল্ড ফেসিয়াল, পার্ল ফেসিয়াল এগুলো করতে পারেন।

ঈদের আগেই এসব প্রস্তুতি নেওয়ার মাধ্যমে ঈদের দিন নিজেকে সাজিয়ে তুলুন আকর্ষণীয়ভাবে। হ

গ্রন্থনা : তৃষা আক্তার

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here